অবিশ্বাস্য মহৌষধ ফেলনা থানকুনি পাতা-যৌবন ধরে রাখতে থানকুনি পাতা ব্যবহার করুন

0
831
থানকুনি পাতা,টেয়া, মানকি, তিতুরা, থানকুনি, আদামনি, ঢোলামানি, থুলকুড়ি, মানামানি , ধূলাবেগুন, আদাগুনগুনি

পরতি যৌবন নিয়ে চিন্তায় মাথা ঘুরছে? বেশি দামি কিছু সেবন বা ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। হাতের কাছে আছে থানকুনি পাতা। শুধু এর ব্যবহারটা জানা দরকার ও সেইমত ব্যবহার করতে পারলে যৌবন থাকবে টনটনা।ভেষজ চিকিত্‍সকগনের মতে, থানকুনি পাতার এমন ভেষজ গুণ রয়েছে, নিয়মিত খেলে পেটের অসুখে কোনও দিনও ভুগতে হবে না। নিয়মিত খেলে শরীর-স্বাস্থ্য সতেজ থাকবে, ছোট বেলা থেকে খাওয়ার অভ্যাস করতে পারলে বাচ্চাদের বুদ্ধিরও বিকাশ হয়।

ভেষজ গুণের দুনিয়াতে থানকুনি বেশ প্রসংশিত। নানা কার্যকারিতা দিয়ে ধরে রেখেছে নিজের অবস্থান। থানকুনি বর্ষজীবি উদ্ভিদ। কোনো প্রকার যত্ন ছাড়াই জন্মে। মাটির ওপর লতার মতো বেয়ে ওঠে। পাতা গোলাকার ও খাঁজকাটা। সাধারণত স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশেই থানকুনি গাছ বেশি জন্মে। তাই পুকুরপাড় বা জলাশয়ের পাশে থানকুনির দেখা মেলে বেশি।ভেষজগুণে সমৃদ্ধ থানকুনির রসে রয়েছে শরীরের জন্য প্রচুর উপকারী খনিজ ও ভিটামিন জাতীয় পদার্থ। গ্রামাঞ্চলে বাড়ির আশেপাশে, রাস্তার পাশে কিংবা ক্ষেতের আইলে ছোট ছোট তারার মত খাঁজকাটা এই পাতাগুলো দেখতে পাওয়া যায়। অনেক অভাবি মানুষ ভাতের সাথে এই পাতাটিকে ভর্তা করে খায়। আবার স্বাদের কারণে অনেক ধনীরাও এই পাতাটিকে ভর্তা করে খায়। তবে সব অঞ্চলের মানুষ থানকুনি পাতা নামে এই পাতাটিকে নাও চিনতে পারে। অঞ্চলভেদে এই পাতাটিকে টেয়া, মানকি, তিতুরা, থানকুনি, আদামনি, ঢোলামানি, থুলকুড়ি, মানামানি , ধূলাবেগুন, আদাগুনগুনি নামে ডাকা হয়। থানকুনি পাতা শাক হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয়, বিশেষ করে ভর্তা বা কাঁচা পাতা সালাদ হিসেবেও খাওয়া যায়।

আসুন এক নজর দেখি যৌবন ধরে রাখতে ও পেট সুস্থ রাখতে থানকুনি পাতার ভেষজ গুণগুলি কি?

১. পেটের রোগ নির্মূল করতে থানকুনির বিকল্প নেই। নিয়মিত খেলে যে কোনও পেটের রোগ থেকে মুক্তি পাবে। একই সঙ্গে পেট নিয়ে কোন দিন সমস্যায় ভুগতে হবে না।থানকুনি পাতা সব ধরনের পেটের রোগের মহৌষধ। পাতা বেটে ভর্তা করে বা ঝোল করে খেলে বদহজম, ডায়রিয়া, আমাশয় ও পেটব্যথা দূর হয়।

২. আলসার, একজিমা, হাঁপানিসহ নানা চর্মরোগ নিরাময় হয় থানকুনি পাতা খেলে। ত্বকেও জেল্লা বাড়ে।

৩. থানকুনি পাতায় থাকে Bacoside A ও B. Bacoside B মস্তিষ্কের কোষ গঠনে সাহায্য করে ও রক্ত চলাচল বাড়ায়। থানকুনি পাতা নিয়মিত খেলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।

৪. থানকুনি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। সংবহনতন্ত্রের স্থায়ীভাবে স্ফীত ও বর্ধিত শিরা কমাতে সহায়তা করে।

৫. মৃতকোষের ফলে চামড়ায় অনেক সময়ই শুষ্ক ছাল ওঠে। ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়। থানকুনি পাতার রস মৃতকোষগুলিকে পুনর্গঠন করে ত্বক মসৃণ করে দেয়।

৬. পুরনো ক্ষত সারাতে থানকুনি পাতা সেদ্ধ করে তার পানি দিয়ে নিয়মিত ধুলে সহজে নিরাময় হবে। নতুন ক্ষতে থানকুনি পাতা বেটে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

৭. থানকুনি পাতা চুল পড়া আটকে দেয়। নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে।অর্থাৎ অপুষ্টির কারণে মাথা থেকে চুল পড়ার সমস্যা হলে থানকুনি পাতার রস খেলে উপকার পাবেন।

৮. থানকুনি দেহের ক্লান্তি দূর করে লাবণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।বয়স বাড়লেও যৌবন ধরে রাখে থানকুনি পাতার রস। প্রতিদিন একগ্লাস দুধে ৫-৬ চা চামচ থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে খেলে, চেহারায় লাবণ্য আসে, আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যায়।

৯. দাঁতের রোগ সারাতেও থানকুনির জুড়ি মেলা ভার। মাড়ি থেকে রক্ত পড়লে বা দাঁতে ব্যথা করলে একটা বড় বাটিতে থানকুনিপাতা সিদ্ধ করা জল ছেকে নিয়ে কুলকুচি করলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়।

ছোট্ট এই গাছটির মূল, কান্ড ও পাতার আরও কিছু ব্যবহার ও উপকারিতা:

* যদি মুখ মলিন বা লাবণ্যতা কমে যায় তবে ৫-৬ চা চামচ থানকুনি পাতার রস দুধ দিয়ে খেতে হবে। নিয়মিত করলে উপকার পাবেন। নিয়মিত থানকুনি পাতার রস খেলে ত্বকের সতেজতা বাড়ে।
* অপুষ্টির অভাবে, ভিটামিনের অভাবে চুল পড়লে পুষ্টিকর ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবারের পাশাপাশি ৫-৬ চা চামচ থানকুনি পাতার রস দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে।

* পেটের দোষ বা মলের সঙ্গে শ্লেষ্ণা গেলে, মল পরিষ্কার ভাবে না হলে, পেটে গ্যাস হলে, কোনো কোনো সময় মাথা ধরা এসব ক্ষেত্রে ৩-৪ চা চামচ থানকুনি পাতার গরম রস ও সমপরিমাণ গরুর কাঁচা দুধ মিশিয়ে খেতে হবে। নিয়মিত খেলে উপকার পাবেন।

* স্মরণশক্তি বৃদ্ধির জন্য আধা কাপ দুধ, ২-৩ তোলা থানকুনি পাতার রস ও এক চা চামচ মধু মিশিয়ে খেতে হবে।
* ঠাণ্ডায় নাক বন্ধ হলে, সর্দি হলে থানকুনির শিকড় ও ডাঁটার মিহি গুঁড়ার নস্যি নিলে উপকার পাওয়া যায়।

* অল্প পরিমাণ আমগাছের ছাল, আনারসের কচি পাতা ১টি, কাঁচা হলুদের রস, ৪/৫ টি থানকুনি গাছ শিকড়সহ ভাল করে ধুয়ে একত্রে বেটে রস করে খালি পেটে খেলে পেটের পীড়া ভাল হয়। ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এটা আরো বেশি কার্যকর।

* আধা কেজি দুধে ১ পোয়া মিশ্রি ও আধা পোয়া থানকুনি পাতার রস একত্রে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে ১ সপ্তাহ খেলে গ্যাস্ট্রিক ভাল হয়।

* বেগুন অথবা পেঁপের সাথে থানকুনি পাতা মিশিয়ে শুকতা রান্না করে প্রতিদিন ১ মাস খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়।

* প্রতিদিন সকালে খালিপেটে ৪ চা চামচ থানকুনি পাতার রস ও ১ চা চামচ মধু/ মিশিয়ে ৭ দিন খেলে রক্ত দূষণ ভাল হয়।

* জ্বর ও আমাশয়ে থানকুনি পাতার রস গরম করে ছেঁকে খেলে উপকার হয়।

* মুখে ঘা হলে থানকুনি পাতা সিদ্ধ পানি দিয়ে কুলি করলে ঘা কমে যায়।

* বাচ্চাদের কথা পরিষ্কার না হলে এক চামচ থানকুনি পাতার রস গরম করে প্রতিদিন খাওয়ালে কথা স্পষ্ট হবে।

* ঠাণ্ডা লাগলে ২০-২৫ ফোঁটা থানকুনির রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে উপকার পাবেন।

* প্রতিদিন সকালে থানকুনির রস ১ চামচ, ৫/৬ ফোঁটা হলুদের রস (বাচ্চাদের লিভারের সমস্যায়) সামান্য চিনি ও মধুসহ ১ মাস খেলে লিভারের সমস্যা ভাল হয়।

* মূলসহ সমগ্র গাছ নিয়ে সিদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে দূষিত ক্ষত ধুলে ক্ষত ভালো হয়ে যাবে।
* কোথাও থেঁতলে গেলে থানকুনি গাছ বেটে অল্প গরম করে আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে প্রলেপ দিলে উপকার পাবেন।
* থানকুনি পাতা বেটে ঘিয়ের সঙ্গে জ্বাল দিয়ে ঠাণ্ডা করে তা সাধারণ ক্ষত স্থানে লাগাতে হবে।

* এছাড়া ঠাণ্ডা-কাশি তে এক টেবিল চামচ থানকুনি রসের সাথে মধু মসিয়ে খাওলে ঠাণ্ডা কাশির নিরাময় হয়।যাদের স্নায়ুততন্ত্র দুর্বল তারা নিয়মিত থানকুনি পাতা খেলে স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি পায়।

হাজারো গুণের সমাবেশ ঘটেছে থানকুনি পাতায়। থানকুনি পাতার ব্যবহার শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। সেই সাথে পরিবেশও স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করি। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থানকুনি পাতা রাখার চেষ্টা করুন।

এছাড়া আমাদের বাংলাদেশে অনেকে থানকুনি পাতার ভরতা ও খায়। এর রেসেপিটা হল-
উপকরণ:
থানকুনি পাতা ৪০-৫০তি, রসুন ১তি , কাচা মরিচ ১ টি , লবণ পরিমাণ মত
প্রস্তুত প্রণালি:
থানকুনি পাতা কুচি কুচি করে কেতে মরিচ, রসুন,লবন মিশিয়ে বাটায় বেটে নিলেই ভর্তা প্রস্তুত হয়।

ছোট্ট এই উদ্ভিদটি বাড়ির ছাদে কিংবা বারান্দায় টবেও চাষ করা যায়। নানা রোগের ডাক্তার থানকুনি! ফলে চিকিৎসক থাকছে আপনার কাছেই।

সতর্কতা

একাধারে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাই অপকার এড়িয়ে শুধু উপকার পেতে মাঝে মাঝে খেতে পারেন।

আরো পড়ুন

পেটের সমস্যাসহ নানা রোগের মহৌষধ থানকুনি পাতা

 

বিঃ দ্রঃ গুরুত্বপূর্ণ হেলথ নিউজ ,টিপস ,তথ্য এবং মজার মজার রেসিপি নিয়মিত আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ বিডি হেলথ নিউজ এ ।

LEAVE A REPLY