কাপড়ে দাগ লাগলে কী করবেন?

0
268
কাপড়ে দাগ

সাবধানেই তো চলাফেরা করা হয়। তবু কোন ফাঁকে যে কাপড়ে দাগ লেগে গেল বুঝতেই পারলেন না। কীভাবে তুলবেন এ দাগ জানেন না। তবে আগে দেখেন, কোন উৎস থেকে দাগ লেগেছে। পরনের পোশাকটি কোন তন্তুর কোন রঙের, সেটাও দেখতে হবে। এরপর বেছে নেন নিচের যে কোন টিপস-হয়ত কিছুটা সমাধান হবে!

-কাপড়ে মোম লেগে গেলে প্রথমে চামচ বা ভোঁতা ছুরি দিয়ে সাবধানে চেঁছে ফেলুন। তারপর দাগের ওপরে ও নিচে ব্রাউন পেপার রেখে গরম ইস্ত্রি ঘষে নিন। দাগ উঠে যাবে।

 -কাপড়ে যে কোনো দাগ লাগলেই সঙ্গে সঙ্গে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এরপর সাবান, ডিটারজেন্ট ব্যবহার করুন।

-আমরা চাই বা না চাই, চা-কফির দাগ কাপড়ে পড়বেই। তুলোয় ভিনেগার কিংবা খাবার সোডা নিয়ে একটু ঘষুন, দাগ উঠে যাবে।বা কাপড়ে চা ও কফির টাটকা দাগ লাগলে কুসুম কুসুম গরম পানি ও বোরিক পাউডারের মিশ্রনে ডুবিয়ে রাখুন। এবার পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কাপড়ে চা কিংবা কফির দাগ লাগলে পানি দিয়ে দাগের অংশটুকু ধুয়ে নিতে হবে। যদি এতেও দাগ না ওঠে তবে যে অংশে দাগ লেগেছে তা সারারাত ঠাণ্ডা দুধে ভিজিয়ে রেখে পরদিন মৃদু ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর ভিনেগার ও অল্প ঠাণ্ডা পানি মিশিয়ে দাগে স্প্রে করে ১ চামচ বেকিং সোডা লাগিয়ে ভালো করে ঘষলে দাগ ওঠে যাবে।

– খাবার খেতে গিয়ে কাপড়ে সসের দাগ লাগলে প্রথমেই ঠাণ্ডা পানি দিয়ে জায়গাটা ধুয়ে নিতে হবে। এরপর সোডা বা এক ফালি লেবু দিয়ে জায়গাটা ভালো করে ঘষে পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকাতে হবে। এতেও যদি দাগ না যায় তবে হালকা গরম পানিতে আধা চা চামচ ডিটারজেন্ট পাউডার, ১ টেবিল চামচ সাদা ভিনেগার মিশিয়ে মিশ্রণে কাপড়টি ১৫ মিনিট ভিজিয়ে ধুয়ে ফেললে দাগ ওঠে যাবে।

-কাপড়ে তরকারির হলুদ দাগ লাগলে দাগের জায়গায় ভিনেগার লাগিয়ে রেখে দিন দশ মিনিট। তারপর সাবান দিয়ে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিন।

– রঙিন কাপড় কাঁচার আগে পানিতে লবণ মিশিয়ে কাপড় ভেজাবেন। এতে করে রং উঠার ভয় থাকবে না।

– অনেক সময় এক কাপড়ের রং আরেক কাপড়ে লেগে যায়। প্রথমে শুধু পানিতে চার- পাঁচ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। দাগটা হালকা হয়ে এলে সাবান, ডিটারজেন্ট ব্যবহার করে দেখুন।
-সুতি কাপড়ের দাগ তুলতে কাপড় কাচার সোডা, ক্লোরিন ব্যবহার করতে পারেন।

– কাপড়ে রক্তের দাগ যদি পুরনো হয় তাহলে ঠাণ্ডা পানিতে এক চিমটি বেকিং সোডা মিশিয়ে কাপড় কমপক্ষে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখার পর ধুয়ে নিতে হবে। এরপর অল্প সাবান দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।

আরও পড়ুনঃ   ১২ টি প্রাকৃতিক মাউথফ্রেশনার সম্পর্কে জেনে নিন

– রক্তের দাগওয়ালা কাপড় কখনও গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখা যাবে না। আর কাপড়ে দাগ লাগলে সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে ফেলতে হবে।

– রক্তের দাগ লাগলে আমরা অনেক সময় গরম পানি ব্যবহার করি। এতে দাগ স্থায়ী হয়। স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

– সাদা কাপড় ব্যবহার করতে করতে হলদেটে হয়ে গেলে গরম পানিতে সাবান গুলিয়ে ফুটিয়ে নিবেন। এরপর নীল দিয়ে রৌদ্রে শুকাতে দিন। সাদা কাপড়ে দাগ লাগলে লিক্যুইড ব্লিচ দিয়ে ধুতে হবে। আর যদি রঙিন কাপড় হয় তবে কালার সেফ ব্লিচ ব্যবহার করতে হবে।

-কাপড়ে লিপস্টিকের দাগ লাগলে জায়গাটা স্পিরিটে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে দাগ গায়েব হয়ে যাবে।

– কাপড়ে নেলপলিশের দাগ লাগলে তাতে রিমুভার লাগিয়ে জায়গাটা ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর ১ চা চামচ ডিটারজেন্ট গরম পানিতে মিশিয়ে কাপড় ভিজিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।

-কাপড় থেকে আলকাতরার দাগ তুলতে দাগের জায়গায় খানিকটা কেরোসিন ঘষে ঘষে লাগান। পরে শুকিয়ে গেলে সাবান দিয়ে ধুয়ে কড়া রোদে শুকিয়ে নিন। সময়ের সাথে কেরোসিনের গন্ধ চলে যাবে।

– জামায় বা শার্টে বল পেনের কালি লাগলে প্রথমে স্পিরিট দিয়ে ও পরে পেট্রল দিয়ে হালকা ভাবে স্পঞ্জ করলে দাগ চলে যাবে।বা কাপড়ে বলপেনের কালির দাগ লাগলে সে জায়গাটা গ্লাসের ওপর টেনে মেলে দিয়ে ওপর থেকে অ্যালকোহল খুব আস্তে আস্তে ঢেলে দিতে হবে। এরপর পেট্রোলিয়াম জেলি দিয়ে ঘষে তুলতে হবে। এছাড়া ঠাণ্ডা পানিতে লেবুর রস ও ডিটারজেন্টের মিশ্রণে ৫ মিনিট রেখে ধুয়ে নিতে হবে। তাহলে চলে যাবে কালির দাগ।

– কাপড়ে তেল লাগলে প্রথমে কাপড় থেকে অতিরিক্ত তেল পেপার টাওয়াল বা টিস্যু পেপার দিয়ে চেপে চেপে শুষে নিতে হবে। এরপর কাপড়ে বাসন ধোয়ার ডিটারজেন্ট অল্প করে মাখিয়ে নিতে হবে দাগের ওপর। ২ মিনিট পরে আরও ডিটারজেন্ট মাখিয়ে রেখে তারপর হালকা পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।

– যদি কাপড়ে ফলের রসের দাগ লাগে তাহলে দাগযুক্ত কাপড়ের উপড় লবণ ছড়িয়ে দিয়ে ঠাণ্ডা পানিতে কাপড় ভিজিয়ে রেখে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

– কাপড়ে ডিম বা মাংসের দাগ লাগলে ঠান্ডা পানি ও লবণের মিশ্রণে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

-হাতে মেহেদি লাগাবার সময় জামা কাপড়ে লেগে যেতে পারে। জায়গাটি গরম দুধে ভিজিয়ে রাখুন কিছু সময়। পরে সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেললে দাগ উঠে যাবে।

আরও পড়ুনঃ   দাঁতে কালো দাগ পড়ে গিয়েছে, দূর করব কীভাবে?

– সিল্ক অথবা শিফন শাড়িতে যদি মাংস, মাছ বা তরকারির ঝোল লাগে তবে ঐ দাগ লাগা অংশের নীচে একটা ব্লটিং পেপার ধরুন ও দাগের ওপরে ট্যালকম পাউডার ছড়িয়ে পরিষ্কার রুমাল দিয়ে ঘষতে থাকুন। হলুদ দাগ তোলার জন্য কাপড়টা সাবান পানিতে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিন।

– সুতি বা সিল্কের কাপড়ে কালির দাগ লাগলে সামান্য ডিটারজেন্ট, ভিনেগার ও গরম পানির মিশ্রণ তৈরি করে দাগ লাগা অংশটি কয়েক ঘণ্টা ডুবিয়ে রাখুন। তারপর ঈষদুষ্ণ পানি আর সাবান দিয়ে ধুলে দাগ চলে যাবে।

-অনেক সময় কাপড়ে মরিচার দাগ লেগে যায়। এক্ষেত্রে প্রথমে লেবুর রস দিয়ে জায়গাটায় ঘষুন, দেখবেন দাগ অনেক খানি চলে গেছে। এবার সেখানে কিছুটা খাবার সোডা বা লবণ ছড়িয়ে রোদে মেলে দিন। কিছুক্ষণ পরে সাবান ও হালকা গরম পানি দিয়ে ধুলে দাগ চলে যাবে।

– রঙিন জামা কাপড় থেকে ফলের রসের দাগ তুলতে প্রথমে কাপড়টা অ্যামোনিয়া এবং পরে পেট্রোল ভিজিয়ে রাখুন। এতে কাপড়ের রঙের কোনও ক্ষতি হবে না।

– পানের দাগ লাগলে সেই অংশে লেবু অথবা দই লাগিয়ে দিলে দাগটা ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসবে।

– বল পয়েন্টের দাগ লাগলে জামার যেখানে দাগ লেগেছে সেখানে তুলোয় করে মিথিলেটেড স্পিরিট নিয়ে ঘষে নিয়ে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন। এরপর যেভাবে প্রতিদিন জামা-কাপড় কাচেন সেভাবে কেচে নিন।

– জামায় কাদা লাগলে তখনই না ধুয়ে শুকোতে দিন। এরপর পানিতে ডিটারজেন্ট মিশিয়ে জামা ভিজিয়ে রাখুন বেশ কিছুক্ষণ। এরপর ধুয়ে নিন।

– কাপড় থেকে ভেজা কাদার দাগ দূর করতে সেদ্ধ আলুর খোসা ঘষুন। দেখবেন দাগ অদৃশ্য হয়ে গেছে।

-ছবি আকাঁর সময় বাচ্চাদের কাপড়ে রঙ এর দাগ লাগতেই পারে। একটি পুরোনো টুথব্রাশ ফিনাইলে ডুবিয়ে দাগ লাগা জায়গায় ঘষুন। দাগ মুহুর্তেই গায়েব হয়ে যাবে।

– আমাদের গ্রীষ্মপ্রধান দেশে কাপড়ে ঘামের দাগ অনিবার্য। এই দাগ তুলতে পানির মধ্যে দু-তিনটা ব্যথানাশক ট্যাবলেট গুলে নিয়ে কাপড় ধুয়ে ফেলুন। দাগ থাকবে না।বা গরমের সময় ঘামের দাগ নিত্যদিনের সমস্যা। খুব ঘাম যাদের হয় তাদের পোশাক কাচার আগে পানিতে ভিজিয়ে নিবেন। তারপরে ডিটারজেন্টে ভেজাবেন। বিশেষ করে ঘাম শুকিয়ে সাদা দাগ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে ঠাণ্ডা পানিতে কাপড়টি ভিজিয়ে রেখে সাদা ভিনেগার দিয়ে ঘষে কিছুক্ষণ পরে ডিটারজেন্ট দিয়ে হালকা ব্রাশ করে ধুয়ে ফেলতে হবে। আর জামা থেকে ঘামের গন্ধ দূর করার জন্য রঙবিহীন মাউথ ওয়াশ দিয়ে ঘামের জায়গাটা ধুয়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুনঃ   কনের গুণ ও বিবাহের উপকার সম্পর্কে জেনে নিন!

– কাপড়ে তেল জাতীয় দাগ লাগলে সেখানে গুড়া পাউডার দিয়ে রাখুন। পরে ধুয়ে ফেলুন।

-বর্ষায় প্রায়ই কাপড়ে দাগ লেগে যায়। সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার করা হয় না। খুব স্থায়ী হওয়ার আগে পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। এরপর সাবান দিয়ে ঘষে নিন। এতেও না উঠলে লেবু বা ভিনেগার দিয়ে ঘষে রোদে মেলে দিন। দেখবেন দাগ উঠে গেছে।

-শার্ট ধোয়ার সময় কলার ও কাফ পানিতে ভিজিয়ে তার উপরে কয়েক ফোঁটা শ্যাম্পু ছড়িয়ে নিন। তারপর ঘষে ধুয়ে ফেলুন। তেল চিটচিটে ময়লা ও দাগ চলে যাবে।

– কাপড়ে চায়ের দাগ বা অন্য কোনো দাগ লাগলে তরল দুধ দিয়ে ধুয়ে ফেললেও দাগ উঠে যাবে।

– সুতি কাপড়ে কলমের কালির দাগ তুলতে লঘু অক্সালিক এসিড দিয়ে অ্যামোনিয়া দ্রবণে ধুয়ে নিতে হবে। অ্যামোনিয়ার পরিবর্তে দুধও ব্যবহার করতে পারেন।

-রেশম, পশম, সিল্ক কাপড়ে কালির দাগ লাগলে অ্যাসিটিক এসিডের দিয়ে অক্সালিক এসিডে ধুয়ে নিতে হবে। তবে মনে রাখবেন যদি সাবান পানি দিয়ে দাগ না ওঠে, তবেই এটি ব্যবহার করবেন।

– এ ছাড়া মেথিলেটেড স্পিরিট তুলায় নিয়ে দাগের জায়গায় ঘষলে দাগ উঠে যাবে।

-দাগ কখনোই এলোমেলোভাবে ঘষে তোলা উচিত নয়। তুলা বা স্পঞ্জে দাগ তোলার উপাদান নিয়ে বৃত্তাকারে ঘষবেন। তাহলে দাগ চারপাশে ছড়িয়ে পড়বে না।

– বাড়িতে বিপত্তি মনে হলে ভালো কোনো লন্ড্রির শরণাপন্ন হতে পারেন।

-কাপড়ে চিউইংগাম লেগে গেলে প্রথমেই কাপড় একটি পলিথিনে মুড়ে ডিপ ফ্রিজে রাখুন। একটু পরে কাপড় বের করে সাবধানে ভোঁতা ছুরির ডগা দিয়ে চিউইংগাম তুলে ফেলুন। তারপর সেই জায়গাটির উপরে-নিচে ব্রাউন পেপার রেখে আয়রন করে নিন।

আরও তিনটি টিপস মনে রাখবেনঃ

-বাঁশের টারে বা বেড়ায়, তারে কাপড় শুকাতে দিলে অনেক সময় দাগ পড়ে। এই দাগ তোলার জন্য দাগের উপর লেবুর রস ঘসতে হবে। তার উপর কিছু লবণ ছিটিয়ে রোদে দিতে হবে। পড়ে দাগের জায়গায় সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। তাহলে দাগ উঠে যাবে।

 জামা – কাপড়ের কালোজিরা রাখলে; এতে করে জামা – কাপড় পোকামাকড়ের হাত থেকে রেহাই পাবে।

-নতুন ব্রাশ; দাঁত ব্রাশ করার আগে লবণ মেশানো গরম পানিতে ধুয়ে নেওয়া ভালো। এতে ব্রাশ অনেক দিন টেকে।

ভালো লাগলে লাইক দিন এবং শেয়ার করে বন্ধুদের সুযোগ করে দিন।

LEAVE A REPLY