কেন ব্যবহার করবেন সরিষার তেল?

0
307
সরিষার তেল

আগে বাঙালির রান্নাঘর মানেই সরিষার তেলের ঝাঁঝ, গোসলের আগে সরিষার তেল মেখে ব্যায়াম, আর নাকে সরিষার তেল দিয়ে ঘুম। তবে ওজন কমাতে সবাই এখন ঝুঁকছেন অলিভ অয়েলের দিকে। মালিশ করছেন অ্যারোমাটিক অয়েল। অথচ সরিষার তেল স্বাস্থ্য-গুণে ভরপুর। জেনে নিন সরিষার তেলের গুণ।

বাঙালির রান্নায় সরিষার তেল না থাকলে যেন জমে না। মাছ ভাজা, নানা রকম ভর্তা, মুড়ি মাখা, আচারের মতো মুখরোচক খাবারে সরিষার তেল যোগ করে আলাদা স্বাদ। ভাপ দিয়ে রাঁধতে হয়—এমন পদেও এই তেলের জুড়ি নেই। সরিষার তেল হার্টকে ভালো রাখে। ক্ষতিকর কোলেস্টরল কমায়। নানা রকম গুণ আছে সরিষার তেলের।গতকাল শনিবার ভারতের অন্যতম প্রধান দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে সরিষার তেলের গুণাগুণের এমন বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

ভারতের নামী পুষ্টিবিদ সন্ধ্যা গুগনানি বলেন, সরিষার তেল নিয়ে একটা কথা চালু আছে যে এতে ইউরিক অ্যাসিড থাকায় এটা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপে গ্রহণ নিষিদ্ধ। ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা করে এর ক্ষতিকর প্রভাব দেখা গেছে। কিন্তু গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, মানুষের ওপর এর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব নেই। বরং অন্য সব তেলের তুলনায় অন্যতম স্বাস্থ্যকর তেল হিসেবে বিবেচনা করা হয় একে। অন্যান্য তেলের তুলনায় এতে ওমেগা ৩ ও ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি। জেনে নিন খাঁটি সরিষার তেলের এক ডজন গুণাগুণ।

১. এর আছে ঝাঁজালো অনন্য স্বাদ। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ওডিশা, আসাম ও নেপালে ঐতিহ্যগত রান্নার তেল হিসেবে সরিষার তেলের ব্যবহার রয়েছে।

২. এক চা-চামচ সরিষার তেলে আছে ১২৬ ক্যালরি।

৩. সরিষার তেল অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদানসমৃদ্ধ। ত্বকের ওপর এই তেল দিয়ে ম্যাসাজ করলে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন দূর হয়। এরা ফাঙ্গাসের বৃদ্ধি রোধ করে।

৪. পোকামাকড় সরিষার তেল সহ্য করতে পারে না। এই তেল ব্যবহার করে পোকামাকড় থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

আরও পড়ুনঃ   স্বাস্থ্যকর উপায়ে মাংস রান্নার ১৪ টিপস

৫. সরিষার তেলে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড (অলিক ও লিনোলিক অ্যাসিড) চুল পুনরুজ্জীবিত করে তোলে। চুলের গোড়া মজবুত করে এবং মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। নিয়মিত
সরিষার তেল ব্যবহারে চুল পড়া কমে।

৬. সরিষার তেল শরীর উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরের ঘাম বের হওয়ার গ্রন্থিগুলো পরিষ্কার ও সচল রাখে। ফলে শরীরের বর্জ্য পদার্থগুলো বের হয়ে যায়।

৭. এটি উষ্ণ তেল হিসেবে শীতের সময় শরীরে ম্যাসাজ করা যায়।

৮. এর উষ্ণতার গুণের কারণে আয়ুর্বেদশাস্ত্রে একে কফ ও কাশি প্রতিরোধক হিসেবে বলা হয়েছে।

৯. বাতের ব্যথা দূর করতে সরিষার তেলের ব্যবহার দেখা যায়।

১০. দাঁতের মাড়ির বিভিন্ন রোগ দূর করতে লবণ ও সরিষার তেল ব্যবহার করা হয়।

১১. ভারতের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস ও স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন ভোজ্যতেলের মধ্যে চর্বির তুলনা করে দেখেছেন, সরিষার তেলের ব্যবহারে হৃদ্রোগের ঝুঁকি ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে। গবেষকেরা অলিভ অয়েল, ক্যানোলা ও সূর্যমুখী তেলের মধ্যে তুলনা করেছিলেন। প্রিভেনটিভ কার্ডিওলজি সাময়িকীতে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয় গবেষণাসংক্রান্ত নিবন্ধ।

১২. সরিষার তেল আর হলুদ ফেসপ্যাক হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে ত্বকের খসখসে ভাব দূর হয় এবং শুষ্ক চামড়া ঝরে পড়ে। তথ্যসূত্র: টিএনএন।

১। হার্ট- সরিষার তেলে রান্না খাবার খেলে কার্ডিও ভাসকুলার সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৭০ শতাংশ কমে যায় বলে জানাচ্ছেন চিকিত্সকরা।

২। হজম- সরিষার তেল উৎসেচকের ক্ষরণ বাড়িয়ে হজমে সাহায্য করে।

৩। ক্যানসার- সরিষার তেলে থাকা ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল ক্যানসার রুখতে সাহায্য করে।

৪। অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল- সরিষার তেলের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিফাংগাল গুণ ত্বকের ইনফেকশন কমাতে সাহায্য করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

৫। সর্দি কাশি- সরিষার তেল ফুসফুসের সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে। বন্ধ নাকে সরিষার তেল দিলে আরাম পাওয়া যায়। ঘুম ভাল হয়।

আরও পড়ুনঃ   টমেটোর ঔষধি গুণ

৬। গাঁটে ব্যথা- বাতের ব্যথা, যন্ত্রণা উপশমেও ভাল কাজ করে সরিষার তেল।

৭। মালিশ- সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির হাত থেকে রক্ষা করে সরিষার তেল। শিশুদের সরিষার তেল মালিশ করলে বৃদ্ধি ভাল হয়। বড়দের ক্ষেত্রেও মালিশ রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে।

৮। ত্বক ও চুল- সরিষার তেলের ভিটামিন ই শুষ্ক ত্বকের সমস্যা দূর করতে, বলিরেখা রুখতে সাহায্য করে। স্ক্যাল্পে সরিষার তেল মালিশ করে চুল পাকার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

আরো পড়ুন

সরিষার তেল ব্যবহার করছেন তো?

বিঃ দ্রঃ গুরুত্বপূর্ণ হেলথ নিউজ ,টিপস ,তথ্য এবং মজার মজার রেসিপি নিয়মিত আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ বিডি হেলথ নিউজ এ ।

LEAVE A REPLY