কোলেস্টেরল কী এবং কেন হয়

0
101
কোলেস্টেরল কী, কোলেস্টেরল

কোলেস্টেরল এক ধরনের চর্বি। এটি বেড়ে গেলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়। সম্প্রতি এ বিষয়ে কথা বলেছেন বিআইএইচএস জেনারেল হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের পরামর্শক ডা. ফরহাদ নেওয়াজ।

প্রশ্ন : কোলেস্টেরল জিনিসটা কী?

উত্তর : কোলেস্টেরল এক ধরনের চর্বি। এটি কয়েক ধরনের হয়ে থাকে ট্রাইগ্লিসারাইড, এলডিএল, এইচডিএল এবং টোটাল কোলেস্টরল। এর মধ্যে একটা হলো উপকারী। আর তিনটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

প্রশ্ন : ক্ষতিকর যে তিনটি আছে এটি কী ক্ষতি করে থাকে? এটা নিয়ে আমরা এত চিন্তিত কেন?

উত্তর : চিন্তিত এই কারণে, এই কোলেস্টেরল জমা হয় রক্তনালিতে। জমা হতে হতে রক্তনালির স্বাভাবিক যে রক্তস্রোত তা বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

প্রশ্ন : এই রকম কোলেস্টেরল বাড়লে কি শুধু হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে নাকি যেকোনো রক্তনালিকে আক্রান্ত করতে পারে বা মস্তিষ্ক আক্রান্ত হতে পারে?

উত্তর : যেকোনো রক্তনালিকে আক্রান্ত করতে পারে, মস্তিষ্ককে আক্রান্ত করতে পারে, লিম্বস আক্রান্ত করতে পারে, ব্লক করতে পারে।

প্রশ্ন : তাতে কী কী সমস্যা হয়?

উত্তর : যদি হার্টে হয় তো হার্ট অ্যাটাক হলো, যদি লিম্বসে হয় তাহলে হাঁটতে অসুবিধা হবে। মস্তিষ্কে হলে স্ট্রোক হতে পারে।

প্রশ্ন : কোলেস্টেরল বেড়ে যায় কেন?

উত্তর : প্রথমত আমাদের খাদ্যাভ্যাসের কারণে। আর এমন জীবন যাপন যদি করেন, বেশি শুয়ে বসে থাকা। তারপর কিছু অভ্যাস আছে যেমন ধূমপান, মদ্যপান, জর্দা সেবন এসব কারণে হয়। আর কিছু রোগ রয়েছে এটার জন্য দায়ী ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ইত্যাদি। আর কিছু ওষুধ আছে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

প্রশ্ন : কী ধরনের ওষুধ?

উত্তর : স্টেরয়েড, হাইড্রোকোথায়াজাইড এগুলো রোগকে বাড়িয়ে দেয়।

প্রশ্ন : কোলেস্টেরল বাড়লে ক্ষতিকর আবার উপকারী কোলেস্টেরলও বলছিলেন । সেটা কী?

উত্তর : সেটা হলো এইচডিএল। এটা শরীরের পেরিফেরি থেকে কোলেস্টেরল সংগ্রহ করে লিভারে নিয়ে যায়। পরে লিভার দিয়ে এটা বেড়িয়ে যায়। এটা বাড়লে সেটা আমাদের জন্য উপকারী।

আরও পড়ুনঃ   প্রতিদিন ১টি কাঁচা মরিচের বিস্ময়কর স্বাস্থ্য উপকারিতা

প্রশ্ন : এই যে উপকারী কোলেস্টেরল যেটা বাড়ানো দরকার, সেটা কমে যায় কেন?

উত্তর : এটা কমে যায় যদি কারো ওজন বাড়তে থাকে। অথবা যদি ডায়াবেটিস হয়। এটা কমানোর উপায় নিয়মিত হাঁটা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, মাছ বেশি খাওয়া। তাহলে শরীরে উপকারী কোলেস্টেরল বাড়বে। তার মানে যে কারণে অপকারী কোলেস্টেরল বেড়ে যায়, সেই কারণেই উপকারী কোলেস্টেরল কমে যায়।

প্রশ্ন : কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায় কী?

উত্তর : একটি হচ্ছে ওষুধ ছাড়া। এ ক্ষেত্রে আমাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। বিশেষ করে লাল মাংস, খাসির মাংস, গরুর মাংস এগুলো এড়িয়ে যেতে হবে। বেশি শাক-সবজি এবং মাছ বেশি করে খেতে হবে। আর নিয়মিত হাঁটতে হবে। ডায়াবেটিস অথবা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। আর খারাপ অভ্যাস যেমন ধূমপান এবং মদ্যপান এড়িয়ে চলতে হবে।

প্রশ্ন : একজন মানুষ কোলেস্টেরলে আক্রান্ত হলে তার কি নিয়মিত চেকআপের প্রয়োজন আছে?

উত্তর : অবশ্যই প্রয়োজন আছে। আমরা অনেক সময় বলি ফাস্টিং লিপিড প্রোফাইল। আট ঘণ্টা খালি পেট থেকে এরপর লিপিড প্রোফাইল চেক করতে হবে। তিন থেকে ছয় মাস পরপর এটা করতে হবে।

প্রশ্ন : আর যাদের কোলেস্টেরল নেই, সে যদি রোগটি বাড়তে দিতে না চায় তার জন্য পরামর্শ কী?

উত্তর : তার জন্য পরামর্শ হলো স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়া। যেমন : শাকসবজি এবং মাছ বেশি করে খেতে হবে। গরুর মাংস, খাসির মাংস এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। ধূমপান এবং মদ্যপান ত্যাগ করতে হবে। এভাবেই সে ভালো থাকতে পারবে। এরপরও যদি পারিবারিক কারণে অনেকের কোলেস্টেরল বেড়ে যায় তাদের ওষুধ খেতে হবে।

প্রশ্ন : আপনি বারবারই লাল মাংস খাওয়া এড়িয়ে যাওয়ার কথা বলছিলেন। কিন্তু এ মাংসটি অত্যন্ত সুস্বাদু, খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তাই এর প্রস্তুত প্রক্রিয়ার মধ্যে এমন কোনো বিষয় আছে কি যে চর্বি এড়িয়ে যাওয়া যাবে?

আরও পড়ুনঃ   কোলেস্টেরল কমানোর ৯ উপায়

উত্তর : গ্রিল করে খাওয়া যেতে পারে। গ্রিল করলে কিছুটা চর্বি কমে যায়। আরেকটি হলো উপলক্ষ অনুযায়ী মাঝে মধ্যে খাওয়া যেতে পারে। এটি প্রস্তুত করার সময় মাংসের টুকরো যতটুকু পারা যায়, ছোট করতে হবে, চর্বিটা ফেলে দিতে হবে।

প্রশ্ন : আরেকটি বিষয় জানতে চাই, বাদামের ব্যাপারটি। অনেকে ভাবেন এটিও তো তৈলাক্ত খাবার। তাহলে..

উত্তর : এটি হলো আনস্যাচুরেটেট ফ্যাট। আনস্যাচুরেটেট ফ্যাট শরীরের জন্য মোটামুটি ভালো। এটি শরীরের উপকারী কোলেস্টেরল কিছুটা বাড়ায়। তাই বাদাম খাওয়া যাবে।

প্রশ্ন : আমরা জানি তেলের সঙ্গে আরেকটি বিষয় আছে। অনেক তেলের বিজ্ঞাপনে আমরা দেখি এটি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় না। তার মানে কিছু কিছু তেল হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়, কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয়। তাহলে কোন তেল আমাদের জন্য ভালো?

উত্তর : অলিভওয়েল খেতে পারলে খুবই ভালো হয়। আরেকটি হলো ধানের কুঁড়া থেকে যে তেলটা হয় সেটি। এটিও উপকারী।

প্রশ্ন : বাকি যেই তেল আছে সয়াবিন তেল বা অন্য যেসব তেল আছে, হৃদরোগীদের জন্য কি এটা ক্ষতিকর?

উত্তর : তাদের জন্য এটি ক্ষতিকর । তবে পরিমিত খেলে বেশি সমস্যা হওয়ার কথা না। খাদ্যে যতটুকু না দিলেই নয়, অতটুকুই দিতে হবে।

প্রশ্ন : কোলেস্টেরল বেশি থাকলে যদি বেশি লবণ খায় কেউ, কাঁচা অথবা ভাজা এর সঙ্গে কি কোলেস্টেরল বাড়ার কি কোনো সম্পর্ক আছে?

উত্তর : এর ফলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বেড়ে যাবে। তাই আমাদের কাঁচা লবণ এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। আবার কোলেস্টেরলের সঙ্গে ডায়াবেটিসও সম্পর্কযুক্ত। তাই ডায়াবেটিসও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ডায়াবেটিস বাড়লে ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল বেড়ে যায়। আর যেই কোলেস্টেরল আমাদের শরীরের জন্য উপকারী সেটা কমে যায়।

প্রশ্ন : কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ জীবন-যাপনের ক্ষেত্রে পাঠক দর্শকদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

উত্তর : আমার পরামর্শ হবে, আপনারা স্বাস্থ্যসম্মত খাবারে অভ্যস্ত হোন, নিয়মিত ব্যায়াম করবেন, ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে চলবেন এবং দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন-যাপনের চেষ্টা করবেন। তাহলে আমরা সবাই ভালো থাকতে পারব।

আরও পড়ুনঃ   সাপে কামড়ালে ভুলেও এই পাঁচটি কাজ করবেন না! হতে পারে মৃত্যুও

 আরও পড়ুনঃ   কোলেস্টেরল কমানোর কার্যকর ঘরোয়া উপায়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here