কোষ্ঠকাঠিন্য : ইচ্ছে করলেই যে রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়

0
514
কোষ্ঠকাঠিন্য

পাশ্চাত্যের একটি স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েব সাইটে দাবি করা হয়েছে, নারী-পুরুষ সবাই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে একবার হলেও কোষ্ঠকাঠিন্যে আক্রান্ত হবেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের অনেক চিকিৎসকই বলে থাকেন, তারা আগের তুলনায় কোষ্ঠকাঠিন্যের রোগী বেশী পাচ্ছেন। কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ে ঢাকার ইবনে সিনা মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহকারী প্রফেসর ডা. মো আজিজুল হকের আলোচনা এখানে পরিবেশন করা হলো :আজকের দিনে বহু মানুষের কাছে কোষ্ঠকাঠিন্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। নিয়মিত মলত্যাগ করতে না পারলে তাকে কোষ্ঠ-কাঠিন্য হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে একটি কথা আমাদের সবার মনে রাখতে হবে। আর তা হলো, মলত্যাগের জন্য প্রযোজ্য কোনো নিয়ম নেই। অভ্যাস সহ নানা কারণে কেউ দিনে তিন বার এ কাজ করেন। আবার কেউ কেউ সপ্তায় এক বা দুই বার এ কাজটি করে থাকেন। তবে সাধারণভাবে একনাগাড়ে যদি তিন দিন কেউ মলত্যাগ না করেন তবে সেটা চিন্তার বিষয় হয়ে দেখা দিতে পারে। কারণ তিনদিন ত্যাগ না করা হলে সে মল বেশ শক্ত হয়ে যায় এবং তা সহজে বের হতে চায় না। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেন, সপ্তায় অন্তত দুইবার কোষ্ঠ পরিস্কার না হলে, পেট পরিস্কার হয়নি বলে যদি ২৫ শতাংশ সময় মনে করা হয়, তলপেট ও তার আশে পাশের অংশে যদি ব্যাথা অনুভূত হয় বা মলত্যাগের জন্য দীর্ঘ সময় লাগে তবে তাকে কোষ্ঠকাঠিন্য বলা যায়।

কোষ্ঠকাঠিন্য কেন হয় এমন একটি প্রশ্ন অনেকেই করে থাকেন। চিকিৎসাবিদরা বলে থাকেন এর নানা কারণ থাকতে পারে। তবে খাবার-দাবারে আঁশ জাতীয় খাদ্যের পরিমাণ কম থাকলে, রিফাইন বা পরিশুদ্ধ খাবার-দাবার বেশি গ্রহণ করলে। অর্থাৎ ভূষিযুক্ত আটার বদলে ময়দার তৈরি খাবার বেশি খেলে। লাল চালের বদলে মেশিনে ছাঁটা কুড়াবিহীন ধবে ধবে সাদা চাল বেশি খেলে এ সমস্যা হতে পারে। একই সাথে তেল বা চর্বি জাতীয় খাবার এবং আমিষ জাতীয় খাবার বেশি গ্রহণ করা হলে পরিণামে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। অনেকে নানা কারণে সারাদিনে খুব বেশি পরিমাণে পানি পান করেন না। এ জন্য তাদেরও কোষ্ঠকাঠিন্যের ধাত হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ   যে ৩টি খাবার খেয়ে আপনার লিভারকে সুস্থ রাখতে পারেন

কায়িক পরিশ্রম, হাঁটাচলা কিংবা ব্যায়ামের অভাবেও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। ডায়াবেটিস দেখা দিলে, অন্ত্রনালীতে ক্যান্সার হলে, মস্তিষ্কে টিউমার হলে এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে এ সমস্যা হতে পারে । বিভিন্ন অসুস্থতার কারণে দীর্ঘ দিন বিছানায় শুয়ে থাকলে, বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, যেমন ব্যথার ওষুধ, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ প্রভৃতি সেবন করলে এবং যেসব ওষুধের মধ্যে আয়রন বা লোহা, ক্যালসিয়াম ও অ্যালুমিনিয়াম জাতীয় খনিজ পদার্থ থাকে সেগুলো গ্রহণ করলেও তারও পরিণামে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। নলকুপের পানিতে বেশি মাত্রায় আয়রন বা লোহা থাকলে একই কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পার। অনেকে এসিডিটিতে ভুগেন এবং সে জন্য ক্যালসিয়াম বা এলুমনিয়াম সমৃদ্ধ ওষুধ গ্রহণ করেন। এ কারণেও তাদের মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। তা ছাড়া স্নায়ুতন্ত্র ও হরমোনের বিভিন্ন ধরনের অসুখ বা সংকটের কারণেও দেখা দিতে পারে কোষ্ঠকাঠিন্য । গর্ভবতী অনেক মায়ের কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। তবে সাধারণভাবে অসুখ জনিত কোষ্ঠ কাঠিন্য বয়সী লোকদের আক্রমণ করে। কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে নানা রকম জটিলতা দেখা দিতে পারে। পেট ফাঁপা আছে বলে মনে হতে পারে। ক্ষুধা কমে যেতে পারে। পেট বা তলপেটে ব্যাথা হতে পারে। কারো কারো বমি পর্যন্ত হতে পারে। বেশিদিন কোষ্ঠকাঠিন্য চলতে থাকলে পায়খানা করার ইচ্ছা লোপ পেতে পারে। অন্যদিকে একই সাথে পায়খানা ধরে রাখার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। হেমোরোয়েড বা পাইলস বা অর্শ দেখা দিতে পারে। দেখা দিতে পারে এনালফিশার কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্যে যিনি দীর্ঘ দিন ধরে ভুগছেন তার রেকটাল প্রোলাপস বা মলদ্বার বাইরে বের হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে যে সব কোষ্ঠকাঠিন্য কোলন ক্যান্সার এবং মস্তিষ্কে টিউমারের জন্য দেখা দিয়েছে সে সব কোষ্ঠকাঠিন্যের দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। এ সব রোগের চিকিৎসা করাতে দেরী হলে বা সময়মতো চিকিৎসা করা না হলে রোগীর অকালমৃত্যুও হতে পারে। সাধারণ ভাবে দু’সপ্তার বেশি কোনো কোষ্ঠকাঠিন্য স্থায়ী হলে সংশ্লিষ্ট রোগীকে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে দেখা করা দরকার। এ ছাড়া হঠাৎ করে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিলে, মলের সাথে রক্ত যেতে শুরু করলে, কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়ার পর কোনো কারণ ছাড়াই ওজন হ্রাস পেতে থাকলে। কিংবা মলত্যাগের সময় পেটে প্রচন্ড ব্যাথা হলে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে দেখা করা উচিত।

আরও পড়ুনঃ   কোন কোন রোগে কী কী ভেষজ ব্যবহার

রোগের কথা উঠলেই সাথে সাথে চিকিৎসা এবং রোগ প্রতিরোধের কথাটি উঠে আসবে। কান টানলে মাথা চলে আসার মতো ব্যাপার । একই সাথে প্রতিরোধের সাথে প্রতিকার উত্তম বলেও একটি কথাও প্রচলিত আছে। সাধারণ ভাবে চিকিৎসকরা মনে করেন, কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রতিকার করাই হলো এ রোগের সেরা চিকিৎসা। খাদ্য অভ্যাস পরিবর্তন করার মাধ্যমে কোষ্ঠকাঠিন্যর কষ্ট থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। শাক-সবজি এবং ফল মুল সহ আঁশ জাতীয় খাবার বেশি করে খেলে কোষ্ঠ পরিস্কার হয় এ কথা কমবেশী আমরা সবাই জানি। কিন্তু সমস্যা হলো এই জানা কথাটি আমরা নিষ্ঠার সাথে মানি না। একই সাথে জীবন যাপনের পদ্ধতিকে যতোটা সম্ভব সক্রিয় করে তুলতে হবে। অর্থাৎ ব্যায়াম চর্চার অভ্যাস নারী-পুরুষ সবাইকে করতে হবে। সব বয়সের মানুষকে ব্যায়াম বা শরীর চর্চাকে সরাসরি দৈনিকের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। আমাদের খাদ্য অভ্যাস তৈরি হয় শিশুকাল থেকে। তাই সঠিক খাদ্য অভ্যাস সৃষ্টি করার দায়িত্বের অনেকটাই বর্তায় অভিভাবকদের উপর। ছোট বেলা থেকেই যদি শাক-সবজি এবং ফল-মুল খাওয়ার অভ্যাস করা যায় তবে কোষ্ঠ-কাঠিন্যের ছোবল থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্যের যে কোনো রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে অর্থাৎ নানা রকম ওষুধ দিয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে সমস্যাটি দূর করে দেয়া সম্ভব। কিন্তু এই সুফল ধরে রাখার জন্য অবশ্যই তার খাদ্য অভ্যাস এবং জীবন যাপনের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে হবে। তা না হলে এই সমস্যা অন্ধ চক্রের মতো ফিরে ফিরে আসবে। তবে কোনো রোগের কারণে যদি এ ধরণের কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয় তবে দ্রুত সে রোগের চিকিৎসা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিলম্ব করা মোটেও ঠিক হবে না।

আরো পড়ুন

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগছেন?

লেখাটি ভাললাগলে কিংবা উপকারে আসলে শেয়ার করে অপরকে জানান।

বিঃ দ্রঃ গুরুত্বপূর্ণ হেলথ নিউজ ,টিপস ,তথ্য এবং মজার মজার রেসিপি নিয়মিত আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ বিডি হেলথ নিউজ এ ।

আরও পড়ুনঃ   লিভার নষ্ট হওয়ার এই ১০টি কারণ কি আপনার মধ্যে আছে? আজই সচেতন হউন…

LEAVE A REPLY