গ্রিন টি কেন খাবেন ?

0
192
গ্রিন টি

গ্রিন টির উৎপত্তি স্থল চীন । স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে জানানো হয়, ওষুধ হিসেবে গ্রিন টি হাজার বছর ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে। সাধারণ চা আর গ্রিন টি’র মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে প্রক্রিয়াজাতকরণে। অন্যান্য চা তৈরি করতে ‘ফারমেনটেইশন’ বা গাঁজন প্রক্রিয়া চালানো হয় কিন্তু গ্রিন টি’র ক্ষেত্রে তা করা হয় না।

ফলে অন্যান্য চা থেকে গ্রিন টি’তে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ও পলি-ফেনলস বেশি থাকে। তাই অন্যান্য চা থেকে গ্রিন টি’র উপকারিতা বেশি। চা গাছের সবুজ পাতাই মুলত গ্রীন টি৷এই চায়ে রয়েছে ভিটামিন এ, ই এবং সি৷ এছাড়াও রয়েছে ক্যালমিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও বিভিন্ন মিনারেল৷

রোগ প্রতিরোধ: গ্রিন টি বিভিন্ন বায়োঅ্যাক্টিভ উপাদানে (যেমন- পলিফেনল, এপিগ্যালোক্যাটেচিন গ্যালেট ইত্যাদি) ভরপুর যা শরীরকে সুস্থ্ রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ করে।

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা : গ্রিন টি-তে সামান্য পরিমাণ ক্যাফেইন থাকে যা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এতে এল-থিয়ানিন নামক এক ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে যা ক্যাফেইনের সাথে মিশে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
মস্তিষ্কের রোগ: বয়স্ক ব্যক্তির অ্যালঝাইমার, পারকিনসন ইত্যাদি মস্তিষ্কের রোগ হওয়া থেকে রক্ষা করে।
সৌন্দর্যয় চর্চা গ্রিন-টি:

সৌন্দর্য চর্চা বা তারুণ্য ধরে রাখতে গ্রিন-টি বা সবুজ চায়ের জুড়ি নেই৷ এতে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট৷ নিয়মিত গ্রিন-টি পান শরীরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে৷ ডাক্তার হাইনরিশ বলেন, ‘‘১২ সপ্তাহ ধরে ৬০ জন মানুষকে প্রতিদিন গ্রিন-টি পান করিয়ে একটি সমীক্ষা চালানো হয়৷ যাতে বেরিয়ে আসা যে, তাঁদের চামড়া বা ত্বক অনেক টানটান হয়েছে৷’’

স্থুলতা থেকে মুক্তি: গবেষণায় পাওয়া গেছে, নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাট কমে আসে। ফলে স্থুলতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

ওজন নিয়ন্ত্রন: গ্রিন টি হজম ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। গ্রিন টি শরীরের মেটাবলিজম বৃদ্ধি করে৷প্রতিদিন কমপক্ষে ৪ কাপ সবুজ চা খেলে অতিরিক্ত ৬৭ ক্যালোরি পোড়ানো যায়৷

আরও পড়ুনঃ   ছেলেদের ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক স্ক্রাব করুন

ডায়বেটিস: নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে আপনার টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা কমে আসতে পারে। কারণ গ্রিন টি-তে উপস্থিত কিছু উপাদান শরীরে সুগারের পরিমাণ অল্প অল্প করে কমাতে সাহায্য করে।

হৃদরোগ: বিজ্ঞানীদের মতে, গ্রিন টি শরীরের প্রতিটি শিরায় কাজ করে। ফলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে। তাই কোনো কারণে রক্ত চাপে পরিবর্তন হলেও কোন ধরনের ক্ষতি করে না। তাছাড়া এই চা রক্ত জমাট বাধতে দেয় না। ফলে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভবনা অনেক কমে যায়।

খাদ্যনালীর ক্যন্সার: গ্রিন টি খাদ্যনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। এছাড়াও ভালো কোষগুলোর কোনো ক্ষতি না করে সার্বিকভাবে ক্যান্সারের কোষ নির্মূল করে।

কোলেস্টেরল: গ্রিন টি শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উপকারী কোলেস্টেরলের পরিমাণও বাড়ায়।

দাঁতের সুস্থতা: গ্রিন টি’র ‘ক্যাটেকাইন’ নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মুখের ভিতরের বিভিন্ন ব্যকটেরিয়া ও ভাইরাস ধ্বংস করে। যা গলার ইনফেকশনসহ দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা কমিয়ে আনে।

রক্ত চাপ: নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমে যায়।

হতাশা থেকে মুক্তি: প্রাকৃতিকভাবেই ‘থিয়ানিন’ নামের অ্যামাইনো এসিড চা পাতায় পাওয়া যায়। এই উপাদান দুশ্চিন্তা ও হতাশা কমাতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে অবসাদ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

অ্যান্টি ভাইরাল ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল: চায়ের ক্যাটেকাইন উপাদান অ্যান্টি ভাইরাল ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল হিসেবে বেশ কার্যকর। ফলে ইনফ্লুয়েঞ্জা থেকে ক্যান্সার পর্যন্ত সব রকমের রোগের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে অনেক রোগ বিস্তারেও বাধা দেয় গ্রিন টি।

ত্বকের যত্ন: মুখে বয়সের ছাপ ও বলিরেখা দূর করতে গ্রিন টি’র জুড়ি নেই। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামাটরি উপাদান ত্বকে বলি রেখা পড়তে দেয় না। তাছাড়া এটি ত্বকের রোদে পোড়াভাব কমাতে ও ব্ল্যাক হেডস দূর করতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুনঃ   আয়ুর্বেদিক উপাদান হিসেবে নিম পাতার ব্যবহার

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়: ক্যান্সারের জন্য দায়ী কোষ জন্মাতে বাধা দেয় গ্রিন টি, পাশাপাশি উপকারী কোষকে উজ্জীবিত করে।

 মৃত্যু ঝুঁকি কমিয়ে দেয় : সর্বোপরি, গ্রিন টি আপনার মৃত্যুর ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে মহিলাদের মৃত্যুর ঝুঁকি ২৩ শতাংশ এবং পুরুষদের মৃত্যুর ঝুঁকি ১২ শতাংশ কমে আসে।

তবে গ্রিন টি পানের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকুন৷ যেমন,

১. খালি পেটে কখনই গ্রিন টি খাবেন না৷ভরা পেটে এই চা পান করবেন৷

২.  খাওয়ার পর নির্ধারিত বিরতির পর গ্রিন টি পান করুন৷

৩. রাত ৮টার পর গ্রিন টি পান করবেন না৷ অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর হলেও এই চায়ে ক্যাফেইনের মতো উপাদান থাকায় রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে৷

৪. গ্রিন টি পান করলে বেশী করে জল খাবেন কারন ক্যালোরি পোড়ানোর যে উপাদানগুলি আছে এই চায়ের মধ্যে আছে তাতে বেশী করে জল না খেলে হজমে সমস্যা হতে পারে৷

আখতারুন নাহার আলো (প্রধান পুষ্টি কর্মকর্তা, বারডেম) লিখিত ”চায়ের ভেষজ গুণ অনেক” নামে লেখাটি এখানে উল্লেখ করা সমীচীন মনে করলাম :-

চায়ের পাতায় রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েড, যার মধ্যে রয়েছে চমৎকার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। খাবারের সঙ্গে বেশি পরিমাণে ফ্ল্যাভোনয়েড শরীরে গেলে হৃদযন্ত্র বেশি সক্রিয় থাকে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, ফলমূল বা শাকসবজিত যে পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পাওয়া যায়, চায়ে তার চেয়ে বেশি পরিমাণে রয়েছে। চা অভ্যর্থনার পানীয় হিসেবে জনপ্রিয় হলেও এর ঔষধি গুণটি সমান্তরালভাবে স্বীকৃত। একই ধরনের চায়ের পাতা থেকে তিন ধরনের চা তৈরি হয়। যেমন-গ্রিন টি, উলং টি, ব্ল্যাক টি। সতেজ সবুজ পাতা রোদে শুকিয়ে তাওয়ায় সেঁকে গ্রিন টি তৈরি করা হয়।
গ্রিন টি সামান্য ফার্মেন্ট করলে হয় উলং টি। পুরোপুরি ফার্মেন্ট করলে হয় ব্ল্যাক টি। এখনকার গবেষণায় জানা যায়, গ্রিন টি পেটের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। ট্যানিক এসিডের জন্য গ্রিন টির লিকার দাঁতের ক্ষয়রোধ এবং মাঢ়ি মজবুত করে। দেহের কোনো অংশ কেটে গেলে সে স্থানে গ্রিন টির লিকারে তুলো ভিজিয়ে দিলে রক্ত পড়া বন্ধ হয়। আবার খুব চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর উলং চায়ের লিকার খেলে কোলেস্টেরল বাড়ার আশঙ্কা তেমন থাকে না। আবার রক্তে লৌহ-কণিকার প্রাধান্য থাকলে প্রধান খাবারের পর পরই চা পান করলে ভালো হয়। এতে লৌহ শোষণের মাত্রা কমে যায়। বিশেষ করে থ্যালাসেমিয়ার ক্ষেত্রে।
পোকামাকড় কামড়ালে যদি ক্রমাগত চুলকায় বা ফুলে যায়, সেখানে ভেজা সবুজ চা-পাতা দিয়ে ঢেকে দিলে আরাম বোধ হয়। চোখের ক্লান্তির ছাপ কাটাতে ভেজা টি-ব্যাগ চোখের ওপর রাখলে ভালো ফল হয়। ত্বকে আঁচিলের সমস্যা দেখা দিলে চা-গাছের তেল প্রতিদিন ফোঁটা ফোঁটা করে আঁচিলের ওপর লাগাতে হবে। চায়ে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ পটাশিয়াম ও ক্যাফিন। শরীরে আলস্য কাটিয়ে একটা চলমান ও স্কূর্তিভাব আনতে পটাশিয়াম ও ক্যাফিনের জুড়ি নেই। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আছে, তাদের জন্যও পটাশিয়াম উপকারী। চায়ে রয়েছে জিঙ্ক, যা শরীর বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন। চা শুধু উদ্দীপকই নয়, এটা রক্ত জমাট বাঁধাও দূর করে। চা-পাতা সেদ্ধ পানি চুল পড়া রোধ করে। ২০-২৫টি কাঁচা চা-পাতা ও তুলসীপাতা একত্রে সেদ্ধ করে মাথায় মেখে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেললে উকুন দূর হয়। অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন ও গর্ভবতীদের খুব বেশি চা খাওয়া উচিত নয়।

আরও পড়ুনঃ   মেহেদি পাতায় সুস্থ জীবন!

বিঃ দ্রঃ গুরুত্বপূর্ণ হেলথ নিউজ ,টিপস ,তথ্য এবং মজার মজার রেসিপি নিয়মিত আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ বিডি হেলথ নিউজ এ ।

LEAVE A REPLY