ঘরোয়া উপায়ে দূর করুন পেটের ‘কৃমি’

0
599
কৃমি

বয়সের মানুষের কৃমি হতে পারে। তবে শিশু কিশোরদের মাঝে কৃমির সংক্রমণ বেশি দেখা যায়৷ কৃমি মূলত এক ধরণের পরজীবী যা অন্ত্রে বাস করে থাকে। কৃমি বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে। সুতা কৃমি, বক্র কৃমি, গোল কৃমি, ফিতা কৃমি হয়ে থাকে। বাজারে কৃমির চিকিৎসার জন্য নানা রকম ওষুধ আছে। তবে কিছু ঘরোয়া উপায় আছে যার মাধ্যমে কৃমি দূর করা সম্ভব।

 

১. গাজর:-
দুটি গাজর কুচি করে নিন। এটি প্রতিদিন খালি পেটে খান। অন্য খাবার সকালে খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এটি প্রতিদিন খান। কিছুদিনের মধ্যে কৃমি কমে যাবে। গাজরের বিটা ক্যারটিন, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং জিঙ্ক আছে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে পেটের কৃমি মেরে ফেলে।

২. নারকেল:-
পেটের কৃমি দূর করতে নারকেল বেশ কার্যকরী। প্রতিদিন সকালের নাস্তায় এক টেবিল চামচ নারকেল কুচি খান। ৩ ঘন্টা পর এক গ্লাস গরম দুধের সাথে দুই টেবিল চামচ কাস্টর অয়েল মিশিয়ে পান করুন। এছাড়া চার থেকে ছয় চা চামচ বিশুদ্ধ নারকেল তেল খেতে পারেন।

৩. মিষ্টি কুমড়োর বীচি:-
University of Maryland Medical Center মনে করেন মিষ্টি কুমড়োর বীচি পেটের কৃমি দূর করতে বেশ কার্যকরী। দুই টেবিল চামচ মিষ্টি কুমড়োর বীচির গুঁড়ো তিন কাপ পানিতে ৩০ মিনিট ধরে সিদ্ধ করুন। সকালে খালি পেটে খাওয়ার চেষ্টা করুন। এছাড়া এক টেবিল চামচ মিষ্টি কুমড়োর বীচির গুঁড়োর সাথে সমপরিমাণের মধু মিশিয়ে নিন। খালি পেটে এটি খান। তারপর নাস্তায় একটি কলা খেতে পারেন।

৪. লবঙ্গ:-
প্রতিদিন ১ থেকে ২টি লবঙ্গ খান। এর অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান পেটের কৃমি ধ্বংস করে দিয়ে থাকে। এটি শুধু পেটের কৃমি নয় কৃমির ডিমও ধ্বংস করে দেয়।

৫. রসুন:-
রসুন অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক খাবার যা কৃমি দূর করতে সাহায্য করে। কাঁচা রসুনের অ্যামিনো অ্যাসিড পেটের কৃমি মেরে ফেলে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ৩ কোয়া রসুন খান। নিয়মিত এক সপ্তাহ এটি খান। এছাড়া আধা কাপ পানিতে দুটি রসুনের কোয়া দিয়ে সিদ্ধ করুন। এটি খালি পেটে পান করুন। এক সপ্তাহ এটি পান করুন।

আরও পড়ুনঃ   যে ৮টি কারণে নিয়মিত খাবেন আনারস

৬. হলুদ:-
এক চা চামচ কাঁচা হলুদের রসের সাথে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে নিন। এটি প্রতি দিন সকালে খালি পেটে পান করুন। এছাড়া আধা কাপ গরম পানিতে, আধা চা চামচ হলুদ গুঁড়ো এবং এক চিমটি লবণ মিশিয়ে পান করতে পারেন। পাঁচ দিন এটি পান করুন।

একটি বোনাস টিপসঃ
কাঁচা পেঁপে প্যাপেইন নামক এক ধরনের উচ্চ মাত্রার এনজাইমে সমৃদ্ধ যা একটি উৎকৃষ্ট কৃমিনাশক উপাদান হিসেবে পরিচিত। এই উপাদান প্রাকৃতিক উপায়ে কৃমি ধ্বংস করে থাকে।

লেখাটি ভাললাগলে কিংবা উপকারে আসলে শেয়ার করে অপরকে জানান।

গরমে কৃমির কৃমির ওষুধ খাওয়া আসলেই কি নিষেধ ?

বিঃ দ্রঃ গুরুত্বপূর্ণ হেলথ নিউজ ,টিপস ,তথ্য এবং মজার মজার রেসিপি নিয়মিত আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ বিডি হেলথ নিউজ এ ।

সতর্কতাঃ কৃমির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবার একাধিক ঘরোয়া চিকিৎসা রয়েছে। এগুলো এক দিকে যেমন সহজলভ্য, অন্য দিকে ঝামেলামুক্ত। তবে, আপনার কৃমির সমস্যা কতটা মারাত্মক তার উপর নির্ভর করবে আপনি ঘরোয়া চিকিৎসা চালিয়ে যাবেন নাকি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন। কৃমির আক্রমণে যদি অতিরিক্ত ওজন হ্রাস পায়, মাত্রাতিরিক্ত ক্ষুধা পায়, কান্তি লাগে, অ্যানেমিয়া বা অন্যান্য মারাত্মক লক্ষণ দেখা দেয়, সেক্ষেত্রে আর ঘরোয়া চিকিৎসা চালিয়ে না গিয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

LEAVE A REPLY