চুল পাকা কীভাবে রোধ করব?

0
250
চুল পাকা

বয়স বাড়ার সাথে সাথে চুল পাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ১৫/২০ বছর বয়সেই চুল পাকা অস্বাভাবিক। মেলানিন নামক এক উপাদান চুলের রঙ নির্ধারণ করে, এর উৎপন্নের পরিমাণ কমে গেলেই চুল সাদা হওয়া শুরু করে মানে চুল তার পিগমেনটেসন হারায়। আর একবার পাকা শুরু করলে এর পরিমাণ যেন দিন দিন বাড়তেই থাকে। কিন্তু হয়ে গেলে কিছু করার থাকেনা তাই আগে থেকেই এই ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।

স্ট্রেস থেকে দূরে থাকুনঃ
স্ট্রেস চুলের অকাল-পক্কতার প্রধান কারণ। হাসি খুশিতে জীবনটা ভরিয়ে তুলুন। দিনে কয়েকবার লম্বা শ্বাস নিন আর ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। হাজার ব্যস্ততার মাঝেও নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করে নিন। টেনশান কাটানোর জন্য অনেক সময় নিয়ে গোসল করুন।

ধূমপান পরিহার করুনঃ
বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমানিত হয়েছে যে ধূমপান শরীরের premature ageing এর জন্য দায়ী। ধূমপান বন্ধ করলে circulation পর্যাপ্ত গতিতে চলে আর চুলের অকাল-পক্কতাও রোধ হয়। তাহলে দেখলেন তো সিগারেট শরীরের ক্ষতি করে, পকেটের-ও ক্ষতি করে।

শরীরের আদ্রতা বজায় রাখুনঃ
ক্যাফেইন এবং অ্যালকোহলের পরিমাণ কমিয়ে পানি পান করুন বেশি বেশি। মশলাদার আর ভাজাভুজি জাতীয় খাবার-ও এড়িয়ে চলুন, যেহেতু এই খাবার গুলো শরীরকে dehydrate করে শুষ্ক করে তোলে। আদ্রতার অভাবে পুষ্টিকর উপাদান চুলের ফলিকলে পৌঁছাতে পারেনা, ফলস্রুতিতে পাকা চুলের আনাগোনা দেখা যায়।

কপার সমৃদ্ধ খাবার খানঃ
অনেক সময় শরীরে কপারের অভাব হলে চুল পেকে যেতে পারে যেহেতু এটা মেলানিন উৎপন্নে সাহায্য করে। তাই আপনার খাদ্য তালিকায় পালংশাক, মাংস, আনারস, ডালিম, বাদাম, গরুর কলিজা, মাশরুম এগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে রাখুন। প্রতিদিন মাল্টি ভিটামিন-ও খেতে পারেন, যেহেতু এর বেশির ভাগই কপার contain করে।

আয়োডিন যুক্ত খাবার খানঃ
আয়োডিন হলো আরেকটি মিনারেল যেটি চুলের রঙ বজায় রাখে। কলা, গাজর, সামুদ্রিক মাছ এবং পালং শাকের মত আয়োডিন সমৃদ্ধ খাবার প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় রাখা উচিত।

আরও পড়ুনঃ   চুলের কন্ডিশনার মধু!

অত্যাবশ্যকীয় উপাদান প্রোটিনঃ
মেলানিন উৎপন্নের জন্য প্রোটিনের অবদান অনস্বীকার্য। তাই শুধু কার্বোহাইড্রেট নয় প্রোটিনের সাথেও সখ্যতা গড়ে তুলুন। যদি আপনি রুটি খান তবে তার সাথে একটি ডিম খেয়ে কার্বোহাইড্রেড আর প্রোটিনের মধে সমন্বয় ঘটিয়ে নিন।

পর্যাপ্ত ঘুমঃ
পর্যাপ্ত ঘুম চনমনে, ফুরফুরে শরীরের জন্য ওষুধের মত কাজ করে। আমার কথাটা মেনেই দেখুন আপনার সব স্ট্রেস গায়েব হয়ে যাবে। আর আগেই বলেছি স্ট্রেস ফ্রি লাইফ মানেই পাকা চুলের উঁকি ঝুকিও গায়েব।

বি গ্রুপের ভিটামিনের উপর গুরুত্ব দিনঃ
ভিটামিন বি২, বি৬ এবং বি১২ এর অভাব চুলের অকাল-পক্বতার আরেকটি কারণ। বায়োটিন আর ফলিক এসিডের অভাবে চুলে পাকন ধরে। ভিটামিন বি৬, বি১২ লাল রক্ত কনিকা তৈরির জন্য দরকার। আর এই রক্ত কণিকার মাধ্যমেই স্কাল্পে পুষ্টি আর অক্সিজেন পৌঁছায়। কলা, ডিম, মাংস, দুগ্ধজাত খাবার, শাকসবজি, পাস্তা বি গ্রুপের ভিটামিনে ভরপুর।

ইম্প্রুভ circulation:
Circulation এবং blood circulation পাকা চুল রোধের জন্য খুবই জরুরী। যদি ভিটামিন এবং মিনারেল মাথার তালুতে না পৌঁছায় তবে হাজার হাজার টাকা খরচ করে ভিটামিন খাওয়ার কোন উপকারিতা পাওয়া যাবে না। ঠিক মত circulation এর জন্য প্রত্যেকদিন ব্যায়াম করার চেয়ে ভালো কোন উপায় নেই। সেই সঙ্গে বাড়তি মেদ-ও ঝরে যাবে। আঙ্গুল দিয়ে প্রতিদিন মাথার তালুতেও ভালো ভাবে ম্যাসাজ করতে হবে blood circulation এর জন্য। এতে করে চুলের গোড়া শক্তও হবে।

সেলেনিয়াম সমৃদ্ধ খাবার নির্বাচন করুনঃ
সেলেনিয়াম এক ধরণের মিনারেল যা মানুষের শরীরের জন্য খুব উপকারী, বিশেষ করে চুলের বৃদ্ধি ও চুলের অকাল-পক্কতা ঠেকানোর জন্য। ফ্রি রেডিক্যাল যা aging process তরান্বিত করে সেলেনিয়াম এই ফ্রি রেডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আমাদের রক্ষা করে। স্যামন ফিশ, টুনা ফিশ, আখরোট, কিশমিশ সেলেনিয়ামের খুব ভালো উৎস।

এছাড়াও কিছু ঘরোয়া উপায় আছে চুলের অকাল-পক্কতা রোধের জন্য। যেমন –

আরও পড়ুনঃ   চুল বাঁচানোর কার্যকর উপায়

• এতদিন তো জানতেন ঝিঙা তরকারি রেঁধে খেতে হয় আজ জেনে নিন ঝিঙা নারকেল তেলের সাথে ফুটিয়ে চুলে লাগালে আপনার পাকা চুল রোধ হবে।
• প্রতিদিন রাতে আমলকীর রস, বাদামের তেল আর কয়েক ফোটা লেবুর রস চুলে মাস্যাজ করুন, অকালে চুল পাকা থেকে রেহাই পাবেন।
• আদা গ্রেট করে মধুর সাথে মিশিয়ে প্রত্যেকদিন ১ চা চামচ করে খান।
• চায়ের ঘন লিকার চুলে লাগালে চুল তার রঙ হারায় না।
• কারি পাতা নারকেল তেলের সাথে মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন তারপর ঠাণ্ডা করে চুলে লাগান।

অকালে চুল পাকার অনেক কারণ আছে। বংশগত কারণ তার মধ্যে অন্যতম। বংশগত কারণে তাড়াতাড়ি চুল পাকলে সেক্ষেত্রে আসলে করার তেমন কিছু থাকেনা। তাই আগে থেকেই চেষ্টা করুন উপরোক্ত পদ্ধতি গুলো মেনে চলতে।

আরও কিছু টিপ্স :-

১) এক চামচ আমলকী চূর্ণ এক কাপ পানির সাথে মিশিয়ে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার ঠিক পূর্বে নিয়মিত খেলে অসময়ে চুল পাকা বন্ধ হয়। চেহারায় লাবণ্য ফিরে আসে। গলার স্বর বিশুদ্ধ ও মিষ্টি হয়। স্বরভঙ্গ থাকলে তা দুর হয়ে যায়।

২) শুকনো আমলকীর গুঁড়ো পানিতে মিশিয়ে পেষ্ট তৈরী করে তা মাথায় প্রলেপ দিয়ে ৫ থেকে ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। এই নিয়মে সপ্তাহে ২ দিন স্নানের পূর্বে কমপক্ষে তিন মাস লাগালে অসময়ে চুল পাকা রোধ করা সম্ভব।

৩) আমলকীর জলে নিয়মিত মাথা ধুলে অসময়ে চুল সাদা হওয়া বন্ধ হয়। ২৫ গ্রাম শুকনো আমলকী মোটা মোটা করে ভেঙ্গে নিয়ে ২৫০ গ্রাম পানিতে রাতে ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে হাত দিয়ে ভালো করে কচলিয়ে নিয়ে সমস্ত পানি একটা পরিস্কার কাপড়ে ছেঁকে নিন। তারপর থিতিয়ে গেলে ঐ পানি নিয়ে চুলের গোড়ায় ভালো করে মালিশ করুন ঘষে লাগান। ১৫/২০ মিনিট পর সাধারন পানিতে মাথা ধুয়ে ফেলুন। চুল রুক্ষ্ম হলে সপ্তাহে একবার এবং চিকন চুল হলে সপ্তাহে ২ বার এভাবে আমলকীর জল মাথায় মালিশ করবেন। প্রয়োজনে দিন কয়েক রোজ ধুতে পারেন। এছাড়া চুল ধোয়ার নির্দিষ্ট দিনের পূর্বের দিন রাতে মাথায় আমলার তেল মালিশ করলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়।

আরও পড়ুনঃ   ঘুমের কারণে যে মারাত্মক রোগগুলো হতে পারে!

৪) নারিকেল তেল ও লেবুর রস

নারিকেল তেল আপনার চুল পেকে যাওয়া থেকে অনেকভাবে রক্ষা করতে পারে । আপনার চুলকে ঝরঝরে করে , চুল বাড়তে সাহায্য করে, রোগ বালাই থেকে চুল ও মাথা কে রক্ষা করে । ১ কাপ পরিমান নারিকেল তেলে ৩ চা চামুচ লেবুর রস মেশান । এবার মিশ্রণটি আপনার মাথা ও চুলে মাসাজ করুন । অন্তত এক ঘণ্টা মাথায় রেখে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন । এতে আপনার চুল পরা , চুল পেকে যাওয়া কমে যাবে।

বিঃ দ্রঃ গুরুত্বপূর্ণ হেলথ নিউজ ,টিপস ,তথ্য এবং মজার মজার রেসিপি নিয়মিত আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ বিডি হেলথ নিউজ এ ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here