চেহারায় বয়সের ছাপ পড়লে—

0
121
বয়সের ছাপ

জন্মের পর থেকেই মানুষের বয়স বাড়তে থাকে। এক বছর, দুই বছর—এভাবে একসময় মানুষ যৌবনে উপনীত হয়। যৌবনের পর থেকেই বয়স মানুষের শরীরে নানা রকম ছাপ রেখে যায়। শরীরে বয়সের ছাপ পড়ার অনেক কারণ রয়েছে। সেসব কারণ সম্পর্কে এবার কিছুটা আলোকপাত করা যাক।

অ্যান্টি অক্সিডেন্ট

মানুষের শরীরে কোষ থেকে শক্তি উৎপাদনের সময় কিছু ক্ষতিকর অণু তৈরি হয়, যেগুলো অক্সিজেনমুক্ত র‌্যাডিকেল হিসেবে পরিচিত। শরীরে উৎপন্ন হওয়া ছাড়াও এটি ধূমপান, র‌্যাডিয়েশন, সূর্যালোক এবং পরিবেশের অন্যান্য অবস্থা থেকে আসতে পারে। অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হচ্ছে এমন একটি প্রাকৃতিক উপাদান, যা এই ক্ষতিকর অণুর বিরুদ্ধে কাজ করে এবং রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

শরীরে তৈরি হয় সে রকম একটি অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হচ্ছে (Super Oxide Dismutase) এনজাইম। অন্যগুলো আসে খাবার থেকে। ভিটামিন এ-র বিটা ক্যারোটিন ভিটামিন-সি এবং ভিটামিন-ই অ্যান্টি অক্সিডেন্ট নামে পরিচিতি।

অ্যান্টি অক্সিডেন্টের কাজ হচ্ছে শরীরকে অক্সিজেনমুক্ত র‌্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করা। কিন্তু এই কাজটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পুরোপুরি করতে পারে না। মানুষ বৃদ্ধ হওয়া অথবা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ক্ষতি বৃদ্ধি পেতে থাকে। অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হার্টের অসুখ, ক্যানসার, চোখের ছানিসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যগত সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞেরা মনে করেন, বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন সি এবং ই লাভের সর্বোকৃষ্ট উপায় হচ্ছে প্রচুর শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া। অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের অভাব পূরণের জন্য ভিটামিন ট্যাবলেট কোনো কাজেই আসে না। কারণ, এই ট্যাবলেট হজমের সময় ভেঙে অন্য উপাদানে পরিণত হয়।

ডিএনএ ও আরএনএ

ডিএনএ বা ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড হচ্ছে এমন একটি উপাদান, যা কোষের নিউক্লিয়াসের মধ্যস্থিত জিনে থাকে। প্রতিদিনই আমাদের দেহের কিছু ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশির ভাগ সময়ই এই ক্ষতি পূরণ হয়ে যায়। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং এই ক্ষতি আর ১০০ ভাগ পূরণ হয় না। তাই ডিএনএর এই অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে বয়স বেড়ে যাওয়ার একটা কারণ।

আরও পড়ুনঃ   সাবধান! এই চার কারণেই ভুঁড়ি বাড়ে

উন্নত দেশগুলোতে গবেষণা পর্যায়ে এমন কিছু পিল পাওয়া যাচ্ছে যাতে ডিএনএ এবং আরএনএ আছে। কিন্তু এসব পিল মুখে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিএনএ ও আরএনএ ব্যতীত অন্য সব উপাদানে পরিণত হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা কোষে পৌঁছাতে পারে না। এ জন্য এটি কোনো কাজও করতে পারে না।

ডিএইচইএ

আপনাকে বৃদ্ধ হওয়া থেকে রক্ষা করে এমন একটি হরমোন হচ্ছে ডিএইচইএ (Dehydro epiandrosterone) বা ডাইহাইড্রো ইপি এন্ড্রোস্টেরন। এটি রক্তের মধ্য দিয়ে শরীরে ডিএইচইএ সালফেট রূপে পরিভ্রমণ করে কোষে পৌঁছার পর এটি DHEA -তে পরিণত হয়। বৃদ্ধদের চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম বয়সীদের শরীরে DHEA Sulphate বেশি পরিমাণে থাকে। বাজারে DHEA জাতীয় কিছু জিনিস বিক্রি হয়। সেগুলো শরীরকে বৃদ্ধ হওয়া থেকে রক্ষা করবে এ রকম বলা হলেও তা সঠিক কি না আজ পর্যন্ত জানা যায়নি।

অন্যান্য হরমোন

সম্প্রতি কিছু সংখ্যক মানুষের ওপর গবেষণা করে দেখা গেছে, ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া গ্রোথ হরমোন (মানুষের) মাংসপেশির শক্তি ও আকৃতিকে সংরক্ষণ করে। এটি মানুষকে বৃদ্ধ হওয়া থেকে রক্ষা করে। অপর একটি গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রোথ হরমোন এবং অন্যান্য হরমোন যেমন ইনজেকশন ও টেস্টোস্টেরন বয়স্কদের শারীরিক দুর্বলতা প্রতিহত করে। ইনজেকশনের মাধ্যমে গ্রহণকৃত এই হরমোনগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হরমোনের গোলযোগসহ মারাত্মক হতে পারে। এসব হরমোন অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে।

শেষ কথা

এখন পর্যন্ত এমন কোনো চিকিৎসা, ওষুধ বা পিল আবিষ্কৃত হয়নি, যা মানুষকে বৃদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া থেকে রক্ষা করতে পারে অথবা দীর্ঘ জীবনের সন্ধান দিতে পারে। তাই কোনো চটকদার বিজ্ঞাপন অথবা কারো কথা শুনে উৎসাহী হয়ে এমন কোনো ড্রাগ বা ওষুধ কিনবেন না যা আপনাকে বয়স বাড়া থেকে রক্ষা করে বা দীর্ঘ জীবনের সন্ধান দিতে পারে। এসব ড্রাগ কেনার আগে ডাক্তারের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া বাঞ্ছনীয়। তবে বয়স ধরে রাখার জন্য প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি, পরিমিত মাছ এবং নিয়মিত ব্যায়ামের বিকল্প নেই। এসবের পাশাপাশি ত্যাগ করতে হবে ধূমপানের মতো বদভ্যাসও।

আরও পড়ুনঃ   ফল ও সবজিকে কীটনাশক থেকে মুক্ত রাখার উপায়

ডা. ওয়ানাইজা

লেখক : সহযোগী অধ্যাপিকা, ফার্মাকোলজি অ্যান্ড থেরাপিউটিকস, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here