জবা ফুলে রোগ নিরাময়-যৌনশক্তি বাড়াতে, রূপচর্চায় জবা ফুল

0
জবা ফুল

জবা ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম হিবিস্কাস রোসা-সিনেন্সিস। ফুলটি দেখতে অনেকটাই সাদামাটা ধরনের আর গন্ধহীন। কিন্তু এর রয়েছে অসাধারণ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা।  ফুলের দিকে তাকালেই মন ভালো হয়ে যায় এবং আপনি সুখ অনুভব করেন। কিছু ফুল আছে ভক্ষণযোগ্য এবং স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এমনই একটি ফুল হচ্ছে জবা ফুল। বিভিন্ন রোগের প্রতিকারক হিসেবে এবং চুলের যত্নে জবা ফুল চমৎকার কাজ করে। জবা একটি সুন্দর ও আকর্ষণীয় ফুল। গোলাপী, সাদা, লাল, হলুদ ইত্যাদি নানা বর্ণের জবা ফুল পাওয়া যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লাল জবা আয়ুর্বেদ ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

গবেষকরা বলেছেন, সুস্থতায় ভেষজ হিসেবে হিবিসকাস বা জবা ফুল সব দিক থেকে নিরাপদ। যাদের যৌনশক্তি কমে এসেছে তাদের যৌনশক্তি বাড়াতে খুবই কার্যকরী এই জবা।

আবার যে কোনও ব্লাড গ্রুপের সদস্যরাও এটি খেতে পারেন।

সব থেকে বড় কথা হলো- শরীরে জবার কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।

স্বাস্থ্য ও  সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে জবা ফুলের কিছু ব্যবহার জেনে নেই আসুন।

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে :

জবা ফুলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট নামক উপাদানটি রয়েছে যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে থাকে। সাধারণত জবা ফুলের তৈরি চা বা অন্যান্য যেকোনো ভাবে জবা ফুল খেলে দেহে ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে এবং শারীরিকভাবে সুস্থ রাখে। ব্লাড ক্যান্সার দূরে রাখে
কারণ  হিবিসকাস বা জবা অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর। এই ফুলের নির্যাসে থাকা অ্যান্থোসায়ানিন লিউকেমিয়া আক্রান্ত কোষকে মেরে ফেলে।

ঠান্ডা উপশম :

জবা ফুলে ভিটামিন সি রয়েছে। ফলে এই ভিটামিন সি সমৃদ্ধ জবা ফুল হালকা ঠান্ডা লাগা, গলা ব্যথা বা মাথাব্যথা সারিয়ে ফেলতে পারে। এর জন্য সবজি হিসেবে বা এমনিই খাওয়া যেতে পারে এই জবা ফুল।

তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভেষজ ওষুধ হিসেবেই জবাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এছাড়া গ্রীষ্মে নিজেকে শীতল রাখতে দিনে কয়েক কাপ জবার জলই যথেষ্ট। কারণ জবার মধ্যে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রয়েছে।

কোলেস্টেরল মাত্রা কমিয়ে আনে :

জবা ফুল আমাদের শরীরের কোলেস্টরেলের মাত্রা কমিয়ে এনে হার্টের সমস্যা দূর করে।

শরীরে তরলের ভারসাম্য রক্ষা করে :

আমাদের শরীরের তরলের পরিমাণ বেশি যেগুলোর ভারসাম্য ঠিক না থাকলে বিভিন্ন অসুস্থতা দেখা দেয়। জবা ফুল শরীরের এই তরলের ভারসাম্য রক্ষা করে শরীরকে সুস্থ স্বাভাবিক রাখে। তথ্যসূত্র : capitalfm.co.ke

আরও পড়ুনঃ   যেসব খাবারে যৌনশক্তি কমে যায়

ব্লাড প্রেসার ও কোলেস্টেরল কমাতে
উচ্চ রক্তচাপের কারণে যাঁদের ওষুধ খেতে হয়, নিয়মিত তাঁরা কয়েক কাপ করে জবা ফুলের জল খান। প্রেসার নিয়ন্ত্রণে আসবে।

গবেষকরা জানাচ্ছেন, ফল পেতে দিনে তিন কাপ করে জবা ফুলের জল অন্তত ছ-সপ্তাহ খেয়ে যেতে হবে। আবার ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল কমাতেও জবার জুরি মেলা ভার।

কোষ্ঠকাঠিন্য রোগীদের মহাষৌধ
কার্ডিওভাসকুলার এবং সংবহনতন্ত্রের সমস্যাতেও উপকারী এই জবা ফুল। যারা কোষ্ঠকাঠিন্যে যাঁরা ভুগছেন, তাঁদের জন্যও এটা মহাষৌধ। আবার গলা ধরলেও খেতে পারেন, কাজ দেবে।

চুল কালো করে :

নারিকেল তেলের সাথে জবা ফুল মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করলে চুল কালো হয় এবং চুলের স্বাস্থ্য রক্ষা পায়। প্রাকৃতিকভাবেই এই ফুলটি রোদের তাপে চুল ধূসর হয়ে যাওয়া থেকে বাঁচায়।

শক্তি বৃদ্ধি :

অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ জবা ফুল দেহের শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করে এবং প্রাকৃতিক শারীরিক সুস্থতা প্রদান করে।

বয়স ধীর গতিতে বৃদ্ধি পায় :

অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ জবা ফুল শুধু ক্যান্সার প্রতিরোধই করে না নিয়মিত এই জবা ফুল আহারে আমাদের বয়স বাড়ার প্রবণতাকে ধীর গতি সম্পন্ন করে তুলতে সহয়তা করে। ফলে এই জবা ফুল একজনকে চিরযৌবন এনে দিতে পারে।

ব্রণ উপশম :

ব্রণের সমস্যায় অনেকেই পড়ে থাকেন। বিভিন্ন ব্রণ প্রতিরোধক উপকরণেও এটি উপশম করা সম্ভব হয় না। এর জন্য প্রাকৃতিক গুণসম্পন্ন জবা ফুল অনেক উপকারী। কেননা প্রাকৃতিক অ্যান্টি ইনফ্ল্যামাটরি উপাদান এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এই জবা ফুল ব্রণের সমস্যা প্রাকৃতিকভাবেই নির্মূল করে থাকে।

হজমে সহায়তা :

জবা ফুল হজমেও সহায়তা করে থাকে। প্রতিদিন নিয়ম করে এই জবা ফুল খেলে শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে এবং হজমক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে শারীরিকভাবে সুস্থ রাখে।

চুল পড়া বন্ধ করে :

প্রাকৃতিক গুণসম্পন্ন এই জবা ফুল চুলে বিভিন্ন পুষ্টি প্রদান করে চুল পড়া বন্ধ করে এবং চুলের স্বাস্থ্য রক্ষা করে উজ্জ্বল আর ঝলমলে করে তোলে।

ফ্লু তাড়ায়
২০১৬-র জুনে প্রকাশিত এক গবেষণায় জবাফুলের মধ্যে থাকা খুব শক্তিশালী অ্যান্টি-ভাইরাল এফেক্টের উল্লেখ করা হয়েছে। অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচতে জবাফুলের নির্যাস কার্যকরী ওষুধ।

বিপাকক্রিয়ার হার বাড়ায়
উদর স্ফীত হতে থাকলে বা শরীরে মেদ জমলে জবা ফুলের জল নিয়মিত খেতে পারেন। কারণ জবা বিপাকের গতি বাড়িয়ে শরীরে জমে থাকা ফ্যাট নষ্ট করে।

আরও পড়ুনঃ   টমেটোর ঔষধি গুণ

কাজেই যাঁদের ফ্যাটি লিভার, নিশ্চিন্তে জবার জল পান করুন। উপকৃত হবেন। বিপাকীয় সিনড্রোমেও ভালো দাওয়াই এই জবা।

জবার গুণ কিন্তু এখানেই শেষ নয়। যাদের মাথা থেকে থেকে চক্কর মারে, চলতে ফিরতে পায়ের পেশিতে টানা ধরে, জবার জল দিনে কয়েক বার করে খেয়ে ফেলুন। উপকার ধীরে ধীরে নিজেই বুঝবেন।

প্রস্তুতি
দু-ভাবে আপনি জবা ফুল খেতে পারেন। প্রথমে কয়েক’টা জবাফুল ভালো করে ধুয়ে, সারারাত ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে সেই জলটা খেতে পারেন।

অথবা সকালে গরম জলে পনেরো মিনিট জবা ফুল ভিজিয়ে রেখে সেই জলটিও খেতে পারেন।

এভাবে নিয়মিত খেলে উপকার পাবেন।


ডায়াবেটিস নিরাময়ে কাজ করে
বায়ো কেমিক্যাল ও বায়ো ফিজিক্যাল রিসার্চ কমিউনিকেশনস এ প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে যে, জবা ফুল থেকে তৈরি উপাদান ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা পুনরুদ্ধার করতে পারে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। জবা ফুলে থাকে ফেরুলিক এসিড যা এক ধরণের পলিফেনল এবং এটি ডায়াবেটিসের জন্য চিকিৎসা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে।
মূত্রনালির সংক্রমণ (UTI) প্রতিরোধ করে
এশিয়ান প্যাসিফিক জার্নাল অফ ট্রপিক্যাল বায়োমেডিসিন এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায় যে, জবা ফুলের জীবাণুনাশক ও ছত্রাকনাশক উপাদান কেন্ডিডা অ্যাল্বিকান্সের বিরুদ্ধে কাজ করে। জবা ফুলের পুষ্টি উপাদান মূত্রনালীর ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করে এবং ইউটিআই থেকে মুক্তি দেয়। জবা ফুলের চায়ে ফ্লাভনয়েড থাকে যা ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে প্রতিহত করতে পারে।
জ্বর নিয়ন্ত্রণ করে
ঠান্ডা বা ফ্লুতে আক্রান্ত হলে কিছু জবা ফুলের পাতা গরম পানিতে সিদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে চা তৈরি করে পান করুন। দ্যা ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ রিসার্চ ইন ফার্মাসিউটিক্যাল এন্ড বায়ো মেডিক্যাল সাইন্স এ প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে জানা যায় যে, জ্বরের সময় জবাফুলের চা শীতলীকারক হিসেবে কাজ করে। জবার প্রদাহ রোধী উপাদান মিউকাস পর্দার প্রদাহ কমতে সাহায্য করে।
চুল পড়ে যাওয়া কমায়
চুল পড়া রোধে জবা ফুলের পাপড়ি ব্যবহার করা খুবই প্রাচীন প্রতিকার। জবা ফুলের তেল চুলের গোড়া শক্ত করে কারণ এতে ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়াম আছে। এই তেল আস্তে আস্তে মাথার তালুতে মালিশ করলে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় ও মাথার ত্বক পুষ্টি উপাদান শোষণ করতে পারে।
অসময়ে চুল সাদা হয়ে যাওয়া রোধ করে
এশিয়ান জার্নাল অব এক্সপেরিমেন্টাল বায়োলজিক্যাল সায়েন্সে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, জবা চুল সাদা হয়ে যাওয়াকে ধীর করতে পারে। কিছু জবা ফুল পানিতে দিয়ে ২০ মিনিট ফুটানোর পর ঠাণ্ডা করে নিন। জবাফুলকে পেস্ট করে নিয়ে মাথার তালুতে ও চুলে লাগান এবং ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত এটি ব্যবহার করুন এবং জবার তেল অসময়ে চুল সাদা হয়ে যাওয়া রোধ করে।
ব্যথা কমায়
শরীরের ব্যথা ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে জবা ফুল। এজন্য পাঁচটি লাল জবার পাতা ও পাঁচটি পাপড়ি নিয়ে পানিতে দিয়ে ৩-৫ মিনিট ফুটানোর পর মিশ্রণটি ঠাণ্ডা হতে দিন। আধা ঘন্টা পরে এটি পান করুন। ২১ দিন পর্যন্ত এই মিশ্রণটি পান করলে শরীরের ব্যথা কমবে।
ফেসপ্যাক হিসেবে
লাল জবার পাপড়ি শুকিয়ে গুঁড়ো করে রাখুন। প্রতিদিন পানি বা দুধ বা ফলের রসের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করলে মুখ পরিষ্কার হয়, মুখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় এবং বলিরেখার আবির্ভাব রোধ করে।
শুষ্ক ত্বকের নিরাময়ে
নারিকেল তেল বা তিলের তেলের সঙ্গে জবার পাপড়ি দিয়ে তাপ দিন। তারপর এটি ঠাণ্ডা হলে শুষ্ক ত্বকে লাগান। এটি শুষ্ক ত্বককে নিরাময় করবে এবং যেকোন ধরনের ফাটাও ভালো করবে।
আরো কিছু উপকারিতা আছে। যেমন
খুশকির বিরুদ্ধে জবা ভালো কাজ করে।
কিছু কিছু দেশে জুতো পালিশের কাজে ব্যবহার করা হয় জবা ফুল।
শিশুদের শ্যাম্পু হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
জবা ফুল ও এর পাতা পুড়িয়ে আই শ্যাডো হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
যাদের টাইপ দুই ডায়াবেটিস আছে তাদের রক্তচাপ কমতে সাহায্য করে জবা।
জবা ফুল ব্যবহারের পূর্বে পরিষ্কার করে নিন এবং ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। কীটনাশক ও সার মুক্ত কিনা জেনে নিন।
শরীরের লৌহের ঘাটতি কমায় লাল জবার পাপড়ি পানিতে সিদ্ধ করে পান করলে।
সাদা জবার পাপড়ি সিদ্ধ করে পান করলে বিষণ্ণতা দূর হয়।

 স্পর্শকাতর অঙ্গের যত্নে সতেরটি উপায় জেনে নিন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

2 + 18 =