কিডনি পরিষ্কার, যৌনশক্তি বৃদ্ধি ও মাথাব্যথা নিরাময়সহ ধনেপাতার যত গুণ, জেনে রাখলে কাজে দেবে

0
39
ধনেপাতার গুণ

ওষুধি গাছের গুণাগুণ সম্পর্কে হয়তো আমরা অনেকেই জানি না। না জেনে নিজের কিংবা অন্যের জন্য আমরা লাখ লাখ খরচ করে থাকি। কিন্তু এমন কিছু ওষুধি গাছ আছে যা একেবারে অল্প খরচে কঠিন রোগ নিরাময় হয়। এসব গাছের একটি ধনেপাতা। মাত্র ৫ টাকায় পরিষ্কার করতে পারেন আপনার কিডনি। জেনে নিন, কিডনি পরিষ্কারের ঘরোয়া উপায়।

১. পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিন এক আঁটি ধনেপাতা।
২. এরপর কুচি কুচি করে কেটে একটি পাত্রে রাখুন।
৩. পাত্রে কিছুটা পানি দিয়ে ১০ মিনিট ফুটিয়ে নিন।
৪. ঠান্ডা হলে ছেঁকে পরিষ্কার বোতলে রেখে দেন। ফ্রিজেও রেখে দেয়া যেতে পারে ওই বোতল।
৫. এরপর প্রতিদিন একগ্লাস করে ধনেপাতার জুস খেলেই হাতেনাতে মিলবে ফল।

কিডনির মধ্যে জমে থাকা লবণ এবং বিষাক্ত পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যাবে। শুধু কিডনিই নয় এক আঁটি ধনেপাতায় আছে ১১% ফাইবার, ৪% প্রোটিন, ১% ক্যালরি, ১% কার্বোহাইড্রেট, ১% ফ্যাট। ম্যাঙ্গানিজ ২১%, পটাসিয়াম ১৫%, কপার ১১%, আয়রন ১০%, ক্যালসিয়াম ৭%। এতে রয়েছে ৩৮৮% ভিটামিন k, ১৩৫% ভিটামিন A, ৪৫% ভিটামিন C, ১৬% ফলেট।

বছরের পর বছর, দিনের পর দিন ছাঁকনির কাজ করে চলে কিডনি। কিডনি ভালো রাখতে ধনেপাতা রীতিমতো যাদুর মতো কাজ করে। ধনেপাতার রয়েছে হাজারটা গুণ। এটি এগজিমা সারায়, বমিভাব কমায়, পেটের গন্ডগোল কমায়, আলসার সারায়, সতেজ হয় শ্বাস-প্রশ্বাস, হজমে সাহায্য করে, ব্লাড প্রেশার কমায়, অ্যানিমিয়া কমায়, ডায়াবেটিসে প্রচুর উপকার মেলে। হাড়ের স্বাস্থ্য ভাো রাখে।

এক গবেষনায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ধনেপাতার শরবত খেলে কিডনির স্বাস্থ্য ভালো থাকে। কিডনির মধ্যে জমে থাকা ক্ষতিকর লবন এবং বিষাক্ত পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়।

ধনে পাতা খেলে শরীরে খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা কমে যায়, ভাো কোলেস্টরলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। হজমে উপকারী, যকৃতকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে এবং পেট পরিষ্কার হয়ে যায় ধনে পাতা খেলে।

আরও পড়ুনঃ   কিশমিশে ৯টি উপকার জেনে নিন

ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের জন্য ধনেপাতা বিশেষ উপকারী একটি খাবার। এটি ইনসুলিনের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং রক্তের সুগারের মাত্রা কমায়। ধনে পাতায় থাকা অ্যান্টি-সেপটিক মুখে আলসার নিরাময়েও উপকারী, চোখের জন্যও ভালো।

ঋতুস্রাবের সময় রক্তসঞ্চানল ভাল হওয়ার জন্যে ধনেপাতা খেলে উপকার পাওয়া যায়। এতে থাকা আয়রন রক্তশূন্যতা সারাতেও বেশ উপকারী। ধনে পাতার ফ্যাট স্যলুবল ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন ‘এ’ ফুসফুস এবং পাকস্থলীর ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে।

এতে রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা বাতের ব্যথাসহ হাড় এবং জয়েন্টের ব্যথা উপশমে কাজ করে। স্মৃতিশক্তি প্রখর এবং মস্তিস্কের নার্ভ সচল রাখতে সাহায্য করে ধনেপাতা।

ধনেপাতায় উপস্থিত সিনিওল এসেনশিয়াল অয়েল এবং লিনোলিক অ্যাসিড থাকে যার মধ্যে অ্যান্টিরিউম্যাটিক এবং অ্যান্টি-আর্থ্রাইটিক বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এরা ত্বকের জ্বালাপোড়া এবং ফুলে যাওয়া কমাতে সাহায্য করে।

ডিসইনফেকট্যান্ট, ডিটক্সিফাইং বা বিষাক্ততা রোধকারী, অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টিফাঙ্গাল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান থাকার কারণে এরা বিভিন্ন স্কিন ডিজঅর্ডার বা ত্বকের অসুস্থতা সারাতে সাহায্য করে। ত্বক সুস্থ ও সতেজ রাখতে তাই ধনে পাতার উপকারিতা অনেক।

অ্যান্টি হিস্টামিন উপাদান থাকায় এরা অ্যালার্জি বা এর ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে দূরে রাখে। ধনেপাতার মধ্যে থাকা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টিইনফেকসাস, ডিটক্সিফাইং, ভিটামিন ‘সি’ এবং আয়রন গুটিবসন্ত প্রতিকার এবং প্রতিরোধ করে।

মধুজাতীয় খাবারের সাথে ধনেপাতার মিশ্রন মানুষের যৌনশক্তি প্রাকৃতিকভাবে বৃদ্ধি করে। মুখের দুর্গন্ধ ও অরুচি ভাব দূর করে ধনে পাতা। এছাড়া শুকনো ধনেও একই কাজ করে। মাঝে মাঝে ধনেপাতা চিবিয়ে খান, মুখের দুর্গন্ধ থাকবে না।
কারও মাথাব্যথা হলে ধনে পাতা ও গাছের রস কপালে লাগান। মাথাব্যথা কমে যাবে। ধনে পাতা চিবিয়ে দাঁত মাজলে দাঁতের মাড়ি মজবুত হয় এবং দাঁতের গোড়া হতে রক্ত পড়া বন্ধ হয়।

 ধনে পাতার জাদুকরী গুণ

সূত্রঃ

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here