পাইলস কী? এর লক্ষণ ও চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্নোত্তর!

0
432
পাইলস

মলদ্বারে পাইলসের সমস্যায় অনেকে ভুগে থাকেন। অনেকেই  না বুঝে ভুল চিকিৎসকের কাছে গিয়ে সমস্যা জটিল করে তোলেন। স্বাস্থ্য প্রতিদিন’ অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের কোলোরেক্টাল সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এস এম এরফান।

প্রশ্ন : পাইলস বলতে আমরা কী বুঝি?

উত্তর : পাইলসকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় হেমরোয়েডস বলা হয়। মলদ্বারের নিচের অংশে এক ধরনের রক্তের গুচ্ছ- যেটা আঙ্গুরের মতো ফুলে যায়, ফলে মল ত্যাগ করলে বা মল ত্যাগ না করলেও সেখান থেকে প্রায়ই রক্তপাত হয়। এটিই হচ্ছে পাইলস।

প্রশ্ন : যদি একজন রোগীর মলত্যাগের সময় রক্ত বের হয়, তাহলে কী সে ধরে নেবে যে সে পাইলসে আক্রান্ত?

উত্তর : মলদ্বার দিয়ে রক্ত অনেক কারণে যেতে পারে। অ্যানাল ফিশার, পাইলস, পলিপ , প্রোকটাইটিস- আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ  বিষয় হলো কোলোরেক্টাল ক্যানসার। এসবের কারণেও মলদ্বার দিয়ে রক্ত যেতে পারে।

প্রশ্ন : পাইলসের ক্ষেত্রে মলদ্বার দিয়ে রক্ত যাওয়ার পাশাপাশি আর কী কী উপসর্গ  আছে?

উত্তর : প্রথম কথা হচ্ছে, মলদ্বার দিয়ে রক্ত এলেই রোগী যেন মনে না করেন যে তার পাইলস হয়েছে। একজন কোলোরেক্টাল সার্জন দিয়ে পরীক্ষা করেই তার নিশ্চিত হওয়া উচিত বিপদ থেকে বাঁচার জন্য। আমরা পাইলসকে চারটি ভাগে ভাগ করি। পর্যায়-এক, দুই, তিন থেকে পর্যায়-চার পর্যন্ত আমরা পাইলসকে ভাগ করি। এগুলো লক্ষণের ভিত্তিতে ভাগ করে থাকি। পর্যায়-এক পাইলসে শুধু রক্ত যাবে। এখানে সাধারণত ব্যথা হয় না। পায়খানার পরপর টাটকা রক্ত যায়। পর্যায়- দুই পাইলসে টাটকা রক্ত যাবে এবং রক্তগুচ্ছ বা পাইলসটা গোটার মতো বের হয়ে আসবে। মলত্যাগের পর এটা চলে যাবে। পর্যায়-তিন এ রক্তগুচ্ছ বাইরে বের হবে এবং হাত দিয়ে সেটা ভেতরে ঢুকিয়ে দিতে হবে। পর্যায়-চার এ কখনোই ঢোকানো যাবে না। বাইরে একটি টিউমার বা মাংস পিণ্ড জাতীয় জিনিস সবসময় বের হয়ে থাকবে। সেটা তার মলত্যাগে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ব্যথা হবে, এমনকি গ্যাংগ্রিন বা অন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুনঃ   অর্শ বা পাইলসের সমস্যা সমাধানে ঘরোয়া ১০ উপায়!

প্রশ্ন : রোগীর উচিত হবে এমন সমস্যা দেখলে সাথে সাথে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া……

উত্তর : শুধু চিকিৎসক নয়, একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। বিশেষ করে রাস্তাঘাটে অনেক সময় দেখবেন পাইলস বিশেষজ্ঞ লিফলেট দেখা যায়। এটা খুবই ভয়াবহ। কারণ, তাদের কাছে যাওয়ার পর অনেকেই এসিড জাতীয় পদার্থ দিয়ে চিকিৎসা করে, যেটা মলদ্বারকে নষ্ট করে দেয়। এসিড দেওয়ার পর রক্তনালি বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু অ্যানাল ক্যানেল- যেটি খুব জটিল  একটি জায়গা, সেটি নষ্ট হয়ে যায়। তখন এর চিকিৎসা করাও অনেক কঠিন। এর ফলে অ্যানাল ক্যান্সার পর্যন্ত হয়। সুতরাং, পাইলস বিশেষজ্ঞ বলতে কোলোরেক্টাল সার্জনের কাছেই যেতে হবে।

প্রশ্ন : রোগীরা যখন চিকিৎসকের কাছে আসেন তখন চিকিৎসা কীভাবে শুরু হয়?

উত্তর : পর্যায়ের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা করা হয়। পাইলসের বেশিরভাগ, ৮০ থেকে ৯০ ভাগ চিকিৎসা এখন অস্ত্রোপচার লাগে না। বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা রক্তগুচ্ছটিকে নষ্ট করে দেই। ব্রেনলাইগেশন আছে, লেজার থেরাপি আছে, হিট কুয়াগুলেশন আছে- বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় এগুলোকে ধ্বংস করে দিতে পারি। এগুলো হচ্ছে প্রথম এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে। সাধারণত তৃতীয় এবং চতুর্থ পর্যায়ে অস্ত্রোপচার লাগে। জিনিসটি যেহেতু বের হয়ে আসে এটি অস্ত্রোপচার করে সরাতে হয়। তবে রোগী যদি আগে আসে, তাহলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার ছাড়াই চিকিৎসা করতে পারি। অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রেও আমরা এখন নতুন নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছি। বাংলাদেশে এটি আমরা করছি। আমরাও কিছু কিছু ক্ষেত্রে পথিকৃত। যেমন, পর্যায়-চার পাইলসের ক্ষেত্রে মিউকোসাল এক্সিশন করছি, আগে অস্ত্রোপচারের পরে অ্যানাল স্টেনোসিসের একটা আশঙ্কা থাকত, এতে মলদ্বার ছোট হয়ে যেত। তবে এখন আমরা মিউকোসোটা রেখে দিয়েই অস্ত্রোপচার করছি। এর ফলাফল খুবই ভালো। পাইলসের আধুনিকতম চিকিৎসাগুলোই বাংলাদেশে হচ্ছে।

প্রশ্ন : কী কী কারণে পাইলস হয়?

উত্তর : সাধারণত যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য আছে তাদের এটি বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া সাধারণ কারণও হতে পারে। বাচ্চাদের অনেক সময় হয়, গর্ভাবস্থায় এটা বেশি হয়। আবার অনেকে যথাসময়ে মল ত্যাগ করেন না, আটকে রাখেন- এসব কারণেও হয়। যাদের স্বাভাবিক মলত্যাগ হয়, তাদের ক্ষেত্রে এটি হওয়ার আশঙ্কা কম।

আরও পড়ুনঃ   নারীরা পুরুষদের শরীরের কোন অঙ্গগুলোকে বেশি পছন্দ করে থাকেন?

প্রশ্ন : পাইলস প্রতিরোধে রোগীদের জন্য পরামর্শ কী থাকবে?

উত্তর : আমাদের সবুজ শাকসবজি বেশি করে খাওয়া উচিত। আঁশজাতীয় খাবার বেশি খাওয়া উচিত। বেশি বেশি পানি খেতে হবে। মলত্যাগের অভ্যাস যেন প্রতিদিন থাকে। কোনো ধরনের অনিয়ম দেখা দিলে সাথে সাথে  চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

যদি কোনো কারণে মলের সাথে রক্ত দেখা যায় বা অন্য কোনো সমস্যা দেখা যায়, তাহলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। তাহলে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটিকে সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

লেখাটি ভাললাগলে কিংবা উপকারে আসলে শেয়ার করে অপরকে জানান।

আরও পড়ুন

পাইলসের যন্ত্রণা কমানোর ঘরোয়া উপায়

অর্শ বা পাইলসের সমস্যা সমাধানে ঘরোয়া ১০ উপায়!

অর্শ বা পাইলস:কারণ,লক্ষণ,করণীয়,খাদ্যাভ্যাস,চিকিৎসা

বিঃ দ্রঃ গুরুত্বপূর্ণ হেলথ নিউজ ,টিপস ,তথ্য এবং মজার মজার রেসিপি নিয়মিত আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ বিডি হেলথ নিউজ এ ।

LEAVE A REPLY