পিঠব্যথা সমস্যা

0
42
পিঠব্যথা সমস্যা,পিঠব্যথা ,back pain

ক্লামাইডিয়া সংক্রমণে পুরুষ ও নারী উভয়ের পিঠব্যথা হতে পারে। সাধারণত পিঠের নিচে কোমরের অংশে ব্যথা করে। ক্লামাইডিয়া পুরুষের অতি সাধারণ যৌনবাহিত সংক্রমণ হলেও। অনেক পুরুষ সচরাচর জানেন না তাদের ক্লামাইডিয়া সংক্রমণ রয়েছে, কারণ তাদের কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে। যা হোক, ক্লামাইডিয়া মহিলা যৌন সঙ্গিনীকে সংক্রমিত করতে পারে এবং মারাত্মক সংক্রমণ ঘটায় ও জটিলতা সৃষ্টি করে। নবজাতক শিশুরাও এই জটিলতার শিকার হয়।
উপসর্গগুলো কী কী?
সচরাচর কোনো উপসর্গ থাকে না। যদি মূত্রনালী সংক্রমিত হয় তাহলে আপনার এসব উপসর্গ থাকতে পারে:
পুরুষাঙ্গের মাথা থেকে রস নিসৃত হওয়া, প্রস্রাব করার সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া করা।
এপিডিডাইমিস সংক্রমিত হলে অণ্ডকোষে ব্যথা করে। প্রোস্টেট গ্রন্থি সংক্রমিত হলে যেসব উপসর্গ দেখা দেয় সেসব হচ্ছে :
মূত্রনালী থেকে নিঃসরণ, প্রস্রাব করার সময় কিংবা প্রস্রাব করার পর ব্যথা বা জ্বালাপোড়া করা অথবা অস্বস্তি বোধ করা, যৌনসঙ্গমের সময় কিংবা যৌন সঙ্গমের পরে ব্যথা করা, পিঠের নিম্নভাগে বা কোমরে ব্যথা করা।
কখনো কখনো প্রোস্টেট কিংবা এপিডিডাইমিসের সংক্রমণ হঠাৎ ও তীব্র হয়। এ ধরনের সংক্রমণের ফলে জ্বর হয় অথবা অসুস্থতার অন্য লক্ষণগুলো দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
পায়ুপথ সংক্রমিত হলে যেসব উপসর্গ দেখা দেয় :
পায়ুপথের চারপাশে জ্বালাপোড়া করা, পায়খানা করার সময় ব্যথা করা।
কিভাবে রোগ নির্ণয় করবেন?
রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রথমেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ শনাক্ত করা সম্ভব। মূত্রনালীর সংক্রমণ নির্ণয়ের জন্য মূত্রনালীর মুখের নিঃসরণ পরীক্ষা করা হয়। এ ক্ষেত্রে পুরুষাঙ্গের মাথায় মূত্রনালীর মুখে একটা সরু সোয়াব ঢোকানো হয়। ক্লামাইডিয়ার জন্য আপনাকে একটা প্রস্রাবের পরীক্ষাও করানো হতে পারে।
যদি আপনার পায়ুপথে উপসর্গ থাকে তাহলে আপনার পায়ুপথের নিঃসরণ পরীক্ষা করাতে হবে।
অন্য কোনো কারণে কোমরে ব্যথা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য কোমরের এক্স-রে করাতে হবে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যাবে আপনার সংক্রমণের কারণ কী এবং কোন অ্যান্টিবায়োটিক সবচেয়ে ভালো কাজ করবে। তবে সচরাচর এপিডিডাইমিস ও প্রোস্টেট গ্রন্থির সংক্রমণের জন্য দায়ী জীবাণুকে শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।
কী চিকিৎসা দেবেন?
সাধারণত সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণে সংক্রমণ সেরে যায়। বেশির ভাগ মূত্রনালীর সংক্রমণে সাত দিন অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের প্রয়োজন হয়। কখনো কখনো একক মাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে সংক্রমণের চিকিৎসা করা যেতে পারে। প্রোস্টেট গ্রন্থির সংক্রমণের জন্য দুই থেকে চার সপ্তাহ চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
অনেক চিকিৎসক পরীক্ষার ফলাফল হাতে পাওয়ার আগেই অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন।
এপিডিডাইমিস বা প্রোস্টেটের প্রদাহের ক্ষেত্রে এমন অ্যান্টিবায়োটিক বাছাই করতে হবে যা ক্লামাইডিয়া এবং সংক্রমণের অন্য কারণগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর। আপনাকে একটির অধিক অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণেরও প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে যদি আপনার অন্য সংক্রমণের আশঙ্কা, যেমন- গনোরিয়া থাকে।
আপনার যৌনসঙ্গিনীরও চিকিৎসা করাতে হবে, তার কোনো উপসর্গ না থাকলেও। এ ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।
চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী আবার দেখাতে আসবেন এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাবেন।
আপনার যৌনসঙ্গিনীর অবশ্যই চিকিৎসা করাবেন। তার কোনো উপসর্গ না থাকলেও চিকিৎসা করাবেন। সব ওষুধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং চিকিৎসক নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত আপনি ও আপনার সঙ্গিনী যৌনমিলন করবেন না।
কিভাবে ক্লামাইডিয়া সংক্রমণ প্রতিরোধ করবেন?
আপনি ক্লামাইডিয়ায় আক্রান্ত হলে তা আপনার সঙ্গিনীকে অবহিত করুন।
সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে যৌনমিলনের সময় সর্বদা কনডম ব্যবহার করুন।
স্বামী-স্ত্রী উভয়কে ক্লামাইডিয়া এবং অন্য যৌনবাহিত রোগগুলোর পরীক্ষা করানো উচিত।
যদি আপনি নিরাপদ যৌন সঙ্গম না করেন (কনডমবিহীন) তাহলে আপনার কোনো উপসর্গ না থাকলেও চিকিৎসক দ্বারা পরীক্ষা করান।
– ডা. মিজানুর রহমান কল্লোল
হাড়-জোড়া, বাত-ব্যথা ও আঘাতজনিত রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন। চেম্বার : পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লি, ২ ইংলিশ রোড, ঢাকা।

আরও পড়ুনঃ   কোমর ব্যথার কারণ, লক্ষণ এবং প্রতিকার

LEAVE A REPLY