পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ আদার অসাধারণ উপকারিতাসমূহ জেনে নিন

0
1741
আদার উপকারিতা,ginger

আদা আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় একটি খাদ্য উপাদান। বিভিন্ন তরকারীতে আদা কম বেশি ব্যবহার করা হয়। আদা কিন্তু তুচ্ছ করার জিনিস না। কী নেই আদায়? ভিটামিন এ, বি, সি, ই, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, সিলিকন, আয়রন, সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, জিংক এবং বিটা ক্যারোটিনের চমৎকার উৎস আদা।

আদা রুচিবর্ধক। খাওয়ার আগে একটু আদা মুখে পুরে চিবিয়ে নিলে আপনার পাচক প্রক্রিয়া আরও সহজতর হবে। এ ছাড়া স্বাদ বাড়াতে ও শরীরের টক্সিনের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এই আয়ুর্বেদিক উপাদান।

আদা যে শুধুমাত্র স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়িয়ে রান্নায় ভিন্নমাত্রা যোগ করে তা নয়, আদা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধিও বটে। যা শরীরের অনেক সমস্যা দূর করে দেয়। চিকিৎসকদের মতে, রান্না করা আদার চাইতে কাঁচা আদার উপকার অনেক অনেক বেশি।

আদা ছাড়া বাঙালির রান্নাঘর ভাবাই যায় না। সুস্বাদু রান্নার জন্য রান্না ঘরে আদা চাই-ই চাই। কিন্তু আদা শুধু খাবারের স্বাদ ও গন্ধ বাড়ায় না, এক টুকরো আদা পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা বাড়িয়ে জীবনও বদলে দিতে পারে। কি বিশ্বাস হচ্ছে না তো!

তাহলে দেরি কেন আসুন প্রতিবেদন পড়ে জেনে নেই নিয়মিত আদা খেলে কি হয়?

(১) নিয়মিত আদা খেলে বা নতুন আদার সাথে আধা সেদ্ধ ডিম খাওয়ার অভ্যাস পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা বাড়ে। সহজেই স্পার্ম কাউন্ট বৃদ্ধি করে আদা।

(২)অম্বলের কারণে বুক জ্বলার সমস্যা? ২ কাপ জলে এক টুকরো ছেঁচে গরম করে চায়ের মতো তৈরি করে পান করুন।অর্থাৎ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ২ কাপ পানিতে এক টুকরো আদা ছেঁচে গরম করে চায়ের মতো তৈরি করে পান করুন। হজমে সমস্যার কারণে পেতে ব্যথা হলে আদা কুচি খেয়ে নিন। আদা পেতে গ্যাসের সমস্যা থেকেও মুক্তি দিতে বেশ কার্যকরী।

(৩) প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক এবং  অ্যান্টিহিস্টামাইন উপাদানে ভরপুর আদা। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। নিয়মিত আদা খাওয়ার অভ্যাস করলে ছোটখাটো অনেক রোগের হাত থেকেই মুক্তি মেলে।

আরও পড়ুনঃ   মাতৃত্বকালীন সতর্কতা এবং আপনার করণীয়

(৪) দুর্বল লাগছে? এক টুকরো আদা খেয়ে নিন। অনেকটা শক্তি পাবেন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জানুন দুর্বলতার কারণ।

(৫) খেতে একেবারেই ইচ্ছে হচ্ছে না? অসুস্থ বোধ করছেন খাবার দেখলেই? কোনো সমস্যাই নয়। খাওয়ার আগে ১ চা চামচ তাজা আদা কুচি খেয়ে নিন। মুখের রুচি ফিরে আসবে।

(৬) গলা খুশখুশ কমাতেও উপকারী আদা। ঠান্ডা লেগে কাশি হলেও আদা গলা স্বাভাবিক রাখতে কাজে লাগে।আদা আপনাকে খুশখুশে কাশি ও ঠাণ্ডার প্রকোপ থেকে সহজেই রক্ষা দিতে পারে আদা। আদার রস ঠাণ্ডা-কাশি নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। চায়ের সঙ্গে পুদিনা পাতা ও মধুর সঙ্গে আদার রস মাথাব্যথা ও ঠাণ্ডা-কাশি নিরাময়ে খুবই উপযোগী। বুকে সর্দি কফ জমে গিয়েছে? নিঃশ্বাস টানতে সমস্যা হচ্ছে? ২ কাপ পানিতে আদা কুচি দিয়ে ফুটিয়ে নিন। পানি যখন অর্ধেক হয়ে আসবে জ্বাল হয়ে তখন ছেঁকে নামিয়ে ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে পান করে ফেলুন। বেশ আরাম পাবেন। সর্দি কফের সমস্যা না যাওয়া পর্যন্ত এই আদা চা পান করে চলুন।

(৭) আদা হজমের সমস্যায় খুব ভাল কাজ করে। প্রতিদিন সকালে এক কাপ আদা-চা পান করলে গোটা দিন অম্বল বা হজমের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন আপনি।
(৮) বমিভাব বা বমি হলে আদা কুচি চিবিয়ে খান। অথবা আদার রসের সঙ্গে সামান্য লবণ মিশিয়ে পান করুন। তাৎক্ষণিক আরাম পাবেন।

(৯) আদার রস ব্যথা কমাতেও ওষুধের মতো কাজ করে। যেখানে আঘাত সেখানে লাগাতে পারেন আদার রস। এমনকি আদার রস পান করলেও ব্যথা কমে। শরীরের বিভিন্ন ধরনের বাতের ব্যথা ও জয়েন্ট পেইন থেকে আপনাকে মুক্তি দিতে পারে।হাতে পায়ের জয়েন্টে ব্যথা হলে সাহায্য নিতে পারেন আদার তেলের। খানিকটা অলিভ অয়েলে আদা ছেঁচে নিয়ে ফুটিয়ে নিন ৫ মিনিট। ঠাণ্ডা হলে ছেঁকে এই তেল দিয়ে ম্যাসাজ করুন হাতে পায়ের জয়েন্টে। আদার অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান দূর করে দেবে ব্যথা। অন্যভাবে বলতে গেলে আদার অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা দূর করতে বিশেষ ভাবে কার্যকরী। এছাড়াও উষ্ণ গরম পানিতে আদার তেল মিশিয়ে গোসল করলে মাংসপেশীর ব্যথা দূর হয়।

আরও পড়ুনঃ   ঔষধি গুণে ভরা পুদিনা পাতা

(১০) অতিরিক্ত চঞ্চল বাচ্চা- যাদের রুচি কম বা খাওয়ার প্রতি অনীহা তাদের জন্য আদা এক বড় ওষুধ। এ ছাড়া বড়রাও রুচিবর্ধক হিসেবে আদা তালিকায় রাখতে পারেন।

(১১) মেয়েদের পিরিয়ডের সময় পেটে ক্র্যাম্পের সমস্যায় প্রায় নাজেহাল হতে হয়। সে ক্ষেত্রে আদা থেঁতো করে, সামান্য নুন দিয়ে খেতে পারেন।

(১২)প্রতিদিন মাত্র ১ ইঞ্চি পরিমানের আদা কুচি খাওয়া অভ্যাস সাইনাসের সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করে।

(১৩)ত্বকে পড়ে যাচ্ছে বয়সের ছাপ? এক কাজ করুন প্রতিদিন সামান্য আদা কাচা চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করুন। আদার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিএইজিং উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা দেহের টক্সিন দূর করে এবং দেহে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে ত্বকে বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করে অনেকটা সময়।

(১৪)খাবারের পুষ্টি দেহে সঠিকভাবে শোষণ করার ক্ষমতা বাড়ায় আদা। তাই প্রতিদিন খুব সামান্য পরিমাণে হলেও আদা খাওয়া অভ্যাস করা উচিত সকলের।
(১৫)আর্টারি ওয়ালে ব্যাড কোলেস্টেরল ও ফ্যাটি অ্যাসিড জমে করোনারি হার্ট ডিজিজের সমস্যা দেখা যায়। ফলে রক্ত চলাচলে অসুবিধে দেখা যায়। আদা রক্ত চলাচলে সাহায্য করে। লিভার ও ব্লাডে কোলেস্টেরল অ্যাবজর্বশন কম রাখতে আদা সাহায্য করে।

(১৬)অতিরিক্ত ওজন ঝরাতেও আদা সাহায্য করে। টিস্যু বেশি এনার্জি ব্যবহার করায়, বেশি ক্যালরি বার্ন হয়।

(১৭)অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর আদা ক্যান্সার ও হার্টের সমস্যা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ওভারিয়ান ক্যান্সার প্রতিরোধে আদা উপকারী।
(১৮) ধমনীতে প্লাক জমে রক্ত প্রবাহ বন্ধের সমস্যাকে বলা হয় অথেরোস্ক্লেরোসিস। এই মারাত্মক সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন নিয়মিত আদা খাওয়ার অভ্যাস করলে। প্রতিদিন একটু হলেও আদা খান এই সমস্যা থেকে দূরে থাকতে।

সুতরাং আদা শরীরের জন্য খুব উপকারী। এতে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট, যা শরীরের রোগ-জীবাণুকে ধ্বংস করে। জ্বর জ্বর ভাব, গলা ব্যথা ও মাথাব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। তবে রান্না করার চেয়ে কাঁচা আদার পুষ্টিগুণ বেশি। মাইগ্রেনের ব্যথা ও ডায়াবেটিস জনিত কিডনির জটিলতা দূর করে আদা।

আরও পড়ুনঃ   মেদ কমাতে ৭ ধরনের খাবার

আরও পড়ুন

টানা ৩০ দিন আদা খেলে কী হয়?

আদা-পানি খেলে কী হয়?

 

বিঃ দ্রঃ গুরুত্বপূর্ণ হেলথ নিউজ ,টিপস ,তথ্য এবং মজার মজার রেসিপি নিয়মিত আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ বিডি হেলথ নিউজ এ ।

LEAVE A REPLY