প্রকৃতি ও প্রযুক্তি

0
500
প্রকৃতি ও প্রযুক্তি

ফুলে ফলে সুশোভিত এই বিশ্ব জাহান। মানুষের সুখ আর শান্তির জন্যে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন এই সুন্দর ভুবন। বীজ থেকে গাছ, গাছ থেকে ফুল, আর ফুল থেকে ফল। কি চমৎকার সাজানো এই বাগান। পশু-পাখি, কীট-পতঙ্গ আর মানুষে ভরপুর এই বিশ্ব প্রকৃতি। প্রাকৃতিক এই সুন্দর দৃশ্যে ভরপুর পৃথিবী। নদ-নদী, গ্রাম-গঞ্জ, শহর-বন্দর, পাহাড়-পর্বত, সাগর-মহাসাগর সৃষ্টি-বৈচিত্র্যময় এই বিশ্ব প্রকৃতি মোহনীয় হয়ে আছে সর্বত্র সর্বদা। নীলিমাময় আকাশ, চারিদিকে সবুজ শ্যামল গাছ-গাছালির মনোরম এই প্রাকৃতিক দুনিয়া। পায়ের নিচের যে মাটি ঐ মাটিই সবকিছুর মূল। চাষীরা চাষ করে। বীজ বুনে, আবাদ করে। আম, কাঠাল, আপেল, আতা, কমলা, আঙ্গুর, ডালিম, বেল, কলাসহ অসংখ্য ফলের আবাদ করে চাষীরা এই মাটিতে। প্রকৃতির উপর প্রযুক্তি প্রয়োগে উন্নয়নের এ ধারা সৃষ্টির আদি থেকে এগিয়ে চলেছে যুগ যুগ ধরে। প্রকৃতির এই মাটিতে প্রযুক্তি ও শ্রম দিয়ে মানুষ কলা, বেগুন, আলু, কফি, লাউ, কুমড়া, টমেটো, খিরাই, লেবুর মত অগণিত শষ্য সবজি উৎপাদন করে মানুষের তৃপ্তি ও পুষ্টির দানে ধারাবাহিক অবদান বা জান্নাতকে মনোরম সাজে সুগন্ধে সাজাতে এই মাটি ফুটে উৎপাদন করা হয় জবা, গোলাপ, চামেলী, গ্যাদা, কবরী, কদম, টগর, দোলনচাপা, কাঠালচাপা, পদ্ম-সবই ঐ প্রকৃতি ও প্রযুক্তির প্রেমের বন্ধন ও প্রয়োগের মহা খেলায়। বাংলার মানুষের প্রধান খাবার ভাত। ভাত আসে চাউল থেকে। চাউল আসে ধান থেকে প্রযুক্তির যন্ত্র ব্যবহার করে। এক সময়ের বোরো, আমন, আউশ, ধান আজ সংকর আর প্রযুক্তি প্রয়োগে ৩ মাসে অধিক ফলনের ইরি, ফাইজাম, ফারিজা, বাশমতি, লতাশাইল, চিনিগুরাসহ হরেক রকমের সুস্বাদু উন্নতমানের ও গুণের ধান উৎপাদনে চাষীরা উৎফুল্ল জীবনীতে অগ্রসরামান। বিশ্ব-প্রকৃতির অতুলনীয় সৌন্দর্য গড়ে তুলতে চারিদিকে বনে জঙ্গলে অসংখ্য পশু-পাখি সৃষ্টি করা হয়েছে সুবেহ সাদেকের সময় আজানের আগে মোরগের ডাকে মানুষ জেগে উঠে। ভোরের আগে কাকের ডাকে দিনের যাত্রা শুরু হয়। দোয়েল, ঘুঘু, শালীক, চিল, শকুন, ডাহুক, টিয়া, টুনটুনিসহ অগণিত পাখি সবই এই প্রকৃতির সৌন্দর্য উপাদান। প্রযুক্তি প্রয়োগে জ্ঞাত হওয়া যায় যে এসবই মানব জাতির কল্যানে সৃষ্টি। নিমগাছ, কলাগাছ, আমগাছ, জামগাছ, বকুলগাছ, তুলসীগাছ, কড়ুইগাছ এদের আগমন শুধু প্রকৃতি সৌন্দর্য বর্ধনই নয়, রোগ শোক, বালা-মুছিবতে পরিত্রাণের উপাদান তথা ঔষধ হিসেবেও জরুরি সম্পদ হিসেবে আজ প্রামাণিত সত্য। সবুজ পাতার অসংখ্য গাছ-গাছালি অক্সিজেন সরবরাহ আর কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে মানুষকে বাঁচার শক্তি যুগিয়ে চলেছে সৃষ্টির আদি থেকে । সূর্য এক মহা শক্তিশালী আলো ও তাপের আধার। সৌর মন্ডলের গ্রহ সমূহ পৃথিবী, বুধ, বৃহস্পতি, শনি, মঙ্গল, নেপচুন, প্লোটু, শুক্র, ইউরেনাস-ইত্যাদি ঐ সূর্যের চারিদিকে ঘুরে ঘুরে মধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে বিশ্ব জাহানের স্থায়িত্ব ধরে রেখেছে। পৃথিবীর অধিবাসীদের বাসোপযেপাগী তাপ বিতরণ করে চলেছে। আলোকিত হচ্ছে আধার ভুবন। উত্তপ্ত পৃথিবীকে শান্তির আবাস করতে কখনও দক্ষিণা, কখনও পূবাল বা পশ্চিমা বায়ু প্রবাহ দিয়ে চলেছে সব দেশে। যখন যেখানে যেরূপ তাপের প্রয়োজন তখন সেখানে সেরূপ তাপ দিয়ে বিশ্ব প্রকৃতিকে সুন্দর, শান্তিময় ও দুর্গন্ধমুক্ত রাখা হয়েছে। আহ্নিক গতির ঘুর্নাবর্তে দিনের পর রাত, রাতের পর দিনের আগমনে দুনিয়াকে মানুষের জন্য করা হয়েছে সহনীয় বাসোপযুক্ত। দিনের পরিশ্রম-ক্লান্ত মানুষ রাতের আধারে বিশ্রাম করে আবার নতুন দিনের কর্ম প্রচেষ্টার শক্তি ও উদ্দীপনা পায়। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসসন্ত ঋতুচক্রের আবর্তে ঘুরে মানুষ আর পশু-পাখিরা জীবনের বৈচিত্র খুজে পায়। বিশ্ব জাহানের স্রষ্টা আল্লাহ পাক সৃষ্টির সেরা জীব এই মানুষের মাথায় দিয়েছেন অতুলনীয় শক্তি ও যোগ্যতা। মাথা খাটিয়ে আজ এই মানুষ সারা বিশ্বকে জয় করে চলেছে। প্রাকৃতিক সম্পদ এই মাটিতে প্রযুক্তি খাটিয়ে অবিশাস্য ফলন আনা সম্ভব হয়েছে। ৬০ কেজি ওজনের লাউ, ২০ কেজি ওজনের পেঁপে, ৮০ কেজি ওজনের কাঁঠাল অনুরূপ অবরননীয় ফলমূল দেখে অকপটে আমাদের মুখ থেকে আলহামদুলিল্লাহ বের হয়ে আসে। প্রকৃতির সাথে প্রযুক্তির মিশ্রণে এই যে অভিনব সফলতা এটাই আমাদের বিস্ময়ের কারণ। বাড়ীর একটু দূরেই আমরা বিলে বা নদীতে গিয়ে হরেক রকমের মাছ পেয়েছি। এক সময় পুঁটি, খলিসা, কৈ, শিং, মাগুর, শোল, গজার, বাইন, বাইলা, বোয়াল, চিতল, রুই, কাতলা, ইলিশসহ অনেক মাছ অনায়াসে পেতাম, আর মন ভরে খেতাম। আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে একেক মাছের একেক স্বাদ গ্রহণ করেছি। এভাবে আজও ভোগ করে চলেছি প্রকৃতির অগণিত নেয়ামত। কৃত্তিম বিল-পুকুরে মাছের চাষ হচ্ছে পাড়ায়-পাড়ায়। মাছের চাষ করে শত শত রকমের নতুন পুরাতন মাছ অতুলনীয় ওজনের ও আকারের পেয়ে আমরা ধন্য হচ্ছি। সব কল্পনা আর ভাবনা উপেক্ষা করে অভিনব মাগুর, শিং, পাঙ্গাস আর ইলিশমাছের ব্যাপক সমারোহ নবাগত নারী-পুরুষদের অভিভূত করে দিচ্ছে। ধান ক্ষেতে আবাদ করা ৪/৫ কেজি ওজনের মাগুর, ১০/১২ কেজি ওজনের পাঙ্গাস মাছ দেখে আমাদের কলীজা ঠান্ডা হয়ে যায়। প্রযুক্তি প্রয়োগে অধিক ফলনের ধান ফলানোর সাথে সাথে একই জমিতে মাছের চাষ আমাদের অর্থনৈতিক বিপ্লবকে অনেক দূর এগিয়ে দিচ্ছে। এভাবেই বিশ্ব প্রকৃতির সমস্ত উপকরণ ব্যবহার করে দেশে দেশে হাজারো রকম মানব কল্যাণের আয়োজন চলছে। বেকার সমস্যা সমাধানে সহজ পাথেয় সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। প্রাকৃতিক সম্পদ এই মাটি, মানুষ, আলো, বাতাস ও পানির ব্যবহারে প্রযুক্তি প্রয়োগে আজ চারিদিকে অতুলনীয় উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হচ্ছে। প্রযুক্তি তখনই সফলকাম হতে পেরেছে যখন প্রকৃতির ভালবাসা ও প্রেমের বন্ধন পেয়েছে। আল্লাহ প্রদত্ত এই বিশ্ব প্রকৃতিই সব কল্যাণের ভিত্তি। বুঝে না বুঝে আমরা এই চির সত্যকে মেনে নিতেই হচ্ছে। আমাদের চারপার্শ্বের এই যে, চন্দ্র, সূর্য, আকাশ, বাতাস, মাটি, পানি, লোহা, তামা, সোনা, রূপা, পিতলসহ আরো অসংখ্য রকমের সম্পদরাজি রয়েছে তার সবই প্রাকৃতিক সম্পদ। আজকের ভূগোল, পদার্থবিদ্যা, রসায়নবিদ্যা, জীববিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, বিদ্যুৎবিদ্যা, সমাজবিদ্যা, চিকিৎসাবিদ্যা, প্রযুক্তি বিদ্যার আগমন তার মূল হল আল্লাহ প্রদত্ত এই বিশ্ব প্রকৃতি এবং তার ধর্ম ও গুণাবলীর প্রয়োগ ও রূপান্তর এবং উন্নয়ন। নতুন শক্তির মহান দান। প্রকৃতির লিলাভূমিতে প্রযুক্তিযোগে সমাজ ও দেশকে করে চলেছে অগ্রগতি, উন্নত ও সমৃদ্ধশালী।

আরও পড়ুনঃ   ইলেক্ট্রনিকস বর্জঃ স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি
ইঞ্জিনিয়ার ফিরোজ আহমাদ

LEAVE A REPLY