ফিটনেস নতুনদের জন্য…

0
95
নতুনদের জন্য ফিটনেস ,ফিটনেস

অনেকেই মনে করে এক্সারসাইজ করা মানে শরীর থেকে বাড়তি ওজন কমানো, এক্সারসাইজ শুধু বাড়তি ওজন কমানোর জন্য নয়। বরং নিজেকে সারাদিন ফিট, চনমনে রাখতে আর শরীরের কলকব্জাগুলোকে পরিপূর্ণভাবে সজাগ রাখতেই এক্সারসাইজ করতে হয়। তাই ফিট থাকার জন্য যেমন এক্সারসাইজ অপরিহার্য, তেমনিভাবে অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে কিংবা ওজন কমাতে প্রয়োজন এটি। যথোপযুক্ত এক্সারসাইজ করতে পারলে আপনি নিজেই হয়ে উঠবেন ফিট অ্যান্ড ফাইন। মনে রাখতে হবে প্রতিনিয়ত সুস্থ থাকতে হলে আপনাকে নিয়মিত এক্সারসাইজ বা ব্যায়ামের মধ্যে যেতে হবে। এই ব্যায়াম হতে পারে নানা রকমের, তাই প্রথমেই ব্যায়াম শুনে অস্থির হবেন না। ভেবে নিন আপনার জন্য ঠিক কোন ধরনের ব্যায়াম জরুরি। অনেকেই মনে করেন, এক্সারসাইজ করা মানেই হচ্ছে বাড়তি সময় ব্যয় করা এবং নিজের জন্য বাড়তি কিছু প্রস্তুতি গ্রহণ করা। আসলে কিন্তু বিষয়টি সে রকম নয়। বরং এক্সারসাইজ করা মানে হচ্ছে নিজের ফিট বডিটাকে একটু নিজের সঙ্গে চিনিয়ে নেওয়া। প্রয়োজনে একটু অভ্যাস গড়ে তোলা। যা আপনার চনমনে ভাবটি দিনের শেষ ভাগ পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করবে। অনেকেই মনে করেন, আমার বডি ঠিক আছে, আমার এক্সারসাইজ করার প্রয়োজন নেই। মনে রাখবেন, এটি একটি অজুহাত মাত্র। সব বয়সেই নিয়মিত এক্সারসাইজ করা প্রয়োজন। এক্সারসাইজের ধরণ বদলাতে পারে, প্রয়োজন বদলাতে পারে, কিন্তু এক্সারসাইজ একটি অপরিহার্য বিষয়। কখনও কখনও এক্সারসাইজ আপনাকে ভালো রাখার জন্য সাহায্য করবে, কখনও কখনও আপনার শরীরের বাড়তি ওজন হরাস করতে সহায়তা করবে, কখনও কখনও আপনার শরীরের অবসাদ দূর করবে। তবে এ সবকিছুর জন্য প্রয়োজন যথাযথ পরামর্শ। যদি সম্ভব হয় একজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করে এক্সারসাইজ শুরু করা জরুরি। তবে যারা এইমাত্র ভাবলেন আপনিও আপনার শরীরের জন্য সঠিক এক্সারসাইজটি করতে চান, তাদের পরামর্শের সঙ্গে সঙ্গে যে বিষয়টি জরুরি তা হচ্ছে—আজ থেকেই শুরু করুন। কিছু কিছু কাজ বিশেষজ্ঞ পরামর্শের আগেই আপনি শুরু করে দিতে পারেন। যেমন মানসিক দৃঢ়তা অর্জন। আপনি যদি মনে করেন এক্সারসাইজ করবেন, এ ক্ষেত্রে আপনার মানসিক দৃঢ়তাই আপনাকে আদর্শ লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে। মনে রাখবেন প্রথমেই এর জন্য দরকার নিজের মানসিক দৃঢ়তাকে একটি নির্দিষ্ট প্ল্যান বা ছকে ফেলা, অর্থাত্ কখন আপনি এক্সারসাইজ করতে চান। অনেকেই মনে করেন, সারাদিন ঝরঝরে থাকতে খুব সকালে এক্সারসাইজ করা ভালো। যদি আপনার সকালে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস না থাকে তবে নিজেকে একটি নির্দিষ্ট নিয়মে আনতে আপনি এক্সারসাইজটি দিনে অন্যসময়েও করতে পারেন। তবে সকালে এক্সারসাইজ করলে সারাদিন শরীরে তা অনেক পজেটিভ প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি সকালবেলা ঘুম উঠতে পারা এবং এক্সারসাইজ নিয়মে নিজেকে বাধ্য রাখাও খুব জরুরি। এক্সারসাইজ শুরু করার আগে কোনধরনের এক্সারসাইজ করবেন এবং তার সঙ্গে কী কী থাকা প্রয়োজন তা একটু জেনে নিন। কোনো এক্সপার্টের কাছ থেকে বিশদ একটি এক্সারসাইজ প্ল্যান বানিয়ে নিতে পারেন। দিনে কতক্ষণ এক্সারসাইজ করা উচিত, প্রথম দিকে কোন এক্সারসাইজ দিয়ে শুরু করবেন—সব জেনে তারপর শুরু করতে পারেন। সব সময় এ রকম একটা এক্সারসাইজ রুটিন মেনে চলুন যা আপনার শরীরের পক্ষে শুধু ভালোই নয় একই সাথে আপনার উপভোগের বিষয় হয়েও দাঁড়ায়। আসলে এক্সারসাইজ তো একদিন করলেই হয় না, এটি একটি নিয়মিত করার বিষয়। সুতরাং আপনার শরীর যে ধরনের এক্সারসাইজ বহন করতে পারে বা তার সহ্য ক্ষমতা যে ধরনের এক্সারসাইজকে ধারণ করতে পারে সে রকম এক্সারসাইজই বেছে নিন, তবে এ সবকিছু করার জন্য আপনাকে মানতে হবে সহজ কিছু নিয়ম।

আরও পড়ুনঃ   মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ ৮ ব্যায়াম জেনে নিন

নিয়ম ১

ওয়ার্মআপ করার জন্য বাড়ির ছাদে বা সামনের রাস্তা থেকে ২০ মিনিট হেঁটে আসুন। যদি বাড়িতে ট্রেডমিল থাকে তাহলে ১০ মিনিট ট্রেডমিলে দৌড়াতে পারেন। একেবারেই জায়গা নেই এমন হলে আপনি আপনার রুমেই স্বাচ্ছন্দ্যে দৌড়াতে পারেন।

নিয়ম ২

এরপর পালা শুরু হবে স্ট্রেচিং এক্সারসাইজের, অর্থাত্ এক্সারসাইজের মাধ্যমে পিঠ, ঘাড়, হাত এবং পা ভালোভাবে স্ট্রেচ করা দরকার। এজন্য আমরা দুয়েকটি উদাহরণ দিচ্ছি।

নিয়ম ৩

এবার করুন কার্ডিওয়ার্ক আউট। একটু জোরে হেঁটে আসুন, আস্তে আস্তে গতি বাড়ান এরপর ১৫ মিনিট জগিং করতে পারেন। পুরো ৩৫ মিনিট কার্ডিওয়ার্ক করলে আপনার শরীরের জন্য যথার্থ উপকার পাবেন।

নিয়ম ৪

নিজেকে কোল্ডডাউন করতে ৫ মিনিট একদম আস্তে আস্তে হাঁটুন এখন ৫ মিনিট স্ট্রেচ করতে পারেন বিশেষ করে পাইলসস্ট্রেচিং করা খুবই জরুরি। এ ছাড়া কিছু সহজ এক্সারসাইজ বাড়িতে ট্রাই করতে পারেন। যারা প্রথমবার এক্সারসাইজ করছেন তাদের জন্য এই এক্সারসাইজ একেবারেই আদর্শ।

নিয়ম ৫

সোজা হয়ে দাঁড়ান। হাত সোজা করে ঘরের সিলিংয়ের দিকে স্ট্রেচ করুন। এবার পায়ের আঙ্গুলের উপর ভর দিয়ে যতটা সম্ভব জোরে লাফান। মাটিতে নেমে আসার সঙ্গে সঙ্গে আবার লাফান কোনো ব্রেক দিবেন না। টানা এক মিনিট লাফাতে থাকুন। এক মিনিট ব্রেক দিয়ে আবার শুরু করুন। দশ-বারোবার এইভাবে লাফাতে পারেন।

নিয়ম ৬

মাটির উপর শুয়ে পড়ুন তারপর দুটি হাতের সাহায্যে মাটি থেকে উঠার চেষ্টা করুন। হাতে কোনো ভাঁজ যাতে না পড়ে। শুরুতে মোটামুটি ৫-১০টি পুশআপ দিতে চেষ্টা করুন। অনেক সময় এক হাতের উপর ভর দিয়েও পুশআপ করা যায়।

এক্সারসাইজ ১

সোজা হয়ে মাটিতে শুয়ে পড়ুন। পা একদম সোজা রাখুন, হাত মাথার উপরে স্ট্রেচ করুন। এ রকম অবস্থায় ৫ মিনিট রিলাক্স করুন।

এক্সারসাইজ ২

সোজা হয়ে বসুন, হাত পাশে রাখুন, আস্তে আস্তে ঘাড় একদিন ঘুরান। ৫ সেকেন্ড এ অবস্থায় থেকে আবার প্রথম অবস্থায় ফিরে আসুন। অন্যদিকে একইভাবে এক্সারসাইজ রিপিড করতে পারেন।

আরও পড়ুনঃ   সুস্থ থাকার জন্য যা করা আবশ্যক-অনুসরণ করতে দেখে নিন

সবশেষ যে বিষয়টি খেয়াল রাখতে পারেন। বাড়িতে আপনি নিজেই স্পট জগিং করতে পারেন। এমনটি টিভি দেখতে দেখতে, গান শুনতে শুনতে জগিং করা সম্ভব। প্রয়োজনে ইন্টারনেট থেকে নামিয়ে নিতে পারেন আপনার পছন্দসই কোনো একটা স্ট্রেচিং কিংবা জগিংয়ের ভিডিও টিউটোরিয়াল, নিজেই দেখে নিয়ে শুরু করতে পারেন আপনার এক্সারসাইজ। তবে এক্সারসাইজ চলতে চলতে খুবই শিগগিরই কোনো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। জেনে নিন আপনার শরীরের জন্য কোন ধরনের এক্সারসাইজটি যথাযথ হয়। বেলা শেষে নিজের শরীর তো নিজেকেই ফিট রাখতে হয়, তাই নিজের দিকে খেয়াল রাখুন সবচেয়ে বেশি।

সোর্স :ইত্তেফাক

LEAVE A REPLY