বছরে অন্তত ১১০টি ডিম খান

0
27
বিশ্ব ডিম দিবস

আলতাব হোসেন:

আজ । অক্টোবরের দ্বিতীয় শুক্রবার দিবসটি পালন করা হয়। এ উপলক্ষে রাজধানীর খামারবাড়িতে আজ তিন টাকায় ডিম দেবে সরকার। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্যমতে, সুস্থ থাকার জন্য প্রাপ্তবয়স্ক একজন মানুষকে বছরে গড়ে ১১০টি ডিম খাওয়া প্রয়োজন। তবে বাংলাদেশ পোলট্রি শিল্প সমন্বয় কমিটি বলছে, দেশের মানুষ বছরে ডিম খায় গড়ে মাত্র ৫০ থেকে ৫৫টি। দরিদ্রদের মধ্যে এ হার ১০ থেকে ১৫টির মধ্যে আটকে থাকে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ বছরে জনপ্রতি গড়ে ২৭০টি ডিম পেটে চালান করেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে দৈনিক ডিমের চাহিদা দুই কোটি ৭০ লাখ। বর্তমানে প্রতিদিন ডিম উৎপাদন হচ্ছে তিন কোটি পিস। ডিম উৎপাদনে দেশে কোনো ঘাটতি নেই। তবে ২০২১ সালে প্রতিদিন ডিমের দরকার হবে ৪৫ কোটি পিস। খ্রিস্টপূর্ব ১৪০০ সালে মুরগির ডিমে কৃত্রিমভাবে তা দেওয়ার পদ্ধতি আবিস্কার করে মিসরীয়রা। অনেকেই বলেন, মুরগির রঙের সঙ্গে মিলিয়ে ডিমের রঙ হয়। সাদা মুরগির ডিম
সাদা হয়। বাদামি ও লাল মুরগির ডিম বাদামি রঙের। তবে সব মুরগির ক্ষেত্রে এ নিয়ম ধরাবাঁধা নয়, ব্যতিক্রমও আছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডিমের রেকর্ড এখন জার্মানির দখলে। ২০১৬ সালে জার্মানির ভস্টেনবুটেল শহরের একটি মুরগি ২০৯ গ্রামের বড় ডিম পেড়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। এর আগে এ রেকর্ড ছিল ব্রিটিশদের দখলে। ২০১০ সালে যুক্তরাজ্যের এসেক্সের একটি মুরগি ৯ দশমিক ১ ইঞ্চি পরিধির একটি ডিম পাড়ে।

বিশ্বে ৪০ শতাংশ ডিমের জোগান দেয় চীন। ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র। চীন সব নকল করতে পারে। এ ধারণা থেকে অনেকে অভিযোগ করছেন, চীন নকল ডিম বাজারে ছেড়েছে। তবে চীন থেকে ডিম আমদানি করে না বাংলাদেশ। তারপরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমে নকল ডিমের ছবি দেখিয়ে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের বাজারে ঢুকছে রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে তৈরি কৃত্রিম নকল ডিম। এমন অপপ্রচারে বাঙালির পাত থেকে প্রোটিনের অন্যতম উপাদান ডিম উধাও হওয়ার জোগাড়। এরই মধ্যে অনেকে শিশুদের ডিম খাওয়ানো বন্ধও করে দিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ   যেসব রোগ থেকে বাঁচায় খেজুর

নকল ও কৃত্রিম ডিম বাজারে সয়লাব হওয়ার অভিযোগ ওঠার পর বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) এ নিয়ে গবেষণা শুরু করে। তাদের গবেষণায় ডিম নকল হওয়ার তথ্য মেলেনি। নারায়ণগঞ্জ সদরের ইমাম পোলট্রির ম্যানেজার রায়হান আলম বলেন, খামারে হাঁস-মুরগি সব সময় একই রকমের মসৃণ ডিম দেয় না। অনেক সময় ডিম আঁকাবাঁকা ও বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। এগুলোকে নকল বা প্লাস্টিকের ডিম মনে করে অনেকে ভীতি ছড়াচ্ছেন- এটা ঠিক নয়।
বাংলাদেশ পোলট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মহসিন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের প্রচারণা থেকেই নকল ডিমের গুজব ছড়িয়েছে। আসলে নকল ডিমের কোনো অস্তিত্ব এ দেশে নেই।
বাংলাদেশ পোলট্রি শিল্প সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক মশিউর রহমান বলেন, একটি সুস্থ-স্বাস্থ্যবান জাতি গঠনে ডিম খাওয়া বাড়াতে হবে। দুই থেকে তিন বছর আগে একটি ডিমের দাম ছিল ১২ টাকা। এখন সাত থেকে আট টাকায় নেমে এসেছে। সরকার পোলট্রি শিল্প খাতে বিশেষ প্রণোদনা ও ভ্যাটমুক্ত করলে ডিমের দাম আরও কমানো সম্ভব।

ডিমের পুষ্টিগুণ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক নাজমা শাহীন সমকালকে বলেন, ডিম দেহের পুষ্টিগুণ বাড়াতে ও দীর্ঘায়ু হতে সাহায্য করে। রক্তে কোলেস্টেরল জমতে বাধা দেয়, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে। মস্তিস্কের কার্যকারিতা ঠিক রাখে। চোখ ও হাড় ভালো রাখে, প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করে। ডিমের সবচেয়ে বড় গুণ, এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে। সকালের নাশতায় প্রতিদিন একটি ডিম মানে সারাদিন ক্ষুধা কম হবে।
বারডেম হাসপাতালের পুষ্টিবিদ ডা. রফিকুল ইসলাম রনক বলেন, ডিমে আছে ভিটামিন ‘এ’। এটি দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে। শুধু ডিমেই রয়েছে ভিটামিন ‘ডি’, যা পেশির ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। গর্ভবতী মায়েদের প্রতিদিন একটি অথবা দুটি ডিম খাওয়া উচিত। তাহলে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হয় না। শিশুদের দৈহিক বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও কার্যক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ডিম প্রয়োজন। যেসব নারী সপ্তাহে কমপক্ষে ছয়টি ডিম খান, তাদের ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি ৪০ শতাংশ কম।

আরও পড়ুনঃ   গর্ভাবস্থায় কি খেলে বাচ্চা ফর্সা হবে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here