ভিটামিন ডি এর উপকারিতা এবং ভিটামিন ডি এর অভাবের মারাত্মক লক্ষণসমূহ

0
440
ভিটামিন ডি

আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ডি দেহে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের শোষণ নিয়ন্ত্রণ করে, প্রতিরোধ ক্ষমতাকে উন্নত করে এবং শক্তিশালী করে। এছাড়া এটি পেশী, দাঁত ও হাড়ের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

বিভিন্ন ধরনের সমীক্ষা অনুযায়ী, ভিটামিন ডি মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, হার্টের রোগ সহ নানা রকম রোগ এবং সেই সাথে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাল ইনফেকশনসহ অনেক রোগের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে মনে করা হয়।

দেহের সুস্থতায় ভিটামিন ডি এক অপরিহার্য উপাদান। হাড় ও দাঁতের সুস্থতাসহ নানা কাজে ভিটামিন ডি এর সরাসরি ভূমিকা রয়েছে। এর অভাবে আবার হতে পারে শারীরিক নানা সমস্যা। এর অভাব পূরণে ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার যেমন- দুধ, মাশরুম, সামুদ্রিক মাছ, বাদাম, মাখন, সূর্যমূখীর তেল ও পনির খাওয়া উচিৎ। তবে সূর্যের আলো ভিটামিন ডি এর অন্যতম একটি উৎস। হালকা রোদে সামান্য ব্যায়াম করলে ভিটামিন ডি এর অভাব পূরণ হয়। ভিটামিন ডি এর উপকারিতা সম্পর্কে আমরা অনেক কিছুই জানি কিন্তু পুরোটা কি জানি? শরীরে ভিটামিন ডি এর উপকারিতা সম্পর্কে আজ বিস্তারিত জেনে নেব। –
* ভিটামিন ডি এর অভাবে হাড়কে মজবুত করার পাশাপাশি শরীরে নানান রকমের বিরূপ প্রভাব দূর করে।
* অকারণে অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যাওয়া রুখতে ভিটামিন ডি কার্যকর। তাই ভিটামিন ডি এর অভাব আছে কিনা সেটা আগেই সনাক্ত করে সেই অভাব পূরণ করে ফেলা উচিৎ।
* মাংসপেশীর দূর্বলতার অন্যতম কারণ হতে পারে শরীরের ভিটামিন ডি এর অভাব। বিশেষ করে মাংসপেশী বেড়ে যাওয়া এবং মাংসপেশী কাঁপার মতো সমস্যাগুলো সাধারণত ভিটামিন ডি এর অভাবেই হয়ে থাকে। এসব সমস্যা সমাধানে ভিটামিন ডি কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
* অধিকাংশ সময় বিষণ্ণ থাকার অন্যতম কারণ ভিটামিন ডি এর অভাব। সারাক্ষণ মানসিক চাপ অনুভূত হলে এবং কোনো কারণ ছাড়াই অতিরিক্ত বিষণ্ণতায় ভোগা হতে পারে ভিটামিন ডি এর অভাবের প্রভাব। নিজের মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে এসব সমস্যা পেলে খাওয়া উচিৎ ভিটামিন ডি যুক্ত খাবার।
* সামান্য উচুতে পড়ে যাওয়া বা আঘাতে হাড়ে চির ধরে যাওয়া সমস্যা আছে অনেকের। সামান্য চাপে প্রচণ্ড ব্যাথাও অনুভূত হতে পারে। এসব সমস্যা তাড়াতে খুবই কার্যকরী ভিটামিন ডি।
* একটু শক্ত হাড় চিবুতে গেলেই কিংবা পেঁয়ারার মতো শক্ত ফলে কামড় দিলেও দেখা যায় আপনার দাঁতের কোণা ভেঙে যাচ্ছে। এসব সমস্যা দূর করতে খান পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ডি যুক্ত খাবার।
* উচ্চ রক্তচাপ কমাতেও ভিটামিন ডি বেশ পারদর্শী। শরীরে যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন ডি না থাকলে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও বেড়ে যায়।
* অধিকাংশ মানুষের অভিযোগ একটাই- সারাদিন শারীরিক পরিশ্রম করেও প্রতিদিন ঘুমাতে হচ্ছে সমস্যা। দেরিতে ঘুম আসে, আবার ঘুমিয়ে থাকলেও চট করে ঘুম ভেঙে যায়। এসব সমস্যা তাড়াতে ভিটামিন ডি দারুণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
ভিটামিন ডি এর অভাব হলে যে লক্ষণগুলো প্রকাশ পায় :

ভিটামিন ডি এর অভাব খুব সাধারণভাবে অনেকের মাঝেই দেখা যায়। অনেক সময় দেখা যায় বেশিরভাগ মানুষই এর সম্পর্কে সচেতন নয় বা বুঝতেও পারেন না যে তাদের মাঝে এর অভাব রয়েছে কিনা। তাই আশা করছি এই লেখাটি পড়ার পর অনেকেই হয়তো বুঝতে পারবেন। যদি উল্লেখিত লক্ষণগুলোর কোনোটি কারো মাঝে প্রকাশ পায় তবে অবিলম্বে ভিটামিন ডি এর মাত্রা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ   লিচুর পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা জেনে নিন

ভিটামিন ডি এর অভাবজনিত ১২টি লক্ষণ

হাড় ও পেশীর দুর্বলতা

যেহেতু ভিটামিন ডি দাঁত, হাড় ও পেশীর জন্য প্রয়োজনীয় তাই এর অভাবের ফলে হাড়, পেশী বা দাঁত দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

বিষন্নতায় ভোগা

গবেষণায় দেখা গেছে মনমরা থাকা ও বিষন্নতায় ভোগা নারীদের মাঝে ভিটামিন ডি এর মাত্রা কম থাকে।

প্রচণ্ড ব্যাথা থাকা

দেহে অপর্যাপ্ত ভিটামিন ডি এর কারনে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাথা থাকে শরীরে।

দীর্ঘস্থায়ী মাড়ির রোগ

ভিটামিন ডি এর অভাবগ্রস্থ মানুষের মাঝে মাড়ি ফুলে যাওয়া, লাল হয়ে থাকা এবং রক্তপাত হওয়া বেশি দেখা যায়।

উচ্চ রক্তচাপ থাকা

হাড়, পেশী ও দাঁত ছাড়াও হার্ট ও ভিটামিন ডি এর উপর নির্ভরশীল। তাই যদি রক্তচাপের মাত্রা বেড়ে যায় তাহলে তা ভিটামিন ডি অভাবে হতে পারে।

ক্লান্তবোধ ও বেশি ঘুম পাওয়া

দিনের বেলা কাজের শক্তি না পাওয়া বা ঘন ঘন একটানা ক্লান্তিবোধ কারো মাঝে দেখা গেলে বুঝতে হবে তার দেহে ভিটামিন ডি এর মাত্রা কম।

আচমকা মেজাজের পরিবর্তন

সেরোটোনিন বা সুখবোধের হরমোন আমাদের মেজাজ নিয়ন্ত্রনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে আর এই হরমোনের উৎপাদন ভিটামিন ডি এর দ্বারা প্রভাবিত।

সহ্যশক্তি কমে যাওয়া

গবেষণায় দেখা যায় যে, ভিটামিন ডি এর অভাব থাকা ক্রীড়াবিদরা সন্তোষজনক ফলাফল করতে পারেন না এবং অন্যান্য ক্রীড়াবিদের তুলনায় তাদের শক্তির মাত্রাও কম থাকে।

ওজনাধিক্য

দেহের চর্বি কোষে সঞ্চিত ভিটামিন ডি হচ্ছে চর্বিতে দ্রবনীয় ভিটামিন। তাই বেশি ওজনের বা স্থূল মানুষের বেশি ভিটামিন ডি এর প্রয়োজন হয়।

আন্ত্রিক জটিলতা

ভিটামিন ডি মাত্রা যাদের মাঝে কম রয়েছে তাদের অন্ত্রে চর্বির শোষণ, সেলিয়াক ও নন সেলিয়াক গ্লুটেনের সংবেদনশীলতা এবং প্রদাহ জনক পেটের রোগ ইত্যাদি সমস্যায় ভুগতে হয় বেশি।

মাথা ঘামা

ভিটামিন ডি এর একটি প্রাথমিক ও সাধারণ লক্ষণ হচ্ছে অতিরিক্ত মাথা ঘামা।

আরও পড়ুনঃ   লজ্জাবতী গাছের ঔষধি গুণাবলী জেনে অবাক হবেন!

অ্যালার্জি

দেহে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি থাকলে উল্লেখযোগ্য হারে অ্যালার্জির মাত্রা কমে যায়। প্রায় ৬০০০ মানুষের উপর পরিচালিত একটি সমীক্ষায় দেখা যায় ভিটামিন ডি এর মাত্রা যাদের কম থাকে তারা বেশি অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হোন।

ভিটামিন ডি এর উৎস

সূর্য রস্মির ভিটামিন

ভিটামিন ডি হচ্ছে সূর্য রস্মির ভিটামিন।সূর্যের আলোতে থেকে পর্যাপ্ত পরিমান ভিটামিন ডি পাওয়া সম্ভব। বয়স, ত্বকের রঙ, ঋতু, দিনের সময় সহ বেশ কিছু কারন এবং সেই সাথে সানস্ক্রিনের ব্যবহারই নির্ধারণ করে যে সূর্যের আলো আমাদের কতটুকু দরকার। তবে দেহে ভিটামিন ডি তখনই তৈরি হয় যখন দেহ অরক্ষিত থাকে অর্থাৎ সানস্ক্রিন দেয়া না থাকে বা অন্য কোন ভাবে রক্ষিত না থাকে। তাই যদি প্রতিদিনের ডোজ সূর্য রস্মির ভিটামিন থেকে নিতে হয় তাহলে কমপক্ষে ১০-১৫মিনিট রোদে থাকতে হবে। চাইলে এর চেয়ে বেশিও থাকা যায় (দিনে ২০-৩০ মিনিট) যদি ত্বকের সমস্যা না হয় তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে ত্বক যেন রোদে পুড়ে না যায়।

ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার

ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খুব কম। যদি দেখা যায় ভিটামিন এর অপর্যাপ্ততা বেশি বেড়ে জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে তবে কয়েকটি খাবার মিলিয়ে ভিটামিন ডি কে শক্তিশালী করে খেতে হবে।

প্রাকৃতিক উৎস

-ডিমের কুসুম
-চিংড়ী মাছ
-স্যামন মাছ
-সারডিন মাছ
-কড লিভার অয়েল

সম্পুরক উৎস

-দই
-দুধ
-পনির
-কমলার জুস
-মাশরুম
-সিরিয়াল ইত্যাদি।

আর একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে দেহের ভিটামিন ডি এর পরিমান বাড়াতে হলে খাবারের সাথে যথেষ্ট পরিমান ভিটামিন কে গ্রহন করা প্রয়োজন।

তাই উপরোক্ত লক্ষণ গুলোর মাঝে কোন একটি যদি দেখা যায় তবে অবশ্যই ভিটামিন ডি এর মাত্রা পরীক্ষার জন্য ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত। আর যখন দেহে ভিটামিন ডি এর মাত্রা বজায় রাখার প্রয়োজন হয় তখন রোদের মাধ্যমে,খাবারের মাধ্যমে বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহন করে হলেও ভিটামিন ডি এর পরিমান বাড়াতে হবে। তবে সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার যদি প্রয়োজন হয়ই সেক্ষেত্রে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে ভালো মানের সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার।বিভিন্ন ধরনের সাপ্লিমেন্ট বাজারে পাওয়া যায় সবগুলো ভালোমান সম্পন্ন নয় তাই সতর্ক ভাবে দেখে কিনতে হবে।

আরও পড়ুনঃ   পায়ে পানি আসা প্রতিরোধে করণীয়

নিচের অংশ জনস্বাস্থ্য পুষ্টিবিদ শওকত আরা সাঈদা(লোপা)-এর লেখা থেকে সংকলিত

বিঃ দ্রঃ গুরুত্বপূর্ণ হেলথ নিউজ ,টিপস ,তথ্য এবং মজার মজার রেসিপি নিয়মিত আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ বিডি হেলথ নিউজ এ ।

LEAVE A REPLY