মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স -সরকারি ডাক্তার ও ওষুধ বেসরকারি ক্লিনিকে

0
30
মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার মো. কামরুজ্জামান সবুজ সরকারি ডাক্তার হয়ে ৩৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেন বেসরকারি মেডিল্যাব নামে একটি ক্লিনিকে। অপরদিকে বিনামূল্যে বিতরণের ১৯০ টাকা সমমানের সরকারি ওষুধ বেসরকারি ক্লিনিকে বিক্রয় হয় মাত্র ৩২ টাকায়। মেডিল্যাব হাসপাতালের নিয়মিত ডাক্তার হিসেবে কাজের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার মো. কামরুজ্জামান সবুজের একটি বেতন শিট এবং বেসরকারি ক্লিনিকে  মাত্র ৩২ টাকায় বিক্রি হওয়া দুইটি একগ্রাম আইভি সেফট্রিয়াক্সোন ইনজেকশন মানবজমিনের হাতে এসেছে।
মানবজমিনের অনুসন্ধানে জানা যায়, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে ভরে গেছে। কিন্ডিকেটের মাধ্যমে সুবিধা নিতে ২১ জনের বিপরীতে ৪ জন দিয়ে চলাচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রফুল্ল কুমার সাহা। যে ৪ জন ডাক্তার রয়েছেন তারা একদিকে অধিকাংশ সময় কাটান বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে অপরদিকে যতক্ষণ সময় হাসপাতালে থাকেন ততক্ষণ সময় তারা ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সাথে কাটান। এখানে রোগী ও ডাক্তারের চেয়ে মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভই (এম.আর) বেশি। হাসপাতালে নেই ওষুধ অথচ হাসপাতালের ওষুধ বাইরে কিনতে পাওয়া যায়। জানা যায়, বিগত ৮ মাস ধরে মাতৃসেবা বন্ধ। এখানে কোন সার্জারি ডাক্তার নেই। অভিযোগ রয়েছে বাইরের ক্লিনিকগুলোতে থেকে সুবিধা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্মা প্রফুল্ল কুমার সাহা কোনো ডাক্তারের জন্য আবেদনই করেন না। পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডগুলোতে নেই পরিষ্কার-পরিছন্নতা। খারের মানও খুব নিম্নমানের। গত ২৯ মার্চ সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), মধুপুর, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এবং মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের  যৌথ উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী, সেবাগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে এক  মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রফুল্ল কুমার সাহা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবল ও সেবা-পরিষেবার সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেছেন, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে। কিন্তু এখনও ৫০ শয্যার সকল সুযোগ-সুবিধাই নিশ্চিত করা যায়নি। আগামীতে ১০০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এখানে জনবলের ঘাটতি রয়েছে। এখানে ডাক্তার পদের বিপরীতে বেশকিছু শূন্য পদ রয়েছেন এবং  ডেপুটেশনেও অন্যত্র রয়েছেন  বেশ কয়েকজন। দীর্ঘ ৭ মাস ধরে গাইনি মেডিকেল অফিসার ডেপুটেশনে অন্যত্র থাকার ফলে গাইনি সেবা প্রদান বিঘ্নিত হচ্ছে। সীমিত জনবল ও সীমাবদ্ধ সম্পদ কাজে লাগিয়ে আমরা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। তিনি এও বলেন, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মানোন্নোয়ন এককভাবে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দ্বারা সম্ভব না
ওইসময় সেবাগ্রহীতাদের মধ্য থেকে যেসব সুপারিশ উঠে আসে তাহলো, হাসপাতালের ওয়ার্ডসহ আউটডোর, ইনডোর ও টয়লেটসমূহে পরিষ্কার পরিছন্নতা নিশ্চিত করা, ডাক্তারদের উপস্থিতি ও  নারীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, ঔষধের তালিকা ও ডাক্তারদের ডিউটি রোস্টার নিশ্চিতসহ নিয়মিত আপডেট করা এবং টিকেট ও ঔষধ সরবরাহের ক্ষেত্রে নারী পুরুষের আলাদা কাউন্টার নিশ্চিত করা। এ ব্যাপারে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার মো.কামরুজ্জামান সবুজ মানবজমিনকে বলেন, আমি মেডিল্যাবের নিয়মিত ডাক্তার না। সেখানে সকাল-বিকাল রাউন্ড দিই। এর জন্যই আমি টাকা নিয়ে থাকি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রফুল্ল কুমার সাহা মানবজমিনকে বলেন, সরকারি ডাক্তার নিয়মিত তো দূরের কথা অনিয়মিতও বেসরকারি ক্লিনিকে কাজ করতে পারেন না। সেফট্রিয়াক্সোন ইনজেকশনটি নিয়ে নিয়ে জানান কিভাবে বাইরে ওষুধ পাচার হয় আমি খোঁজ নিব।

আরও পড়ুনঃ   প্রসূতির রক্তক্ষরণ বন্ধে বাংলাদেশি ডাক্তারের অভিনব পদ্ধতি

LEAVE A REPLY