মরণ ব্যাধি এইডস সারাবিশ্বের জন্য হুমকি

0
68
মরণ ব্যাধি এইডস, এইডস

এইডস (Acquired Immune Deficiency Syndrome) নামক মরণব্যাধি যা এইচআইভি নামক ভাইরাস জনিত একটি মারাত্মক রোগ। এই রোগটি আজ সারা মানবজাতির জন্য ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কমবেশি বিশ্বের প্রতিটি জনপদে এ ব্যাধি মরণছোবল মারতে শুরু করেছে। বহু চেষ্টা চলছে বটে তবে গত দুই/তিন দশকেও এর কোন সফল প্রতিষেধক বা প্রতিকার আবিষ্কার হয়নি। নানা সতর্কতা অবলম্বন এবং বিশ্বব্যাপী অভিযান সত্ত্বেও বিশ্বে এইডস রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থাসহ অন্যান্য সংস্থার জরিপ মতে বর্তমানে বিশ্বে এইডস রোগীর সংখ্যা ৪ কোটি ৩ লাখ। ২০০৫ সালে এ পর্যন্ত এই প্রাণঘাতী রোগে গোটাবিশ্বে মোট ৩১ লাখ লোক মারা গেছে। এর মধ্যে ২৪ লাখ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অধিবাসী। একই সময়ের মধ্যে এশিয়ায় ৪ লাখ ৮০ হাজার, উত্তর আমেরিকায় ১৮ হাজার এবং ইউরোপে ১২ হাজার লোক এই ভয়াবহ রোগের শিকার হয়ে মারা গেছে।

আফ্রিকার  সাহারার নিকটবর্তী অঞ্চলগুলোতে এইডস রোগে আক্রান্ত লোকের সংখ্যা বেশি। এই অঞ্চলে বর্তমানে ২ কোটি ৫৮ লাখ লোক এইডস রোগের জীবাণু নিয়ে জীবনযাপন করছে। বিগত বছরের তুলনায় প্রায় ১০ লাখও বেশি লোক এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। বিশ্বে নতুন আক্রান্ত লোকের ৬৫ শতাংশ লোক এই অঞ্চলের অধিবাসী। কেনিয়া, উগান্ডা ও জিম্বাবুতে এইডস রোগের আক্রান্ত লোকের সংখ্যা সামান্য হ্রাস পেলেও মোজাম্বিক এবং সোয়াজিল্যান্ডে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকাকে এইডস এর কেন্দ্রবিন্দু বলা হয়। এখানে গর্ভবতী মহিলাদের বিশ শতাংশ এ রোগে আক্রান্ত হয়। আফ্রিকার সর্বাধিক আক্রান্ত ৬টি দেশ হলো বোতসোয়ানা, লেসেথো, নামিবিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সোয়াজিল্যান্ড এবং জিম্বাবুয়ে।

ইউরোপের মধ্যে রাশিয়ায়ই এইডস রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কারণ এদেশে ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারীর সংখ্যা  দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পূর্ব ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় এইডস আক্রান্তের সংখ্যা ২০০৫ সাল নাগাদ ১৬ লাখ এসে পৌঁছেছে। মধ্য এশিয়ার মধ্যে উজবেকিস্থানে এইডসের বিস্তৃতির হার সবচেয়ে বেশি। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে এইডস রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পচ্ছে। আমাদের পূর্বদিকে মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডেও এ রোগের বিস্তৃতি খুবই দ্রুত। তাই যেহেতু আমাদের জনগণ এসব দেশে বিশেষ করে ভারতে খুব বেশি যাতায়াত করে তাই বিষয়টি নিয়ে আমাদের চিন্তার প্রয়োজন খুব বেশি। অন্যদিকে পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়াও এইডস রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাতিসংঘ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপে এইডস রোগীর সংখা্যা উদ্বেগজনকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের মতে পৃথিবীর মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে এইডসের বিস্তৃতি তুলনামূলকভাবে কম। তবে এ সংখ্যাও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইসলামের শিক্ষার সুফল এক্ষেত্রে তাদের রক্ষাকবচ।

বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে এইডস রোগীর সংখ্যা খুবই কম। তবে এইডসে আক্রান্ত হওয়ার নিত্য-নতুন খবর পত্র-পত্রিকায় আসছে। যদিও ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম এইডস রোগের সনাক্তকরণ হয় ১৯৮০-৮২ সালে কিন্তু বাংলাদেশে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৮৯ সালে। জাতীয় এইডস কমিটির রিপোর্ট মতে, ২০০৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ৪৬৫ জন। এদের মধ্যে এইডস হয়েছে ৮৭ জনের এবং মারা গেছে ৪৪ জন। তবে বর্তমানে বিভিন্ন সংস্থার অভিমতে বাংলাদেশে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা অন্তত ৭৫০০ জন এবং এ সংখ্যা অতি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ   গ্লুুকোমা প্রতিরোধে সবুজ শাকসবজি

বাংলাদেশ ইদানিং এক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে গণ্য হয়। কারণ আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর অবস্থা আগেই উল্লেখ করেছি। সেক্ষেত্রে আমাদের জনগণ অহরহ এসব দেশে যাতায়াত করে। পরিবেশ পরিস্থিতি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অভাবে অনেকে ঐসব দেশে যৌনকর্মে লিপ্ত হয়ে নিজের অজান্তে এইচআইভি ভাইরাস বহন করে নিয়ে আসে। অন্যদিকে নানা কারণে আমাদের দেশের লোক বিভিন্ন দেশে কাজের সন্ধানে গিয়ে অবস্থান করে। তাদের মধ্যেও অনেকে পরিবেশ ও অবস্থার শিকার হয়ে এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। ইতোমধ্য আমাদের দেশে যত সংখ্যক রোগী শনাক্তকরণ করা হয়েছে তার অধিকাংশের ইতিহাসও এ কথাই বলে। পরন্ত মাদকাসক্তের সংখ্যা বিশেষ করে একই সিরিঞ্জ ব্যবহারকারী মাদকাসক্তের সংখ্যা দ্রুতগতিতে বেড়ে চলছে- এটাও একটা ঝুঁকিপূর্ণ দিক। বিদেশিদের আগমনও পূর্বের তুলনায় আমাদের দেশে বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা অনেকেই এইচআইভি ভাইরাস বহন করে নিয়ে এসে আমাদের দেশিয়দের সংক্রমিত করে যাচ্ছে। পতিতালয় সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পতিতালয়ের মাধ্যমে এইচআইভি ছড়ানোর সুযোগ অবধারিত। উপরন্তু আমাদের দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান এখনও অনেক নীচে। সবকিছু মিলিয়ে আসলে বাংলাদেশ বর্তমানে এইচআইভি ভইরাস সংক্রমণের উর্বর ক্ষেত্র হিসাবে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

এইডস কিভাবে ছড়ায় :

এইডস রোগে সংক্রমিত ব্যক্তির সঙ্গে যৌন মিলনের মাধ্যমে আক্রান্ত হতে পারে একজন নারী পুরুষ। এজন্য এইডসকে অনেকেই পাশ্চত্য সভ্যতার আধুনিক দুর্বিষহ অভিশাপ হিসাবে আখ্যায়িত করেন। সমকামিতা এক্ষেত্রে আরও মারাত্মক ভূমিকা রাখে। সংক্রমিত রক্ত সুস্থ মানুষের শরীরে পরিসঞ্চালন করলে এরোগ সংক্রমিত হবে। রক্ত বা রক্তরসের ক্ষেত্রেও একথা সমভাবে প্রযোজ্য। এইডস ভাইরাসে সংক্রমিত সিরিঞ্জ বা সুচ ব্যবহারের মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। আক্রান্ত মায়ের দেহ থেকে তার শিশুর সংক্রমণের আশঙ্কা ক্ষেত্র বিশেষে ২০/৪৫%। এইডস আক্রান্ত মায়ের দুধ পান করলে শিশু আক্রান্ত হতে পারে। নাপিতের ছুরি-ব্লেড যদি সংক্রমিত হয় এবং পরের খরিদ্দারের ক্ষৌরকর্ম করতে গিয়ে কেটে যায় তাহলে ঐ ব্যক্তি সংক্রমিত হতে পারে। অনেকের মতে, মুখের লালার মাধ্যমে এইচআইভি ভাইরাস ছড়াতে পারে। সেক্ষেত্রে না ধুয়ে একই গ্লাসে একাধিক ব্যক্তির পানি পানও ভাইরাস ছড়ানোর মাধ্যম হতে পারে। স্বাভাবিকভাবে একত্রে সামাজিক চলাফেরা, কথা বলা, আলাপ-আলোচনা বা হাঁচিকাশির মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায় না। মশা, মাছির দ্বারা বা একত্রে উঠা-বসার মাধ্যমেও এ ভাইরাস সংক্রমিত হয় না।

আরও পড়ুনঃ   পিঠব্যথা সমস্যা

রোগের লক্ষণ:

এইডস ভাইরাস মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধক  ক্ষমতা ধ্বংস করে ফেলে। ফলে রোগীর জ্বর, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া, বদহজম, অত্যধিক শারীরিক বা স্নায়ুবিক দুর্বলতা ইত্যাদি রোগের শিকার হয়। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে প্রদাহ বা সংক্রমণ অহরহ দেখা দেয় যা সাধারণ ওষুধে সারে না। অর্থাৎ নানাবিধ উপসর্গের শিকার হয়ে রোগী তিলে তিলে মৃত্যুর পথে এগিয়ে যায়। রোগ নির্ণয়ের জন্য রোগীর জীবনাচার, গতিবিধি এবং রোগের ইতিহাস জানার সাথে সাথে রক্ত পরীক্ষা একান্ত প্রয়োজন। শরীরে ভাইরাস থাকলেই সবার মাঝে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। এইচআইভি ভাইরাস সারাজীবন ধরে রোগীর রক্তে থাকতে পারে। তবে রোগে আক্রান্ত হওয়ার ২/৫ বছরের মধ্যে শতকরা একশভাগ রোগী অত্যন্ত মারাত্মক জটিলতায় ভুগে মৃত্যুবরণ করে।

চিকিৎসা :

এই রোগের সঠিক চিকিৎসা বা টিকা আবিষ্কারের জোর প্রচেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত সফলতা লাভ করা সম্ভব হয়নি তবে ইদানীং বেশ কিছু ওষুধ পাওয়া যায় যা রোগ পুরোপুরি উপশম করতে সক্ষম না হলেও রোগের জটিলতা কমাতে এবং আক্রান্ত রোগীর বেচে থাকার সময়কাল দীর্ঘায়িত করতে সক্ষম হয়।

প্রতিরোধ :

আমরা জানি যে ‘‘রোগ আরোগ্যের তুলনায় রোগ প্রতিরোধই উত্তম।’’ এক্ষেত্রে কথাটির মূল্য আরও বেশি। প্রতিটি মানুষকে মোটামুটি ধারণা দেয়া ও সচেতন করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। এ জন্য প্রয়োজন  সঠিক স্বাস্থ্য শিক্ষার ব্যবস্থা করা। প্রয়োজনে এ বিষয়টিকে স্কুল-কলেজের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা দরকার। রোগীকে মানবিক কারণে ঘৃণা না করে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা দরকার এবং যতদিন বেঁচে থাকে ততদিন দয়া-মায়া, স্নেহ-মমতা ও আদর-যত্নের মাধ্যমে তার কষ্টের লাঘব করা সংশ্লিষ্ট সকলের কর্তব্য। তবে যতদূর সম্ভব এবং যতটুকু প্রয়োজন দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং সাবধানতা অবলম্বন করে চলতে হবে। ধর্মীয় নৈতিকতাবোধে উজ্জীবিত জীবনযাপনে অভ্যস্ত হতে হবে। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের বিধি-নিষেধ মেনে চলতে হবে। যেমন একই সিরিঞ্জ ব্যবহার না করা, নিশ্চিত না হয়ে রক্ত সঞ্চালন না করা ইত্যাদি। সাথে সাথে পাপের পথগুলো পরিহার করতে হবে যেমন-সমকামিতা, বহুগামিতা, মাদকতাসক্তিসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অনাচার পরিহার করতে হবে। এ ব্যাপারে চিকিৎসক চিকিৎসা কর্মে নিয়োজিত অন্যান্য কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যেমন ইমাম, আলেম, পীর-মাশায়েখদের দায়িত্ব অনস্বীকার্য। যেসব কারণে এইডস হয় তার প্রায় সবগুলোকে ইসলাম ১৫শ’ বছর আগে নিষিদ্ধ করেছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, ‘‘জিনার (অবৈধ যৌন সঙ্গম) কাছেও যেও না, তা অশ্লীল আর মন্দ পথ’’ (বনি ইসরাইল-৩২)। অন্যত্র আল্লাহপাক বলেন, ‘‘তিনি (আল্লাহ জানেন, চোখের চুরিকে আর যা অন্তরে লুকিয়ে থাকে’’ (সূরা মমিন-১৯) এখানে আল্লাহ কুদৃষ্টি এবং অন্তরের কুচিন্তার কথা বলেছেন। আর এ পথেই মানুষ জিনার কজে প্ররোচিত হয়। কুরআনে আল্লাহ বলেন, ‘‘ব্যভিচারী কেবল ব্যভিচারিনীকেই বিয়ে করবে। মমিনদের জন্য এদের বিয়ে করা হারাম’’ (সূরা নুর)। আজ স্বাস্থ্য বিজ্ঞানও তাই বলে মরণ ব্যাধি এইডসসহ অনেক ব্যাধিও সামাজিক অনাচার ও বিশৃক্মখলার জন্য দায়ী ব্যভিচার। তাই আজকে ব্যাভিচারের পথ বন্ধ করে সুন্দর সুখী বিবাহিত জীবনযাপনে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। নিয়ন্ত্রিত যৌন জীবন অর্থাৎ বিবাহিত মহিলা পুরুষের মিলনে এইডসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যদি না স্বামী-স্ত্রীর কোন একজন বিপদগামী না হয়ে থাকে। এ জন্যই আদি পিতা আদম (আঃ) হতে বিবাহ প্রথা চালু আছে। ইসলাম ছাড়া অন্যান্য ধর্মও অবৈধ নিয়ন্ত্রণহীন যৌনচার পছন্দ করে না। সমকামিতা ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া মানবিক বিচারে এবং মানব সভ্যতার স্থায়িত্ব বিনষ্টের একটি জঘন্য অপরাধ। কোন সুস্থ বিবেকবান মানুষ এ জঘন্য কাজকে সমর্থন করতে পারে না। যদিও সভ্য জগতের দাবিদার অনেক নামি-দামি দেশ ও জাতি এ জঘন্য কাজকে আইনগত স্বীকৃতি দিয়েছে। আল্লাহর নবী লুত (আ:) তাঁর জাতিকে বলেছিলেন, ‘‘তোমরা এমন কুকর্ম করছো যা তোমাদের আগে বিশ্বে কেউ করেনি। তোমরা কম-তৃপ্তির জন্য নারী ছেড়ে পুরুষদের কাছে গমন কর, তোমরা তো সীমা লংঘনকারী’’ (সূরা আরাফ-৮০-৮১)। এভাবে পবিত্র কুরআন ও রাসূলের হাদীসে অনেক নিষেধ রয়েছে যা পালন না করার জন্যই আজকে মানবজাতি এইডসের মতো অনেক গজবের সম্মুখীন। যেভাবে আদ ও সামুদ জাতি আল্লাহর নির্দেশ অমান্যের কারণে গজবে পতিত হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ   ডিপ্রেশন ও হৃদরোগ

আজ এইডস বিস্তার রোধের জন্য বিভিন্ন সংস্থা এমন কিছু স্লোগান ও বিজ্ঞাপন ব্যবহার করছে যা আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে অপ্রয়োজনীয় এবং আপত্তিকর বটে। এ ব্যাপারে আমাদের গড়ে তুলতে হবে সামাজিক ও ধর্মীয় আন্দোলন। যদিও বাংলাদেশ এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা এখনও নগন্য অর্থ্যাৎ ১%-এর নীচে তবে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা মহামারি রূপ ধারনের অনেক উপাদান এখানে বিদ্যমান। এ সমস্যার সমাধানে শুধু স্বাস্থ্য বিভাগ নয় বরং সরকার বিভিন্ন সামাজিক ও বেসরকারি সাহায্য সংস্থাকে একওযাগে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করার প্রয়োজন ও সুযোগ রয়েছে। তাই আর কালবিলম্ব না করে সবাইকে স্ব স্ব ক্ষেত্রে সঠিক ভূমিকা পালনে এগিয়ে আসতে হবে। এ লক্ষ্য সামনে নিয়ে প্রতিবছর ১ ডিসেম্বরকে সারা বিশ্বে এইডস দিবস হিসাবে পালন করা হয়। আমরা বিশ্ব এইডস দিবসের সফলতা কামনা করছি।

-ডা: সুলতান আহমদ

শিশু চিকিৎসক ও সমাজসেবক, ধানমন্ডি, ঢাকা।

LEAVE A REPLY