মানসিক রোগ থেকে মুক্ত হতে ইতিবাচক মনোভাবই কি যথেষ্ট?

0
143
মানসিক রোগ , ইতিবাচক মনোভাব
মানুষের জীবনে কঠিন ও দূ:সময় আসলে সুদিনের স্মৃতি মনে করে অনেকেই নিজেকে উৎফুল্ল রাখেন। মানসিক চাপ কিংবা হাতশাগ্রস্ত ব্যক্তি নিজেকে শান্ত করার জন্য অতীতের ভালো দিনগুলোকে সামনে নিয়ে আসেন। বিভিন্ন কঠিন পরিস্থিতিতে পরিবারের কোনো সদস্যের মন খারাপ কিংবা হতাশ হলে অন্য সদস্যরা তাকে সহযোগিতা করেন। কিন্তু মানসিক রোগ থেকে মুক্ত হতে অতীতের স্মৃতিচারণ বা পরিবারের মৌখিক সহযোগিতা কতটা ভুমিকা পালন করে? এ প্রশ্ন অনেকের মনে দীর্ঘদিন থেকে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ইতিবচাক চিন্তার মাধ্যমে ব্যক্তির আত্ম-সম্মানবোধ জাগ্রত হয়। ভালো চিন্তার মাধ্যমে সে সুখ খুঁজে পায়। এমনকি হতাশার মতো মানসিক রোগ থেকে কিছুটা হলেও মুক্ত থাকতে পারে।

তবে ‘ইতিবাচক চিন্তা“ ধারণাটিকে অনেক সময় মানুষের কাছে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয় এবং অনেকেই তা বিশ্বাস করে। বাস্তবতাকে না মেনে নিয়ে শুধু ইতিবাচক চিন্তা করে মানসিকভাবে কিছুটা স্বস্তিতে থাকা গেলেও স্থায়ীভাবে মানসিক রোগ থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব নয় বলে জানান সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক এন্টনি গ্র্যান্ট (Anthony Grant )।

অনেক মানুষ জীবনের অনেক বিষয়, বিশেষ করে মানসিক রোগকে হালকাভাবে নেয়। এমনকি কঠিন পরিস্থিতিতেও ভালো কিছু ফোকাস করে হাশিখুশি থাকাতে পছন্দ করে। ফলে মানসিক বিভিন্ন দিক নিয়ে তারা নীরব থাকে। এমনকি চুড়ান্ত কোনো বিষয় হলেও তারা কোনো ঝুঁকি নিতে চান না। ইতিবাচক আশাবাদ ব্যক্ত করে স্বাভাবিকভাবে তা করে ফেলেন। কিন্তু মানসিক রোগের ক্ষেত্রে আশাবাদী হওয়ার চেয়ে বাস্তববাদী হওয়া বেশি যুক্তিসঙ্গত বলে মনে করেন অধ্যাপক গ্র্যান্ট।

তিনি বলেন, জীবনের প্রতিটি বিষয় নিয়ে স্থায়ীভাবে আশাবাদী হওয়া মানে বাস্তব ও সত্য থেকে দূরে সরে যাওয়া। এর ফলে বিভিন্ন সময় তাকে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। যখন মানুষ তার সমস্যা, আবেগ, দূ:খের কারণ নিয়ে না ভেবে অবহেলায় সবকিছু গ্রহণ করে তখন তার বেলা “ইতিবাচক মনোভাব“ তেমন কার্যকর হয়না।

আরও পড়ুনঃ   মিথ্যাবাদী ধরার সহজ ১০টি কৌশল

এ বিষয় নিয়ে ২০০৯ সালের positive self-statements only improved mood and wellbeing নামের গবেষণায় বলা হয়, যারা খুবই আত্মপ্রত্যয়ী কেবল তারাই ইতিবাচক মনোভাব ধারণ করে তাদের ব্যবহার ও আচরণকে উন্নত করতে পারে। কিন্তু যারা কম আত্মপ্রত্যয়ী তাদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি পুরোপুরি সত্য নয়।

তিনি আরো বলেন, আমরা যেভাবে আমাদের চিন্তার জগৎ তৈরি করেছি তা বাস্তবতার চেয়ে ভীন্ন হতেও পারে। অনেক বিষয় আছে যা আমাদের জীবনে প্রাকৃতিকভাবে ঘটে যায় এবং আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে। সেক্ষেত্রে আশাবাদী না হয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করাই বরং ভালো।

তবে অস্ট্রেলিয়ার The Positivity Institute এর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সাজি গ্রিন মনে করেন, পৃথীবির যে কোনো বিষয়ই হোক, তাতে হালকাভাবে নেয়ার কিছু নেই। সব সময় কঠিন বিষয়ে নিমগ্ন না থেকে ইতিবাচক চিন্তা করা যেতে পারে।

তিনি মনে করেন, কঠিন রোগে আক্রান্ত হলে মৃত্যূর ঝুঁকি বেড়ে যায়। সেক্ষেত্রে ইতিবাচক চিন্তা করা শ্রেয়। তবে যে কোনো বিষয়ে আশাবাদী হওয়ার চেয়ে বাস্তববাদী হওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, মানসিক রোগীর কঠিন মুহুর্তগুলো নিয়ে দুশ্চিন্তা মাথায় আসতে পারে। তার মানে এই না যে, শুধু ইতিবাচক চিন্তা দিয়ে, সেটি অস্বীকার করে পার পাওয়া যাবে। আবার বাস্তববাদী মানে মনে কোনো আশা রাখা যাবে না, সব সময় খারাপ চিন্তা করবো এমনটিও নয়।

তবে ডা. গ্র্যান্ট মনে করেন, মানসিক স্বাস্থ্যকে উন্নত করতে প্রথমে যুক্তিসঙ্গত লক্ষ্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এরপর লক্ষ্যে পৌঁছতে চিন্তা, আচরণ ও ব্যবহারে কি ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে তা নিয়ে ভাবতে হবে। কোনটা নিজের জন্য ভালো সেটা জেনে গ্রহণ করতে হবে এবং মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে হবে।

সূত্র: এবিসি নিউজ

LEAVE A REPLY