মূত্রনালীর সংক্রমণ ও প্রদাহ

0
112
মূত্রনালীর সংক্রমণ

মূত্রনালীর সংক্রমণ ও প্রদাহ বলতে সাধারণত মূত্রথলির ও মূত্রদ্বারের সংক্রমণকে বোঝায়-যা সময়মতো চিকিৎসা না করালে মূত্রনালী বা ইউবেটার এবং বৃক্ক বা কিডনির সংক্রমণ ও প্রদাহে রূপ নিতে পারে।
মূত্রনালীর সংক্রমণ খুব বেশি দেখা দেয় মেয়েদের মধ্যে। কারণ, মেয়েদের ক্ষেত্রে মূত্রদ্বার ও যোনিপথ খুব কাছাকাছি অবস্থান করে। মেয়েদের যৌনিপথে নানা কারণে সংক্রমণ ও প্রদাহের সৃষ্টি হয় খুব সহজেই। যেমন ধরুন মাসিক ঋতু¯্রাবের সময় যৌনিপতে রক্তক্ষরণ হয় এটা একটা স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় ব্যাপার। কিন্তু রক্ত ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণুর বংশবৃদ্ধির জন্য খুবই উপযুক্ত মাধ্যম। মাসিক ঋতুস্রাব বের সময় অনেকক্ষেত্রে মেয়েরা ময়লা, ছেঁড়া ও নোংরা নেকড়াজাতীয় কাপড় স্ত্রী-অঙ্গে ব্যবহার করেন, এতে জীবাণু প্রথমে যৌনিপথেও পরে তৎসংলগ্ন মূত্রনালীকে সংক্রমিত করে।
এরপর আসুন প্রসবজনিত স্বাস্থ্যসমস্যা প্রসঙ্গে। এ সময় যোনিপথে সন্তান প্রসবের কারণে নানা প্রকার ক্ষতের সৃষ্টি হয় এবং রক্তক্ষরণ ও রস নিঃসৃত হয়। শারীরিক দুর্বলতার জন্যও এ সময় জীবাণু সহজেই শরীরকে কাবু করে ফেলে। আগেই বলেছি রক্তমিশ্রিত রস জীবাণু বংশবৃদ্ধি ও বিস্তারে অত্যন্ত সহায়ক। তাই এ সময় জরায়ু ও যৌনিপথের প্রদাহ ও সংক্রমণের সাথে মূত্রনালীর সংক্রমণ ঘটা খুবই স্বাভাবিক। গর্ভবতী অবস্থায় ও প্রসবের পরবর্তী সময়ে প্রচুর পরিমাণ পানি পান করা উচিত। এ সময়ে পানি কম খেলে মূত্রনালীর প্রদাহ ও সংক্রমণ বেড়ে যায়। কারণ গর্ভকালে মেয়েদের শরীরের প্রোজেসটেরন নামক এক প্রকার স্ত্রী হরমোন খুব বেশি পরিমাণে নিঃসৃত হয়। এ হরমোনের প্রভাবে শরীরের নরম ও মসৃণ মাংসযুক্ত নালীগুলো সম্প্রসারিত হয়, ফলে মূত্রবাহী নালীও সম্প্রসারিত হয়। এর ফলে এ সময়ে পানি কম খেলে প্রস্রাবের বেগ আরো কমে যাবে এবং প্রস্রাবের কিছুটা তলানি সবসময় মূত্রবাহী নালীতে জমে থাকার আশঙ্কা থাকবে যা জীবাণু বৃদ্ধির জন্য খুবই সহায়ক। তাই গর্ভাবস্থায় প্রস্রাবের প্রদাহ এবং মূত্রনালীর সংক্রমণ ও প্রদাহ বেশি হয় অন্য সময়ের চাইতে।
লক্ষণ :
(১) মূত্রনালী এবং বৃক্ক বা মূত্রগ্রন্থির বা মূত্রথলির প্রদাহ হলে প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া করবে।
(২) প্রস্রাব পরিমাণে কম হতে পারে।
(৩) খুব ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হবে।
(৪) তলপেটে ব্যথা ও যন্ত্রণা হবে। প্রস্রা করার পর ও রোগিণী অস্বস্তি ও যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাবে না। এবং বার বার সে বাথরুমে ছুটে যাবে কিংবা দীর্ঘসময় প্রস্রাবের জন্য বসে থাকবে।
(৫) কাঁপুনি দিয়ে জ্বর হবে এবং জ্বরের সময় বেশ শীতভাব অনুভূত হবে।
(৬) রোগিণী বেশ অসুস্থ ও দুর্বল থাকবে।
প্রতিকার কি?
এ প্রদাহ বা সংক্রমণের প্রকোপকে অতি সহজেই প্রতিকার করা সম্ভব। আর তা হল একটি মাত্র সহজ উপায়ে এবং এতে কোন টাকা পয়সাও খরচ করতে হয় না। আজকের দুর্মূল্যের বাজারে টাকা পয়সার কথাটাও ভাবতে হবে বৈকি। এ আপাত সহজ অথচ মারাত্মক পরিণতির হাত থেকে রেহাই পাবার একমাত্র উপায় প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা। সারাদিন অন্তত ১৫/২০ গ্লাস পানি বা পানিজাতীয় খাবার খাবেন, যেমন ধরুন শরবত, ডাবের পানি, ফলের রস ইত্যাদি। ডাব প্রস্রাবের বা মূত্রনালীর সংক্রমণ প্রতিকারে খুবই উপকারী।
এছাড়া মাঝে মধ্যে প্রস্রাবের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করে দেখা উচিত কোন প্রকার জীবাণু সংক্রমণ আছে কি না। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চেকআপ করানো এবং প্রস্রাবে অ্যালুবুমিন এবং সুগার আছে কি না তাও অবশ্যই দেখতে হবে। মূত্রনালীর সংক্রমণে ক্ষতির আশঙ্কা :
মূত্রনালীর প্রদাহে ও সংক্রমণে শরীরে সমূহ ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ জাতীয় প্রদাহ ও সংক্রমণে আস্তে আস্তে কিডনি বা বৃক্ক আক্রান্ত হয়ে কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট করে ফেলতে পারে। এছাড়া জ্বরের প্রকোপে ও প্রস্রাবের অসহ্য জ্বালা যন্ত্রণায় রোগিণী খুব দুর্বল ও ভগ্নস্বাস্থ্য হয়ে পড়ে। এটি বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে যে, মূত্রনালী সংক্রমণের চিকিৎসা যথাসময়ে না করালে কিডনি নষ্ট হয়ে যাবার এবং রোগিণীর প্রাণনাশের সমূহ আশঙ্কা থাকে।
উপসংহার :
মূত্রনালী প্রদাহ ও সংক্রমণ খুবই ছোঁয়াচে রোগ এবং এ রোগের জীবাণু খুব সহজেই সংক্রমিত হতে পারে। মূত্রনালীর, মূত্রথলির বা কিডনির কোন প্রকার প্রদাহ ও সংক্রমণ যাতে না হয় সেজন্য সামান্য সতর্কতাই যথেষ্ট। যেমন সব সময় প্রচুর পানি পান করা, মায়েদের গর্ভবর্তী অবস্থায় নিয়মিত চেকআপ করানো এবং প্রদাহ বা সংক্রমণের সামান্য লক্ষণ প্রকাশ পেলে সত্বর চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া ইত্যাদি। এতে আমরা সুস্থ থাকব এবং কিডনী হারানোর মতো গুরুতর বিপত্তির হাত থেকে রক্ষা পাব।
প্রফেসর ডা: সুলতানা জাহান
বাড়ি নং-৮১ রোড নং-৮/এ

আরও পড়ুনঃ   ডায়াবেটিসে কিডনি রোগ হলে কী করবেন?

LEAVE A REPLY