যে কোনো অ্যালার্জি থেকে মুক্তি পান সহজে

0
411
অ্যালার্জি, অ্যালার্জির লক্ষণ, চিকিৎসা

প্রতিটি জীবদেহে বিপাকক্রিয়া স্বতন্ত্র ধরনের। কোনো কারণে দেহের বিপাকক্রিয়ায় কোনো সমস্যা হলে স্বাভাবিক নিয়মেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে নানারকম অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা যায়। দুর্ভাগ্যক্রমে অনেকেই নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণকে উপেক্ষা করেন এবং অ্যালার্জিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেন না। অ্যালার্জিকে যারা সমস্যা বলে মনে করেন বা চিন্তিত হয়ে ওঠেন, তাদের অধিকাংশের ক্ষেত্রেই অ্যালার্জি অত্যন্ত গুরুতর ও স্পর্শকাতর হয়ে দাঁড়ায় বলেই তারা এতে গুরুত্ব দেন।

খুব সাধারণ কিছু অ্যালার্জির প্রবণতা, যেগুলোতে অনেকেই ভুগে থাকেন-

– ফুলের রেণু বা পরাগের কারণে অ্যালার্জি

– ধূলা থেকে অ্যালার্জি

– নানারকম খাবারে অ্যালার্জি

– পোষা প্রাণিতে অ্যালার্জি

– ঔষধের পার্শপ্রতিক্রিয়ায় অ্যালার্জি

– পোকামাকড়ের কামড় থেকে অ্যালার্জি

অ্যালার্জির কারণে সর্দি, হাঁচি ও শ্বাসকষ্টের প্রবণতা এবং ত্বক ফুলে ওঠা, চুলকুনি বা লাল রঙের ছোট ছোট ফুসকুড়িতে হাত-পা ভরে যেতে দেখা যায়।

কেন হয় অ্যালার্জি

ফুলের রেণু বা নির্দিষ্ট কিছু খাবার বা অন্যান্য কারণে দেহের বিপাকক্রিয়ায় তাৎক্ষণিক যে অতি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়, সেটিই হলো অ্যালার্জি।

বিপাকক্রিয়া হলো দেহের অভ্যন্তরীণ এমন একটি জটিল প্রক্রিয়া, যা বাইরে থেকে দেহে প্রবেশ করা বিভিন্ন ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার মতো নানারকম ক্ষতিকর উপাদান থেকে দেহকে রক্ষা করে। বাইরে থেকে দেহে প্রবেশ করা অ্যালার্জির কারণ এসব উপাদান অ্যালার্জেন হিসেবে পরিচিত।

অ্যালার্জির জন্য দায়ী অন্যতম একটি উপাদান হলো ইম্যুনোগ্লোবুলিন বা সংক্ষেপে আইজিই হিসেবে পরিচিত অ্যালার্জিক অ্যান্টিবডি। দেহের জন্য ক্ষতিকর কিছু দেহে প্রবেশ করলে এর প্রতিক্রিয়ায় সেটিকে ধ্বংস করতে তাৎক্ষণিক ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সৃষ্টি হয় এক ধরনের আমিষজাতীয় উপাদান, যা অ্যান্টিবডি হিসেবে পরিচিত।

আপনার অ্যালার্জি রয়েছে, এমন কোনো কিছু দেহে প্রবেশ করলে বিপাকক্রিয়ার সাধারণ নিয়মে আইজিই অ্যান্টিবডি সৃষ্টি হয় এবং সেগুলো অ্যালার্জেনের বিরুদ্ধে লড়তে শুরু করে। এসময় অ্যান্টিবডিগুলো দেহের কোষগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং অ্যালার্জেনবিরোধী রাসায়নিক পৌঁছে দেয় কোষে কোষে। তখনই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে আমাদের দেহ স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে এবং অ্যালার্জি দেখা দেয়।

আরও পড়ুনঃ   ফরমালিন এর ক্ষতিকর প্রভাব ও এর থেকে বাঁচার উপায়

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ধীরে ধীরে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া বাড়তে থাকে এবং একসময়ে তা তীব্র আকার ধারণ করলে অ্যালার্জেন প্রবেশে দেহে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু এছাড়াও যেকোনো বয়সেই অ্যালার্জির প্রবণতা শুরু হতে পারে।

অ্যালার্জির অন্যতম কারণ হলো পরিবেশগত উপাদান। তবে অনেক সময় জেনেটিক গঠন, বিশেষ করে পরিবারের কারো অ্যালার্জি থাকলে, বিশেষ করে বাবা-মা বা ভাইবোনের মধ্যে অ্যালার্জির প্রবণতা দেখা গেলে তা বংশানুক্রমিকভাবে বাকিদের মধ্যেও দেখা যেতে পারে।

স্বাস্থ্যবিদ মিহাইল বোগোমোলোভ অ্যালার্জেনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য অসাধারণ একটি ঘরোয়া পথ্যের সন্ধান দিয়েছেন। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই পথ্যটি দারুণ কার্যকর।

প্রয়োজনীয় উপকরণ

ছাগলের দুধ দু’ কাপ

তাজা মিষ্টি কুমড়ার রস এক কাপ

প্রস্তুত প্রণালী

ছাগলের দুধ ও মিষ্টি কুমড়ার রস একসঙ্গে মেশান। এতে এক কাপ ফুটানো পানি ঢালুন এবং ভালো করে নাড়ুন।

স্বাস্থ্যকর এই তরলটি দিনে তিন থেকে চারবার পান করুন, বিশেষ করে প্রতিবার মূল খাবারের আধা ঘণ্টা আগে। তরলটি ঈষদুষ্ণ অবস্থায় পান করবেন, এক্ষেত্রে পান করার সময় পানীয়টির তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৪৫ ডিগ্রি হলে সবচেয়ে ভালো।

অ্যালার্জির ঘরোয়া চিকিৎসায় ছাগলের দুধ বিশেষজ্ঞদের প্রথম পছন্দ। কারণ অ্যালার্জি তৈরি করা বিশেষ ধরনের আমিষ জাতীয় উপাদানটি ছাগলের দুধে থাকে না। এটি যকৃত (লিভার) পিত্তকোষ (গলব্লাডার) পরিষ্কার রাখে এবং এ দুই প্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক কাজকর্মে সাহায্য করে।

আর নানারকম অসুখবিসুখের চিকিৎসায় কার্যকরী ও দেহের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে মিষ্টি কুমড়ায়।

এনকে

LEAVE A REPLY