রোজা রাখার কি কোনো স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে?

0
102
রোজার উপকারিতা

রোজা রাখার সাধারণ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা :

১. অতিরিক্ত ওজন কমাতে সাহায্য করে।
২. দেহ থেকে ক্ষতিকর টক্সিন ফ্যাটের সাথে বের হয়ে যায়।
৩. নিয়ম মেনে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ফলে ডায়বেটিক রোগীরাও এর উপকারিতা পেয়ে থাকেন।
৪. পরিপাকতন্ত্রের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
৫. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসে।
৬. ধূমাপান ও মদ্যপানের আসক্তি কমায়।
৭. হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
৮. গ্যাস্ট্রিক ও আলসারের সমস্যা কমায়।

এছাড়া নিয়ম মেনে নামাজ পড়ার ফলে শারীরিক ব্যায়াম হয় এবং নিয়ম মেনে খাবার খাওয়ার ফলে ডায়েটও করা হয়ে থাকে। ফলে নিয়মিত রোজা রাখলে ও নামাজ পড়লে একজন শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকেন।

রোজা রাখার স্বাস্থ্য উপকারিতা :

রোজার মাধ্যমে শরীরের মধ্যস্থিত, প্রোটিন, ফ্যাট ও শর্করা জাতীয় পদার্থসমূহ স্বয়ং পাচিত হয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ কোষগুলোতে পুষ্টি বিধান হয়। এই পদ্ধতিকে “এ্যান্টো লিসিস” বলা হয়। এর ফলে শরীরে উৎপন্ন উৎসেচকগুলো বিভিন্ন কোষে ছড়িয়ে পড়ে। এটি হচ্ছে শরীর বিক্রিয়ার এক স্বাভাবিক পদ্ধতি। রোজা এই পদ্ধতিকে সহজ, সাবলীল ও গতিময় করে, যার প্রমাণ আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগেই হিপ্লোক্র্যাটন এর লিখা থেকেই কিছুটা সবাই জানতেন । ( “খাদ্য তোমার রোগের ওষুধ ) রোজার মাধ্যমে লিভার রক্ত সঞ্চালন দ্রুত হয় ফলে ত্বকের নিচে সঞ্চিত চর্বি, পেশীর প্রোটিন, গ্রন্থিসমূহ এবং লিভারে কোষসমূহের রস সমুহ বেশী নিঃসরণ যার ফলে নিয়মিত অভ্যাসকারীদের শারীরিক অসুখ বিশুখ ও অবকাঠামো অন্যান্যদের চাইতে অনেক ভাল থাকে।

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা :

১. ওজন কমানোর বিশেষ সময় :

যারা শরীরকে কমানোর জন্য জিম বা ভিন্ন ধরণের এক্সারসাইজ করেন তাদের জন্য খুবই ভাল একটি সময় এই রমজান মাস । এ সময় দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার ফলে শরীরের জমানো চর্বিগুলো ক্ষয় হতে থাকে। এভাবেই ধীরে ধীরে ওজন কমতে থাকে তবে সেহেরী ও ইফতার খাওয়ার সময় অবশ্যই পুষ্টিকর খাবারের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে । কেউ কেউ ইফতারের পর রিদম এক্সারসাইজ করে থাকেন। তবে এক্ষেত্রে এর পরিবর্তে পবিত্র নামাজ সমুহ আদায় করে নিতে পারলে, নামাজ থেকেই ১০০% রিদম এক্সারসাইজের ফল পাওয়া যায়।

রোজা রাখার কারণে স্থূলকায় শরীরে জমে থাকা কোলেস্টেরল শরীরের অন্যান্য জ্বালানীর কাজে ব্যয় হয়ে যায় বিধায় শরীর অনেকটা কমে যায় এবং রক্তের সার্কুলেশনও ভালোভাবে হয়। ল্যাব পরীক্ষায় দেখানো হয়েছে , রোজা রাখার প্রথম দিন হতে তৃতীয় পর্যন্ত আমাদের শরীরের মাংসপেশীর গ্লাইকোজেন যকৃত গ্লাইকোজেন থেকে শক্তি থেকে পেয়ে থেকে এবং তৃতীয় / চতুর্থ দিন থেকে, আমাদের শরীরের এটি চর্বি স্টোরেজ থেকে শক্তি পেয়ে ketosis মোডে পরিবর্তন হয় এবং এভাবে ৩০ দিন পর্যন্ত চলতে থাকলে একজন ব্যাক্তির শুধু পেশীর স্থুলতা ২ পাউন্ড লস হয়, সেই হিসাবে সারা শরীরের ৩০ দিনে ৭/ পাউন্ড পর্যন্ত শরীরের স্থুলতা কমানো সম্ভব ( অবশ্য ইফতার এবং সেহেরীর প্রোটিন খাওয়ার উপর নির্ভর করবে কম বেশী – প্রমাণিত )। রোজা রাখার অভ্যাসে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষুধা হ্রাস করে বিধায় পরবর্তীতে ঠিক সেইভাবে যদি জীবন যাপন করতে পারেন তা হলে অন্য এক সমীক্ষায় দেখানো হয়েছে যে, আপনার শারীরিক অবকাঠামো সাধারণের চাইতে ২০% উন্নিত রাখা সম্ভব , সেই দৃষ্টিতে রোজা বার্ধক্য রোধে ও শারীরিক সুন্দর বৃদ্ধি করতে অনেকটা সহায়ক ।

আরও পড়ুনঃ   রোজা ও স্বাস্থ্য -রোজা উপকারী কী?

২. হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও হাঁপানি রোগীদের জন্যঃ

হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও হাঁপানি রোগীদের জন্য রোজা উপকারী। রোজার ফলে রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি ৬০% কমানো সম্ভব । রোজা শারীরবৃত্তীয় প্রভাব, রক্ত শর্করা কমিয়ে কোলেস্টেরল কমিয়ে এবং সিস্টোলিক রক্তচাপ কমিয়ে দেয় অতি সহজে, রক্তে কোলেস্টেরলের স্তর হ্রাস করে। পাশাপাশি ধমনীতে দেয়ালে যে কোলেস্টারলের গাদ থাকে তা precipitating হার কমে যায় ইহা ও প্রমাণিত। এভাবে পালাক্রমে কার্ডিয়াক এবং কারডিও ভাস্কুলারের দুর্ঘটনাজনিত যে সকল অসুখের ভয় আছে তা কমিয়ে দেয় ( হার্ট এট্যাক জাতীয় ) ঠিক তদ্রুপ এবং উচ্চ রক্তচাপের বাড়াতে বাধা দেওয়ার সাথে রক্তে চর্বি ঘাটতি পিত্ত এবং choledocus জাতীয় পাথর কমাতে বিশেষ সাহায্য করে নতুন এক প্রমাণে দেখানো হয়েছে । লোয়ার কোলেস্টেরলের বেলায় লিপিড প্রোফাইল ইতিবাচক প্রভাব রাখে সে জন্য নিম্ন কোলেস্টেরল খুব সহজে নিয়ন্ত্রণ করে বিধায় স্ট্রোকের আক্রমণ থেকেও অনেকখানি মুক্ত রাখে

৩. মানসিক দুশ্চিন্তাজনিত ভিন্ন অসুখ , কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন কুরুচি সম্পন্ন বদঅভ্যাস দূর করে :

রোজা রাখা ও ধর্মীয় অনুশাসনের ফলে মস্তিষ্কের স্ট্রেস হরমোন করটিসেল খুব কম নিঃসরণ হয় যার কারণে যারা মানসিকভাবে ভিন্ন অসুখে আক্রান্ত তাদের জন্য রমাজান মাস বেশ ভাল একটি সময় বলা যায়। প্রমান সরুপ দেখা গেছে, এতে বিপাকক্রিয়ার ফলে মস্তিষ্কের সেরিবেলাম ও লিমরিক সিস্টেমের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ে বিধায় মনের অশান্তি ও দুশ্চিন্তা দূর হয় বা কর্মোদ্দীপনাও বেড়ে থাকে কারও কারও বেলায় । অন্যদিকে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে রমজানে রোজা রাখার মাধ্যমে নতুন নতুন কোষের জন্ম হযে মস্তিষ্কের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করতে সহায়ক । পবিত্র রোজা শরীরের জন্য চমৎকার detox এবং ধর্মীয় অনুসাশনের ফলে কুরুচি সম্পন্ন বদঅভ্যাস থাকলে তাও দূর হয়ে যায় ।

৪. গ্যাস্ট্রিক ও আলসারের সমস্যা :

প্রায়ই দেখা যায় অনেকেই সারা বছর গ্যাস্ট্রিক ও আলসারের সমস্যা থাকে । কিন্তু রোজা আসলেই দেখা যায় তা কমে গেছে বা তেমন সমস্যা করেনা । এর মুল কারণ পাকস্থলীর এঞ্জাইমসমুহকে বেশ উত্তেজিত করতে পারে না। মস্তিষ্কে কিছু হরমন কম নিঃসরণ হয় বলে এক ধরণের অবস করে রাখে বা এ সময় কিছুটা কম হাইড্রোক্লোরাইড নিঃসরণ হয় ।বলা যায় পাকস্থলীসহ পরিপাকতন্ত্র বিশ্রাম পায় ও হজম প্রক্রিয়া ও খুব ধীর গতিতে হয় । তাই রোজা রাখলে গ্যাস্ট্রিক ও আলসারের সমস্যা কম থাকে, তারপরও পারফিউরেশন জাতীয় আলসারে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে ।

৫. ডায়াবেটিস :

বলার অপেক্ষা রাখেনা ডায়াবেটিস টাইপ ১ , রোজা রাখার মাধ্যমে অনেকটা সেরে যায় প্রায় ৭০% । কারণ হিসাবে দেখানো হয়েছে উপবাসের ফলে রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা কমে আসে, শর্ত হচ্ছে চিনি জাতীয় খাবার ইফতারের পর না খাওয়া । ( কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেকের আবার একেবারে কমে গিয়ে হাইপো গ্লাইসেমিয়া দেখা দিতে পারে, সে দিকে একটু নজর রাখা উচিত ) সেজন্য টাইপ ১ কে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিশেষজ্ঞরা রোজা রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন । তবে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীরা ও সতর্কতার সাথে রোজা রাখতে পারেন এবং নিম্নের বিষয় সমুহ একটু খেয়াল রাখলেই হবে। যেমন হাইপোগ্লাইসিমিয়া (রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে যাওয়া), হাইপারগ্লাইসিমিয়া (রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া), ডায়াবেটিস কিটোএসিডোসিস, পানিশূন্যতা এবং থ্রোম্বোসিস, মুখে ওষুধ সেবনকারী ডায়াবেটিস রোগী, ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণের ঔষধ সমুহ, মোট ডোজের ২-৩ ভাগ ইফতারির সময় এবং ১-৩ ভাগ সেহরীর সময় খাওয়া ভাল।

আরও পড়ুনঃ   লাল চা না দুধ চা খাবেন?

আরো কিছু উপকারিতাঃ 

অনেকের মতে রোজায় সারাদিন না খেয়ে থাকার ফলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। কিন্তু স্বাস্থ্যবিজ্ঞান মতে আমাদের অজান্তেই রোজা রাখার মাধ্যমে স্বাস্থ্যের বিভিন্ন ধরনের উন্নতি হয়ে থাকে। এমনকি অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্যও রোজা রাখা উপকারী। তবে রোজা রাখার কারণে যদি কোনো রোগ বৃদ্ধি পায় অথবা রোগী বেশ কষ্ট পায় তবে এ বিষয়ে মুফতিদের সাথে আলোচনা করে নেয়াই ভালো। রোগীদের সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত রোজা না রাখার অনুমতি ইসলামে রয়েছে। আসুন জেনে নিই রোজা রাখার ফলে আমাদের স্বাস্থ্যের কোন কোন উপকার সাধন হয়।

ধূমপানকারীদের জন্যঃ

ধূমপান করা মানেই বিষপান করা। এ কথা আধুনিক যুগে কে না জানে। স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের এ আবিষ্কারের বহু আগেই ইসলাম ধূমপান নিষিদ্ধ করেছিল। ধূমপানের ফলে ফুসফুসের ওপর নিকোটিনের দাগ পড়তে পড়তে এক সময় ধূমপায়ী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। রমজানের রোজার ফলে ধূমপান থেকে বিরত তাকার কারণে ফুসফুস দীর্ঘসময় পর্যন্ত নিকোটিনের বিষক্রিয়া মুক্ত থাকে। ফলে ফুসফুস রোগমুক্ত থাকে এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসে। যারা ধূমপান করেন রমজানের রোজা তাদের জন্য অবশ্যই উপকারী। ধূমপান বর্জনেরও এটা উত্তম সময়।

স্থূলকায় রোগীদের জন্যঃ

অতিরিক্ত আহার বর্তমানে অন্যতম স্বাস্থ্য সমস্যা। তাই ইসলামে হালকা ভোজনই কাম্য। বেশি বেশি খাদ্য গ্রহণের ফলে দেহে চর্বি জমে অনেকে বেশ স্থূল বা অস্বাভাবিক মোটা হয়ে যায়। যা স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক, বিব্রতকর ও কষ্টকর। এ চর্বি শরীরের চামড়ার নিচে কলেস্টেরল আকারে শিরা-উপশিরা-ধমনীতে এমনকি হৃৎপিণ্ডেও জমা হয়। যার ফলে শরীরে স্বাভাবিক রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। কিন্তু রোজা রাখার কারণে স্থূলকায় রোগীর শরীরে জমে থাকা এসব কোলেস্টেরল শরীরের কাজে ব্যয়িত হয়ে যায় এবং স্বাভাবিক হয় রক্তের সার্কুলেশন। তবে এ জাতীয় রোগীরা ইফতার ও সেহরিতে ভূরিভোজন না করে অবশ্যই হালকা খাবার খেতে হবে।

আলসার বা পেটের পীড়ার রোগীদের জন্যঃ

দেখা যায়, পেপটিক আলসারের রোগীরা রোজা রাখলেই ভালো বোধ করেন। কারো কারো ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তবে তাদের জন্য রোজার বিষয়টি অনুশীলনের ওপর নির্ভর করে। আলসার বা এ জাতীয় সমস্যায় সাধারণত দৈনিক দু’বারের বেশি ওষুধ সেবন করতে হয় না। যার জন্য রোজা রাখতে কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়।

ডায়াবেটিক রোগীদের জন্যঃ

যেসব মানুষ ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য মুখে ওষুধ গ্রহণ করছেন, খাদ্য তালিকা মেনে চলছেন এবং ওজন কমাতে চাচ্ছেন¬ তাদের জন্য রোজা খুবই উপকারী। বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে যাতে হাইপো গ্লাইসেমিয়া হয়ে না যায়। যারা দু’বেলা ইনসুলিন নিচ্ছেন তাদের জন্য তো কথাই নেই বরং যারা দু’বেলার অধিক ইনসুলিন নেয়, তাদেরও চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক ডোজ অ্যাডজাস্ট করে রোজা রাখতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

আরও পড়ুনঃ   রক্তপাত বন্ধ করুন ঘরোয়া ৫ উপায়ে

হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও হাঁপানি রোগীদের জন্যঃ

হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও হাঁপানি রোগীদের জন্য রোজা উপকারী। রোজার ফলে রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে। তা ছাড়া রোজা রাখার কারণে স্ট্রেস হরমোন করটিসেলের নিঃসরণ কমে। এতে বিপাকক্রিয়া ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। রোজার ফলে মস্তিষ্কের সেরিবেলাম ও লিমরিক সিস্টেমের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ে বিধায় মনের অশান্তি ও দুশ্চিন্তা দূর হয়, কর্মোদ্দীপনাও বাড়ে, যা উচ্চ রক্তচাপের জন্য মঙ্গলজনক। অধিকাংশ হাঁপানি রোগীর ক্ষেত্রেই রোজা উপকারী।

অ্যালার্জি, সর্দি-কাশির রোগীদের জন্যঃ

অ্যালার্জি, সর্দি-কাশির রোগীদের রোগের উসিলা দিয়ে অযথা নিজ সিদ্ধান্তে রোজা না রাখার কোনো ভিত্তি নেই। এসব রোগে ব্যবহৃত এন্টিবায়োটিক, এন্টিহিস্টোমিন কিংবা স্টেরয়েড স্প্রে দিনে দু’বার বা একবার খেলে বা ব্যবহার করলেই চলে। তবে খানাখাদ্যের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

কোষ্ঠকাঠিন্য রোগীদের জন্যঃ

রোজার সময় যেহেতু দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকতে হয়, তাই কারো কারো পানি স্বল্পতা হতে পারে। যা কোষ্ঠকাঠিন্য রোগীদের জন্য সমস্যার ব্যাপার। তারা ইফতার ও সেহরিতে প্রচুর পরিমাণ পানি, ডাবের পানি, ফলের রস, সরবত, শাকসবজি, সালাদ, ইসবগুলের ভুসি খেলে আরাম করে রোজা রাখতে সমস্যা হবে না। গরু বা খাসির গোশত, ইলিশ ও চিংড়ি মাছ এবং যেসব খাবার খেলে মল শক্ত হয়ে যায় তা না খাওয়াই ভালো। রোজার বিষয়ে স্বাস্থ্যবিজ্ঞানী ডা. শেলটন বলেছেন, উপবাসকালে শরীরের মধ্যকার প্রোটিন, ফ্যাট, শর্করা জাতীয় পদার্থগুলো স্বয়ং পাচিত হয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ কোষগুলোর পুষ্টি বিধান হয়। এই পদ্ধতিকে ‘অ্যাস্টোলিসিস’ বলা হয়। (সুপিরিয়র নিউট্রিশন গ্রন্থ)।

স্বাস্থ্যবিজ্ঞানী ডা. আব্রাহাম জে হেনরি রোজা সম্পর্কে বলেছেন, রোজা হলো পরমহিতৈষী ওষুধ বিশেষ। কারণ রোজা পালনের ফলে বাতরোগ, বহুমূত্র, অজীর্ণ, হৃদরোগ ও রক্তচাপজনিত ব্যাধিতে মানুষ কম আক্রান্ত হয়।’ স্বাস্থ্য গবেষকদের মতে, সারা বছর অতিভোজ, অখাদ্য কুখাদ্য, ভেজাল খাদ্য খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরে যে জৈব বিষ জমা হয় তা দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এক মাস রোজা পালনের ফলে তা সহজেই দূরীভূত হয়ে যায়।

রোজার পরেও সুন্দর ও ফিট থাকুন

রোজা যেহেতু এখন গরমের সময় হচ্ছে, তাই বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে শরীরে পানিশূন্যতা না হয়৷ তাই ইফতারের সময় ভাজা, পোড়া কম খেয়ে বিভিন্ন মৌসুমি ফল, ডাবের পানি ও তরমুজ খাওয়া স্রেয়৷ তরমুজ হার্ট, ধমনী, কিডনির জন্য খুব উপকারী৷ তাছাড়া আম, কাঁঠাল, আনারস, বাঙ্গি থাকতে পারে ইফতারের টেবিলে৷ এগুলোতে রয়েছে ভিটামিন এ আর সি, যা ‘অ্যান্টি অক্সিডেন্ট’ হিসেবে কাজ করে এবং রোজার পরেও ত্বক সুন্দর ও আকর্ষণীয় রাখে।

বিঃ দ্রঃ গুরুত্বপূর্ণ হেলথ নিউজ ,টিপস ,তথ্য এবং মজার মজার রেসিপি নিয়মিত আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ বিডি হেলথ নিউজ এ ।

LEAVE A REPLY