সর্দি সুচিকিৎসায় মুক্তি

0
59
সর্দি ,cold,flux

অ্যালার্জি সর্দি বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য সমস্যা। শতকরা ১০-২৫ ভাগ জনসমষ্টি এ রোগের শিকার। শিশুদের স্কুলের শিক্ষায় বাধা এবং চাকরিজীবীদের কর্মক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার এটি অন্যতম কারণ।

অ্যালার্জি বা সর্দির কারণসমূহ
ধুলাবালি, ফুলের রেণু, মাইট যা তোষক, কার্পেট, পুরাতন কাপড়, পর্দার ভাঁজে থাকে এবং কিছু খাদ্য। পশুপাখির লোম ও পাখনা, পোকামাকড়ের হুল ও কামড়, কেমিক্যালস, কিছু ওষুধ, কসমেটিকস এবং কন্টাক্ট অ্যালার্জেন। এছাড়াও গাড়ির নির্গত ধোঁয়া, শিল্পকারখানার বিভিন্ন উপাদানও অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। এসব পদার্থ যখন শরীরের সংস্পর্শে আসে, তখন শরীরে এক অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। যেমন- সর্দি, চুলকানি, ত্বক ফুলে যাওয়া, হাঁচি-কাশি ইত্যাদি। এ অস্বাভাবিক উপসর্গগুলোই হল অ্যালার্জি।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা
অ্যালার্জির সঠিক চিকিৎসার জন্য কিছু ল্যাব পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। যেমন- রক্ত, প্রস্রাব ও মলের রুটিন পরীক্ষা, রক্তের সুগার, আইজিই এন্টিবডি ইত্যাদি। প্রয়োজনে বুকের, নাকের ও সাইনাসের এরে করে দেখা যেতে পারে।

অ্যালার্জি প্রতিরোধ ও আধুনিক বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা
অ্যালার্জি প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হল কারণগুলো শনাক্ত করে তা এড়িয়ে চলা। এজন্য রোগীকে খুব সতর্কতার সঙ্গে খুঁজে বের করতে হবে, তার শরীরে কী কী কারণে অ্যালার্জি হয়। অ্যালার্জি চিকিৎসার বিভিন্ন ধাপ হল- হেলথ এডুকেশন, ওষুধপত্র এবং অন্যান্য চিকিৎসা।

রোগের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস জানতে হবে এবং অ্যালার্জির প্রকৃত কারণ শনাক্ত করে পরবর্তী সময়ে ভ্যাকসিনের মাধ্যমে ডিসেনসিটাইজেশন করা যেতে পারে। তবে তা প্রচলিত আধুনিক চিকিৎসার সঙ্গে সমম্বয় করতে হবে।

অ্যালার্জির জটিলতা
অ্যালার্জির সুচিকিৎসা না হলে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। নাকের অ্যালার্জি সর্দি থেকে শতকরা প্রায় ২৫ ভাগ রোগীর হাঁপানি হতে পারে। এছাড়া এ থেকে সাইনুসাইটিস, চোখের কনজাংটিভাইটিস, নাকের পলিপও হতে পারে। মৃত্যু ঘটাও অস্বাভাবিক নয়।

একসময় ধারণা ছিল, অ্যালার্জি হলে আর ভালো হয় না। কিন্তু বর্তমানে আধুনিক বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা সে ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করেছে। হাতুড়ে ডাক্তারের খপ্পরে পড়ে ভুল চিকিৎসা দীর্ঘস্থায়ী জটিলতার সৃষ্টি করে, এমনকি মৃত্যুও ঘটাতে পারে। নিজে নিজে অথবা ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে অ্যালার্জির চিকিৎসা করা ঠিক নয়। অ্যালার্জির চিকিৎসা বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ, ত্বক ও অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে নিতে হবে।

আরও পড়ুনঃ   সোয়াইন ফ্লু

**************************
অধ্যাপক ডা· এম আলমগীর চৌধুরী
অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, নাক, কান, গলা বিভাগ
মেডিকেল কলেজ ফর উইমেন এন্ড হসপিটাল, উত্তরা, ঢাকা

LEAVE A REPLY