সুখী হতে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে জেনে নিন

0
329
সুখী ,মানসিক স্বাস্থ্য
মানুষের শরীর এমন একটি অবয়ব, যাকে লুকিয়ে রাখা খুব মুশকিল। ইচ্ছা হলেও লুকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। একটু হাঁটাচলা করলেই অন্য মানুষের চোখে ধরা পড়ে যায়। ধরা পড়তে বাধ্য। আর সেই শরীরে যদি ব্যাধির প্রকোপ হয়, তাহলে তো কথাই নেই। সকলেই তাকে জিজ্ঞেস করতে শুরু করবে, এই তোমার কি শরীর খারাপ? এই যে ভাইয়া, আপনার কি শরীর খারাপ?

তখন ইচ্ছা হলেও কেউ বলতে পারবে না, না রে ভাই, আমার শরীর খারাপ নয়। কারণ চোখের সামনেই ধরা পড়ে যাবে যে তার শরীর খারাপ।

হাঁটাচলা, কথাবার্তা, উঠবস- সবটাতেই মানুষের চোখে পড়বে যে অন্য মানুষটির শরীর খারাপ। ইচ্ছা থাকলেও সত্যকে এড়ানো মুশকিল হয়ে যাবে। কিন্তু মন? বড় কঠিন একটি ব্যাপার। মনও শরীরের মতোই একটি অস্তিত্ব। কিন্তু নিরাবয়ব এক অবয়ব। একে চোখে দেখা যায় না, মেশিন দিয়ে পরীক্ষা করা যায় না, এক্স-রে করা যায় না। কিন্তু এই মন কিন্তু প্রকৃতির নিয়ম ধরে মাঝে মাঝেই খারাপ হয়ে যায়, অথবা অসুস্থ হয়ে যায় বা হতে পারে। আর চালাক মানুষেরা এই মন খারাপটিকে দিব্যি মানুষের সামনে অস্বীকার করতে পারে। এমনকি কেউ যদি জিজ্ঞেসও করে, আপনার মনটা কি আজ খারাপ ভাই? চেহারাটা কেমন যেন লাগছে। তো সঙ্গে সঙ্গে সে কাঠ হাসি হেসে বলে উঠবে, আরে, না, না, মন আমার খারাপ হতে যাবে কেন? আমার তো কোন অশান্তি নেই! যেন একমাত্র অশান্তি হলেই মানুষের মন খারাপ হয়।

তাহলে ভনিতা না করে আসল কথায় আসি, আর সেটা হলো, মানুষের যেমন শারীরিক স্বাস্থ্য বলে একটি কথা আছে, তেমনি মনেরও আছে মানসিক স্বাস্থ্য। এবং এই স্বাস্থ্যটিকে হেলাফেলা করে এমন শক্তি বা সাধ্য এ পৃথিবীর কারো নেই। যদি খুব অবহেলা করে তাহলে সেই স্বাস্থ্য এমন এক ব্যাধির রূপ ধারণ করবে যে, ব্যাধিগ্রস্ত লোকটি তখন হাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে রে রে করে রাস্তায় বেরিয়ে পড়বে, হয়তো মানুষকে হত্যা করার জন্য! হত্যা করতে না পারলেও অন্তত জখম করার চেষ্টা করবে। সুতরাং শরীর খারাপ হলে যেমন একে অস্বীকার করা যায় না, তেমনি মন খারাপ হলে তাকেও অস্বীকার করে চলা কোন বুদ্ধিমান মানুষের কাজ নয়। আরো ভয়াবহ একটা ব্যাপার ঘটে থাকে মানসিক অসুস্থদের ব্যাপারে। তারা কঠিন কোন মানসিক অসুখে পড়লে নিজে নিজে ডাক্তারের কাছে যেতে পারে না, অন্য মানুষেরাই তখন তার প্রাণ বাঁচাবার জন্য বা নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। যদি এই কর্মটি করতে তারা বেশি সময়ক্ষেপণ করেন, তাহলে রোগী তার রোগটিকে নিয়ে  কী যে অবস্থায় পড়বেন, সেটা মোটেও আগে থেকে বলা সম্ভব নয়।

সুতরাং এ কথা এখানে বলা যেতে পারে, শারীরিক রোগের যেমন শ্রেণিবিভাগ আছে, যেমন সাধারণ অসুখ থেকে গুরুতর অসুখ, তেমনি মানসিক ব্যাধির ব্যাপারেও আছে শ্রেণিবিভাগ। সামান্য মন খারাপ যদি ক্রমে ক্রমে গুরুতর আকার ধারণ করে এবং এক ভয়াবহ রূপ নেয়, তাহলে রোগী কাউকে কিছু না বলে একেবারে চার তলা থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা পর্যন্ত করে বসতে পারে। তাই যেকোন মন খারাপই প্রাথমিক অবস্থা থেকেই মনোযোগের দাবিদার।

আরও পড়ুনঃ   আপনি জানেন কি পাঙ্গাস মাছ খেলে মরনব্যাধিসহ শরীরে ৬টি মারাত্মক রোগ হতে পারে ?

অনেকেই বলেন, বিশেষ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, মানুষকে পরিপূর্ণ স্বাস্থ্যের অধিকারী তখনই বলা যায়, যখন সে মানুষটি শারীরিক, মানসিক, সামাজিক এবং পারিবারিকভাবে সুস্থ থাকতে পারেন।

কিন্তু এটা তো হলো একটি সোনার পাথরবাটির কথা বলা! সভ্যতার এই যুগে কোন মানুষ বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন, যে তিনি এই চার বিষয়েই সম্পুর্ণ ভাবে সুস্থ? শেষে সুস্থ মানুষ খুঁজতে গেলে ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় হয়ে যাবে।

তাই বর্তমান যুগে এই সত্য স্বীকার করে নেওয়া ভালো যে আমরা কখনোই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই সংজ্ঞাটি সম্পূর্ণ ভাবে মেনে নিতে পারব না। তাই বলে মানুষ সার্বিক ভাবে সুস্থ থাকার চেষ্টা করবে না, এ কথাও বলা যায় না।

একজন মানুষকে পরিপূর্ণ ভাবে সুস্থ থাকতে গেলে পরিবার, সমাজ, মন এবং শরীরকে একটি ভারসাম্যের ভেতরে থাকতে হয়। কথাটি খুবই সত্যি। তেমন ভারসাম্য যদি আমরা অর্জন নাও করতে পারি তবু চেষ্টা করলে কিছু দূর আমরা ভালো রাখতে পারি নিজেকে। আবার শুধু নিজে সুখী থাকলেই তো হবে না, পরিবারের প্রতিটি মানুষকেও তো সুখী থাকতে হবে। পক্ষান্তরে সমাজ বা রাষ্ট্রকেও সুখী থাকতে হবে। শুধু নিজে নিজে সুখী তো থাকা যায় না, এমনকি শরীর বা মনে কোন অসুখ না থাকলেও, বেশিদিন একা একা সুখী থাকতে পারে না মানুষ। কারণ মানুষ হচ্ছে সমাজবদ্ধ জীব।

আবার আমাদের মতো ছোট দেশের শরীর এবং মনের সার্বিক স্বাস্থ্য তো বিদেশী বড় রাষ্ট্রগুলোর উপরেও অনেকখানি নির্ভর করে। আমাদের দেশের সুখ শান্তির পরিবেশ তারা ইচ্ছা করলে নিমেষেই লণ্ডভণ্ড করে দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে হাজার সমৃদ্ধশালী মানুষও শরীর এবং মনে সুস্থ থাকতে পারে না।

তবু মানুষ যেমন নিজের শরীরকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করে, তেমনি সে চেষ্টা করে নিজের মনটিকেও সুস্থ রাখতে, তা না হলে মানুষ এত সব অশান্তির ভেতরে বাঁচবেই বা কী করে? সেটা কি সম্ভব? না।

পৃথিবীর অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন, মানুষের মাথাপিছু আয়ের প্রবৃদ্ধির ওপরে মানুষের শান্তি এবং সমৃদ্ধি নির্ভর করে, কিন্তু এটা ঠিক নয়, বহু সমৃদ্ধশালী দেশ আছে যারা মানসিক ভাবে খুবই অসুখী। সুতরাং মানসিক স্বাস্থ্য সর্বোতভাবে সেই মানুষটির মানসিক গঠনের উপর অনেকখানি নির্ভর করে। এই মানসিক গঠন কিন্তু তাদের বাবা-মায়েরাই ছেলেবেলায় অনেকখানি গড়ে তুলতে সাহায্য করেন। একটি সুখী দম্পতি বা পরিবারের ছেলেমেয়েরা বড় হয়ে সুখী মানুষ হিসবে নিজেদের দেখতে পারেন, সংসার বা সমাজের ঝামেলা বেশ সুচারুভাবে মোকাবিলা করতে পারেন। মানসিক স্বাস্থ্য তো তাকেই বলব, যে মানুষটি ব্যক্তিগত ঝড়ঝাপটা থেকে পারিবারিক, সামাজিক এমনকি রাষ্ট্রিক ঝামেলা পর্যন্ত সুন্দরভাবে, সুষমভাবে মোকাবিলা করতে পারেন। যদিও এটা পড়ার সময় মনে হতে পারে কাজটা খুব কঠিন একটা কাজ, আসলে তা মানুষটির জীবন অনুশীলনের উপরেই নির্ভর করে তার মানসিক স্বাস্থ্যের শক্তির পরিমাপ।

আবার কিছু কিছু মানসিক অসুখ আছে, যাদের মানসিক ব্যাধি বলে শনাক্ত করা হয়। এ ধরনের মানসিক ব্যাধি হয় বংশগত। সুতরাং এই ব্যাধি কার হবে আর কার হবে না, সে বিষয়ে নিশ্চিন্ত করে বলা সম্ভব নয়। তবে পরিবেশ যদি সুন্দর হয় এবং পরিবারের ভেতরে যদি শান্তি বিরাজ করে তাহলে এসব কঠিন রোগও অনেকখানি ভালোভাবে চিকিৎসা করা যায়।

আরও পড়ুনঃ   ভেজাল আম কার্বাইডমুক্ত করার উপায়

এখানে মনে রাখা দরকার, শারীরিক অসুখের যেমন চিকিৎসা আছে, তেমনি মানসিক অসুখেরও চিকিৎসা পূর্ণ মাত্রায় আমাদের দেশে বিদ্যমান। প্রায় প্রতিটি সরকারী হাসপাতালে মানসিক চিকিৎসার বিভাগ আছে। সেখানে বহির্বিভাগ এবং অন্তর্বিভাগ আছে। সেখানে পরামর্শের জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডাক্তাররা আছেন। আছেন নার্স, সাইকোলজিস্টরা। তারাও রোগীদের অনেক প্রকারের পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করতে পারেন।

মানসিক স্বাস্থ্য এই শব্দটির সাথে আমাদের দেশের মানুষের অনেক ভুল বোঝাবুঝি আছে। অনেকে মনে করেন মানসিক স্বাস্থ্য তাদের হাতের মুঠোর ভেতরে কব্জা করে রাখা যায়। ইচ্ছা হলেই তিনি মানসিক যেকোনো ঝামেলার চিকিৎসা নিজে নিজেই করতে পারেন। যদি তাই হতো, তাহলে দেশ বিদেশ জুড়ে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে হইচই করা হতো না।

না, মানসিক স্বাস্থ্য যদি কোনো কারণে বিকল হয়ে যায়, যদি এ কারণে কোনো মানুষের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়, মুখের রুচি অন্তর্হিত হয়, শরীরের ওজন দিনে দিনে কমতে থাকে, পরিবারের কাছ থেকে ধীরে ধীরে আলাদা হয়ে যায়, বন্ধুদের সাথে কোনো যোগাযোগ না থাকে, কথায় কথায় চোখে পানি আসে, বা অকারণে রেগে আগুন হয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে সেই মানুষটি মানসিক অসুখে আক্রান্ত হয়েছেন এবং তার সাহায্য দরকার। নিজে নিজেই নিজের অসুখ আর ঠিক করা যাবে না। অন্যের সাহায্যে বা পরামর্শে ঠিক করতে হবে। একজন মানুষ যখন মাথা ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে ডাক্তারের কাছে যান বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেন, তেমনি মানসিক যে কোন প্রকারের কষ্টের জন্য, বা যাতনার জন্য, বা অহেতুক রাগের জন্য, বা নিজের প্রতি আস্থাহীনতার জন্য তার দরকার মানসিক বিশেষজ্ঞের সুচারু পরামর্শ।

মানসিক ব্যাধি সম্পর্কে আমাদের দেশের মানুষের মনে অনেক ধরনের ভুল কতকগুলো ধারণা আছে। তারা যেকোনো মানসিক অসুখকেই হাতের তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে চান, যেটা খুব ভ্রান্ত একটি ধারণা। আবার কিছু কিছু মানুষ আছেন, যারা মানসিক অসুখটাকে ভূত-প্রেত, ডাইনি, শয়তান বা খারাপ জিনের কারসাজি বলে মনে করেন সেইসব মানসিক রোগাক্রান্ত মানুষকে গ্রাম বা শহরের ওঝার কাছে নিয়ে গিয়ে ঝাঁরফুঁক করান, গলায় মাদুলি-তাবিজ ঝুলিয়ে দেন। কিন্তু মানসিক অসুখের ভবি এতে ভোলে না। একবার যদি মানসিক অসুখ কারো মাথায় কামড় বসাতে পারে, তাহলে এর আর ছাড়াছাড়ি নেই। তখন তার জন্য দরকার ডাক্তার, ওষুধ, ইনজেকশন, ফলোআপ। আমাদের ধর্মে জিনের অস্তিত্ব আছে, কিন্তু মনে রাখতে হবে সেইসব জিন নিরীহ, নিষ্পাপ, সাধারণ মানুষকে কোনোদিনও বিরক্ত করে না। মেয়েদের তো করেই না। তারা যদি মানুষের খারাপই করতে চাইতো তাহলে এ দেশের ঘুষখোর, অসৎ, খুনি, সন্ত্রাসী, বাটপার, চোরাচালানি, ঋণখেলাপিদের আগে জখম করত, তারপর অন্য কথা। মানসিক অসুস্থতা মানুষের নিজের হাতেই তৈরি, তার পরিবার এবং সামাজের হাতে তৈরি, তার মনের নাজুক গঠনশৈলী এবং রাষ্ট্রের দুষ্টুমির হাতে তৈরি।

মানসিক অসুস্থতা একটি অসুখ। শরীরের অসুখের মতোই এর সব আকার, প্রকার ও চলাফেরা। মন থেকে তাই সকলকে মানসিক অসুস্থতা শনাক্ত করতে হবে। এবং সেই শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া এমন দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করতে হবে যে, মানুষটি যেন গভীরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ার আগেই তাকে চিকিৎসা করা যায়, তার পরিবারকে রোগ সম্বন্ধে ধারণা দেওয়া যায়, রোগীর স্বাভাবিক জীবন আবার ফিরিয়ে আনা যায়।

আরও পড়ুনঃ   মানসিক স্বাস্থ্য বলতে কী বোঝায়?

মনে রাখতে হবে, শরীরের সামান্য একটি চুলকানি রোগ সঠিক সময়ে চিকিৎসা করে না সারালে যেমন জীবনেও সারে না, তেমনি মানসিক অসুস্থতাও সঠিক সময়ে শনাক্ত করতে না পারলে সেই রোগও পুরাতন অবস্থা ধারণ করে। তখন তার নিরাময় করা বড়ই কঠিন একটি ব্যাপার। আমাদের খুব খারাপ লাগে ভাবতে যখন দেখতে পাই স্কিজোফ্রেনিয়ার মতো একটি গুরুতর মানসিক অসুখও পরিবারের মানুষ নিজেদের অজ্ঞতার জন্য বছরের পর বছর ঝাড়ফুঁক করান এবং রোগটিকে পুরাতন একটি আকার দিয়ে ফেলেন। তখন এটা হয়ে যায় ক্রনিক স্কিজোফ্রেনিয়া।

ক্রনিক স্কিজোফ্রেনিয়া নিরাময় করে তোলা বড় কঠিন একটি ব্যাপার। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, যে মানুষের মনের ভেতরে যে অসুখ সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই, তারা মানসিক অসুস্থতা চোখের সামনে দেখলেও চিনতে পারেন না। বা পারলেও তাকে গুরুত্বের সাথে নিতে পারেন না। মজার ব্যাপারটা হলো, মানুষের শরীরের মাথার নিচ থেকে যত প্রকার অসুখ হয় সেসব অসুখ নিয়ে মানুষ বড়ই চিন্তিত থাকেন, নিরাময়ের জন্য ডাক্তারের কাছে দৌড়াদৌড়ি করেন, কিন্তু মানুষের যখন মাথার অসুখ হয়, যে মাথা হচ্ছে মানুষের চিন্তা ভাবনার কারখানা, ভাব-অনুভবের কারখানা, সুখ-দুঃখ, ভালো লাগা-মন্দ লাগার কারখানা, রাগ-বিরাগের কারখানা, সন্দেহ-ভালোবাসার কারখানা, সেই কারখানায় আগুন লাগলে তারা নিশ্চিন্ত মনে বসে থাকেন, আপন মনে ভালো হয়ে যাওয়ার অপেক্ষা করেন। অথবা নিতান্ত অপারগ হলে ফকির বা ওঝার কাছে যান। তখন তাদের দুঃখ-কষ্টের আর সীমা থাকে না।

এই অনলাইন পত্রিকাটি জনগণের এই অসচেতনতার বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করে সমাজের সাধারণ মানুষকে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে অবহিত করার জন্য আত্মপ্রকাশ করেছে। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে সমাজের সাধারণ নাগরিক, যারা অনেক সময় নিজের পরিবার বা পরিবেশের ভেতরে মানসিকভাবে অসুস্থ একজন নাগরিককে চোখে দেখেও তাকে সাহায্য করতে পারেন না। কারণ তারা নিজেরাই সব সময়ে বুঝতে পারেন না যে এটা মানসিক কোনো অসুখ, নাকি রোগী ইচ্ছাকৃতভাবে তার পরিবারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য এ রকম আবোলতাবোল ব্যবহার করছেন।

রোগের প্রাথমিক অবস্থায় রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসা অনেক সুবিধা হয়। আমরা এক স্বাধীন এবং সার্বভৌম দেশের নাগরিক। স্বাধীনতা অর্জনের পরপরই আমাদের দেশ নানা প্রতিকূলতার ভেতরেও ধীরে ধীরে সমুখের দিকে এগিয়ে চলেছে। এবং এই এগিয়ে চলার মূল শক্তি হচ্ছে আমাদের তরুণ সমাজ। কিন্তু এই আধুনিক যুগে আমাদের তরুণ সমাজও নানা প্রকার ভুলভ্রান্তিতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছেন মাঝে মাঝেই, এই অনলাইন পত্রিকাটি তাদের ভেতরে মানুষের মনোজগতের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে সমর্থ হবে এবং তাদের চলার পথটিকে সুগম করার জন্য পরিচ্ছন্ন এক মানসিক জগত তৈরি করার কাজে সাহায্য করবে- এই আশা ব্যক্ত করেই আমি আমার বক্তব্যটির এখানেই সমাপ্তি টানছি।

প্রফেসর ডা. আনোয়ারা সৈয়দ হক

কথাসাহিত্যিক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ

LEAVE A REPLY