অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারে ক্যানসারের ঝুঁকি! জেনে নিন বিস্তারিত

0
179
ফোন ব্যবহারে ক্যানসারের ঝুঁকি

মোবাইল ফোনের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে নানা ক্ষতি হতে পারে। অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহার মানেই অতিরিক্ত শারীরিক সমস্যা। সারাক্ষণ মোবাইলে টুকটাক৷ বাসে, অটো কিংবা হাঁটা পথেও মোবাইলেই চোখ৷ অফিসে, ঘরে, ক্লাসরুমে, আড্ডাতেও সেই মোবাইলের দিতেই তাকিয়ে থাকা৷ ইদানিং এই ছবি দেখা যায় সব জায়গায়, মোবাইলে হাজারটা অ্যাপ ডাউনলোড৷ আর সেই অ্যাপেতেই মন। আর এই অ্যাপের অভ্যাস আপনাকে ধীরে ধীরে কঠিন রোগের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ডাক্তারদের কথায়, মোবাইলে বেশি অ্যাপ থাকা মানেই দীর্ঘক্ষণ মোবাইলে ব্যবহার করা।

এ বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. মনিলাল আইচ লিটু। বর্তমানে তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের নাক কান গলা ও হেড নেক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত।

প্রশ্ন : মোবাইল ফোনের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে শারীরিক ও মানসিক কী কী ক্ষতি হতে পারে?

উত্তর : আমরা যদি বয়স অনুযায়ী চিন্তা করি, ১২ বছরের কম যে শিশুরা, তাদের ক্ষেত্রে এক ধরনের প্রভাব রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের এক ধরনের প্রভাব রয়েছে। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে আরেকটি প্রভাব রয়েছে।

প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে সড়ক দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ মোবাইল ব্যবহার। ক্যানসারের ঝুঁকি রয়েছে। ঘুমের সমস্যা, বিষণ্ণতা, স্যালাইভারি গ্রন্থিতে টিউমার এগুলো হতে পারে। দেখা গেছে, মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত আসক্তি কাজের সময় নষ্ট করে। যাঁরা বেশি মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন, তাঁদের বিষণ্ণ হওয়ার সংখ্যা অনেক বেশি। আর বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি হচ্ছে স্ক্রিন এডিকশন। স্ক্রিনের প্রতি সব সময় তাদের একটি আসক্তি থাকে। এর পর তাদের মূল কাজ যেটা, লেখাপড়া বলেন, সামাজিকীকরণ বলেন, খেলাধুলা—কোনো কিছুর প্রতি তার নজর থাকে না। স্ক্রিনে আসক্ত হয়ে যায়।

শারীরিক প্রভাব বাচ্চাদের ক্ষেত্রে আরো রয়েছে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, চোখের জ্যোতি নষ্ট হয়ে যায়। কানে শোনে কম। অস্টিওপরোসিস বেশি হয়। বিষণ্ণতার সংখ্যা বেশি। সাইবার বুলিং হয় তাদের প্রতি। এক-তৃতীয়াংশ বাচ্চা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়। বিভিন্ন গ্যামস, অ্যাপসের মাধ্যমে এটি হয়। ক্রিমিনাল গেমস কচি মনে বা সরল মনে প্রভাব ফেলে।

আরও পড়ুনঃ   নিজের অজান্তেই যে ৫টি অখাদ্য খেয়ে চলেছেন আপনি

এ ছাড়া মোবাইল ফোন পকেটে রাখলে দেখা যায়, স্পার্ম বা ভ্রুণের কোয়ালিটি কমে যাচ্ছে। হার্টের সমস্যা দেখা যায়, যদি বুকে রাখা হয়।

মোবাইল ফোন ব্যবহারের সময় গাড়ি চালানোও কিন্তু নিষিদ্ধ। দেখা যাচ্ছে, গাড়ি চালানোর সময় যাঁরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন, তাঁদের ছয় ভাগ বেশি দুর্ঘটনা হচ্ছে।

আরও কিছু সমস্যা জেনে নিন এখনই-

১। টিইন টেনডাইটিস (টিটিটি)-
তরুণদের সামাজিক জীবনের উপর মোবাইল ফোনের প্রভাব কি? বিশেষজ্ঞরা বলেন। অতিরিক্ত বার্তাপ্রেরণে টিন টেন্ডোটিস (টিটিটি) হতে পারে। অসম্পন্ন অঙ্গবিন্যাস কারণে হাত, পিছনে এবং ঘাড় মধ্যে ব্যথা হতে পারে।

২। স্ট্রেস-
একটি সেল ফোন থাকার কারনে আপনি সব সময় বার্তা পেরন ও কথা বলেন। কিন্ত আপনি এই সমই অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ গুলো করতে পারেন। স্টাডি থেকে জানা যায় যে, তের থেকে ঊনিশ বছর যারা তাদের সেল ফোনের সাথে তাদের বেশিরভাগ সময় ব্যয় করে তাদের চাপ এবং ক্লান্তি এটি কিছু ক্ষেত্রে মানসিক ব্যাধি হতে পারে।

৩। ঘুমের ক্ষতি-
স্মার্টফোন ব্যবহার করার জন্য কিশোররা রাতে কম ঘুমায় ফলে তারা বিসন্নতা অনুবভ করে তখন কিশোররাও উদ্বিগ্ন হয়ে যায়। বিছানায় শুয়ে বা ঘাড় নিচু করে বেশিক্ষণ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করা উচিত নয় ৷

৪। দুর্ঘটনা-
তরুণরা কলগুলিতে প্রতিক্রিয়া জানাতে, ড্রাইভিং করার সময় স্মার্টফোন ব্যবহার করে প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় বেশি। তারা ফোনে কথা বলে এবং পাঠ করে, তারা বুঝতে পারবে না যে তারা তাদের জীবন হারাতে পারে। এমনকি বিক্ষিপ্ত ড্রাইভিং জন্য মার্কিন সরকার ওয়েবসাইট ট্র্যাফিক দুর্ঘটনার মৃত্যুর প্রধান কারণ হয় প্রমাণিত হয়েছে।

৫। উদ্বেগ বৃদ্ধি-
বার্তা আদান প্রদান একটি আনন্দের জিনিস। কিন্তু এটি উদ্বেগ তৈরি করে। বন্ধু দ্বারা তাত্ক্ষণিক উত্তর আনন্দ এবং উল্লাস করতে পারেন। কিন্তু বিলম্বিত প্রতিক্রিয়া বা কোন প্রতিক্রিয়া এর ক্ষেত্রে, এই একই আনন্দ হতাশা পরিণত হয়।

আরও পড়ুনঃ   মাড়িরোগ প্রতিরোধ করা যায়

৬। ক্যান্সারের ঝুঁকি-
গবেষণা দেখায় যে যখন আমরা ফোনটি দীর্ঘ সময়ের জন্য ধরে রাখি তখন মোবাইল ফোনের দ্বারা নির্গত ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বিকিরণ টিস্যুতে শোষিত হয়। কিশোরীরা, প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় সেল ফোন থেকে মস্তিষ্কের ক্যান্সার হওয়ার একটি বড় ঝুঁকি আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

7 + 19 =