অ্যান্টিবায়োটিকের মতই কাজ করবে ঘরোয়া এই উপাদানগুলো!

0
অ্যান্টিবায়োটিক

জটিল কোন ইনফেকশন অথবা হুমকি স্বরূপ বড় ধরণের কোন রোগের ক্ষেত্রে সাধারণ মানের ওষুধ খুব একটা কাজ করে না। এমনকি উচ্চ মাত্রার ওষুধও তখন রোগ সারানোর ক্ষেত্রে কোন ভূমিকা রাখতে পারে না। প্রয়োজন হয় অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের। আর সকলেই জানেন, যখন-তখন অ্যান্টিবায়োটিক সেবন কখনোই আমাদের জন্য সুফল বয়ে আনে না। সাময়িক আরাম মিললেও এক সময়ে অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার হিতে বিপরীত হয়েও দাঁড়াতে পারে!

তবে বেশীরভাগ শারীরিক সমস্যা, অসুস্থতা ও ছোটখাট যেকোন ধরণের ইনফেকশন সারিয়ে তোলা যায় প্রাকৃতিক কিছু উপাদান দিয়েই। যাকে বলা যেতে পারে ‘প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক।’ এই সকল উপাদানের বেশীরভাগই খুব সহজলভ্য। যে কারণে অসুস্থতার সময়ে চটজলদি ব্যবহার করা যেতে পারে এই সকল উপাদান। কী সেই উপাদানগুলো? জেনে নিন আজকের ফিচারে।

গ্রিন টি

গ্রিন টি সর্বপ্রথম তৈরি করেন চায়নিজরা। তারা এটাকে ওষুধ হিসেবে তৈরি করত এবং গ্রহণ করত। কারণ গ্রিনটি-তে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের স্বাস্থ্য উপকারিতা। অন্যান্য সকল গুণের মাঝে একটি বিশেষ কারণে গ্রিন টি বেশী উপকারী। গ্রিন টি শরীরের ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে রোধ করে থাকে। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে, শরীরের মেটাবলিজম বাড়াতে, ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে, আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে এবং ব্যাকটেরিয়া বিনষ্ট করতে গ্রিন টির জুড়ি নেই।

ফার্মেন্টেড খাবার সমূহ

ফার্মেন্টেড খাবার হচ্ছে দই, অ্যাপল সাইডার ভিনেগার, আচার প্রভৃতি। যা ফার্মেন্টেড খাদ্য উপাদানের কয়েকটি উদাহরণ মাত্র! ফার্মেন্টেড খাদ্য কেন স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী? কারণ, ফার্মেন্টেড সকল ধরণের খাদ্যেই রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবায়োটিকস যা পাকস্থলী ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার সমতা রক্ষা করে থাকে। এছাড়াও, এই সকল ফার্মেন্টেড খাদ্য কোষ্ঠ্যকাঠিণ্যের সমস্যা দূর করতে কাজ করে থাকে।

নারিকেল তেল

নারিকেল তেল চুল ও ত্বকের জন্য ব্যবহার করার পাশাপাশি বিভিন্ন উপায়ে খাওয়াও যায়। প্রাকৃতিক এই উপাদানটিতে রয়েছে অ্যান্টি-ফাংগাল এবং অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান সমূহ। যা শরীরের জন্য ইতিবাচক ভাবে কাজ করে স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করে থাকে। একই সাথে নারিকেল তেল মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে থাকে। তবে নারিকেল তেল যে সকল স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য পরিচিত সেগুলো হলো- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, থাইরয়েড হরমোনের সমতা রক্ষা, কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং রক্তে চিনি পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা।

আরও পড়ুনঃ   রান্নাঘরের টুকিটাকি থেকে পাবেন যে ৭টি রোগের সমাধান

মধু

মধু হলো সবচাইতে উৎকৃষ্ট প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিকস, অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়ালস, প্রদাহ বিরোধী এবং অ্যান্টিস্যাপটিক উপাদান। যে কোন ধরণের প্রাকৃতিক মধুই ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে খুব দারুণ কাজ করে থাকে। বিশেষ করে, প্রতিদিন এক চা চামচ পরিমাণ মধু খাওয়ার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

হলুদ

মশলা জাতীয় খাদ্য উপাদানের মাঝে হলুদ হলও বহুল ব্যবহৃত ও প্রচলিত একটি উপাদান। যা একইসাথে শরীরের উপরের অংশে ও ভেতরের অংশের ইনফেকশন ভালো করতে কাজ করে থাকে। প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে কাঁচা হলুদ অথবা হলুদ গুঁড়া যোগ করা হলে বেশকিছু রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে দূরে থাকা যায়। একইসাথে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সবচাইতে দারুণ তথ্য হলো হলুদ আর্থ্রাইটিস, ডায়বেটিস এর মতো রোগের ক্ষেত্রে উপয়াক্রি ভূমিকা তো রাখেই, সাথে মানসিক বিষণ্ণতা দূর করতেও সাহায্য করে থাকে।

আদা

বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে, একদম তাজা আদাতে রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক প্রভাব। বিশেষ করে যেকোন ধরণের ফুড পয়জনিং এর বিরুদ্ধে আদা অন্য যেকোন খাদ্য উপাদানের চাইতে ভালো কাজ করে থাকে। এছাড়াও হৃদরোগের সমস্যা, কোষ্ঠ্যকাঠিণ্যের সমস্যা, ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন জনিত সমস্যা এবং ডায়বেটিসের জন্য আদা দারুণ উপকারী।

রসুন

প্রাকৃতিক উপাদান রসুনে রয়েছে দারুণ অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান অ্যালিসিন। যা বিভিন্ন ধরণের ছোট বা বড় ধরণের রোগ সারানোর ক্ষেত্রে কার্যকরি ভূমিকা পালন করে থাকে। রসুন শুধুমাত্র অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান নয়। এটি একইসাথে অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টি ফাংগাল উপাদান। রসুনে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সমূহ, মিনারেল এবং ফাইটোকেমিক্যাল সমূহ। যে কারণে যে কোন ঠাণ্ডার সমস্যা ও ছোটখাটো ইনফেকশনের ক্ষেত্রে রসুন খুব দারুণ কাজ করে থাকে।

সূত্র: Peace Quarters

অ্যান্টিবায়োটিক বেশি ব্যবহার ক্ষতিকর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

20 − nine =