আঁচিল দূর করার ৫টি নিরাপদ ও দারুণ কার্যকরী উপায়

0
903

আঁচিল দূর করার উপায়

ত্বকের অত্যন্ত বিব্রতকর একটি সমস্যার নাম হচ্ছে আঁচিল। এই আঁচিল সাধারণত হতে দেখা যায় গলায়, স্তন বা শরীরের স্পর্শকাতর ভাঁজে, আঙুলের ভাঁজে, চোখের পাতায় ইত্যাদি স্থানে। অনেকে আঁচিল দূর করতে হোমিওপ্যাথি খেয়ে থাকেন। তবে সেটা বেশ সময় সাপেক্ষ এবং আঁচিল এতে বেড়েও যায় অনেক ক্ষেত্রে। চলুন, আজ জেনে নিই নিরাপদ উপায়ে দ্রুত আঁচিল দূর করার ৩টি অত্যন্ত কার্যকরী উপায়। এই উপায় গুলোতে আঁচিল দূর করতে আপনার কোন কষ্টই হবে না।

১) অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার

 অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার অত্যন্ত পরিচিত একটি নাম এখন। যে কোন সুপার শপে খুঁজলেই পেয়ে যাবেন এই কাঙ্ক্ষিত জিনিসটি। Heinze কোম্পানির অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার অত্যন্ত সহজলভ্য।
তুলোয় ভিনেগার লাগিয়ে দিনে ২ বার আঁচিলের ওপরে লাগান। চোখের পাতায় লাগালে খেয়াল রাখবেন যেন ভেতরে না যায়। এক্ষেত্রে আঙ্গুল দিয়েও লাগাতে পারেন। একটু গন্ধ লাগতে পারে। তবে লাগিয়ে রাখুন, পানি দিয়ে ধোবেন না। ২ থেকে ৪ সপ্তাহের মাঝেই Mole ঝরে পড়বে। (আঁচিলের আকারের ওপরে নির্ভর করে)

অথবা  এক টুকরো তুলায় অ্যাপল সিডার ভিনেগার নিয়ে আঁচিলের  উপর রেখে ব্যান্ডেজ করে রাখুন। এভাবে প্রায় ১ ঘণ্টার মতো রাখতে হবে। প্রতিদিন ব্যবহার করুন যতদিন না আঁচিল  দূর হয়।

Apple Cider Vinegar

০৩. ৫% আয়োডিনঃ

সকালে এবং রাতে এক ফোটা করে লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে রাখুন। ১ সপ্তাহের মধ্যেই আঁচিল  উঠে আসবে।

২) ক্যাস্টর ওয়েল ও বেকিং সোডা

 এই দুটি উপাদান মিসিয়ে একটা ঘন পেস্ট তৈরি করুন। আঁচিলের ওপরে পেস্টটি লাগিয়ে দিন। অপেক্ষা করুন শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত। তবে শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলবেন না। কমপক্ষে ১০-১২ ঘণ্টা এটা থাকতে দিন। সবচাইতে ভালো হয় যদি রাতে লাগিয়ে ঘুমাতে যান। সকালে ধুয়ে ফেলবেন। প্রতিদিন লাগান আঁচিল মিলিয়ে যাওয়া পর্যন্ত।
৩) টি ট্রি ওয়েল
বিদেশী ওষুধের দোকানে বা বড় কসমেটিকসের দোকানে এই জিনিসটি কিনতে পারবেন। দ্রুত আঁচিল দূর করতে এটা অত্যন্ত কার্যকরী। খানিকটা তুলো ভিজিয়ে নিংড়ে নিন। ভেজা তুলোতে কয়েক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মাখান। তারপর তুলো দিয়েই আঁচিলের ওপরে লাগিয়ে দিন। সম্ভব হলে তুলোটি আঁচিলের ওপরে চেপে ছোট্ট ব্যান্ডেজ করে রাখুন। প্রতিদিন লাগান। ১ থেকে দেড় সপ্তাহের মাঝেই আঁচিল(Mole) ঝরে পড়বে।

৪) রসুন

আরও পড়ুনঃ   সহজ ২টি উপায়ে মুছে ফেলুন স্ট্রেচ মার্ক

আধা কোয়া রসুন আঁচিলের  উপর রেখে সারারাত ব্যান্ডেজ করে রাখুন। কিছুদিন পর আঁচিল  রিমুভ হবে।

৫) কলার খোসা

কলার খোসার ভেতরের অংশ আঁচিলের  উপর রাখুন। নিয়মিত ব্যবহারে আঁচিল  শুকিয়ে পড়ে যাবে।

 আঁচিল বিষয়ে চর্ম ও অ্যালার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দিদারুল আহসান———-আঁচিল হলে যা করা উচিত নয়

আঁচিল রোগটির মূল কারণ ভাইরাস। আঁচিল হলে অনেকে কড়া ভেবে কাটতে শুরু করেন। ফলে ভাইরাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। নতুন আঁচিল দেখা দেওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। কখনো কাটা অংশে জীবাণু সংক্রমণ হয়ে সেপটিকও হয়ে যেতে পারে। কাজেই রোগীর আঁচিল ও কড়ার মধ্যে পার্থক্যটা বুঝে নেওয়া জরুরি। কড়ার ওপর আঙুল রেখে চাপ দিলে খুব ব্যথা লাগবে। কিন্তু আঁচিল হলে এতে চাপ দিলে বিশেষ ব্যথা লাগে না। বেশি ব্যথা লাগে দুই পাশ থেকে চেপে ধরলে।

অনেকে আঁচিলের গোড়া শক্ত করে চুল দিয়ে বেঁধে রাখেন, যাতে আঁচিলের মধ্যে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়ে আঁচিল খসে পড়ে যায়। এমন করা মোটেও ঠিক নয়। চুন বা কস্টিক সোডাও লাগান অনেকে। এ কারণে সেপটিক হয়ে অবস্থা ঘোলাটে হয়ে যেতে পারে। আঁচিল খুঁটবেন না বা বেশি ঘষাঘষি করবেন না। ফলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে।

চিকিৎসা হিসেবে স্যালিসাইটিক অ্যাসিড বা ল্যাকটিক অ্যাসিড মেশানো দ্রবণ আঁচিলের ওপর লাগানো যেতে পারে। এতে না কমলে ইলেকট্রোক্টারি বা ক্রায়োক্টারি করে তাকে নির্মূল করা হয়। যৌনাঙ্গের আঁচিল থেকে যৌন সংক্রমণের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং খুব দ্রুত চিকিৎসা না নিলে পরবর্তীকালে  ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

 আরও পড়ুনঃ  আঁচিল অপসারণের কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি জেনে নিন

নিয়মিত পোষ্ট পেতে ফেসবুকে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করে আপডেট থাকুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

seventeen − 1 =