ইসলামের দৃষ্টিতে রোগ ও তার প্রতিকার

0
ইসলামের দৃষ্টিতে রোগ

মুহিবুর রহমান হেলাল:

ভূমিকাঃ

ইসলাম বাস্তবমুখী পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। মানব জাতি যখন কোন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে, ইসলাম তখন তার সমাধান দিয়েছে। মানুষ আল্লাহ্‌র দাস। তাঁর হুকুম পালনে একনিষ্ঠ মানুষ কখনও কখনও শারীরিক এবং মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে আল্লাহ্‌র হুকুম পালনে অক্ষম হয়ে পড়ে। মানুষ যেন আল্লাহ্‌র হুকুম পালনে অক্ষম হয়ে না পড়ে, তার জন্য ইসলাম দিয়েছে বৈজ্ঞানিক সমাধান। আর এই বৈজ্ঞানিক সমাধানই হচ্ছে চিকিৎসা।

ইসলামের দৃষ্টিতে রোগঃ

একবিংশ শতাব্দীর চরম উন্নতির যুগেও মানুষ রোগ সম্পর্কে নানা অদ্ভুত চিন্তা-ভাবনা করে থাকে। অনেকের মতে রোগ একটি মুসিবত এবং এলাহী গযব। আবার অনেকের মতে রোগ হ’ল জিন, ভূত এবং প্রেতাত্মার আছর। মূলতঃ রোগ হ’ল আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে পরীক্ষা।

যেমন- আল্লাহপাক বলেন,

الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ

‘অবশ্যই আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, জান ও মালের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে’ (বাক্বারাহ ১৫৬)।

সুতরাং রোগ আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে আসে। তাই এর নিন্দা করা উচিৎ নয়। রোগ আমাদের পরীক্ষা ও যাচাইয়ের জন্য অথবা উচ্চ মর্যাদাশীল করার জন্য। যেমন রাসূল (ছাঃ)-এর হাদীছ। শাদ্দাদ বিন আউস (রাঃ) একদা একজন রোগীকে দেখতে গিয়ে বলেন, কেমন আছেন? তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র অনুগ্রহের সাথে প্রভাত করেছি। একথায় খুশী হয়ে শাদ্দাদ তাকে হাদীছ শুনিয়ে বলেন, রাসূল (ছাঃ) এরশাদ করেন, আল্লাহ পাক বলেছেন, ‘যখন আমি আমার কোন মুমিন বান্দাকে বিপদে ফেলে পরীক্ষা করি, তখন সে আমার প্রশংসা করে। অতঃপর সে তার বিছানা থেকে উঠে এমন পাপশূন্য অবস্থায় যেমনভাবে সে ভূমিষ্ট হয়েছিল’। আল্লাহ বলেন, আমি আমার বান্দাকে গ্রেফতার করেছিলাম। তোমরা তাকে এমনভাবে পুরুষ্কৃত কর, যেমনভাবে সুস্থ অবস্থায় নেকী করলে সে পুরষ্কার প্রাপ্ত হয়।

অন্য হাদীছে রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘মুসলমানদের উপর যেকোন বিপদ মুছীবতই আসে, আল্লাহ তা’আলা এর বদলে তার গুনাহ মিটিয়ে দেন। এমনকি তার শরীরে কাটাবিদ্ধ হ’লে তার দ্বারাও।২ অন্যত্র রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘মুসলমান যখন রোগ-শোক বা অন্য কোন বিপদে পতিত হয় (এবং ছবর করে), আল্লাহ এর বিনিময়ে তার গুনাহ সমূহ ঝরিয়ে দেন। যেমন বৃক্ষ পত্রসমূহ ঝরে পড়ে’। অপর একটি হাদীছে রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘আল্লাহ তা’আলা যার কল্যাণ করতে চান তাকে মুছিবতে ফেলেন’।

উপরের হাদীছগুলি দ্বারা বুঝা যাচ্ছে, রোগ কোন মুছীবত বা এলাহী গযব নয়; বরং গোনাহ হ’তে পাপ মুক্তির একটা মাধ্যম।

ইসলামে রোগের প্রতিকারঃ

রাসূল (ছাঃ) স্বাস্থ্য-সুস্থতা এবং স্বাস্থ্যের হিফাযত ও সুরক্ষার মৌল বিধি-বিধান সম্পর্কে অত্যন্ত সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তিনি স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক ও উপকারী বস্তু এবং সে সকল বিষয়াবলীও চিহ্নিত করে দিয়েছেন, যা স্বাস্থ্য অটুট রাখার জন্য অত্যন্ত যরূরী। কেননা সুস্বাস্থ্য মুমিনের জন্য রহমত স্বরূপ। তাইতো রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘একজন ভগ্ন স্বাস্থ্যবান মুমিন থেকে স্বাস্থ্যবান মুমিন আল্লাহ্‌র নিকট শ্রেষ্ঠ ও প্রিয়’।৫ কোন ব্যক্তি অসুস্থ হ’লে, ইসলামের নির্দেশে সে ওষুধ ব্যবহার করবে। যেমন রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘হে আল্লাহ্‌র বান্দারা তোমরা ওষুধ ব্যবহার কর। কেননা আল্লাহ তা’আলা এমন কোন রোগ দেননি, যার কোন আরোগ্যের ব্যবস্থা তিনি দেননি। তবে একটি রোগ ছাড়া। ছাহাবাগণ বললেন, সে রোগটি কি? তিনি বলেন বার্ধক্য’।

অন্য হাদীছে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ এমন কোন রোগ প্রেরণ করেননি, যার সঙ্গে তার প্রতিষেধক প্রেরণ করেননি’। উপরের হাদীছদ্বয় থেকে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে, কোন রোগই দূরারোগ্য নয়। একমাত্র শেফা দানকারী মহান আল্লাহ তা’আলা প্রতিটি রোগের সঙ্গে প্রতিষেধক সৃষ্টি করেছেন। তাই কোন ভাবেই আরোগ্য থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না। প্রতিটি রোগের ওষুধ নির্দিষ্ট। তাই কোন ওষুধে কাজ না হ’তে থাকলে মনে করতে হবে, রোগের সঠিক ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে না। যেমন রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘প্রত্যেক রোগের জন্য ওষুধ রয়েছে। সুতরাং সঠিক ওষুধ যখন রোগের জন্য ব্যবহৃত হয়, তখন আল্লাহ্‌র হুকুমে রোগী রোগ মুক্ত হয়’।

আজকের যুগে যদি চিকিৎসা বিজ্ঞানের দিকে তাকানো যায়, তাহ’লে আমরা দেখতে পাব, অনেক রোগের এখনো প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে পারবে না। মানুষ যদি গবেষণা করতে থাকে, তাহ’লে একদিন না একদিন তা আবিষ্কার করতে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ। কেননা প্রতিটি রোগের প্রতিষেধক আল্লাহ পাক সৃষ্টি করেছেন।

সকল রোগের মহৌষধ আল-কুরআনঃ বার্ধক্য এবং মৃত্যু ছাড়া আর কোন অবস্থা দূরারোগ্য ব্যাধি নয়। যার চিকিৎসা কুরআন দ্বারা সম্ভব নয়। অর্থাৎ বার্ধক্য এবং মৃত্যু ছাড়া সকল প্রকার রোগের মহৌষধ আল-কুরআন। কেননা কুরআন এসেছে মানব মনের সকল প্রকার কলুষ-কালিমা, অশুভ চিন্তা, শঠতা ও ধৃষ্টতা, অবাধ্যতা, বর্বরতা, কৃপণতা, অসভ্যতা, নাস্তিকতা ও পাশবিকতা ইত্যাদি সকল বিষয়ের বাহ্যিক ও আধ্যাত্মিক রোগের প্রতিষেধক হিসেবে। যেমন আল্লাহ বলেন,

وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ ۙ وَلَا يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إِلَّا خَسَارًا

‘আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি, যা ঈমানদারদের জন্য শেফা (রোগ মুক্তি) ও রহমত স্বরূপ’ (বণী ইসরাঈল ৮২)।

‘যখন মানুষ প্রকৃত ধৈর্য ও অবিচলতার সাথে আল্লাহভীতি ও পরকালের উপর দৃঢ় বিশ্বাস করতে পারবে, সঠিক ধ্যান-ধারণা নিয়ে মানুষ যখন ধর্মপরায়ণ হবে, শরী’আতের প্রত্যেকটি বিষয়ের উপর পূর্ণ মাত্রায় আমল করবে, অতি প্রভাতে ঘুম থেকে জেগে উঠবে, ওযূ গোসল ও পাক-পবিত্রতা সহকারে সকাল-বিকালের আহার পর্যন্ত শরী’আত মোতাবেক হবে, তখন সে স্বচক্ষে দেখবে যে, তার মনের স্বচ্ছতা ও ঈমানের পরিপক্কতা অনেক বেড়েছে। ঈমান উজ্জীবিত হয়ে তার অন্তরাত্মা পূর্ণতা লাভ করেছে। রক্ত, মাংস, শিরা-উপশিরায় এসেছে আল্লাহ্‌র শক্তি। নিজেকে মহান আল্লাহ্‌র কৃতজ্ঞ দাসানুদাসে পরিণত করতে পেরে তার মনে আসবে আনন্দের জোয়ার। আল্লাহ্‌র নূরে দীপ্ত হবে তার মুখমণ্ডল, ভীত হবে দুশমন এবং সতেজ হবে ইশকে এলাহী। তিনি যেখানে যাবেন, সেখানে আল্লাহ্‌র রহমত সঙ্গে নিয়ে যাবেন। তিনি আল্লাহ্‌র শক্তির বলে সব সময় এমনভাবে বলীয়ান হবেন যে, তার নিকট কোন বাতিল শক্তি এসে শিকড় গেড়ে বসতেই পারবে না। রহমতের বারী তাকে এমনভাবে বেষ্টন করে থাকবে যে, তার শ্বাস-প্রশ্বাসে, ওযূ-গোসলে, সকাল-সন্ধ্যার তাসবীহ পাঠে শুধু আল্লাহ্‌র প্রেমের মদিরায় কুলুষিত আবহাওয়ার ব্যাধিগুলিকে নিস্তেজ করে এমনভাবে সরিয়ে রাখবে যে, তার উপর সব সময় আল্লাহ্‌র রহমত বর্ষিত হবে। এমতাবস্থায় বহিরাগত কোন ব্যাধির জীবাণু তার নিকট আসতেই পারবে না।৯

আরও পড়ুনঃ   প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ মাতৃত্ব

পবিত্র কুরআন এখনও রোগ নিরাময়ের ব্যবস্থাপত্র। তবে শর্ত হ’ল, এর উপর যথাযথভাবে আমল করতে হবে। কুরআনকে শুধু উত্তম মনে করে পাঠ করতে থাকাই যথেষ্ট নয়। বরং যতক্ষণ পর্যন্ত এ মহাগ্রন্থটিকে আমরা আমাদের জীবন চলার পথের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে গ্রহণ করে না নিব, ততদিন আল-কুরআন কিভাবে রোগ নিরাময়ের ব্যবস্থা পত্র হবে?

পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত ওষুধ সমূহ

১. মধুঃ

মধু আল্লাহ্‌র পক্ষ হ’তে মানব জাতির জন্য এক মহা নে’মত। কেননা আল্লাহ বলেন,

يَخْرُجُ مِن بُطُونِهَا شَرَابٌ مُّخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ فِيهِ شِفَاءٌ لِّلنَّاسِ

‘এতে (মধুতে) মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিকার’ (নাহল ৬৯)।

হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট এসে বলল, আমার ভাইয়ের পেট ছুটেছে। তখন রাসূল (ছাঃ) বললেন, তাকে মধু পান করাও। সে মধু পান করালো এবং আবার এসে বলল, আমি তাকে মধু পান করিয়েছি, এতে তার দাস্ত আরও বেড়ে গেছে। এভাবে একই অভিযোগ তিন বার করল। অতঃপর সে চতুর্থবার ঐ অভিযোগ করল। এবারও নবী করীম (ছাঃ) বললেন, তাকে মধু পান করাও। সে বলল, আমি অবশ্যই তাকে মধু পান করায়েছি। কিন্তু তার দাস্ত আরও বেড়ে গেছে। তখন রাসূল (ছাঃ) বললেন, আল্লাহ যা বলেছেন তা সত্য, তোমার ভাইয়ের পেট মিথ্যা অর্থাৎ পেটে এখনও দূষিত পদার্থ রয়েছে। অতঃপর তাকে মধু পান করাল এবং সে আরোগ্য লাভ করল।১০

মধু সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেন যে, একমাত্র মধুর ব্যবহারে হাযার হাযার কঠিন রোগ অতি অল্প দিনেই আরোগ্য হয়েছে। এ মধুর সন্ধান না পেলে চিকিৎসাবিজ্ঞান থাকত পশ্চাদপদ আর লক্ষ লক্ষ নর-নারী অকালেই ধরা হ’তে বিদায় নিত।১১ বিখ্যাত পুষ্টিবিজ্ঞানী ডঃ আরন্ত লোবাণ্ড বলেছেন, ইঞ্জিনের শক্তি যেমন পেট্রোল, হৃদযন্ত্রের শক্তি তেমন মধু’।১২ বেশ কিছু ওষুধ বিশেষজ্ঞ মধুকে শিশুর খাদ্য হিসাবে অনুমোদন করেছেন। কেননা শিশুরা মধু পান করলে ক্যালসিয়াম লাভ করে থাকে এবং হজমের গণ্ডগোল দূরীভূত হয়।১৩ বিজ্ঞানীরা গবেষণার মাধ্যমে জানতে পেরেছেন মধুতে রয়েছে এক শক্তিশালী জীবাণুনাশক ক্ষমতা। এই ক্ষমতা নাম ‘ইনহিবিন’। গবেষণায় আরো দেখা গেছে, রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া মধুতে দিতে গেলে মারা যায়।১৪ মধু শরীর ও ফুসফুসকে শক্তিশালী করে এবং রুচি বৃদ্ধি করে।১৫

পোড়া ঘায়ের চিকিৎসায় মধু ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কারণ মধুতে কিছু নমনীয় এ্যন্টিসেপটিক গুণাবলী আছে।১৬ মধু সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, হাপানী, হৃদরোগ, বাত, কিডনী রোগ, মেয়েদের মেয়েলী রোগ সহ নানাবিধ রোগে ব্যাপকভাবে কার্যকর।১৭ আয়ুর্বেদ মতে মধু সাধারণত রস, রক্ত, মাংস, মেদ, অস্থি, মজ্জা, শুক্র, স্তন্য, কেশ, বল, বর্ণ ও দৃষ্টিশক্তি বর্ধক গুণ সম্পন্ন। বালক, বৃদ্ধ, ক্ষয় রোগী ও দুর্বল লোকের জন্য হিতকর। এটা দেহের ওযন, শক্তি, সাহস, জননশক্তির কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে।১৮ বর্তমান যুগের বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেন যে, মধুর মাধ্যমে অনেক কঠিন কঠিন রোগ ভালো হয়ে যায়। আজ হ’তে ১৪শত বছর পূর্বে আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, মধু এমন এক মহৌষধ, যা দ্বারা সকল রোগের চিকিৎসা করা যায়।

. মায়ের দুধঃ

মায়ের দুধ বাচ্চাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য আল্লাহর পক্ষ হতে বড় নে‘মত । মহান আল্লাহ্‌ বলেন,

وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلَادَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ

‘মায়েরা তাদের সন্তানদের পূর্ণ দু’বছর দুগ্ধ পান করাতে পারেন’ (বাক্বারাহ ২৩৩) ।

উপরোক্ত আয়াতে দু’বছর পর্যন্ত সন্তানকে দুগ্ধ পান করানোর পক্ষে যে উপদেশ দেওয়া হয়েছে তা নিঃসন্দেহে একটি স্বাভাবিক পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ।

মায়ের দুধে শিশুর উপকারিতাঃ শিশু বৃদ্ধি, ধীশক্তি বিকাশ এবং বেঁচে থাকার জন্য বুকের ভূমিকা সবচেয়ে বেশী । বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, যে সব শিশু বুকের দুধ পান করে না বা পান করার সুযোগ পায় না তারা অধিকাহারে বিভিন্ন ধরনের ইনফেকশন, ডায়েরিয়া, নিউমোনিয়া, কানের প্রদাহ, অপুষ্টি প্রভৃতি রোগে ভোগে থাকে । পক্ষান্তরে যেসব শিশু বুকের দুধ পর্যাপ্ত পরিমাণ পায় তারা তীক্ষ্ম মেধাবী হয়, তাদের মনোদৈহিক বিকাশও চমৎকার হয় । পর্ববর্তী জীবনে এসব শিশুদের ক্যান্সার এবং হৃদরোগে ভোগার হারও কম থাকে ।১৯ বর্তমান বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলে এটা খুবই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান করালে সে অধিক পুষ্টি লাভ করে এবং রোগ সংক্রমণের হাত থেকেও সে রক্ষা পায় । বিশেষ করে আন্ত্রিক সংক্রমণ এবং মৃগী জাতীয় ৩৬টা রোগের হাত থেকে রক্ষা পায় ।২০

আরও পড়ুনঃ   "বোবা ধরা" সম্পর্কে ইসলাম কি বলে এবং এর প্রতিকার

মায়ের উপকারিতাঃ জন্মের পরপরই বুকের দুধ খাওয়ালে তাড়াতাড়ি গর্ভ ফুল বেরিয়ে আসে এবং রক্তক্ষরণও কম হয় । সম্প্রতি গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিয়মিত স্তন্য দানকারিনী মায়ের ডিম্বাশয় এবং স্তন ক্যান্সার হওয়ার হার প্রায় ৫০ শতাংশ কম থাকে ।২১

. গরুর দুধঃ

আল্লাহ্‌ পাক বলেন, ‘গবাদী পশুর মধ্যে তোমাদের শিক্ষণীয় বিষয় আছে । গাভীর স্তনের মধ্যে যে দুগ্ধ আছে আল্লাহ্‌ পাক তোমাদের তা পান করতে দিয়েছেন । মলমূত্র ও রক্তের মাঝ থেকে প্রাপ্ত বিশুদ্ধ দুগ্ধ পানকারীদের কাছে অতিশয় সুস্বাদু ও পুষ্টিকর’ (নাহল ৬৬) । বর্ণিত আয়াতে গবাদি পশুর দুধের উপকারিতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে ।

সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে জানতে পেরেছেন যে, গরুর দুধের বিশেষ উপাদান এইডস ভাইরাস রোধে সহায়ক হতে পারে । নিউইয়র্কের ব্লাড সেন্টারের বিজ্ঞানীরা জানান, গরুর দুধের প্রোটিন মানবদেহের কোষে এইচআইভি সংক্রামক প্রতিরোধে সক্ষম ।২২আধুনিক বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করে যে, মানুষের দুধে যে পুষ্টিগুণ থাকে তদাপেক্ষা গরুর দুধে প্রোটিন থাকে দুই গুণ বেশী, ক্যালসিয়াম থাকে চারগুণ বেশী এবং ফসফরাস থাকে পাঁচ গুণ বেশী ।২৩

এভাবে আল-কুর’আনে অনেক ওষুধের কথা উল্লেখ আছে । আমরা আল-কুর’আনের অনেক আয়াত পাই, যা গবেষণা করে আজকের চিকিৎসা বিজ্ঞান অনেক রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছ ।

হাদীছে বর্ণিত ওষুধের বর্ণনা

. কালিজিরাঃ

হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘কালিজিরার মধ্যে একমাত্র মৃত্যু ছাড়া আর সকল রোগের চিকিৎসা নিহিত আছে’ ।২৪ চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেন যে, কালিজিরা নিদ্রাহীনতা, স্মৃতিশক্তি হীনতা, হুলফুটা, ঠান্ডালাগা, বদহজম, পুড়ে যাওয়া, পাইলস, কিডনী রোগ ও অন্যান্য বহু রোগের বিভিন্ন পদ্ধতিতে ব্যবহারে ফলদায়ক ।২৫ ঊনবিংশ শতকের বিজ্ঞানীরা কালিজিরা সম্বন্ধে গবেষণা   করে উপরোক্ত বিষয়গুলি আবিষ্কার করেছেন । কিন্তু আজ হতে ১৪শত বছর আগেই মহানবী(সাঃ) বলছেন, কালিজিরা সকল রোগের মহৌষধ । তাই আমরা বলতে পারি এই মহৌষধের আবিষ্কারক স্বয়ং রাসূল (সাঃ) ।

. পেনিসিলিনঃ

হযরত সাঈদ বিন জুবাইর (রাঃ) বলেন, ‘আমি নবী করীম (সাঃ) থেকে বলতে শুনেছি যে, ছত্রাক মানবজাতীয় জিনিস, আর ওর নির্যাস চক্ষু পীড়ার জন্য আমোঘ ঔষুধ’।২৬

আল্লামা ইমাম নববী (রহঃ) বলেন, ‘আমাদের যুগে আমি এবং আরো অনেকে দৃষ্টিশক্তি চলে গেছে এরকম একটি লোকের উপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছি যে, তার চক্ষুতে ছত্রাকের প্রলেপ লাগানোতে তার দৃষ্টিশক্তি ফিরে এসেছে’ ।২৭ আরো পরে অর্থাৎ উনিশ শতকে যার দ্বারা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর ছত্রাক সম্পর্কিত উক্তির সত্যতা প্রমাণিত হয়, তিনি হলেন আলেকজান্ডার ফ্লেমিং । ছত্রাক নিয়ে শুরু হল তার গবেষণা । অচিরেই তিনি (আলেকজান্ডার ফ্লেমিং) জানতে পারলেন, এটি বিরল ধরনের ছত্রাক হলে কি হবে ? এদের বীজও বাতাসে ঘুরে বেড়ায় । যখনই এরা বংশ বিস্তার শুরু করে তখনই তাদের দেহ থেকে নির্গত হয় ঈষৎ রঙের এক প্রকার রস । ঐ রস রোগ-জীবাণুদের বংশবৃদ্ধি সম্পূর্ণ রূপে প্রতিহত করে দেয় । অনেক ভেবে-চিন্তে ফ্লেমিং ছত্রাকটির নামকরণ করলেন পেনিসিলিন নোটেটাম ।২৮

রোগীর দেহে পেনিসিলিনের ব্যবহার যে কত ফলপ্রসূ তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না । এন্টিবায়োটিকস (জীবাণু নাশক) হিসাবে ইনজেকশন, টেবলেট, ড্রপ, মলম ইত্যাদি রূপে এর ব্যবহার সর্বজন-বিদিত ।২৯ এই ছত্রাকের উপর গবেষণা আরম্ভ হয়েছিল উনবিংশ শতকের প্রারম্ভে । কিন্তু এই পেনিসিলিন বা ছত্রাকের আবিষ্কারক হচ্ছেন স্বয়ং নবী (সাঃ) ।

. মিসওয়াকঃ

রাসূল(সাঃ) বলেন, ‘যদি না আমি আমার উম্মতকে কষ্টে ফেলব মনে করতাম, তাহলে আমি তাদেরকে (ফরয হিসেবে) হুকুম করতাম এশার ছালাত পিছিয়ে পড়তে এবং প্রত্যকে ছালাতের সময় মিসওয়াক করতে’ ।৩০

পাকস্থলীর শতকরা ৮০ ভাগ রোগ দন্ত রোগের কারণেই হয়ে থাকে । পাকস্থলীর রোগ বর্তমান বিশবে এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে । দাঁতের মাড়ীর ক্ষত নিঃসৃত পুঁজ যখন খানা-পিনার সাথে মিলিত হয় অথবা লালার সংমিশ্রণে পাকস্থলীতে প্রবেশ করে, তখন এই পুঁজ রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় । যা সমস্ত খাদ্য সমূহকে দূষিত ও দূর্গন্ধময় করে তোলে । পাকস্থলী ও যকৃত রোগের চিকিৎসার পূর্বেই দাঁতের চিকিৎসার প্রতি দৃষ্টি দেয়া উচিত ।৩১

তাহলে এই হাদীছ থেকে আমরা এই চিকিৎসা পাচ্ছি যে, পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতের সময় যদি কোন মানুষ মিসওয়াক করে, তাহলে তার পেটের কোন রোগ হবে না ইনশাআল্লাহ ।

. খাতনাঃ

মুসলমানদের জন্য খাতনা করা সুন্নাত । এই সুন্দর আদর্শ অন্য কোন ধর্মে নেই । ইসলামের প্রতিটি অনুশাসনই সকল অনুশাসনুই সকল অকল্যাণ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে পারে । চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এবার খাতনার পর্যালোচনা করব ইনশাআল্লাহ

ডাক্তার ওয়াচার খাতনা সম্পর্কে গবেষণায় উল্লেখ করেছেন যে, (১) যাদের খাতনা করা হয় তারা লজ্জাস্থানের ক্যান্সার থেকে নিরাপদ থাকেন । (২) যদি খাতনা না করা হয় তাহলে প্রস্রাবে বাধা, মূত্রথলিতে পাথরী হওয়ার সম্ভবনা থাকে । অনেকে খাতনা না করার কারণে বৃক্কে (কিডনী) পাথরী রোগে আক্রান্ত হয় ।৩২ বৃটেনের ‘লনেষ্ট’ নামক প্রসিদ্ধ ম্যাগাজিনের ১৯৮৯ সংখ্যায় বলা হয় যে, জন্মের পরেই ৪শিশুদের খাতনা করানো হলে মূত্রনালীর প্রদাহ ৯০ শতাংশ হ্রাষ পায় ।৩৩ সম্প্রতি পশ্চিমা বিজ্ঞানীওরা এইডস রোগের সর্বোত্তম প্রতিষেধক আবিষ্কার করেছেন । আর এই প্রতিষেধক হল পুরুষের ত্বকচ্ছেদ করা, যাকে ইসলামের পরিভাষায় খাতনা বলে ।৩৪

আরও পড়ুনঃ   শীতের রাতে ১ চামচ মধু!

.ধূমপানঃ

আল্লাহ্‌ পাক বলেন,

وَلَا تُبَذِّرْ تَبْذِيرًاإِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ

‘তুমি আপচয় করবে না, নিশ্চয়ই আপচয়কারী শয়তানের ভাই’ (বণী ইসরাঈল ২৬-২৭) । ধূমপান করা অপব্যয় এবং অপচয়ের মধ্যে পড়ে । কেননা ধূমপায়ী ব্যক্তি যদি তার ধূমপানে ব্যয়িত অর্থ জমা করে রাখত, তাহলে সেই অর্থ সে বহু সৎ কাজে ব্যয় করতে পারত । ধূমপান নেশা । আর নেশা করা হারাম । যেমন রাসূল (সাঃ) বলেন, ‘যে বস্তুর অধিক পরিমাণ ব্যবহারে নেশা আনয়ন করে ঐ বস্তুর অল্প পরিমাণ ব্যবহারও হারাম’ ।৩৫

চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের ব্যক্তব্যানুসারে ধূমপানে স্বাস্থ্যগত মারাত্নক অপকারিতা প্রতিপন্ন হয়েছে । অভিজ্ঞ চিকিৎসা বিজ্ঞানী মহলে সম্মিলিত সিধান্ত মোতাবিক ধূমপানে গলা ও ফুসফুসের ক্যান্সার, হৃদরোগ, যক্ষা, গ্যাষ্টিক, আলসার প্রভৃতি জীবনবিধ্বংসী মারাত্নক রোগ-ব্যাধির প্রসূতি । ক্যান্সারে আক্রান্ত শতকরা নব্বই ভাগ রোগীই ধূমপায়ী ।৩৬

উপসংহারঃ

এভাবে কুরআনের আয়াত এবং নবী করীম (সাঃ)-এর হাদীচ নিয়ে পর্যালোচনা করলে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর বর্ণনা করেও শেষ করা যাবে না । মূলতঃ ইসলাম যে সুন্দর স্বাস্থ্যবিধি নির্দিষ্ট করে দিয়েছে, তা যদি যথাযথভাবে অনুসরণ করা যায় তাহলে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত একটা মানুষ সুস্থতার সাথে এ পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে পারবে । ইসলামে রয়েছে মানব কল্যাণ সহজ স্বাস্থ্যনীতির এক অতুলনীয় দিক নির্দেশনা । আল্লাহ্‌ যেন এই দিক নির্দেশনা পালন করার তৌফীক দান করেন । আমীন !

****বি,এ (অনার্স), ১ম বর্ষ, আরবী বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

তথ্যসূত্র :

আহমাদ, সনদ হাসান, আলবানী মিশকাত হা/১৫৭৯ ।

বুখারী, আধুনিক প্রকাশনী, ৫ম খণ্ড, হা/৫২২৯ ।

মুত্তাফাক্ব আলাইহ, আলবানী মিশকাত হা/১৫৩৮ ।

বুখারী, আধুনিক প্রকাশনী, ৫ম খণ্ড, হা/৫২৩৩ ।

মুসলিম, গৃহীতঃ ওয়ালিউদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-খাত্বীব আত-তাবরীযী, মিশকাতুল মাছাবীহ (ঢাকাঃ ইমদাদিয়া লাইব্রেরী, তাবি), পৃঃ ৪৫২ ।

আহমাদ, আবূ দাঊদ, তিরমিযী, আলবানী মিশকাত ২/১২৮১ পৃঃ, হা/৪৫৩২, সনদ ছহীহ

বুখারী, আলবানী মিশকাত ২/১২৭৮ পৃঃ, হা/৪৫১৪ ।

মুসলিম, আলবানী মিশকাত ২/১২৭৮ পৃঃ, হা/৪৫১৫ ।

জিল্লুর রহমান নাদভী, আল-কোরআনের বিপ্লবী অবদান (ঢাকা তামান্না বুক ডিপো, ৩য় প্রকাশ ১৯৯৮) পৃঃ ১৬ ।

১০ বুখারী-মুসলিম, আলবানী মিশকাত ২/১২৭৯ পৃঃ, হা/৪৫২১ ।

১১ মুহাম্মাদ নূরুল ইসলাম, বিজ্ঞান না কোরআন (কলিকাতাঃ মল্লিক ব্রাদার্স, ডিসেম্বর ১৯৯৭), পৃঃ ৩১৮ ।

১২ ডঃ নাজমুল আলম, প্রবন্ধঃ মধুঃ একটি মহৌষধ, মাসিক পৃথিবী, ৮ বর্ষ ৩য় সংখ্যা, ডিসেম্বর ১৯৮৮, পৃঃ ৩৫ ।

১৩ মুহাম্মাদ আবু তালেব, আল-কোরআন ইজ অল সাইন্স (চট্টগ্রামঃ ইডেন প্রকাশনী, দ্বিতীয় প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারী ২০০১), পৃঃ ৪৬৮ ।

১৪ ডাঃ মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান, বিজ্ঞানের আলোকে কোরআন সুন্নাহ (ঢাকাঃ কাসেমিয়া লাইব্রেরী, সেপ্টেম্বর ১৯৯৯), পৃঃ ২৪ ।

১৫ ডাঃ এ,এইচ,এম, আজহারুল ইসলাম, প্রবন্ধঃ চিকিৎসা বিজ্ঞানী হিসাবে হুযুর পাক (সঃ) এবং হার্বসের ভূমিকা, মাসিকমদীনা, মার্চ ২০০০,পৃঃ ৩৯ ।

১৬ শেখ মোহাম্মদ ইসমাইল ও আব্দুল কাদের মল্লিক, পবিত্র কোরআনে বিজ্ঞানের নির্দেশনা (ঢাকাঃ জ্ঞানকোষ প্রকাশনী ২০০০), পৃঃ ৩৪৮ ।

১৭ কোহিনুর বেগম, প্রবন্ধঃ ইসলামের স্বাস্থ্য সম্মত জীবন পদ্ধতি, মাসিক আদর্শ নারী, ৬ষ্ঠ বর্ষ, ৬ষ্ঠ সংখ্যা, জুন ২০০০, পৃঃ ৬৬ ।

১৮ বিজ্ঞান না কোরআন, পৃঃ ৩১৯ ।

১৯ ডাঃ মোহিত কামাল, শিশুর বৃদ্ধি ও স্মরণশক্তি কিভাবে ধারালো করা যাবে (ঢাকাঃ বিদ্যা প্রকাশনী, ২য় প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯), পৃঃ ২৬ ।

২০ পবিত্র কোরয়ানে বিজ্ঞানের নির্দেশনা, পৃঃ১১২ ।

২১ শিশুর বৃদ্ধি ও স্মরনশক্তি কিভাবে ধারালো করা যাবে, পৃঃ ৪১ ।

২২ মমতাজ দৌলতানা, আল-কোরআন এক মহাবিজ্ঞান (ঢাকাঃ জ্ঞানকোষ প্রকাশনী ১৯৯৯),

২৩ পবিত্র কোরআনে বিজ্ঞানের নির্দেশনা, পৃঃ ৩৪০ ।

২৪ বুখারী-মুসলিম, আলবানী মিশকাত ২/১২৭৮ পৃঃ, হা/৪৫২০ ।

২৫ মাসিক আদর্শ নারী, জুন ২০০০, পৃঃ ৬৬ ।

২৬ বুখারী (ঢাকাঃ ইঃ ফাঃ বাঃ, ২য় সংষ্করণ জুন ২০০০), ৯ম খন্ড হা/৫১৮৯, পৃঃ ২৭২ ।

২৭ মাওলানা আব্দুর রউফ শামীম, প্রবন্ধঃ পেনিসিলিনের ব্যবহার কবে থেকে, মাসিক আহলে হাদীস, ২য় বর্ষ ১১শ সংখ্যা, নভেম্বর ১৯৮৪, পৃঃ ৩৩১ ।

২৮ বিজয় চৌধুরী, শত বৈজ্ঞানিক শত আবিষ্কার (ঢাকাঃ ক্যাবকো প্রকাশ, ১৯৯৯), পৃঃ ৬২ ।

২৯ মাসিক আহলে হাদীস, নভেম্বর ১৯৮৪, পৃঃ ৩৩২ ।

৩০ বুখারী-মুসলিম, আলবানী মিশকাত হা/৩৭৬, পৃঃ ১২১ ।

৩১ ডাঃ মুহাম্মদ তারেক মাহমূদ, সুন্নাতে রাসূল (সাঃ) ও আধুনিক বিজ্ঞান (ঢাকাঃ আল-কাউসার প্রকাশনী,১৪২০ হিজরী ) ১ম ও ২য় খন্ড, পৃঃ ৪১ ।

৩২ সুন্নাতে রাসূল ও আধুনিক বিজ্ঞান ১ম ও ২য় খন্ড, পৃঃ ২২৬ ।

৩৩ তদেব, ৩য় ও ৪র্থ খন্ড, পৃঃ ৮১ ।

৩৪ মোহাম্মদ একরামুল ইসলাম, প্রবন্ধঃ এইডস প্রতিরোধে খাতনা, মাসিক মদীনা, আগষ্ট ২০০০, পৃঃ ৩১ ।

৩৫ আহমাদ, আবুদাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ । গৃহীতঃ ইবনে হাজার আসক্বালানী, বুলূগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম (দিল্লীঃ কুতুবখানা রশীদিয়া, ১৩৮৭ হি/১৯৬৮), পৃঃ ৯৫ ।

৩৬ স্মারণিকা ৯৭, আহলে হাদীস আন্দোলন বাংলাদেশ, পৃঃ ১০-১১ ।

রাসুল (সা.) যেভাবে মাথার চুলের পরিচর্যা করতেন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 × one =