একঘেঁয়েমি সরিয়ে কাজে বৈচিত্র্য আনতে ১০৬ খুন!

0
খুন

রোগীদের সঙ্গে দিনরাত ওঠা-বসায় একঘেঁয়ে হয়ে গেছে জীবন। তবে এক ঘেঁয়েমি কাটাতে এবং জীবনে ও কাজে বৈচিত্র্য আনতে আইসিইউতে থাকা মুমূর্ষু রোগীদের ইঞ্জেকশনে করে বিষ দিতেন জার্মানির নার্স নিলস হোয়েজেল। তদন্ত রিপোর্ট বলছে, এভাবে অন্তত ১০৬ জনকে খুন করেছেন তিনি।

একঘেঁয়ে কাজ করতে করতে যখন বিরক্ত লাগত তখন রোগীর হৃদযন্ত্র বিকল করার জন্য প্রথমে শরীরে বিষ প্রয়োগ করতেন নিলস। এতে রোগীর অবস্থা খারাপ হতে থাকলে চলতো তাকে বাঁচানোর ‘আপ্রাণ প্রয়াস’। তাতে রোগী সুস্থ হয়ে গেলে সাফল্যের পুরো ‘ক্রেডিট’টাই নিতেন তিনি। আর সুস্থ না হলে বা রোগীটি মারা গেলে কান্নায় ভেঙে পড়তেন। এভাবেই ১০৬ জন রোগীকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে জার্মানির সেই নার্সের বিরুদ্ধে।

জিনিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে জার্মানির ডেলমেনহর্স্ট হাসপাতালসহ দু’টি হাসপাতালে কাজ করেন নিলস হেজেল নামের ওই নার্স। ২০০৫ সালে এক রোগীর শরীরে ইনজেকশনের মাধ্যমে বিষ প্রয়োগ করার সময়েই অন্য এক নার্সের হাতে ধরা পড়ে যান নিলস। একজন মহিলা নার্স রোগীকে বিষ ইঞ্জেকশন দিতে দেখে ফেলেন। তখনই ফাঁস হয়ে যায় তার সব কীর্তি। বেঁচে যান ওই রোগী। আর নিলসকে পাঠানো হয় জেলে।

এ ঘটনার পরই তদন্তে নামে পুলিশ। আর তদন্তের এক পর্যায়ে তাদের হাতে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, এই কয়েক বছরে একই পদ্ধতিতে নিয়েলেস প্রায় ৯০ রোগীকে খুন করেছে। এছাড়া নিয়েলসের দ্বারা শরীরে বিষ ঢোকায় এরপরও আরো ১৬ জন রোগীর মৃত্যু হয়।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে— কেন এমন কাজ করতেন নিয়েলেস? পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নিলস জানায়, কাজের ‘একঘেঁয়েমি’ কাটাতেই তিনি এমন কাজ করতেন।

অবশেষে কারাগারে ঠাঁই হয়েছে নিলসের। কারণ ২০০৮ সালে একাধিক রোগীকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে সাড়ে সাত বছর জেল হয় তার।

আরও পড়ুনঃ   বেসরকারি মেডিকেল কলেজে আসন বাড়ছে না

বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে জানাজানি হলে পুলিশে অভিযোগ করেন এক নারী। ওই নারীর সন্দেহ, তার মুমূর্ষু মা ওই নার্সের শিকার হয়েছেন। এরপর বহু রোগীর দেহ কবর থেকে তুলে শরীরে একই ওষুধের খোঁজ মেলে।

২০১৫ সালে ওই নার্সকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। কিন্তু ততদিনে পরিষ্কার, আরো বহু রোগীকে খুন করেছেন তিনি, তার নিজেরও মনে নেই, ঠিক কতজন তার শিকার হয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

13 − three =