ঔষধী গাছ নিমের উপকারিতা

0
348
নিমের উপকারিতা
বিশ্বব্যাপী নিম গাছ, গাছের পাতা, শিকড়, নিম ফল ও বাকল ওষুধের কাঁচামাল হিসেবে পরিচিত। বর্তমান বিশ্বে নিমের কদর তা কিন্তু এর অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে ব্যবহারের জন্য। নিম ছত্রাকনাশক হিসেবে, ব্যাকটেরিয়া রোধক হিসেবে, ভাইরাসরোধক হিসেবে, কীট-পতঙ্গ বিনাশে, চ্যাগাস রোধ নিয়ন্ত্রণে, ম্যালেরিয়া নিরাময়ে, দন্ত চিকিৎসায় ব্যথামুক্তি ও জ্বর কমাতে, জন্ম নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়।
নিমের ফুল, পাতা ,বাকল তেল ব্যবহার করে মানুষের প্রায় ১০০ রোগের চিকিৎসা করা হয়। যেমন-
  • ম্যালেরিয়াঃ নিম পাতা ম্যালেরিয়ার জন্য অনেক উপকারি।নিম পাতার নির্যাস ব্যবহারে ম্যালেরিয়া প্রশমিত হয়। পানি বা এলকোহল মিশ্রিত নিম পাতার নির্যাস ব্যবহারে একই ধরনের ফল পাওয়া যায়।
  • মানসিক চাপ ও অশান্তি দূর করতে

    যাদের বেশি মানসিক চাপ ও অশান্তি তাদের নিম্পাতার রস নিয়মিত পান করা উচিত। কারন অল্প পরিমাণ নিম পাতার নির্যাস খেলে মানসিক চাপ ও মানসিক অশান্তি কমে যায়।

  • জন্ম নিয়ন্ত্রণঃ নিম পুরুষ ও মহিলা উভয়েরই জন্ম নিয়ন্ত্রণের ঘটক (Agent) হিসেবে কাজ করে। সহবাসের পূর্বে নিম তেল তুলায় ভিজিয়ে স্ত্রী যৌন অঙ্গে ১৫ মিনিট রাখলে স্পার্ম মারা যায়। নিম লিফ টেবলেট পুরুষের জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রতিদিন এক মুঠো নিম পাতা খেলে গর্ভধারণ হয় না। ৬ সপ্তাহ পুরুষ নিম তেল সেবনে স্ত্রী গর্ভবতী হয় না। সুতরাং যেসব নারীপুরুষ সন্তান নিতে দেরী করতে চাই তাদের জন্য খুবই উপকারি।
    প্রতিদিন এক মুঠো নিম পাতা খেলে গর্ভধারণ হয় না। ৬ সপ্তাহ পুরুষ নিম তেল সেবনে স্ত্রী গর্ভবতী হয় না।
  • এইডসের মহা ঔষধ হিসেবে

    নিম গাছের বাকল হতে আহরিত রস এইডস ভাইরাসকে মারতে সক্ষম। নিম পাতার রস অথবা পুরু পাতা অথবা নিম পাতার চা পান করলে এইডস রোগের কোন ঝুকি থাকে না।

  • আলসারঃ নিম পাতার নির্যাস ও নিম বীজ হতে নিম্বিডিন নির্যাস খেলে পেপটিক ও ডিওডেনাল আলসার উপশম হয়।
  • ব্রণঃ নিম পাতা পিষ্ট করে মধুর সাথে মিশিয়ে প্রলেপ দিলে ব্রণ সেরে যায়।
  • জন্ডিসঃ ২৫-৩০ ফোঁটা নিম পাতার রস একটু মধুর সাথে মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে জন্ডিস আরোগ্য হয়।
  • বহুমূত্র রোগঃ প্রতিদিন ১ টেবিল চামচ নিম পতার রস সকালে খালি পেটে ৩ মাস খেলে ডায়বেটিস ভাল হয়। অন্য ভাবেও খেতে পারেন-প্রতিদিন সকালে ১০টি নিম পাতা গুড়া বা চিবিয়ে সেবন করলেও ডায়বেটিস ভাল হয়। নিম পাতার রস খেলে ৩০-৭০% ইনসুলিন নেয়ার প্রবণতা কমে যায়।
  • বসন্তঃ কাঁচা হলুদের সাথে নিম পাতা বেটে বসন্তের গুটিতে দিলে গুটি দ্রুত শুকিয়ে যায়।
  • রাতকানাঃ নিমপাতা রাতকানা রোগের জন্য অনেক উপকার। যদি কারোর রাতকানা সমস্যা থাকে, তাহলে নিম ফুল ভাজা খেলে রাতকানা ভাল হয়।
  • চোখের ব্যথা দূর করতে

    চোখে চুলকানি হলে নিমপাতা পানিতে দশ মিনিট সিদ্ধ করে ঠাণ্ডা করে নিয়ে। চোখে সেই পানির ঝাপটা দিতে হবে। এতে আরামবোধ করবেন। নিম পাতা সামান্য শুস্ক আদা ও সৈন্ধব লবণ একত্রে পেস্ট করে সামান্য গরম করে একটি পরিস্কার পাতলা কাপড়ে লাগিয়ে তা দ্বারা চোখ ঢেকে দিলে চোখের যন্তনা ও ব্যথা সেরে যায়।

  • লাল মেহরোগঃ নিম মূলের ছালের রস ও কাঁচা দুধ মিশিয়ে কিছুদিন খেলে লাল মেহরোগ উপশম হয়।
  • মাথাধরাঃ আমাদের মাথা ব্যথা একটি কমন রোগ। তাই যদি নিম তেল নিয়মিত মাখেন মাথা ধরা কমে যাবে।
  • ক্যান্সারঃ ক্যান্সার প্রতিকারে নিম পাতার ভূমিকা অতুলনীয়। বিশেষ করে নিম তেল, বাকল ও পাতার রস ব্যবহারে ক্যান্সার-টিউমার, স্কীন ক্যান্সার প্রভৃতি ভাল হয়।
  • উকুনঃ মেয়েদের উকুন মাথায় হয়ে থাকে। আর উকুন হলে অনেক ক্ষেত্রে মাথায় বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। তাই উকুন নিরাময় খুব দরকার। এইক্ষেত্রে নিমের ফুল বেটে মাথায় মাখলে উকুন মরে যায়।
  • হৃদরোগঃ নিম পাতার রস খেলে হৃদরোগে উপকার পাওয়া যায়। নিম পাতার রস ব্লাড প্রেসার ও ক্লোরেস্টোরল কমাতে সাহায্য করে। রক্ত পাতলা করে, হার্টবিট কমাতেও ভূমিকা রাখে।
  • কৃমি নিরসনঃ কৃমি নিরাময় করতে নিমের গুনাগুন অপরিসীম। ৩-৪গ্রাম নিম ছাল চূর্ণ সামান্য পরিমাণ সৈন্ধব লবণসহ সকালে খালি পেটে সেবন করে গেলে কৃমির উপদ্রব হতে রক্ষা পাওয়া যায়। নিয়মিত এক সপ্তাহ সেবন করে যেতে হব। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ১-২ গ্রাম মাত্রায় সেব্য।
  • রক্ত পরিস্কার ও চর্ম রোগঃ নিমপাতার রস রক্ত পরিষ্কার করে ও রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও রক্তচলাচল বাড়িয়ে হৃৎপিণ্ডের গতি স্বাভাবিক রাখে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও নিমের জুড়ি নেই। কাঁচা নিম পাতা ১০ গ্রাম ২ কাপ পানিতে জ্বাল করে ১ (এক) কাপ অবশিষ্ট থাকতে ছেঁকে নিয়ে প্রয়োজন মতো চিনি মিশিযে পান করলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্তনে থাকবে। উল্লেখিত নিয়মে প্রতিদিন ২-৩ বার, নিয়মিত ১-২ মাস পান করে যেতে হবে।
  • ভাইরাল রোগ

    ভারতীয় উপমহাদেশে ভাইরাল রোগ নিরাময়ে নিম পাতা ব্যবহৃত হয়। নিমপাতার রস ভাইরাস নির্মূল করে। আগে চিকেন পক্স, হাম ও অন্য চর্মরোগ হলে নিমপাতা বাটা লাগানো হতো। কাঁচা হলুদের সাথে নিম পাতা বেটে বসন্তের গুটিতে দিলে গুটি দ্রুত শুকিয়ে যায়। এছাড়াও নিমপাতা পানিতে সিদ্ধ করে সে পানি দিয়ে গোসল করলে ত্বকের জ্বালাপোড়া ও চুলকানি দূর হয়।

  • দাঁতের যত্নঃ কচি নিম ডাল দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁত ভাল থাকে। নিম পাউডার দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁত ও মাঁড়ি ভাল থাকে। নিম পাতার নির্যাস পানিতে মিশিয়ে বা নিম দিয়ে মুখ আলতোভাবে ধুয়ে ফেললে দাঁতের আক্রমণ, দাঁতের পচন, রক্তপাত ও মাড়ির ব্যথা কমে যায়।
  • স্বপ্নদোষ প্রশমনঃ নিম ছালের রস ১-২ চা চামচ ১ (এক) গ্লাস পরিমাণ গরুর দুধে মিশিয়ে রাত্রে শয়নকালে সেবন করলে স্বপ্নদোষ প্রশমিত হয়।
  • খোস-পাঁচড়া ও পুরনো ক্ষতঃ কাটা ছেড়া বা পোড়া স্থানে নিম পাতার রস ভেষজ ওষুধের মতো কাজ করে। নিম পাতার সাথে সামান্য কাঁচা হলুদ পিষে নিয়ে আক্রান্ত স্থানে প্রলেপ আকারে ৭-১০ দিন ব্যবহার করলে খোস-পাঁচড়া ও পুরনো ক্ষতের উপকার হয়। নিম পাতা ঘিয়ে ভেজে সেই ঘি ক্ষতে লাগালে ক্ষত অতি দ্রুত ভাল হয়।
  • বমি বমি ভাব বা বমি দূর করনে

    বমি আসতে থাকলে নিম পাতার রস ৫-৬ ফোঁটা দুধ দিয়ে খেলে বমি কমে যাবে।

  • নিম চা তৈরিতে

    শুকনো নিম পাতা গুঁড়ো অথবা তাজা নিমের ৬/৭ টি পাতা গরম পানিতে ছেড়ে ২/৩ মিনিট জ্বাল দিয়ে মধু মিশিয়েই বানিয়ে ফেলা যায় সুস্বাদু নিম চা , তবে নতুনদের জন্য সময়সীমা ১ মিনিট। যত বেশি জ্বাল দিবেন তত তিতা হবে।

  • ত্বকের যত্নে নিমপাতা

    রূপচর্চায় অনেক আগ থেকেই নিম ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ত্বকের দাগ দূর করতে নিম খুব ভালো কাজ করে। এছাড়াও এটি ত্বকে ময়েশ্চারাইজার হিসেবেও কাজ করে। ব্রণ দূর করতে নিমপাতা বেটে লাগাতে পারেন। আবার ঘরে তৈরি নিমের বড়িও খাওয়া যেতে পারে। বড়ি তৈরি করতে নিমপাতা ভালোভাবে ধুয়ে বেটে নিতে হবে। এবার হাতে ছোট ছোট বড়ি তৈরি করতে হবে। বড় ডিশ ফ্যানে বাতোসে একদিন রেখে দিতে হবে। পরদিন রোদে শুকোতে হবে। নিমের বড়ির পানি একেবারে শুকিয়ে এলে এয়ারটাইট বয়ামে সংরক্ষণ করতে হবে।নিচে আরো বিস্তারিত ত্বকের যত্নে নিমের ব্যবহার দেওয়া হয়েছে।

    রূপচর্চায় নিমপাতার যে কত গুনাগুন আছে সেই সম্পর্কে চলুন জেনে নেই

    নিম পাতা যে উপকারী তা আমরা সবাই  কম বেশি জানি। এটি প্রায় ৪ হাজার বছরের বেশী সময় ধরে উপমহাদেশের আয়ুবের্দ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে রূপচর্চায়ও এর ব্যপক ব্যবহার রয়েছে। নিমপাতার গুণে মুগ্ধ হয়ে পশ্চিমারাও আজকাল ঝুঁকে পড়ছে ভেষজ ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায়। আজকে জেনে নেই রূপচর্চা এর বহুবিধ কিছু ব্যবহার।

    ব্রণ দূর করতে

    নিমপাতা ফাঙ্গাস ও ব্যাকটেরিয়া বিরোধী। তাই ত্বকের সুরক্ষায় এর জুড়ি নেই। ব্রণের সংক্রমণ হলেই নিমপাতা থেঁতো করে লাগালে ভালো ফল নিশ্চিত। নিম পাতা পেষ্ট করে মধুর সাথে মিশিয়ে প্রলেপ দিলে ব্রণ সেরে যায়।

    স্কিন টোনার হিসেবে

    নিমপাতা স্কিন টোনার হিসেবেও ব্যাবহার করা যায়। প্রতিরাতে তুলার নরম বল নিমপাতা সেদ্ধ পানিতে ভিজিয়ে মুখে লাগাতে হবে। এতে ব্রণ, ক্ষত চিহ্ন, মুখের কালো দাগ দূর হবে। একইভাবে চুলে ব্যাবহার করলে খুশকি এবং অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধ হবে।

    ফেসপ্যাক তৈরিতে

    ১০টি নিমপাতা ও একটি ছোট কমলা খোসা ছাড়িয়ে অল্প পরিমাণ পানিতে সিদ্ধ করতে হবে। উপকরণগুলো মসৃণ করে পেস্ট তৈরি করতে হবে। অল্প পরিমাণ মধু ও দুধ পেস্টে মেশাতে হবে। ফেসপ্যাকটি সপ্তাহে তিনবার ব্যাবহার করা যাবে। এটি ত্বকের ব্রুণ, কালো দাগ, চেহারায় ক্ষতের গর্ত দূর করবে। মধু এবং নিম উন্নতমানের ময়শ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে।

    চুল পড়া রোধে নিমপাতার উপকারিতা

    ১। চুলের যত্নে নিমপাতার গুনের শেষ নেয়। চুল পড়া বন্ধ করতে হলে প্রতি সপ্তাহে একদিন নিমপাতা ভালো করে বেটে চুলে লাগিয়ে এক ঘণ্টারমত রাখতে হবে। এক ঘন্টা পর ভালো করে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে।দেখবেন চুল পড়া কমার সাথে সাথে চুল নরম ও কোমল হবে।

    ২। মধু  ও নিমপাতার রস একত্রে মিশিয়ে সপ্তাহে কমপক্ষে ৩ দিন চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত লাগাতে হবে। তারপর ২০ মিনিট  অপেক্ষা করে শ্যাম্পু করতে হবে। এভাবে ব্যবহার করতে থাকলে চুল ঝলমলে সুন্দর হবে।

    ৩। এক চা চামচ আমলকির রস, এক চা চামচ নিমপাতার রস, এক চা চামচ লেবুর রস, প্রয়োজন অনুযায়ী টকদই মিশিয়ে সপ্তাহে ২ দিন চুলে লাগিয়ে আধঘণ্টা অপেক্ষা করার পর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। দেখবেন নিমপাতা শুধু চুল পড়া বন্ধ করে না একইসঙ্গে খুশকি ও উকুন দূর করতে সাহায্য করবে।

    ৪। নিমপাতা সিদ্ধ পানি ও মধুর একটি পেস্ট তৈরি করে চুলে লাগান। এটি একটি ভালো কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে। এছাড়া খুশকি দূর করতেও কাজে লাগে। মাথার ত্বকে অনেকেরই চুল্কানি ভাব হয়, নিমপাতার রস মাথায় নিয়মিত লাগালে এই চুলকানি কমে, চুল শক্ত হয়, চুলের শুষ্কতা কমে যায় এবং চুল গজানো তরাণ্বিত হয়।

    দেহের ইনফেকশন দূর করনে

    দেহের ইনফেকশন দূর করতে দুই লিটার পানির মধ্যে ৫০টি নিমপাতা সিদ্ধ করতে হবে। পাতাগুলো নরম ও বিবর্ণ না হওয়া পর্যন্ত পানি ফুটাতে হবে। পানি সবুজ রং ধারণ করলে নামিয়ে বোতলে ঢেলে রাখতে হবে। প্রতিদিন গোছলের পানিতে ১০০মিলি পরিমাণের নিমপাতার পানি মিশিয়ে গোছল করলে চামড়ার ইনফেকশন দূর হবে। এছাড়া ব্রণ এবং হোয়াইট হেডস দূর হবে।

    নিমের প্রসাধনির গুন

    নিমের তেল, সাবান, ট্যালকম পাউডার, শ্যাম্পু, লোশন, ক্রীম, টুথপেস্ট, পাতার ক্যাপসুল বেশ প্রচলিত পণ্য। নিমের এসব পণ্য ত্বককে মসৃণ করে ও ইনফেকশনের হাত থেকে দূরে রাখে।

  • কফজনিত বুকের ব্যথা: অনেক সময় বুকে কফ জমে বুক ব্যথা করে। এ জন্য ৩০ ফোটা নিম পাতার রস সামান্য গরম পানিতে মিশিয়ে দিনে ৩/৪ বার খেলে বুকের ব্যথা কমবে। গর্ভবতী, শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এই ঔষধটি নিষেধ।
  • উকুন নাশ: নিমের পাতা বেটে হালকা করে মাথায় লাগিয়ে ঘন্টা খানেক পরে মাথা ধুয়ে ফেললে ২/৩ দিনের মধ্যে উকুন মরে যায়।
  • অজীর্ণ: অনেকদিন ধরে পেটের অসুখ, পাতলা পায়খানা হলে ৩০ ফোঁটা নিম পাতার রস অর্ধেক কাপ পানির সঙ্গে মিশিয়ে সকাল-বিকাল খাওয়ালে উপকার পাওয়া যায়।
  • খোস পাচড়া: নিম পাতা সিদ্ধ করে পানি দিয়ে গোসল করলে খোসপাচড়া চলে যায়। পাতা বা ফুল বেটে গায়ে কয়েকদিন লাগালে চুলকানি ভালো হয়।
  • পোকা-মাকড়ের কামড়: পোকা মাকড় কামড়ালে বা হুল ফোটালে নিমের মূলের ছাল বা পাতা বেটে ক্ষত স্থানে লাগালে ব্যথা উপশম হয়।
  • দাঁতের রোগ: নিমের পাতা ও ছালের গুঁড়ো কিংম্বা নিমের ছাল দিয়ে নিয়মিত দাঁত মাজলে দাঁত হবে মজবুত হয়।
  • জন্ম নিয়ন্ত্রণে নিম: নিম তেল একটি শক্তিশালী শুক্রাণুনাশক হিসেবে কাজ করে। ভারতীয় বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন যে, নিম তেল মহিলাদের জন্য নতুন ধরনের কার্যকরী গর্ভনিরোধক হতে পারে। এটি ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই শুক্রানু মেরে ফেলতে সক্ষম।
  • ব্লাড সুগারের রোজ সকালে খালি পেটে ১৫ থেকে ২০ টি নিম পাতা চিবিয়ে খেলে উপকার হয়। চিবিয়ে খেতে অসুবিধা হলে একই নিয়মে ৫ থেকে ৬ চামচ নিমপাতার রস খেলে একই উপকার হয়।
  • চুলকানি নিম পাতা সিদ্ধ করে সেই জল দিয়ে স্নান করলে খোসপাচড়া চলে যায়। পাতা বা ফুল বেটে গায়ে কয়েকদিন লাগালে চুলকানি ভালো হয়। পাতা ভেজে গুড়া করে সরিষার তেলের সাথে মিষিয়ে চুলকানিতে লাগালে যাদুর মতো কাজ হয়। নিম পাতার সাথে সামান্য কাঁচা হলুদ পিষে নিয়ে আক্রান্ত স্থানে প্রলেপ আকারে ৭-১০ দিন ব্যবহার করলে খোস-পাঁচড়া ও পুরনো ক্ষতের উপশম হয়। নিম পাতা ঘিয়ে ভেজে সেই ঘি ক্ষতে লাগালে ক্ষত অতি সত্বর আরোগ্য হয়।
  • কৃমিনাশক পেটে কৃমি হলে শিশুরা রোগা হয়ে যায়। পেটে বড় হয়। চেহারা ফ্যকাশে হয়ে যায়। বাচ্ছাদের পেটে কৃমি নির্মূল করতে নিমের পাতার জুড়ি নেই। শিশুরাই বেশি কৃমি আক্রান্তের শিকার হয়। এ জন্য ৫০ মিলিগ্রাম পরিমাণ নিম গাছের মূলের ছালের গুড়া দিন ৩ বার সামান্য গরম জল সহ খেতে হবে। আবার ৩-৪ গ্রাম নিম ছাল চূর্ণ সামান্য পরিমাণ সৈন্ধব লবণসহ সকালে খালি পেটে সেবন করে গেলে কৃমির উপদ্রব হতে রক্ষা পাওয়া যায়। নিয়মিত এক সপ্তাহ সেবন করে যেতে হব। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ১-২ গ্রাম মাত্রায় সেব্য।
  • খুশকি বিনাশে নিমের ব্যাকটেরিয়া নাশক ও ছত্রাক নাশক উপাদানের জন্য খুশকির চিকিৎসায় কার্যকরী ভূমিকা রাখে। নিম মাথার তালুর শুষ্কতা ও চুলকানি দূর করে। খুশকির চিকিৎসায় নিমের ব্যাকটেরিয়া নাশক ও ছত্রাক নাশক উপাদানের জন্য খুশকির চিকিৎসায় কার্যকরী ভূমিকা রাখে। নিম মাথার তালুর শুষ্কতা ও চুলকানি দূর করে। চার কাপ জলতে এক মুঠো নিমের পাতা দিয়ে গরম করতে হবে যতক্ষণ না জলটা সবুজ বর্ণ ধারণ করে এই জল ঠান্ডা হলে চুল শ্যাম্পু করার পর এই জল দিয়ে চুল ধুয়ে নিন।নিমের জল কন্ডিশনারের মত কাজ করবে। সপ্তাহে ২-৩বার ব্যবহার করুন যতদিন না খুশকি দূর হয়।
  • জন্ডিস জন্ডিস হলে প্রতিদিন সকালে নিম পাতার রস একটু মধু মিশিয়ে খালি পেটে খেতে হবে। ২৫-৩০ ফোঁটা নিম পাতার রস একটু মধুর সাথে মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে জন্ডিস আরোগ্য হয়। জন্ডিস হলে এক চামচ রসের সাথে একটু মধু মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খান। পুরোপুরি নিরাময় হতে এক সপ্তাহ চালিয়ে যেতে হবে।
  • ব্রণ দূর করতে নিমপাতার গুঁড়ো জলতে মিশিয়ে মুখ ধুতে পারেন। এতে ব্রণ দূর হবে এবং ব্রণ থেকে তৈরি জ্বালাপোড়া ভাবও দূর হবে। এটা ব্রণ দূর করার একটি কার্যকর পদ্ধতি।
  • ক্ষত নিরাময়ে হয়তো চিন্তা করছেন নিম কীভাবে ক্ষত দূর করবে? হ্যাঁ, নিমপাতা ক্ষত নিরাময়েও বেশ উপকারী। নিমপাতা বেটে ক্ষতস্থানে লাগিয়ে রাখতে পারেন। এর অ্যান্টিমাক্রোবাইয়াল উপাদান ক্ষত নিরাময়ে দ্রুত কাজ করবে।
  • ——————-

পাচঁরাজনিত সমস্যা দূরীকরণ

নিমপাতা বেটে কয়েক দিন শরীরে লাগালে গায়ের পাচঁরা, চুলকানি ভাল হয়।

কৃমিজনিত সমস্যার সমাধান

যাদের পেটে বিভিন্ন রকম কৃমি জ্বালাতন করে, তাদের জন্য নিমপাতা অন্যতম ঔষধ। বাচ্চাদের নিমপাতার রস খাওয়ালে কৃমি সমস্যা সমাধান হয়।

গর্ভবতী নার‌ীদের জন্য আর্শীবাদ

নিমপাতা গর্ভবতী নার‌ীদের জন্য আর্শীবাদ। কেননা গর্ভকালীন সময়ে গুড়া কৃমির প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়। কিন্তু এই সময়ে ঔষধ সেবন করা যায়না। তাই নিমপাতা গরম পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি পান করলে কৃমির যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এভাবে ১৫ দিন সকাল-বিকাল খেতে হবে। গর্ভবতী নারীদের কৃমি সমস্যার সমাধান জানতে এই লেখাটি পড়তে পারেন।

কফজনিত সমস্যা

কফ-কাশি কমবেশি সবারই হয়ে থাকে। কফজনিত বুকের ব্যাথায় ৩০ ফোটা নিমপাতার রস সামান্য গরম পানিতে মিশিয়ে দিনে তিন চার বার খেলে বুকের ব্যাথা কমে যায়।

জন্ম নিয়ন্ত্রণে নিম পাতা

নিমপাতায় শুধু বিভিন্ন রোগই উপমম হয়না। এর রয়েছে নারী-পুরুষের জন্ম নিয়ন্ত্রণের বিশেষ কার্যাবলী। সহবাসের পূর্বে নিমতেল তুলায় ভিজিয়ে স্ত্রী যৌন অঙ্গে ১৫ মিনিট রাখলে স্পার্ম মারা যায়। নিম লিফ ট্যাবলেট পুরুষের জন্মনিয়ন্ত্রণ ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রতিদিন এক মুঠো নিমপাতা খেলে গর্ভধারণ হয় না। দেড় মাস একটানা নিম তেল খেলে স্ত্রী গর্ভবতী হয় না।

আলসার উপশমে

নিম পাতার নির্যাস ও নিম বীজ নিম্বিডিন নির্যাস খেলে পেপটিক ও ডিওডেনাল আলসার উপশম হয়।

বহুমূত্র রোগে

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে ডায়বেটিস রোগ ভাল হয়। সকালে ১০ টি নিমপাতা গুড়া বা চিবিয়ে সেবন ডায়বেটিস রোগের আরোগ্য হয়।নিমপাতার রসে ইনসুলিন নেয়ার প্রবণতা কমে যায়।

উকুন নির্মূল

উকুন সারাতে নিম পাতার জুরি নেই। নিম পাতা বেটে সপ্তাহে ২/৩ দিন চুলে লাগিয়ে শ্যাম্পু করে ফেলুন উকুন চলে যাবে।

দাঁতের রোগ নিরাময়

দাঁত পরিস্কার করতে নিমের ডালের তুলনা নাই। কচি নিম ডাল দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁত ভাল থাকে। দাঁত মজবুত করতে নিমের ছাল দিয়ে নিয়মিত দাঁত মাজলে বিভিন্ন রোগবালাই হতে মুক্ত থাকা যায়।

জন্ডিস রোগের ঔষধ

প্রতিদিন খালি পেটে ২৫-৩০ ফোটা নিম পাতার রস একটু মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে জন্ডিস ভাল হয়।

বসন্তের ঘা শুকাতে

নিমপাতা বেটে কাঁচা হলুদের সঙ্গে মিশিয়ে বসন্তের গুটিতে দিলে দ্রুত ঘা শুকিয়ে যায়।

ব্রণ সারাতে নিম পাতা

নিম পাতা বেটে মিহি করে মধুর সাথে মিশিয়ে ব্রণে কিছুক্ষণ লাগিয়ে রাখতে হবে। তারপর দুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে নিয়মিত লাগালে মুখ হবে ব্রণ মুক্ত।

চোখের ব্যথা সারাতে

চোখের ব্যাথা সারাতে নিম পাতা ওষধীর কাজ করে।সামান্য শুষ্ক আদা ও সৈন্ধব লবণ দিয়ে মিশিয়ে হালকা গরম করে একটি পরিস্কার পাতলা কাপড়ে লাগিয়ে চোখ ঢেকে দিলে চোখের স্ফীতি ও ব্যাথা ভাল হয়ে যায়।

নিম চা

শুকনো নিম পাতা গুঁড়ো অথবা তাজা নিমের ৬/৭ টি পাতা গরম পানিতে ছেড়ে ২/৩ মিনিট জ্বাল দিলে তার সাথে মধু মিশিয়ে বানিয়ে ফেলতে পারেন নিম চা।

রক্ত পরিস্কার করতে নিম পাতা

নিম পাতার রস রক্ত পরিস্কার করে ও রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং রক্ত চলাচল বাড়িয়ে হৃৎপিণ্ডের গতি স্বাভাবিক রাখে।

ছত্রাক সংক্রমণ রোধ

ছত্রাকের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে নিম পাতা। সূত্র—টাইমস অফ ইন্ডিয়া।

পোকা-মাকড়ের কামড়

পোকা মাকড় কামড় দিলে বা হুল ফোটালে নিমের মূলের ছাল বা পাতা বেটে ক্ষত স্থানে লাগালে ব্যথা উপশম হয়।

অর্জীন

পেটের অসুখে যদি কেউ অনেক দিন যাবত ভুগে থাকেন, তাহলে নিম পাতার রস ৩০ ফোটার সাথে একটু পানি মিশিয়ে খেলে পাতলা পায়খানা ভাল হয়।

ক্যান্সারের ঔষধ হিসেবে

নিম তেল, বাকল ও পাতার নির্যাস ব্যবহারে ক্যান্সার-টিউমার, স্কীন ক্যান্সার প্রভৃতি ভাল হয়।

পানি বিশুদ্ধকরণ

গোসলের পানি বিশুদ্ধ না হলে আমাদের বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রমণ করতে পারে। তাই পানি শুদ্ধ করতে নিম পাতার প্রয়োজন রয়েছে। দুই লিটার পানির মধ্যে ৫০টি নিমপাতা সিদ্ধ করতে হবে। পাতাগুলো নরম ও বিবর্ণ না হওয়া পর্যন্ত পানি ফুটাতে হবে। পানি সবুজ রঙ ধারণ করলে নামিয়ে বোতলে ঢেলে রাখতে হবে। প্রতিদিন গোসলের পানিতে ১০০ মি.লি. পরিমাণ নিমপাতার পানি মিশিয়ে গোসল করলে চামড়ার ইনফেকশন দূর হবে। এ ছাড়া ব্রণ এবং হোয়াইট হেডস দূর হবে।

স্কিন টোনার হিসাবে নিম

নিম পাতা রুপচর্যা করতে বিশেষ কাজে লাগে। প্রতিরাতে তুলার নরম বল নিম পাতা সিদ্ধ পানিতে ভিজিয়ে মুখে লাগাতে হবে। এতে ব্রণ, ক্ষত চিন্হ, মুখের কালো দাগ দূর হয়।

খুসকি দূর করতে নিম

চুলের খুসকি দূর করতে শ্যাম্পু করার সময় নিমপাতা সিদ্ধ পানি দিয়ে চুল ম্যাস‍াজ করে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। খুসকি দূর হয়ে যাবে।

দয়াকরে মনে রাখবেন আমাদের এই লেখার উদ্দেশ্য চিকিৎসা নয়, জ্ঞানার্জন। রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া চিকিৎসা করা/নেওয়া কোন মতেই উচিত নয়। গর্ভাবস্থায় যে কোন ঔষুধের ব্যাপারে দয়াকরে সাবধানতা অবলম্বন করবেন।

আরও পড়ুনঃ

আসুন জেনে নেই নিমের কিছু ব্যবহারিক উপকারিতা-

আয়ুর্বেদিক উপাদান হিসেবে নিম পাতার ব্যবহার

আরও পড়ুনঃ   বিনা খরচে এলার্জিকে গুডবাই জানান আজীবনের জন্য!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

eleven − two =