ক্যান্সার ডেকে আনছে কোন ৫ খাবার?

0
860
ক্যান্সার খাবার

ক্যান্সার বা কর্কটরোগ অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন সংক্রান্ত রোগসমূহের সমষ্টি। এখনও পর্যন্ত এই রোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। কারণ প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার রোগ সহজে ধরা পড়ে না, ফলে শেষ পর্যায়ে গিয়ে ভালো কোন চিকিৎসা দেয়াও সম্ভব হয় না। বাস্তবিক অর্থে এখনও পর্যন্ত ক্যান্সারের চিকিৎসায় পুরোপুরি কার্যকর কোনও ওষুধ আবিষ্কৃত হয় নি। ক্যান্সার সারানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। তবে প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পরলে এই রোগ সারানোর সম্ভাবনা অনেকাংশ বেড়ে যায়। ২০০ প্রকারেরও বেশি ক্যান্সার রয়েছে। প্রত্যেক ক্যান্সারই আলাদা আলাদা এবং এদের চিকিৎসা পদ্ধতিও আলাদা। বর্তমানে ক্যান্সার নিয়ে প্রচুর গবেষণা হচ্ছে এবং এ সম্পর্কে নতুন নতুন অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

দুৰ্ভাগ্যজনকভাবে খাদ্যতালিকার মধ্যে বেশ কয়েকটি খাবারের কারণে মরণব্যাধি ক্যানসার আমাদের শরীরে বাসা বাঁধছে। কথাটি শুনে অবাক হলেও এমনটাই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি ‘প্রিভেনশন পালস’ নামের একটি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ওয়েবসাইট এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে। বিশদ আকারে তালিকা প্রকাশ করে তারা জানিয়েছে, আমাদের দৈনন্দিনের খাবারের মধ্যে বেশ কয়েকটি ক্যানসার-প্রবণ। তাদের উল্লেখকৃত তালিকায় এমন পাঁচটি খাবার রয়েছে যা আমরা প্রতিদিন গ্রহণ করছি।

 নিচে পাঠকদের জন্য এই পাঁচটির কথা এখানে বিস্তারিত জানানো হলো-

১. আমাদের খাদ্য তালিকায় মাছ অপরিহার্য। বিশেষজ্ঞরা কৃত্রিম প্রজনন ও বিশেষ পদ্ধতিতে চাষ হওয়া কিছু মাছ সম্পর্কে সতর্ক হতে বলেছেন। বিশেষ করে, তেলাপিয়া মাছ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা। কারণ তেলাপিয়া চাষে ব্যবহৃত হয় বিপুল পরিমাণ অ্যান্টিবায়োটিক এবং কীটনাশক। ইউনিভার্সিটি অফ অ্যালবানির একটি সমীক্ষায় এমনটি জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই রাসায়নিকগুলো ক্যানসার প্রবণতাকে বিপুল পরিমানে বাড়িয়ে তোলে।

২. ডায়াবেটিসের ভয়ে আমরা অনেকেই চিনি ছাড়া চা পান করছি। কিন্তু মিষ্টি ত্যাগ করলেও চা বা কফিতে আবার অনেকে চিনির ব্যবহার করি। চিনির বদলে বিকল্প কিছু ব্যবহার করি। চিনির বিকল্প হিসেবে যে পদার্থগুলি আমরা খেয়ে থাকি, তা একান্তভাবেই রাসায়নিক। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন এর কারণে ব্লাড সুগার লেভেল আদৌ কমে না বরং বাড়ে। তার উপরে এই কৃত্রিম শর্করা দেহে ডিকেপি নামের এক বিষাক্ত পদর্থের জন্ম দেয়, যা ব্রেন টিউমারের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুনঃ   কোলন ক্যানসারের ছয় লক্ষণ, এড়িয়ে যাচ্ছেন না তো?

৩. সোডা-যুক্ত সফট ড্রিঙ্ক সম্পর্কে প্রায় প্রত্যেক পুষ্টিবিদই নিষেধাজ্ঞা জ্ঞাপন করেন। সবাই জানেন ফাঁকা ক্যালরি উৎপাদনকারী এই সব পানীয় যে ওজন বৃদ্ধি, পেটে জ্বালা ও রক্তে শর্করা বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু সেই সঙ্গে এটি যে গোপনে ক্যানসারের মতো রোগকেও প্রশ্রয় দিয়ে চলে, তা জানিয়েছে ‘আমেরিকান জার্নাল অফ নিউট্রিশন’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা নিবন্ধ। সেই সঙ্গে এই নিবন্ধ এটাও জানায়, এই পানীয়তে যে কৃত্রিম রং ও অতিরিক্ত রাসায়নিক পদার্থগুলো ব্যবহৃত হয়, তা দেহের ক্যানসার প্রবণতাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।

৪. এ অঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষের প্রিয় আচার। কিন্তু মাউন্ট সিনাই স্কুল অফ মেডিসিন-এর একটি গবেষণা জানাচ্ছে, আচার গ্যাস্ট্রিক ক্যানসারের একটি বড় কারণ। নিয়মিত আচার খান এমন মানুষের উপরে গবেষণা চালিয়ে দেখা গিয়েছে, এঁদের মধ্যে ৫০ শতাংশ ব্যক্তির গ্যাস্ট্রিক ক্যানসার-প্রবণতা বেড়ে গিয়েছে। পরিমাণে কম বা মাঝে মধ্যে আচার খেলে ক্ষতি নেই। কিন্তু প্রতিদিন ভাতের সঙ্গে বা যখন তখন আচার খাওয়া ডেকে আনতে পারে বড় রকমের বিপদ।

৫. একই রকমের তথ্য উঠে এসেছে পোট্যাটো চিপস-কে নিয়ে। এটিও একটি উচ্চ ক্যালরি ডায়েট। এর মাধ্যমে ওজন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি উচ্চ রক্তচাপকেও ডেকে আনে। কিন্তু তার চাইতেও ভয়ের কথা, পোট্যাটো চিপস তৈরির সময়ে যে সব প্রিজারভেটিভ ও রং ব্যবহৃত হয়, তা এই খাবারটি প্রস্তুতের কালে বিপুল তাপমাত্রার সংস্পর্শে আসে। এর ফলে তৈরি হয় ‘অ্যাক্রিলামাইড’ নামের একটি পদার্থ। এই অ্যাক্রিলামাইড সিগারেটেও পাওয়া যায়। এবং এটিকে বিশেষজ্ঞরা ক্যানসারের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

সূত্রঃ এসি/ডব্লিউএন

আরও পড়ুনঃ ক্যান্সার প্রতিরোধ করবে কোন কোন খাবার?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

5 × 5 =