ক্যাপসিকামের ১৮টি গোপন উপকারিতা জেনে নিন

0
536
ক্যাপসিকামের উপকারিতা

ক্যাপসিকামের রয়েছে নানা উপকারিতা। ক্যাপসিকাম (Capsicum) বা সুইট বেল পেপার (sweet bell pepper) বা মিষ্টি মরিচ, উদ্ভিদের সোলানাসিয়াই গোত্রের অন্তর্ভূক্ত যার মধ্যে মরিচ, গোলমরিচ ইত্যাদি রয়েছে। এগুলি নানান রকমের রং-এর হয়ে থাকে। যেখানে সবুজ আর বেগুনী ক্যাপ্সিকামগুলি সামান্য তেঁতো স্বাদের হয়ে থাকে, সেখানে লাল, হলুদ ও কমলা রং-এর গুলি মিষ্টি হয়। ক্যাপসিকামের সাথে কম বেশি সকলেই পরিচিত। স্বাদ বাড়াতে এই সবজিটির তুলনা নেই। বর্তমানে আমাদের দেশে এটি বেশ জনপ্রিয় একটি খাদ্য উপাদানে পরিণত হয়েছে। দেশীয় সবজি না হলেও এর চাষ ধীরে ধীরে বাড়ছে এই দেশে।

১০০ গ্রামের একটি ক্যাপসিকামে রয়েছে ৮৬০ মিলিগ্রাম প্রোটিন, ৪ দশমিক ৬ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১ দশমিক ৭০ মিলিগ্রাম চর্বি, ৮০ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি, ৩৭০ আইইউ ভিটামিন-এ। এ ছাড়া সামান্য পরিমাণ ভিটামিন-ই, ভিটামিন-কে, ভিটামিন-বি৬, থায়ামিন, লেবোফ্লেবিস ও ফলিক এসিড পাওয়া যায়।

খনিজ উপাদানের মধ্যে ১০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, আয়রন ৩৮০ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৭৫ মিলিগ্রাম ও ফসফরাস ২০ মিলিগ্রাম পাওয়া যায়। এ ছাড়া জিংক, কপার, ম্যাঙ্গানিজ ও ফ্লোরাইড সামান্য পরিমাণে পাওয়া যায়।

সবজি বাজারে গেলে একেবারে প্রয়োজন না হলে এবং একটু ভিনদেশী খাবার রান্নার পরিকল্পনা না থাকলে এই সবজিটি কেনা হয় না। কিন্তু আপনি জানেন কি প্রতিদিনের খাবারে মাত্র ১ টি ক্যাপসিকাম আপনার পুরো পরিবারকে ৮ ধরণের স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে? অনেকেই বিষয়টি জানেন না। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক।

১) ক্যান্সার প্রতিরোধ করে:

ক্যাপ্সিকামের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও প্রদাহদূরকারী উপাদানগুলি স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল অ্যান্টি-ক্যানসার এজেন্ট। এতে সালফার যৌগ ছাড়াও ক্যারোটেনয়েড লাইকোপেন পাওয়া যায় যা বিভিন্ন ধরণের ক্যানসার প্রতিরোধ করে।
ক্যাপসিকামে রয়েছে সালফার কম্পাউন্ড যা গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সার এবং এসোফেগাল ক্যান্সার প্রতিরোধ করার ক্ষমতা রাখে।লাইকোপিন প্রোস্টেট ক্যানসার, সার্ভিক্যাল ক্যানসার ও ওভারিয়ান ক্যানসার প্রতিরোধে কাজ করে।

২) দৃষ্টিশক্তির সমস্যা দূর করে:
ক্যাপসিকামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি এবং বেটা ক্যারোটিন যা দৃষ্টিশক্তি সংক্রান্ত নানা সমস্যা দূর করে এবং দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। ক্যাপসিকামে সমৃদ্ধ পরিমাণে ভিটামিন-এ রয়েছে, যা চোখের জন্য বিশেষত রাত্রিকালীন দৃষ্টির জন্য ভাল। আমরা যদি নিয়মিত ক্যাপ্সিকাম খাই তবে এতে উপস্থিত ক্যারোটেনয়েডের কারণে, বয়স জনিত দৃষ্টিশক্তি হ্রাস বা ম্যাকিউলার ডিজেনারাইজেশনের সম্ভাবনা কমে যায়। বেল পেপারে উপস্থিত ভিটামিন-সি ও ক্যারোটিন, একে চোখের ছানির বিরুদ্ধে একটি খুব ভাল এজেন্টে পরিণত করে।

আরও পড়ুনঃ   তেলাপিয়া মাছের ক্ষতিকর কিছু দিক জেনে নিন

৩) ওজন কমায়:
ক্যাপসিকামের অ্যাক্টিভেটিং থার্মোজেনেসিস এবং হজম শক্তি উন্নত করার ক্ষমতা দ্রুত ওজন কমাতে সহায়ক।ক্যাপসিকাম দেহের বাড়তি ক্যালরি পূরণে কাজ করে। ফলে উচ্চ চর্বি থেকে যে ওজন বৃদ্ধি পায়, তা হ্রাস করে।

৪) কার্ডিওভ্যস্কুলার সমস্যা দূর করে:
ক্যাপসিকামে রয়েছে লাইকোপেন না কার্ডিওভ্যস্কুলার নানা সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে এবং হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখে। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও বিশেষভাবে সহায়ক ক্যাপসিকাম।

৫) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে:
ক্যাপসিকামের ভিটামিন সি এবং কে দেহের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে। এতে করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় অনেকাংশে, যার ফলে ছোটোখাটো নানা রোগ থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব হয়।

৬) দেহে আয়রনের অভাব সংক্রান্ত সমস্যা কমায়:
ক্যাপসিকামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। ভিটামিন সি দেহে আয়রন শোষণে সহায়তা করে। এতে দেহে আয়রনের অভাব জনিত সমস্যা দূর হয়। এবং এটি রক্তাল্পতার মতো রোগও প্রতিরোধ করে।

৭) উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা কমায়:
ক্যাপসিকামের ক্যাপসাইসিন উচ্চ রক্ত চাপের সমস্যা নিয়ন্ত্রনে রাখতে সহায়তা করে।

৮) হজম সংক্রান্ত নানা সমস্যা দূর করে:
পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে ক্যাপসিকামের জুস হজম সংক্রান্ত নানা সমস্যা ও পেটের পীড়া জনিত রোগ যেমন গ্যাস হওয়া, ডায়রিয়া, ডিসপেপসিয়া ইত্যাদি দূর করতে সহায়তা করে। যারা গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য ক্যাপ্সিকাম খুবই ভাল। এটি পাকস্থলীর আলসার বা ঘা সারাতেও সাহায্য করে।

৯) চামড়া পরিষ্কার:
চামড়া পরিষ্কার রাখতে ক্যাপসিকাম বেশ উপকারী, এটি চামড়ার র‍্যাশ হওয়া ও ব্রণ প্রতিরোধ করে।

১০)ব্যথা থেকে মুক্তি :
ক্যাপসিকাম যেকোনো ব্যথা থেকে মুক্তি দেয়। মাইগ্রেন, সাইনাস, ইনফেকশন, দাঁতে ব্যথা, অস্টিওআর্থ্রাইটিস ইত্যাদি ব্যথা দূর করতে কাজ করে।
১১)সি সিকনেস:
সি সিকনেস (সমুদ্রে যাওয়ার কারণে তৈরি অসুস্থতা), ম্যালেরিয়া, জ্বর ইত্যাদি রোধে ক্যাপসিকাম বেশ কার্যকর।
১২আন্ত্রিক রোগের চিকিৎসা:
এতে অ্যালকালোয়েড, ফ্লেবোনয়েড, ক্যানিন ইত্যাদি পাওয়া যায়। অ্যালকালোয়েড অ্যান্টি-ইনফ্লামেটোরি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। ক্যানিন আন্ত্রিক রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
১৩)মস্তিষ্কের টিস্যু:
এর ভিটামিন-সি মস্তিষ্কের টিস্যুকে পুনরুজ্জীবিত করে; দেহের হাড়কে সুগঠিত করে। এটি বার্ধক্যজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ করে।
১৪) বাত প্রতিরোধ করে: ক্যাপসিকাম বাতের মতো সমস্যার প্রতিরোধ করে। সিনকোনা নামক জড়িবুটির সাথে ক্যাপসিকাম খেলে, তা গেঁটে বাত ও রিউমেটিক আর্থারাইটিসের উপশমে খুব ভাল কাজ করে।

আরও পড়ুনঃ   জেনে নিন কিছু ভেষজ উদ্ভিদের অসাধারণ গুণাগুণ

১৫) ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে: এই সবজিটি ডায়াবেটিস নিয়িন্ত্রণ করতেও কার্যকর এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্থির রাখে।

১৬) ত্বক এবং হাড়ের জন্য ভাল: যেখানে ক্যাপসিকামে উপস্থিত ভিটামিন-সি কোলাজেন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে, যা আমাদের দেহের ত্বক ও হাড়ের সন্ধিকে পরিপোষণ দেয়, সেখানে ভিটামিন-কে রক্ততঞ্চনে সাহায্য করে। এটা হাড়কে মজবুত করতে সাহায্য করে, এর মাধ্যমেই কোষের ক্ষয় রক্ষায় সহায়ক হয়।

১৭) অনাক্রমতাকে উন্নত করে: ক্যাপ্সিকামে উপস্থিত ভিটামিন-সি আমাদের অনাক্রমতা বা ইমিউনিটিকে উন্নত করতে সাহায্য করে। বেল পেপারের সাদা ঝিল্লিতে পাওয়া ক্যাপ্সায়াসিন কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এবং এর ফলে অনাক্রমতা উন্নত হয়।

১৮) হৃদযন্ত্রের জন্য ভাল: একটি সুস্থ হৃদযন্ত্রের জন্য লাল ক্যাপ্সিকাম খুবই ভাল, উৎকৃষ্ট লাইকোপেন উপাদানের উপস্থিতির জন্য একে ধন্যবাদ; যেখানে সবুজগুলিতে ফাইবার রয়েছে যা কোলেস্টেরলকে কমায়। বেল পেপারে উপস্থিত ভিটামিন-বি ও ফোলেট, হোমোসিস্টেন যা কিনা হার্টের পক্ষে ক্ষতিকর, সেটির মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। ক্যাপসিকামে উপস্থিত পটাসিয়াম রক্তচাপ নিয়িন্ত্রণে সাহায্য করে।

সুতরাং আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় একটি করে ক্যাপসিকাম রাখলে অনেকরকম অসুখ থেকে মুক্তি পেতে পারেন।এছাড়াও পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে ক্যাপসিকামের জুস হজম সংক্রান্ত নানা সমস্যা ও পেটের পীড়া জনিত রোগ যেমন গ্যাস হওয়া, ডায়রিয়া ইত্যাদি দূর করতে সহায়তা করে।

কিডনিতে পাথর-কিডনিতে পাথর হলে করণীয়

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

2 + 7 =