চিরতার উপকারিতা- চিরতার পানি পানের ২৪টি উপকারিতা

0
1052
চিরতার পানি

 চিরতা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। সংক্রামক অসুখগুলোর বিরুদ্ধেও রয়েছে চিরতার অগ্রণী পদক্ষেপ।

গবেষণা করে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত তিতা খাবার খান, তাদের অসুখ হওয়ার প্রবণতা কম থাকে। যে কোনো কাটা, ছেঁড়া, ক্ষতস্থান দ্রুত শুকায়। চিরতার স্বাদ তেতো হলেও এই ফলটির রয়েছে নানান গুণ। চিরতার পাতলা ডালপালা ধুয়ে পরিষ্কার করে গ্লাস বা বাটিতে পানিতে সারা রাত ভিজিয়ে রেখে সকালে ওই পানি খেতে অনেক উপকার পাওয়া যায়।

ইউনানী চিকিৎসা অনুযায়ী চিরতা হৃৎপিণ্ড ও যকৃতের সবলকারক, চোখের জ্যোতিবর্ধক ও জ্বর রোগে বিশেষ উপকারী এই চিরতা। আমাদের আজকের এই প্রতিবেদনে চিরতার উপকারিতা ও গুণাগুণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হল-

১। শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।

২। নিয়মিত তিতা খাবার খেলে অসুখ হওয়ার প্রবণতা কম থাকে। চিরতা এর মধ্যে অন্যতম।

৩। চিরতা খেলে যেকোনো কাটা, ছেঁড়া, ক্ষতস্থান দ্রুত শুকায়।

৪। ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য চিরতা ভীষণ জরুরি পথ্য। চিরতার রস দ্রুত রক্তে চিনির মাত্রা কমিয়ে দেয়।

৫। উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল, উচ্চরক্তচাপ, অতি ওজনবিশিষ্ট ব্যক্তির জন্যও চিরতা দরকারি।

৬। টাইফয়েড জ্বর হওয়ার পর আবারও অনেকের প্যারাটাইফয়েড জ্বর হয়। তাই টাইফয়েড জ্বরের পরে চিরতার রস খেলে যথেষ্ট উপকার পাওয়া যায়।

৭। চিরতার রস কৃমিনাশক।

৮। তারুণ্য ধরে রাখতেও চিরতার গুরুত্ব অপরিসীম। নিজের তারুণ্য ধরে রাখার জন্য রোজ চিরতার জল খেতে পারেন। কারণ চিরতা রক্তকে পরিষ্কার করে। রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। যেটি তারুণ্য ধরে রাখার একটি শর্ত।

৯। শরীরের ঝিমুনিভাব, জ্বরজ্বর লাগা দূর করে চিরতার রস।

১০। নিয়মিত তিতা বা চিরতার রস খেলে ফুড পয়জনিং হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।

১১। চিরতা রক্ত পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে।

১২। ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য চিরতা ভীষণ জরুরি পথ্য। চিরতার রস দ্রুত রক্তে চিনির মাত্রা কমিয়ে দেয়। ফলে ডায়াবেটিস থাকে নিয়ন্ত্রণে। উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ, অতি ওজনবিশিষ্ট ব্যক্তির জন্যও চিরতা দরকারি।

আরও পড়ুনঃ   মধু ও দারুচিনি একসঙ্গে খেলে কী হয় ?

আরও কিছু উপকারিতা নিম্নরুপঃ

১৩।চিরতা শরীরকে ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস আক্রান্ত হতে দেয় না 

আমরা জানি তেঁতো খাবার খেলে শরীর ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস থেকে কম আক্রান্ত হয়। তার ফলে শরীর কম অসুস্থ হয়। আর চিরতার স্বাদ অত্যন্ত তেতো। তাই চিরতা জল শরীরকে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবার হাত থেকে বাঁচায়।

১৪।চিরতা অ্যালার্জির সমস্যা  দূর করে 

অনেকেরই মারাত্মক অ্যালার্জির সমস্যা থাকে। অ্যালার্জির জন্য শরীর ফুলে যায়, চোখ ফুলে যায় ও আরও সমস্যা হয়। চিরতা এক্ষেত্রে উপকারি। রোজ সকালে চিরতার জল খান উপকার পাবেন। এছাড়াও ত্বকের অন্যান্য সমস্যাও নিয়ন্ত্রণ করে চিরতার জল।

১৫।চিরতার জল লিভারকে পরিষ্কার রাখে

আজকাল অনেকেই লিভারের সমস্যায় ভোগেন এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করতে চিরতার জল উপকারি। চিরতার জল লিভারকে পরিষ্কার রাখে। এছাড়া লিভারের বিভিন্ন সমস্যা যেমন ফ্যাটি লিভার ও আরও অন্যান্য সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করতেও সাহায্য করে।

১৬।চিরতা শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার রাখে

চিরতা পরিস্কারক হিসাবেও কাজ করে। চিরতার জল শরীর থেকে ক্ষতিকারক টক্সিন বার করে। শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার রাখে। ও ফ্রেশ রাখে। যেটা শরীরকে সুস্থ রাখতে খুব জরুরি।

১৭।চিরতা ত্বকের যত্ন নিতে সাহায্য করে

ত্বকের জন্যও চিরতা খুব উপকারি। ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা যেমন, চামড়ার ঘা, অন্যান্য ক্ষত সারাতে অনবদ্য। এছাড়াও ত্বকের অন্যান্য যেকোনো ইনফেকশন সারাতে এটি উপকারি। রোজ যদি চিরতার জল খাওয়া যায় তাহলে স্কিন ইনফেকশনের হাত থেকে বাঁচা যায়। ত্বক ভালো থাকে।

১৮।চিরতা বদহজম, অ্যাসিডিটি থেকে রক্ষা করে 

যদি হজমের সমস্যা থাকে তাহলেও খেতে পারেন চিরতার জল। এটি বদহজম, অ্যাসিডিটি থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও যদি কোষ্ঠকাঠিন্যর সমস্যা থাকে তাহলে চিরতার জল খুব উপকারি। এই সকল সমস্যা থেকে মুক্তি পাবার জন্য রোজ চিরতার জল খেলে উপকার পাবেন।

১৯।চিরতা অ্যানিমিয়ার সমস্যা দূর করে 

এছাড়াও অ্যানিমিয়ার সমস্যা কমাতেও চিরতার জল খুব উপকারি।রক্ত কমে গেলে অ্যানিমিয়ার সমস্যা দেখা দেয়। চিরতার জল রক্ত উৎপাদনে সাহায্য করে।

আরও পড়ুনঃ   গুণে ভরা গোলাপ জল

তবে চিরতা যেহেতু ব্লাড সুগার লেবেলকে কম করে, তাই এটি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাওয়া উচিত। আর চিরতা খুব তেঁতো তাই বমি হয়ে যাবার সম্ভবনা থাকে। এছাড়া চিরতার জল খুবই উপকারি সেটা দেখলেন। তাই শরীরকে সুস্থ্য রাখার জন্য এবার থেকে রোজ খান চিরতার জল।

২০। সংক্রামক অসুখ-বিসুখের বিরুদ্ধে লড়বে চিরতা

চিরতা নানা রকম সংক্রামক অসুখ-বিসুখের হাত থেকে আপনাকে রক্ষা করবে। কারণ চিরতায় রয়েছে এমন কিছু উপাদান, যা সাধারণ সর্দি, কাশি প্রতিরোধ করে। দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এটি। সেই সাথে কাটা-ছেঁড়া ও ক্ষতস্থান দ্রুত সারাতে সাহায্য করে এই উপাদান।

২১।নিয়ন্ত্রণে রাখুন আপনার ডায়াবেটিস

আপনি যদি ডায়াবেটিস রোগী হয়ে থাকেন, তাহলে তা নিয়ন্ত্রণ করতেই পারেন নিয়মিত ভাবে চিরতার রস পান করে। চিরতার রস রক্তে চিনির মাত্রা কমিয়ে দেয়। ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।

২২। চুল পড়া রোধ করুন এখনই

অল্প বয়সে মাথার চুল সব পড়ে টেকো হওয়ার উপক্রম হলে কার ভালো লাগে বলুন! তাই চুল পড়তে আরম্ভ হলে আপনি চিরতার সাহায্য নিতে পারেন বৈ কী!

উপকরণ

 ২/৩ গ্রাম চিরতা ডাল-পাতা সহ।

পদ্ধতি

চিরতা ডাল-পাতা সহ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন পুরো ১দিন। পরের দিন সেই পানি ভালো করে ছেঁকে অল্প অল্প করে মাথায় লাগান। ১ ঘন্টা পরে গোসল করে ফেলুন। এভাবে ১ দিন পর পর ১ সপ্তাহ ব্যবহার করলে চুল পড়া রোধ করতে পারেন আপনি সহজেই।

২৩। বমি বন্ধ করবে চিরতার পানি

গর্ভাবস্থায় কিংবা কোনো অসুখ-বিসুখে ক্রমাগত বমি হতে থাকলে চিরতা গুঁড়ো করে এক গ্লাস পানির সাথে একটু চিনি মিশিয়ে খেলে বমি সাথে সাথে বন্ধ হয়ে যায়।

২৪। এলার্জি বা ত্বকে খোস পাঁচড়া হলে চিরতা ব্যবহার করুন

ত্বকে এলার্জি, খোসপাঁচড়া কিংবা কোনো ঘা হলে পরিমাণ মতো চিরতা সরিষার তেল দিয়ে ভেজে নিন। এবার সেটা ঠান্ডা করে অল্প অল্প করে চুলকানির জায়গায় লাগিয়ে দিন। এতে যে কোনো ধরনের চুলকানিই অল্প সময়ের মধ্যে ভালো হয়ে যাবে।

আরও পড়ুনঃ   বিটের যত স্বাস্থ্য উপকারিতা

দেখলেন তো? এত তেঁতো একটা পানীয় কতো সহজেই আপনার কতগুলো সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে? শুধু তাই নয়, তারুণ্য ধরে রাখতেও চিরতার রস পান করার কোনো জুড়ি নেই। তাহলে দেরী না করে আজ থেকেই না হয় একটু কষ্ট করে নিয়মিত পান করা শুরু করুন চিরতার রস? এতে আপনার শরীরের অনেক অনেক সমস্যার সমাধান তো হবেই, সেই সাথে আপনার ফিগার আর ত্বকও হয়ে উঠবে আকর্ষণীয়।

ঔষধী গুণ:- ফুলন্ত অবস্থায় পুরো গাছ তুলে শুকিয়ে নিয়ে ওষুধের কাজে ব্যবহার করা হয়। অত্যাধিক তিক্ততা, জ্বর ও কৃমিনাশক শক্তি এবং পাচকতার গুণে চিরতা সারা ভারতে সুপ্রসিদ্ধ। ঔষধী গুণে, চিরতা জেণ্টিআনা কুরুর অনুরূপ। জ্বর, অতিসার এবং দুর্বলতায় চিরতা খুব উপকারী। ম্যালেরিয়াতেও দেওয়া হয় কিন্তু চিরতার জ্বর কমানোর শক্তি পরীক্ষায় প্রমাণিত নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

13 − one =