চুমু খাওয়ার ১৯ স্বাস্থ্যগত উপকারিতা-চুমুর অপকারিতা কী?

0
1662
চুমু খাওয়ার উপকারিতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, চুমু কেবলমাত্র প্রেম-ভালোবাসা-আদর প্রকাশের মাধ্যম নয়। এর কিছু স্বাস্থ্যগত বিষয় রয়েছে। উদাহারণস্বরূপ ধরুন আপনি খুব মানসিক চাপে আছেন কোনো কিছু নিয়ে। এই সময়ে ভালোবাসার মানুষটির একটি চুম্বনেই আপনার মানসিক চাপ অনেকখানি কমে যাবে। নিয়মিত চুম্বনে মানুষের যৌবনও বৃদ্ধি পায়। শারীরিক অনুশীলন করার মতোই চুমু শরীরে হ্যাপি হরমোন নিঃস্বরণ করে। যা আপনাকে অতিরিক্ত খাওয়া থেকে নিরুৎসাহিত করে এবং আপনার শারীরিক মাপ ঠিক রাখে। এ ছাড়াও চুমু আপনার হৃৎপিণ্ডের জন্য ভালো এবং এটা আপনার দাঁতের ক্ষয়রোধ করে। আসুন জেনে নিই চুম্বনের সেই সব গুণের কথা:

জীবন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা: গবেষকদের মতে যারা নিয়মিত চুম্বন করে জীবন সম্পর্কে তাদের ধারণা বেশ ইতিবাচক। এসব যুগল অন্যদের তুলনায় বেশি দীর্ঘ ও সুস্থ্ জীবন যাপন করে।

ব্যথা দূর করে : চুমুর কারণে দেহে অ্যান্ড্রেনালাইন হরমোনের ক্ষরণ ঘটে। এই হরমোন ব্যথা নাশ করে। চুমুর মাধ্যমে মাথাব্যথার মতো যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মেলে।

দাঁতের ক্ষয়রোধ:
অনেকেরই চুমু খাওয়ার আগে মুখ ও দাঁতের যত্ন নেওয়ার অভ্যাস আছে। কিন্তু আপনি কি জানেন চুমুও দাঁত ও মুখের সুস্বাস্থ্যের জন্য ভালো। চুমু স্যালভিয়া নিঃস্বরণ বাড়ায়। এটি অ্যাসিডের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়, খাবারের কণাগুলো সরিয়ে দেয় এবং দাঁতের ক্ষয়রোধ করে।

ব্যথা: চুমু খেলে মস্তিষ্কে এন্ডরফিন নামক হরমোনের ক্ষরণ হয়, যা দেহে ব্যথা-বেদনা কমাতে সাহায্য করে।

অ্যালার্জির সম্ভাবনা কমায়:
চুম্বনে অ্যালার্জির সম্ভাবনা কমায়। বিশেষ করে মৌসুমী অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমতে পারে চুম্বনের ফলে। জাপানি এক গবেষণায় বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।

হৃদপিণ্ড: চুমুর সঙ্গে রয়েছে হৃদয়ের ঘনিষ্ঠ এক সম্পর্ক। তাই, যারা হামেশাই একে অপরকে চুমু খান তাদের হৃদপিণ্ড অনেক বেশি সুস্থ থাকে।

ইনসমনিয়া সারায়: যারা চুমু খেতে ভালোবাসেন এবং নিয়মিত চুমু খান তাদের ইনসোমনিয়ার সমস্যা হয় না। অন্যদের তুলনায় তারা মানসিকভাবে স্থির প্রকৃতির হয়।

আরও পড়ুনঃ   সাদা না বাদামি, কোন ডিম খাবেন?

রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা: দেহে রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়ায় ভালবাসার চুমু। শুধু তাই নয়, চুমু খেলে আইজিই অ্যান্টিবডি হ্রাস পায় এবং মাস্ট সেল থেকে হিস্টারিনের ক্ষরণও কমে। ফলে অ্যালার্জির হাত থেকে রক্ষা পাবে আমাদের শরীর।

স্ট্রেস কমায় : মানসিক চাপ সামলে নিতে দারুণ এক মাধ্যম চুম্বন। দেহে কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোন কমায় চুমু। কাজেই এর সঙ্গে স্ট্রেসও দূর হবে।

মেজাজ ফুরফুরে থাকে: চুম্বন করলে মেজাজ ফুরফুরে থাকে। প্রতিদিন সকালে মাত্র ২ মিনিট চুম্বন করলে সারা দিন আপনার মন-মেজাজ উত্ফুল্ল থাকবে।

মানসিক চাপ কমায়:
চুমু খাওয়ার ফলে তা আপনার মন থেকে ডজনখানেক সমস্যার চিন্তা দূর করে দেয়। বৈজ্ঞানিকভাবে বলতে গেলে চুমু খাওয়ার ফলে শরীরের অক্সিটসিনের মাত্রা বেড়ে যায়। এটি শরীরের শান্ত করার রাসায়নিক। এ ছাড়াও চুমুর ফলে আপনি গভীরভাবে শ্বাস নিতে পারবেন, যা শরীরকে রিলাক্স হতে সহায়তা করবে।

যৌন আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি করে : মানুষের নানা সমস্যা দূর করে যৌনতা। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং হৃদযন্ত্রের দেখভাল করে। আর যৌনতায় আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি করে চুমু।

মাইগ্রেইন: মাথায় যন্ত্রণা বা মাইগ্রেনের মতো ক্রনিক ব্যথার থেকেও মুক্তি দেবে মুহূর্তের গভীর একটা চুমু।

ক্যালরি ক্ষয়: আপনি যদি মনে করেন, শুধু জিম করা বা দৌড়ানোর মাধ্যমে দ্রুত শরীরের কিছু ক্যালরি ক্ষয় করা যাবে, তাহলে আপনি ভুল করছেন। কারণ বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, চুমু খাওয়া হলে প্রতি মিনিটে মাত্রাভেদে এক থেকে দুই ক্যালরি ক্ষয় হয়। এ কারণে আপনি যদি দৈনন্দিন ফিটনেসের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রাখেন চুমুকে তাহলে তা খুবই কার্যকর হবে।

রোগ-বালাই দূর করে : বিজ্ঞানীরা বলেন, চুমুর মাধ্যমে দুজনের মধ্যে সুষ্ঠু বিপাকক্রিয়া শুরু হয়। বিশেষ করে চুমুর মাধ্যমে যদি ঘটনা যৌনতার দিকে গড়ায়, তবে বহু ক্ষতিকর ভাইরাসের পতন ঘটে।

তারুণ্য ধরে রাখবে: চুমুর ফলে মুখের প্রায় ৩০টি পেশির উদ্দীপনা হয়। এ ছাড়াও এর উপকারিতার মধ্যে রয়েছে আপনার কপালের ত্বক থেকে শুরু করে চোয়ালের মসৃণতা তৈরি পর্যন্ত। আপনার তারুণ্য অনুভব করতে এটি যেমন সাহায্য করবে তেমনি আপনাকে তা তরুণ দেখাতেও সাহায্য করবে। মুখের রক্তচলাচল বেড়ে যাওয়ায় এর মাধ্যমে আপনার মুখের দ্যুতি বেড়ে যায় এবং বয়সের কারণে সৃষ্ট মুখের বলিরেখা কমায়।

আরও পড়ুনঃ   কোলেস্টরল কমানোর প্রাকৃতিক উপায় জেনে নিন

সুখী করে তোলে : চুমুর মাধ্যমে এন্ডোফিনস এবং এন্ডোরফিনস হরমোনের ক্ষরণ ঘটায় যা মানুষকে সুখী করে তোলে। অর্থাৎ, চুমুর মাধ্যমে মানুষ সুখকর অনুভূতি পায়।

বন্ধন সুদৃঢ় করে : দম্পতিদের মধ্যে সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করে লিপ কিস। চুমুর সময় উভয়ের দেহে অক্সিটোসিন হরমোন নিঃসৃত হয় যা বন্ধন দৃঢ় করে।

দুটি মানুষের ভালোবাসা প্রকাশের এই মাধ্যমে শরীরের নানান উপকারীতা লুকিয়ে আছে। চুম্বনকে মনের খোরাকের পাশাপাশি শরীরের খোরাকও বলা যেতে পারে। তাই ভালোবাসার মানুষটিকে চুম্বন করে সুস্থ, দীর্ঘ ও সুখী জীবন লাভ করুন। তবে চুমুর কিছু অপকারিতা আছে বলে এক গবেষণায় বলা হয়েছে।

চুমুর অপকারিতা:
চুমু খাওয়ার উপকারের পাশাপাশি এর ক্ষতিকর দিকও রয়েছে। চুমুতে ভালোবাসা বাড়ে, ভালোবাসা ছড়ায় এমনি জানা ছিল, কিন্তু চুমুর মধ্যে দিয়ে ব্যাকটেরিয়ার আদানপ্রদান হয় তা কি জানা আছে? নতুন এক গবেষণা বলছে মাত্র ১০ সেকেন্ডের গভীর চুমুতে ৮ কোটি ব্যাকটেরিয়া একজনের লালার সঙ্গে অন্যজনের মুখে প্রবেশ করে। যে যুগল দিনে যতবার বেশি চুমু খায় তাদের মুখের মধ্যের মাইক্রোব্যাকটেরিয়ার তত বেশি মিল থাকে।
নেদারল্যান্ডসের অরগানাইগেশন ফর অ্যাপলায়েড সায়েন্টিফিক রিসার্চের গবেষক রেমকো কোর্ট আমস্টারডামের মাইক্রোপিয়া (পৃথিবীর প্রথম মাইক্রোবসদের মিউজিয়াম)-এর সঙ্গে যৌথভাবে ২১ জনের যুগলের উপর একটি পরীক্ষা চালিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে চুমু খাওয়ার সময় তাদের আচরণ, কত ঘন ঘন তারা চুমু খান এই সব প্রশ্ন সহ একটি তালিকা পূরণ করতে দেওয়া হয়েছিল এই ৪২জনকে।
এরপর প্রতি যুগলের যেকোনো একজনকে বেছে নিয়ে বিশেষ একধরণের ব্যাকটেরিয়া ভর্তি প্রোবায়োটিক পানীয় খেতে দেওয়া হয়েছিল।
এরপর তাদের সঙ্গি বা সঙ্গিনীকে ঘন চুমু খেতে বলা হয়। একবারের ঘন চুমুর পর দেখা গেছে যিনি ওই পানীয় খাননি তার মুখের লালার মধ্যে প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার (ক্ষতিকারক নয় এমন ব্যাকটেরিয়া)সংখ্যা তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
হিসাব করে দেখা গেছে মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যে একজনের মুখ থেকে অন্যজনের মুখে কমবেশি আট কোটি ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করেছে।
কোর্ট জানিয়েছেন তাঁদের এই পরীক্ষা শেষে দেখা গেছে যে যুগল যত ঘন ঘন নিবিড় চুমু খান তাদের লালার মাইক্রোবায়োটা (ব্যাকটেরিয়া বসতি) একই রকম হয়। গড়ে দিনে অন্তত ৯ বার চুমু খেলে মুখের মাইক্রোবায়োটা একই রকম হয়ে যায়।
মানুষের শরীরে গড়ে ১০০ ট্রিলিয়ন উপকারী মাইক্রোঅরগানিসম থাকে। এই মাইক্রো-অরগানিজম খাবারের পাচন, পুষ্টি সংশ্লেষ ও রোগপ্রতিরোধে অপরিহার্য। মুখের মধ্যে কমবেশি ৭০০ ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে।

আরও পড়ুনঃ পুরুষ বান্ধব ১৪টি খাবার-পুরুষরা খান এই খাবারগুলো

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

4 × three =