জন্ডিসের খাবারঃ জন্ডিসের কিছু ঘরোয়া প্রতিকার জেনে নিন

0
105
জন্ডিসের খাবার

ন্ডিস এক ধরণের পানিবাহিত রোগ। যখন রক্তের বিলিরুবিনের মাত্রা অনেক বেশি হয়ে যায় তখন জন্ডিস হয়। জিনগত সমস্যার কারণে বিলিরুবিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও যকৃতের রোগ, দীর্ঘ সময় খাবার না খাওয়া, থাইরয়েডের সমস্যা ইত্যাদি কারণে রক্তের বিলিরুবিনের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে ত্বক হলুদ হয়ে যায় এবং চোখ সাদা হয়ে যায়। এছাড়াও শরীর ভীষণ দুর্বল হয়ে যায়, পেটে ব্যথা হয়, ওজন কমে যায়, জ্বর আসে এবং বমি হওয়ার মত লক্ষণগুলোও দেখা যায় জন্ডিস হলে। এছাড়া এই রোগে লিভারে কিংবা যকৃতে সমস্যা দেখা দেয়। এর সঠিক চিকিৎসা না নিলে রোগী মারাও যেতে পারে। একবার জন্ডিসের প্রভাব শরীরে পরা মানে তার যকৃৎ আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া । জন্ডিস কিন্তু শুধু ওষুধে সারানো সম্ভব নয়। জন্ডিসের রোগীদের খাওয়া দাওয়ার দিকে অনেক নজর দিতে হয়। তেল ও মশলাদার খাওয়া একেবারে মানা। যে খাবার সহজে হজম হয় এমন ধরণের খাবার খাওয়া উচিত। ভালো খবর হচ্ছে কিছু ঘরোয়া উপায়ে নিয়ন্ত্রণে আনা যায় জন্ডিস। তাই জন্ডিস দ্রুত সারাতে চাইলে কিছু খাবার খাওয়া জরুরী। সেগুলো নিচে দেওয়া হলো:-

আমন্ড/কাঠবাদাম

প্রত্যেকদিন যদি ২-৪টি করে ভেজানো আমন্ড খাওয়া যায় তাহলে যকৃতের স্বাভাবিক কাজ অক্ষুণ্ণ রাখা সহজ হয়। আমন্ড শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করে এবং শরীরের শক্তি সঞ্চয়ে সাহায্য করে।

বার্লি পানি

দৈনিক প্রচুর পরিমাণে বার্লি পানি পান করা পরিপাক তন্ত্রের কাজের উন্নতিতে সাহায্য করে। ৩-৪ লিটার পানিতে ১ কাপ বার্লি মেশান এবং এটিকে ৩ ঘন্টা ফুটতে দিন। নিয়মিত এই দ্রবণটি পান করলে তা জন্ডিসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে সুস্থ হতে সাহায্য করে।

পরিমিত পানি

জন্ডিস হলে প্রতিদিন অন্তত আট গ্লাস করে পানি খেতে হবে। কেননা জন্ডিস এক ধরণের পানিবাহিত রোগ। তাই এ সময় শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দেয়। তাই পরিমিত পানি খেলে অতিরিক্ত টক্সিন বের হয়ে যায়। ফলে লিভার ফাংশক ঠিক থাকে।

আখের রস

আখের রস জন্ডিসের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষেত্রে আখের রস আপনার অন্যতম অস্ত্র হতে পারে। দৈনন্দিন নিয়ম করে এক গ্লাস আখের রস খেতে পারলে যকৃতের কার্যক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।আখের রস শুধু ঘন ঘন প্রস্রাব হতেই সাহায্য করে না, বরং যকৃতের স্বাভাবিক কাজে, বিলিরুবিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এবং পিত্ত রস নিঃসরণেও সাহায্য করে। সম্ভব হলে দিনে ২-৩ বার পান করুন আখের রস। আখের রসের সাথে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে নিলে উপকারিতা পাবেন। তবে অবশ্যই তা বাসায় তৈরি করবেন, রাস্তার আখের রস পান করবেন না।

হার্বাল টি

জন্ডিস রোগ হলে কখনই কফি বা চা কিংবা কোকো খাবেন না। এতে মারত্মক ক্ষতি হতে পারে। এইসব খাবারের পরিবর্তে হার্বাল টি খান। এমনকি দুগ্ধজাত খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে।

হজমে সাহায্যকারী খাবার

জন্ডিস হলে খাবার হজম হতে সমস্যা হয়। তাই যেসব খাবার দ্রুত হজম হয় সেরকমই উৎসেচক সমৃদ্ধ খাবার তালিকায় রাখুন। যেমন- মধু, কমলালেবু, আনারস, পেঁপে, পাকা আম ইত্যাদি খান।

ফাইবারযুক্ত খাবার

জন্ডিস রোগে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার অবশ্যই খাবেন। ফাইবার জাতীয় ফল, সবজি তো অবশ্যই। এছাড়াও বাদাম, শস্যদানা যেমন- ওটমিল, আমন্ড, ব্রাউন রাইস ইত্যাদি বেশি করে খাবেন।

সুগার জাতীয় খাবার

জন্ডিস হলে সুগার জাতীয় খাবার খেতে হবে তবে তা পরিমিত হতে হবে। যেমন- আখের রস জন্ডিসের জন্য খুবই উপকারী। তবে হ্যা, রাস্তার ধারে বিক্রি হওয়া আখের রস খাবেন না। বাড়িতে আখ কিনে এনে কেটে খান কিংবা রস করে খেতে পারেন। এছাড়া সামান্য চিনি দিয়ে ইয়োগার্ট খেতে পারেন। তবে অতিরিক্ত চিনি লিভারের জন্য ক্ষতিকর।

মূলার জুস  

যকৃৎ এবং পাকস্থলীর জন্য উপকারী মূলা। বিশেষ করে যকৃতের ক্ষেত্রে এটি অনেক বেশি কার্যকরী এর স্বাভাবিক কাজ নিশ্চিত করার জন্য। এছাড়াও বিলিরুবিনের মাত্রাকে স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসার মাধ্যমে জন্ডিস নিরাময়ে সাহায্য করে মূলার জুস। মূলার রস প্রতিদিন নিয়মিত বিরতিতে পান করলে ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়।

আরও পড়ুনঃ   সিজনাল ফ্লু ও করণীয়

পুদিনার পাতা

লিভার ফাংশনের জন্য খুবই উপকারী পাতা হচ্ছে পুদিনা। এর পাতা প্রতিদিন সকালে চার-পাঁচটি খেলে জন্ডিসের জন্য ভালো উপকার পাওয়া যাবে। এছাড়া পুদিনার জুস করে খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়।

লেবুর জুস

লেবুর রস লেবুতেও ভিটামিন সি পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। লেবু পিত্তনালী পরিষ্কার করে। খালি পেটে পাতি লেবুর রস খান তাহলে দ্রুত ঠিক হয়ে উঠতে পারবেন। ক্ষতিগ্রস্থ কোষের মেরামতে সাহায্য করে লেবুর রস। এটি শুধু আপনার জন্ডিস নিরাময়েই সাহায্য করবে না বরং আপনাকে সতেজ হতেও সাহায্য করবে। (সম্ভব হলে) প্রতিদিন ২-৩ গ্লাস লেবুর জুস পান করলে আপনার রোগ নিরাময়ের প্রক্রিয়ার গতি বৃদ্ধি পাবে।

আনারস

জন্ডিসে আখের রস যেমন ভালো কাজ করে তেমনি আনারসও সেই ভূমিকা পালন করে। এছাড়া লিভার পরিশোধনে আনারস খুবই উপকারী।

যষ্টি মধু

যষ্টিমধু একটি ভালো ডিটক্সিফায়ার। প্রাচীনকাল থেকেই এটি জন্ডিসসহ যকৃতের রোগ নিরাময়ে ব্যবহার হয়ে আসছে। এছাড়াও স্ট্রেস মুক্ত হতেও সাহায্য করে যষ্টিমধু, যা যে কোন রোগ নিরাময়ের জন্য প্রয়োজনীয়। যষ্টিমধুর মূল আপনার প্রিয় কোন পানীয় যেমন- চা বা স্যুপ এর সাথে ফুটিয়ে নিয়ে পান করতে পারেন।

বেদানা
বেদানায় প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। এমনকী সোডিয়ামও রয়েছে যা জন্ডিস নিরাময়ে সাহায্য করে।

পেঁপে পাতা মধু

পেঁপে যকৃতের সমস্যা নিরাময়ে সাহায্য করে। পেঁপের পাতা এই কাজটি আরো অনেক কার্যকরীভাবে করতে পারে। পেঁপে পাতার পেস্টের সাথে ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে পান করলে জন্ডিসের অসুস্থতা থেকে নিরাময় লাভ করতে সাহায্য করবে। মধু যোগ করায় এর স্বাদ বৃদ্ধি পায়। তার পাশাপাশি এর উপাদান যকৃতের জন্যও উপকারী।

আদা

আদার রস খুব একটা সুস্বাদু পানীয় নয়। কিন্তু এটি যকৃৎকে সমস্যা থেকে সুরক্ষা দেয় এবং এর স্বাভাবিক কাজের উন্নতি ঘটায়। আদার রসের সাথে মধু মিশিয়ে দিনে ২-৩ বার পান করুন জন্ডিস থেকে মুক্ত হতে।

গাজরের জুস

ভিটামিন এবং পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ গাজরের জুস খুবই সুস্বাদু। এটি শুধু ডিটক্সিফাই হতেই সাহায্য করে না বরং যকৃতকে পুনরুজ্জীবিত হতেও সাহায্য করে। প্রতিদিন ১ গ্লাস গাজরের জুস পান করা জন্ডিস থেকে নিরাময় লাভ করার প্রক্রিয়াকে আরো গতিময় করে।

আমলকি

আমলকিতেও ভিটামিন সি প্রচুর পরিমাণে আছে, জন্ডিস নিরাময়ে অত্যন্ত উপযোগী এটি। এই আমলকি যকৃতের কোষকে পুনরুজ্জীবন দেয়।

বাটারমিল্ক

বাটারমিল্কে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও ক্যালসিয়াম রয়েছে। যেহেতু বাটারমিল্ক ফ্যাটফ্রি হয়, তাই সহজ পাচ্যও বটে। রোজ বাটার মিল্ক খেতে পারলে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন আপনি।

টমেটো জুস

টমেটো টমেটোয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে, এবং এটি ভিটামিন সি-এ পরিপূর্ণ। টমেটো জুস যদি অল্প নুন দিয়ে খালি পেটে ১০-১২ দিন খাওয়া যায় তাহলে ভাল ফল পাওয়া যায় ।

জন্ডিস থেকে নিরাময় লাভ করতে একটু সময়ের প্রয়োজন হয়, তবে উপরে উল্লেখিত প্রতিকারগুলো এই প্রক্রিয়াকে সহজ হতে সাহায্য করে। এছাড়াও প্রচুর পানিও পান করতে হবে জন্ডিস থেকে নিরাময় লাভ করার জন্য।

সম্ভব হলে নিচের ৩টি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে পারেন:-
অলিভ অয়েল
হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হলে ট্রান্স-ফ্যাটজাতীয় খাবার না খাওয়াই ভালো। কারণ এই জাতীয় খাবার উচ্চহারে সুসিক্ত। পাম অয়েলের মতো কিছু তেল এমন উচ্চহারে সুসিক্ত। এর সবচেয়ে ভালো বিকল্প হতে পারে অলিভ অয়েল। প্রতিদিন ২-৩ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া ক্যানোলা বা শ্বেত বীজের তেলও খাওয়া যেতে পারে। তবে সরিষার তেলেও কোনো সমস্যা নেই বললেই চলে।

চর্বিহীন মাংস
লিভার সুস্থ রাখার জন্য চর্বিহীন মাংস খেতে হবে। লাল মাংস না খেয়ে মুরগির মাংস খাওয়াই ভালো।

ডিম
ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামত এবং নতুন টিস্যু তৈরিতে প্রোটিন জরুরি। আর ডিম হলো সহজে হজমযোগ্য প্রোটিন উৎস।সুতরাং হেপাটাইটিস বি রোগীদের জন্য ডিম খাওয়াটা নিরাপদ।

আরও পড়ুনঃ   থ্যালাসেমিয়া কী? থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা কী?


ন্ডিস এক ধরণের পানিবাহিত রোগ। যখন রক্তের বিলিরুবিনের মাত্রা অনেক বেশি হয়ে যায় তখন জন্ডিস হয়। জিনগত সমস্যার কারণে বিলিরুবিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও যকৃতের রোগ, দীর্ঘ সময় খাবার না খাওয়া, থাইরয়েডের সমস্যা ইত্যাদি কারণে রক্তের বিলিরুবিনের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে ত্বক হলুদ হয়ে যায় এবং চোখ সাদা হয়ে যায়। এছাড়াও শরীর ভীষণ দুর্বল হয়ে যায়, পেটে ব্যথা হয়, ওজন কমে যায়, জ্বর আসে এবং বমি হওয়ার মত লক্ষণগুলোও দেখা যায় জন্ডিস হলে। এছাড়া এই রোগে লিভারে কিংবা যকৃতে সমস্যা দেখা দেয়। এর সঠিক চিকিৎসা না নিলে রোগী মারাও যেতে পারে। একবার জন্ডিসের প্রভাব শরীরে পরা মানে তার যকৃৎ আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া । জন্ডিস কিন্তু শুধু ওষুধে সারানো সম্ভব নয়। জন্ডিসের রোগীদের খাওয়া দাওয়ার দিকে অনেক নজর দিতে হয়। তেল ও মশলাদার খাওয়া একেবারে মানা। যে খাবার সহজে হজম হয় এমন ধরণের খাবার খাওয়া উচিত। ভালো খবর হচ্ছে কিছু ঘরোয়া উপায়ে নিয়ন্ত্রণে আনা যায় জন্ডিস। তাই জন্ডিস দ্রুত সারাতে চাইলে কিছু খাবার খাওয়া জরুরী। সেগুলো নিচে দেওয়া হলো:-

আমন্ড/কাজুবাদাম

প্রত্যেকদিন যদি ২-৪টি করে ভেজানো আমন্ড খাওয়া যায় তাহলে যকৃতের স্বাভাবিক কাজ অক্ষুণ্ণ রাখা সহজ হয়। আমন্ড শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করে এবং শরীরের শক্তি সঞ্চয়ে সাহায্য করে।

বার্লি পানি

দৈনিক প্রচুর পরিমাণে বার্লি পানি পান করা পরিপাক তন্ত্রের কাজের উন্নতিতে সাহায্য করে। ৩-৪ লিটার পানিতে ১ কাপ বার্লি মেশান এবং এটিকে ৩ ঘন্টা ফুটতে দিন। নিয়মিত এই দ্রবণটি পান করলে তা জন্ডিসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে সুস্থ হতে সাহায্য করে।

পরিমিত পানি

জন্ডিস হলে প্রতিদিন অন্তত আট গ্লাস করে পানি খেতে হবে। কেননা জন্ডিস এক ধরণের পানিবাহিত রোগ। তাই এ সময় শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দেয়। তাই পরিমিত পানি খেলে অতিরিক্ত টক্সিন বের হয়ে যায়। ফলে লিভার ফাংশক ঠিক থাকে।

আখের রস

আখের রস জন্ডিসের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষেত্রে আখের রস আপনার অন্যতম অস্ত্র হতে পারে। দৈনন্দিন নিয়ম করে এক গ্লাস আখের রস খেতে পারলে যকৃতের কার্যক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।আখের রস শুধু ঘন ঘন প্রস্রাব হতেই সাহায্য করে না, বরং যকৃতের স্বাভাবিক কাজে, বিলিরুবিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এবং পিত্ত রস নিঃসরণেও সাহায্য করে। সম্ভব হলে দিনে ২-৩ বার পান করুন আখের রস। আখের রসের সাথে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে নিলে উপকারিতা পাবেন। তবে অবশ্যই তা বাসায় তৈরি করবেন, রাস্তার আখের রস পান করবেন না।

হার্বাল টি

জন্ডিস রোগ হলে কখনই কফি বা চা কিংবা কোকো খাবেন না। এতে মারত্মক ক্ষতি হতে পারে। এইসব খাবারের পরিবর্তে হার্বাল টি খান। এমনকি দুগ্ধজাত খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে।

হজমে সাহায্যকারী খাবার

জন্ডিস হলে খাবার হজম হতে সমস্যা হয়। তাই যেসব খাবার দ্রুত হজম হয় সেরকমই উৎসেচক সমৃদ্ধ খাবার তালিকায় রাখুন। যেমন- মধু, কমলালেবু, আনারস, পেঁপে, পাকা আম ইত্যাদি খান।

ফাইবারযুক্ত খাবার

জন্ডিস রোগে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার অবশ্যই খাবেন। ফাইবার জাতীয় ফল, সবজি তো অবশ্যই। এছাড়াও বাদাম, শস্যদানা যেমন- ওটমিল, আমন্ড, ব্রাউন রাইস ইত্যাদি বেশি করে খাবেন।

সুগার জাতীয় খাবার

জন্ডিস হলে সুগার জাতীয় খাবার খেতে হবে তবে তা পরিমিত হতে হবে। যেমন- আখের রস জন্ডিসের জন্য খুবই উপকারী। তবে হ্যা, রাস্তার ধারে বিক্রি হওয়া আখের রস খাবেন না। বাড়িতে আখ কিনে এনে কেটে খান কিংবা রস করে খেতে পারেন। এছাড়া সামান্য চিনি দিয়ে ইয়োগার্ট খেতে পারেন। তবে অতিরিক্ত চিনি লিভারের জন্য ক্ষতিকর। 

মূলার জুস  

যকৃৎ এবং পাকস্থলীর জন্য উপকারী মূলা। বিশেষ করে যকৃতের ক্ষেত্রে এটি অনেক বেশি কার্যকরী এর স্বাভাবিক কাজ নিশ্চিত করার জন্য। এছাড়াও বিলিরুবিনের মাত্রাকে স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসার মাধ্যমে জন্ডিস নিরাময়ে সাহায্য করে মূলার জুস। মূলার রস প্রতিদিন নিয়মিত বিরতিতে পান করলে ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়।

আরও পড়ুনঃ   হার্ট অ্যাটাক কি? হার্ট অ্যাটাক এর কারণ, উপসর্গ ও প্রতিকারে করণীয়

পুদিনার পাতা

লিভার ফাংশনের জন্য খুবই উপকারী পাতা হচ্ছে পুদিনা। এর পাতা প্রতিদিন সকালে চার-পাঁচটি খেলে জন্ডিসের জন্য ভালো উপকার পাওয়া যাবে। এছাড়া পুদিনার জুস করে খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়।

লেবুর জুস

লেবুর রস লেবুতেও ভিটামিন সি পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। লেবু পিত্তনালী পরিষ্কার করে। খালি পেটে পাতি লেবুর রস খান তাহলে দ্রুত ঠিক হয়ে উঠতে পারবেন। ক্ষতিগ্রস্থ কোষের মেরামতে সাহায্য করে লেবুর রস। এটি শুধু আপনার জন্ডিস নিরাময়েই সাহায্য করবে না বরং আপনাকে সতেজ হতেও সাহায্য করবে। (সম্ভব হলে) প্রতিদিন ২-৩ গ্লাস লেবুর জুস পান করলে আপনার রোগ নিরাময়ের প্রক্রিয়ার গতি বৃদ্ধি পাবে।

আনারস

জন্ডিসে আখের রস যেমন ভালো কাজ করে তেমনি আনারসও সেই ভূমিকা পালন করে। এছাড়া লিভার পরিশোধনে আনারস খুবই উপকারী।

যষ্টি মধু

যষ্টিমধু একটি ভালো ডিটক্সিফায়ার। প্রাচীনকাল থেকেই এটি জন্ডিসসহ যকৃতের রোগ নিরাময়ে ব্যবহার হয়ে আসছে। এছাড়াও স্ট্রেস মুক্ত হতেও সাহায্য করে যষ্টিমধু, যা যে কোন রোগ নিরাময়ের জন্য প্রয়োজনীয়। যষ্টিমধুর মূল আপনার প্রিয় কোন পানীয় যেমন- চা বা স্যুপ এর সাথে ফুটিয়ে নিয়ে পান করতে পারেন।

বেদানা
বেদানায় প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। এমনকী সোডিয়ামও রয়েছে যা জন্ডিস নিরাময়ে সাহায্য করে।

পেঁপে পাতা ও মধু

পেঁপে যকৃতের সমস্যা নিরাময়ে সাহায্য করে। পেঁপের পাতা এই কাজটি আরো অনেক কার্যকরীভাবে করতে পারে। পেঁপে পাতার পেস্টের সাথে ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে পান করলে জন্ডিসের অসুস্থতা থেকে নিরাময় লাভ করতে সাহায্য করবে। মধু যোগ করায় এর স্বাদ বৃদ্ধি পায়। তার পাশাপাশি এর উপাদান যকৃতের জন্যও উপকারী।

আদা

আদার রস খুব একটা সুস্বাদু পানীয় নয়। কিন্তু এটি যকৃৎকে সমস্যা থেকে সুরক্ষা দেয় এবং এর স্বাভাবিক কাজের উন্নতি ঘটায়। আদার রসের সাথে মধু মিশিয়ে দিনে ২-৩ বার পান করুন জন্ডিস থেকে মুক্ত হতে।

গাজরের জুস

ভিটামিন এবং পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ গাজরের জুস খুবই সুস্বাদু। এটি শুধু ডিটক্সিফাই হতেই সাহায্য করে না বরং যকৃতকে পুনরুজ্জীবিত হতেও সাহায্য করে। প্রতিদিন ১ গ্লাস গাজরের জুস পান করা জন্ডিস থেকে নিরাময় লাভ করার প্রক্রিয়াকে আরো গতিময় করে।

আমলকি

আমলকিতেও ভিটামিন সি প্রচুর পরিমাণে আছে, জন্ডিস নিরাময়ে অত্যন্ত উপযোগী এটি। এই আমলকি যকৃতের কোষকে পুনরুজ্জীবন দেয়।

বাটারমিল্ক

বাটারমিল্কে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও ক্যালসিয়াম রয়েছে। যেহেতু বাটারমিল্ক ফ্যাটফ্রি হয়, তাই সহজ পাচ্যও বটে। রোজ বাটার মিল্ক খেতে পারলে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন আপনি।

টমেটো জুস

টমেটো টমেটোয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে, এবং এটি ভিটামিন সি-এ পরিপূর্ণ। টমেটো জুস যদি অল্প নুন দিয়ে খালি পেটে ১০-১২ দিন খাওয়া যায় তাহলে ভাল ফল পাওয়া যায় ।

জন্ডিস থেকে নিরাময় লাভ করতে একটু সময়ের প্রয়োজন হয়, তবে উপরে উল্লেখিত প্রতিকারগুলো এই প্রক্রিয়াকে সহজ হতে সাহায্য করে। এছাড়াও প্রচুর পানিও পান করতে হবে জন্ডিস থেকে নিরাময় লাভ করার জন্য।

সম্ভব হলে নিচের ৩টি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে পারেন:-
অলিভ অয়েল
হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হলে ট্রান্স-ফ্যাটজাতীয় খাবার না খাওয়াই ভালো। কারণ এই জাতীয় খাবার উচ্চহারে সুসিক্ত। পাম অয়েলের মতো কিছু তেল এমন উচ্চহারে সুসিক্ত। এর সবচেয়ে ভালো বিকল্প হতে পারে অলিভ অয়েল। প্রতিদিন ২-৩ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া ক্যানোলা বা শ্বেত বীজের তেলও খাওয়া যেতে পারে। তবে সরিষার তেলেও কোনো সমস্যা নেই বললেই চলে।

চর্বিহীন মাংস
লিভার সুস্থ রাখার জন্য চর্বিহীন মাংস খেতে হবে। লাল মাংস না খেয়ে মুরগির মাংস খাওয়াই ভালো।

ডিম
ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামত এবং নতুন টিস্যু তৈরিতে প্রোটিন জরুরি। আর ডিম হলো সহজে হজমযোগ্য প্রোটিন উৎস। সুতরাং হেপাটাইটিস বি রোগীদের জন্য ডিম খাওয়াটা নিরাপদ।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

two + 20 =