টিভি দেখার ক্ষতি -বেশিক্ষণ টিভি দেখলে শরীরের এই ১২ ধরনের ক্ষতি হয়!

0
টিভি দেখার ক্ষতি

বর্তমান বিশ্বে বাসায় বসে বিনোদনের এক অন্যতম মাধ্যম টেলিভিশন। তবে বসে বসে টিভি দেখার ফলে বিনোদনের সঙ্গে কিছু ক্ষতিও আপনার শরীরে ঢুকে যাচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, সারা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় সিংহভাগই অবসর সময়ে টিভি দেখতে পছন্দ করেন। এমনটা করাতে তাদের জ্ঞানের ভান্ডার একেবারে ফুলেফেঁপে ওঠে। সেই সঙ্গে নানা বিষয় সম্পর্কে আগ্রহও বৃদ্ধি পায়। ফলে মানুষ হিসেবে অনেক অগ্রগতি ঘটে সবার। কিন্তু একথা ভুলে গেলে চলবে না যে প্রদীপের তলাতেই কিন্তু বেশি অন্ধকার থাকে। মানে টিভি দেখার যতটা না উপকারিতা আছে, তার থেকেও অপকারিতার লিস্টটাই বেশি লম্বা। যারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা টেলিভিশনের সামনে বসে থাকেন তারা জেনে নিন- এ কারণে হ্রাস পাচ্ছে আপনার স্মৃতিশক্তি ও কমে যাচ্ছে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা। এমনটাই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। নিম্নে টিভি দেখার কিছু ক্ষতি উল্লেখ করা হলোঃ

 ১. হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়: প্রায় ৬ বছর ধরে ৮,৮০০ মানুষের উপর চালানো এক গবেষণা শেষে জানা গেছে ঘন্টার ঘন্টা টিভি দেখলে প্রতি ঘন্টায় কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজের কারণে মৃত্যুর সম্ভবনা প্রায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। আর ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে প্রায় ৯ শতাংশ। তাই তো একথা বলাই যায় যে যারা প্রতিদিন ৪ ঘন্টার বেশি সময় টিভি দেখেন তাদের হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা সাধারণ মানুষদের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি থাকে। তাই হার্টকে সুস্থ রাখতে আজ থেকেই টিভি দেখার সময় কমান। না হলে কিন্তু বিপদ!

 ২.যৌনশক্তি কমিয়ে দেয়

হাভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেল্থ এক গেবষণায় দেখে অতিরিক্ত টিভি দেখার ফলে যৌন শক্তি হ্রাস পায়। গবেষণাটি ব্রিটিশ জার্নাল অব স্পোর্টস মেডিসিন-এ প্রকাশিত হয় যেখানে দেখানো হয় টিভি দেখার ফলে একজন পুরুষের ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত যৌনশক্তি হ্রাস পায়।

 ৩. ঘুম কমে যায়: বেশি সময় টিভি দেখলে তার থেকে বেরনো আলো আমাদের মস্তিষ্কের অন্দরে তৈরি হওয়া মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ কমিয়ে দেয়। ফলে সহজে ঘুম আসতে চায় না। কারণ মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরনের সঙ্গে আমাদের ঘুমের সরাসরি যোগ রয়েছে।
৪. ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়: ২০০৩ সালে আমেরিকান মেডিকাল অ্যাসোসিয়েশনের তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত এক গবেষণা পত্র অনুসারে টানা ২ ঘন্টা টিভি দেখলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। টিভি দেখার সময় যত বাড়তে থাকে, তত আমাদের শরীরে নেতিবাচক পরিবর্তন হওয়ার মধ্যে দিয়ে মধুমেহ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পায়। প্রসঙ্গত, সেই একই সময় প্রকাশিত আরেকটি গবেষণা পত্রে উল্লেখ ছিল, যারা সপ্তাহে ৪০ ঘন্টা টিভি দেখেন, তাদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৩ গুণ বেড়ে যায়। একবার ভাবুন তাহলে বর্তমান জেট যুগে যেসব লাইফ স্টাইলে ডিজিজে বেশি সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়ে থাকেন, সেই সবকটি রোগের সঙ্গেই টিভি দেখার সরাসরি যোগ রয়েছে।
৫. ওজন বৃদ্ধি পায়: বহুক্ষণ ধরে টিভি দেখলে পেশির সঞ্চালন কমে যায়। সেই সঙ্গে হজম ক্ষমতাও কমে যেতে শুরু করে। ফলে ওজন বাড়তে থাকে। টিভি দেখার সঙ্গে ওজন বৃদ্ধির যে সম্পর্কে রয়েছে তা কিন্তু এখানেই শেষ হয়ে যায় না। একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে টিভি দেখার সময় মুখ চালাতে অনেকেই খুব পছন্দ করেন। ফলে যত বেশি সময় টিভি দেখা হয়, তত বেশি বেশি করে খাওয়াও হয়ে যায়। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই শরীরে ক্যালোরির মাত্রা বেড়ে গিয়ে ওজন বাড়তে শুরু করে। আর ওজন বাড়লে একে একে শরীরে এসে বাসা বাঁধে কোলেস্টরল, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং হার্টের রোগের মত মারণ রোগ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আয়ু কমতে শুরু করে।
৬. মনযোগ কমে যায়: ১৯৭০ সালে প্রফেসর ওয়ার্নার হেলপেরিন একটা কথা প্রসঙ্গে বলেছিলেন, টিভি দেখার সময় আমাদের সামনে দ্রুত বদলে যায় ছবি এবং আওয়াজ। যে কারণে বাচ্চাদের নিউরোলজিক্যাল সিস্টেমে মারাত্মক কু-প্রভাব পরে। ফলে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি মনযোগের ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে পড়াশোনা খারাপ হতে শুরু করে। সেই কারণেই তো বাবা-মায়েদের উচিত বাচ্চাদের টিভি দেখার অভ্যাস না করিয়ে বই পড়ার বিষয়ে বেশি আগ্রহী করে তোলা।

৭.বাচ্চাদের সহিংস করে তোলে

আরও পড়ুনঃ   হার্ট অ্যাটাক হবে, এক মাস আগে কীভাবে বুঝবেন?

এক ব্রিটিশ গবেষক দল ২০০০ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার শিশুর ওপর জরিপ চালিয়ে দেখে টিভি দেখার ফলে তাদের মধ্যে সহিংসতা বেড়ে গেছে। খেলার সময় বাচ্চারা অন্য বাচ্চার প্রতি সহিংস হয়ে ওঠে এবং চুরি বা মিথ্যা কথা বলার মত সমাজবিরোধী কাজে লিপ্ত হয়।

৮.অ্যাস্থেমা রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়: প্রায় ১১ বছর ধরে প্রায় ৩০০০ জনের উপর করা এক গবেষণায় দেখা গিয়েছিল যেসব বাচ্চা দিনে ২ ঘন্টার বেশি টিভি দেখে, তাদের জীবনের একটা সময়ে গিয়ে অ্যাস্থেমা রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।
 ৯.চোখ খারাপ হয়ে যায়: বেশক্ষণ টিভি দেখলে রেটিনার উপর মারাত্মক চাপ পরে। ফলে ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে শুরু করে। প্রসঙ্গত, যারা অন্ধকারে বসে টিভি দেখেন তাদের চোখের ক্ষতি বেশি হয়। তাই ভুলেও এবার থেকে অন্ধকারে বসে টিভি দেখবেন না।

১০.নেশাগ্রস্থ করে তোলে

নেদারল্যান্ড ও কানাডার গবেষক দল ৮০ জন যুবকের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখে টিভি দেখার সময় তাদের অ্যালকোহল নেওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ের তুলনায় টিভি দেখার সময় তারা অন্তত আরও দেড় বোতল বেশি মদ খেয়ে থাকে।

 ১১.রাগ বেড়ে যায়: একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে টিভিতে খুন, খারাপি বা হিংসাত্মক প্রোগ্রাম বেশি দেখলে ৮-৮০ সবারই চরিত্রে ধীরে ধীরে বদল আসতে শুরু করে। এক্ষেত্রে রাগ বেড়ে যাওয়া, হিংস প্রভৃতি চারিত্রিক লক্ষণগুলি প্রকাশ পেতে শুরু করে। তাই বাচ্ছাদের ছোটবেলাটা সুন্দর করে তুলতে তাদের টিভির থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখুন, সেই সঙ্গে নিজেরও টিভি দেখার অভ্যাসে লাগাম পরান।

১২.কোলেস্টেরল বাড়ায়

১৯৯০ সালে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া এক গবেষণায় দেখে যারা প্রতিনিয়ত ঘরে বসে টিভি দেখে অথবা ভিডিও গেম নিয়ে বসে থাকে তাদের রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমান বেড়ে যায়। এমনকি যেসব শিশুরা বেশি টিভি দেখে তাদেরও রক্তে কোলেস্টেরলের স্তর উচ্চমাত্রায় দেখা যায়।

আরও পড়ুনঃ   কিভাবে বুঝবেন আপনার হার্ট অ্যাটাক হতে পারে

এছাড়াও টিভি দেখার ফলে নিদ্রাহীনতা, ক্ষুধা মন্দা ও শরীর অলস করে দেওয়ার মত ক্ষতিকর দিকগুলো মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।

আরো পড়ুনঃ পর্নোগ্রাফী দেখলে মস্তিষ্ক যেভাবে বদলে যায়

সূত্রঃ লিস্টভার্স ও নয়ন মুন্সি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

five − three =