ডায়াবেটিসে মেথির উপকারিতা

0
127
ডায়াবেটিসে মেথির উপকারিতা

মেথি দুরন্ত খাদ্যৌষধি। ডায়াবেটিকের সুগার নিয়ন্ত্রণ করে। মেথিদানা স্তন্যদাত্রীর শরীরে দুধের পরিমাণ রাতারাতি বাড়িয়ে দেয়। হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে স্তনাকৃতি বাড়াতেও সাহায্য করে। মেথিদানা অম্বলের বুকজ্বালা থেকে রেহাই দিতে পারে। জ্বরের মেয়াদ কমিয়ে আনতে পারে মেথিবীজ। বিস্বাদ দূর হয় মেথি খেলে। বাড়ে খাওয়ার ইচ্ছাও। ইনসুলিননির্ভর এবং ইনসুলিনঅনির্ভর ডায়াবেটিক, দু-দলের জন্যই মেথি উপকারী। রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রাধিক্য ঘটতে দেয় না মেথিদানা। টাইপওয়ান ডায়াবেটিক যাদের, তাদের সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৫০ গ্রাম করে মেথি দিনে দুবার খাওয়ার নিদান বাতলেছেন আয়ুর্বেদিকরা। টাইপ টু ডায়াবেটিক যাদের তাদের জন্য ২.৫ গ্রাম করে মেথির গুঁড়ো দিনে দু’বার টানা তিন মাস খেলে উপকার পাবেনই। টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিকদের ক্ষেত্রে দিনে ১০ গ্রাম করে মেথি টানা ১০ দিন খাইয়ে দেখা গেছে, ব্লাড সুগার কমেছে, প্রস্রাবে সুগার নির্গমণের মাত্রা হ্রাস পেয়েছে, সে-রকম কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমেছে। টাইপ টু ডায়াবেটিকদের ক্ষেত্রে ২৫ গ্রাম করে মেথি ২৪ সপ্তাহ করে খাইয়ে একই উপকার মিলেছে। খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে দিনে ৫ থেকে ৩০ গ্রাম পর্যন্ত মেথিদানা সুপারিশ করে থাকেন অভিজ্ঞরা। কারো কারো ক্ষেত্রে আরো বেশি। তবে ডায়াবেটিকে আক্রান্ত, তারা অনিয়মিত মেথি খেতে শুরু করার আগে কোনো আর্যুবেদিক চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নেবেন। কী ওষুধ খাচ্ছেন, সুগার কতটা সব জানিয়ে পরামর্শ চাইবেন। কেননা ওষুধ যখন চলছে, তখন মেথি খেলে কিছু কিছু ওষুধের ডোজ বদলাতে হয়। ডায়াবেটিক নন, অথচ মেথির স্বাস্থ্য-সুরক্ষা উপভোগ করতে চান তারা কারো পরামর্শ ছাড়াই দিনে ১ থেকে ২ গ্রাম করে খেয়ে যান। গ্লুকোজের বিপাক ক্রিয়া ছাড়াই দিনে ১ থেকে ২ গ্রাম করে খেয়ে যান। গ্লুকোজের বিপাক ক্রিয়া তন্দুরস্ত হবে, ট্রাইগ্লিসারাইড স্বাভাবিক থাকবে। উল্লেখ্য, অগ্ন্যাশয়ে আইলেট কোষপুঞ্জ আংশিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় ডায়াবেটিসের ভোগান্তি হয়। মেথিদানা ঝিমিয়ে পড়া ইনসুলিন নিঃসারক কোষগুলোকে চাঙ্গা করে। ফলে ইনসুলিনের ক্ষরণ বেড়ে শর্করার দহন চলতে থাকে। শরীরের শর্করা গ্রহণ করা তথা কাজে লাগার ক্ষমতা বাড়ে। যেমন রুটিতে অনেকটা মেথির গুঁড়ো মিশিয়ে খেলে, অন্ত্রের শর্করা শোষণ তাতে কমে যাবে। একগাদা গ্লকোজ গিয়ে রক্তে মিশে যেতে পারবে না অর্থাৎ গ্লুকোজের চড়চড় করে বেড়ে যাওয়া তথা মাত্রাধিক্য ঘটতে দেবে না। বাড়িয়ে দেবে ইনসুলিন গ্রাহক বিন্দুগুলোর কর্মদক্ষতা। মেথির শুশ্রূষার অলস হয়ে পড়া অজস্র ইনসুলিন গ্রাহকবিন্দুগুলোর পুনরুজ্জীবন ঘটে। ঘটায় মেথিতে থাকা ফোর-হাইড্রোক্সি আইসোলিউসিন নামের অ্যামাইনো অ্যাসিড। রক্তে সুগার শোষণের গতি হ্রাস করে, প্রাকৃতিক খাদ্যআঁশ পলিস্যাকারাইড গ্যালাকটোমান্নান। সন্ত্যপায়ী মায়েরা কতটা করে মেথি খাবেন সে বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মা, খালারাই। সাধারণভাবে প্রতিবারে আধা গ্রাম করে মেথি দিনে তিনবার খেতে বলা হয়। স্তনাকৃতি বাড়াতেও। সন্তান ভূমিষ্ঠ করানোর সময় প্রসববেদনা তুলতে, মাংসপেশির সম্প্রসারণ ঘটাতে মেথিবীজ উপকার করে ঠিকই, কিন্তু চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া খেতে যাবেন না।
আফতাব চৌধুরী
সাংবাদিক-কলামিস্ট

আরও পড়ুনঃ   লিউকোরিয়া কেন হয়, করণীয়

চুলের যত্নে মেথির ব্যবহার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

7 + 16 =