ডায়াবেটিস সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় তরমুজের বিচির ব্যবহার

0
239
তরমুজ বিচির গুণ

তরমুজ হচ্ছে একটি রসালো ফল যার মাঝে অনেক পানি থাকে। গরমের দুপুরে লালচে শাসযুক্ত এই ফলটির তুলনাই হয়না। দেহের সতেজতা আনা এই ফলটি আমাদের দেশে গরমের সময় পাওয়া যায় এবং কিছুটা সাশ্রয়ী।

তরমুজে থাকে ৬% চিনি এবং ৯২% পানি। আমাদের দেশে মূলত এই ফলটির লাল রঙেরই বেশি পাওয়া যায় এবং এই রঙটি এসে থাকে তরমুজে থাকা লিউকোপিন নামক যৌগের উপস্থিতির কারনে। লাল রঙের অন্য ফল বা সবজিতেও যেমন টমেটোতেও এই যৌগটি থাকে।

সাধারণত দেখা যায় তরমুজ খাওয়ার পর আমরা এর বিচি গুলো ফেলে দেই। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে এই তরমুজের বিচিরই অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে।

তাহলে চলুন জেনে নেই তরমুজের বিচির কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা:

  • তরমুজের বিচিতে রয়েছে উচ্চ মাত্রার আয়রন, পটাসিয়াম, ভিটামিন, চর্বি এবং ক্যালরি যা আমাদের প্রতিদিনের পুষ্টির জন্য প্রয়োজনীয়।ওজন কমানোর ঔষধ তরমুজের বিচি থেকেই তৈরি হয় যা শুধুমাত্র এর পরিবর্তিত রূপ।
  • তরমুজের বিচি শুকিয়ে সংরক্ষণ করলে তা থেকে আরো উপকারিতা পাওয়া সম্ভব। এতে রয়েছে অ্যান্টিক্যান্সার এজেন্ট ও কিডনির সমস্যায়ও এটি বেশ উপকারী।
  • তরমুজে থাকা লিউকোপিন নামক যৌগ মুখের ত্বকের জন্য খুবই উপকারী।
  • তরমুজের বিচি মূত্রথলির প্রদাহ এবং অন্ত্রকে আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে।
  • তরমুজের বিচি অসুস্থতা থেকে দ্রুত সুস্থতা আনতে এবং বয়স্কদের দুর্বল স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করতে বেশ উপকারী।
  • পুরুষদের উর্বরতা বাড়াতে তরমুজের বিচিতে থাকা লিউকোপিন সাহায্য করে।
  • গবেষনায় জানা যায় যে তরমুজের বিচি বিখ্যাত কিছু প্যাটেন্ট মেডিসিনের সমতুল্য কাজ করে কোন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই। এছাড়া এই বিচি সয়া প্রোটিনের সমান পুষ্টিমূল্য সম্পন্ন।
  • তরমুজের বিচির তৈরি বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট ঔষধ আমাদের দেশে সহজলভ্য না হলেও সেগুলো প্রায় গরুর দুধের সমান উপকারিতা রয়েছে।

কিভাবে ভাজবেন তরমুজের বিচি:
তরমুজের বিচি শুকিয়ে নিয়ে ওভেনে ৩২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় ১৫ মিনিট রাখুন মাঝে একবার বের করে নেড়ে দিন। এটা করতে পারেন চুলাতেও। খুব অল্প আঁচে মচমচে করে ভেজে তুলুন, খেয়াল রাখবেন যেন না পুরে যায়।

আরও পড়ুনঃ   ঘরে বসে খুব সহজেই তৈরি করুন কাশির সিরাপ!

ডায়াবেটিসের নিরাময়ের ক্ষেত্রে তরমুজের বিচির ব্যবহার:
এখানে তরমুজের বিচি ব্যবহার করে ডায়াবেটিস নিরাময় করার একটি পদ্ধতি দেয়া হলো

  • একটি পাত্রে এক মুঠ তরমুজের বিচি নিয়ে ৭৫০ মিলি পানি নিয়ে অল্প আঁচে ৪৫ মিনিট ফুটিয়ে ঢেকে রাখুন। ঠাণ্ডা হতে দিন। ঠাণ্ডা হলে পান করুন। এভাবে প্রতিদিন পান করুন।

যে তরমুজের বিচির এত উপকারিতা সেই বিচি ফেলে দেয়ার আগে একবার ভাবুন। তাই তরমুজের মৌসুমে তরমুজ খেয়ে বিচি ফেলে না দিয়ে তা জমিয়ে রাখুন এবং এর উপকারিতা উপভোগ করুন।

-শওকত আরা সাঈদা
লেখক: জনস্বাস্থ্য পুষ্টিবিদ; খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান (স্নাতকোত্তর) (এমপিএইচ), মেলাক্কা সিটি, মালয়েশিয়া।

তরমুজের বিচির চমকপ্রদ উপকারীতা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

fourteen − 12 =