ত্বকের সৌন্দর্যে থানকুনি পাতা

0
থানকুনি,thankuni

থানকুনি আমাদের দেশের খুব পরিচিত একটি ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ। রোগ নিরাময়ে থানকুনি পাতার রসের তুলনা হয় না। এছাড়া থানকুনির নানা ভেষজ গুণ রয়েছে। থানকুনি পাতা সকল ধরনের পেটের রোগের মহৌষধ। আমাদের দেশের অনেকে থানকুনি পাতার ভর্তা ও থানকুনি পাতা শাক হিসেবে রান্না করে আবার ভর্তা বা কাঁচা পাতা সালাদ হিসেবেও খাওয়া যায়। থানকুনিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে কেউ যদি নিয়মিত থানকুনি পাতা খেতে পারেন তাহলে একাধিক উপকার পাওয়া যায়।তাহলে জেনে নিন থানকুনি পাতার কিছু উপকারিতা সম্পর্কে।

ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় : থানকুনি পাতায় উপস্থিত অ্যামাইনো অ্যাসিড, বিটা ক্যারোটিন,  এবং ফাইটোকেমিকাল ত্বকের অন্দরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি বলিরেখা কমাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।ফলে স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে কম বয়সে ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে।

ডায়াবেটিকস নিয়ন্ত্রণে রাখে : যারা অনেক দিন ধরে ডায়াবেটিকস রোগে আক্রান্ত এবং কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। তাদের জন্য মহৌষধি হতে পারে থানকুনি পাতা। ডায়াবেটিকস রোগীরা দিনে দুইবার থানকুনির রস খেলে কার্যকরী ফল পাবেন।

হজম শক্তি বাড়ায় : থানকুনি পাতা হজম বাড়াতে সাহায্য করে।একটি গবেষণায় দেখা গেছে থানকুনি পাতায় উপস্থিত একাধিক উপকারী উপাদান হজমে সহায়ক এসিডের ক্ষরণ যাতে ঠিক মতো হয় সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে না।

জ্বরের প্রকোপ কমে : আবহাওয়া পরিবর্তনের এ সময়টিতে অনেকেই জ্বরের ধাক্কায় কাবু হয়ে পারেন। তবে জ্বরের সময় শুধু ওষুধ না খেয়ে এক চামচ থানকুনি এবং এক চামচ শিউলি পাতার রস মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে অল্প সময়েই জ্বর সেরা যায়। সেই সঙ্গে শারীরিক দুর্বলতাও কমে।

কাশি কমাতে অতুলনীয় : দুই চামচ থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে অল্প করে চিনি মিশিয়ে খেলে সঙ্গে সঙ্গে কাশি কমে যায়। আর যদি এক সপ্তাহ খেতে পারেন তাহলে তো কথাই নেই। সেক্ষেত্রে কাশির কোনো চিহ্নই থাকবে না।

আরও পড়ুনঃ   অবিশ্বাস্য মহৌষধ ফেলনা থানকুনি পাতা-যৌবন ধরে রাখতে থানকুনি পাতা ব্যবহার করুন

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হ্রাস পায়: যাদের গ্যাসের সমস্যা আছে বা গ্যাস্ট্রিক হয়ে গেছে তারা এ সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে পারেন থানকুনি পাতা খেয়ে। গ্যাসের সমস্যায় থানকুনি পাতার এ ঘরোয়া চিকিৎসা দারুণ কাজে আসবে।আধা লিটার দুধে ২৫০ গ্রাম মিশ্রি এবং অল্প পরিমাণে থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে একটা মিশ্রণ তৈরি করে ফেলুন। তারপর সেই মিশ্রণ থেকে অল্প অল্প করে নিয়ে প্রতিদিন সকালে খাওয়া শুরু করুন। এমনটা এক সপ্তাহ করলেই দেখবেন উপকার মিলবে।

পেটের সমস্যা রোধ করে : যাদের আমাশয় সমস্যা রয়েছে তারা প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিয়ম করে থানকুনি পাতা খেতে পারেন। নিয়মিত সাতদিন যদি খেতে পারেন তাহলেই ফল পাবেন। এই ধরনের সমস্যা কমাতে আরেকভাবেও থানকুনি পাতাকে কাজে লাগাতে পারেন। প্রথমে পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা বেটে নিন। তারপর সেই রসের সঙ্গে অল্প করে চিনি মেশান। এই মিশ্রণটি দু’চামচ করে, দিনে দুইবার খেলেই দেখবেন কষ্ট কমে যাবে।

চলুন সংক্ষেপে জেনে নিই, থানকুনি পাতার আরও কিছু উপকারী দিক——–
* থানকুনি পাতার রস ১ চামচ ও শিউলি পাতার রস ১ চামচ মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খেলে জ্বর সারে।
* অল্প পরিমাণ আমগাছের ছাল, আনারসের কচি পাতা ১টি, কাঁচা হলুদের রস, ৪/৫ টি থানকুনি গাছ শিকড়সহ ভাল করে ধুয়ে একত্রে বেটে রস করে খালি পেটে খেলে পেটের অসুখ ভাল হয়। ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এটা আরো বেশি কার্যকর।
* আধা কেজি দুধে ২৫০ গ্রাম মিশ্রি ও ১৭৫ গ্রাম থানকুনি পাতার রস একত্রে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে ১ সপ্তাহ খেলে গ্যাস্ট্রিক ভাল হয়।
* বেগুন/পেঁপের সাথে থানকুনি পাতা মিশিয়ে শুক্ত রান্না করে প্রতিদিন ১ মাস খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়।
* প্রতিদিন সকালে খালিপেটে ৪ চা চামচ থানকুনি পাতার রস ও ১ চা চামচ মধু/ মিশিয়ে ৭ দিন খেলে রক্ত দূষণ ভাল হয়।
* যে সব বাচচা কথা বলতে দেরি করে অথবা অস্পষ্ট, সে ক্ষেত্রে ১ চামচ করে ধান কুনি পাতার রস গরম করে ঠান্ডা হলে ২০/২৫ ফোঁটা মধু মিশিয়ে ঠান্ডা দুধের সাথে কিছুদিন খাওয়ালে অসুবিধাটা সেরে যায়।
* ২ চামচ থানকুনির রস সামান্য চিনিসহ খেলে সঙ্গে সঙ্গে খুসখুসে কাশিতে উপকার পাওয়া যায়। ১ সপ্তাহ খেলে পুরোপুরি ভালো হয়ে যাবে।
* প্রতিদিন সকালে ৫/৭ টি থানকুনি পাতা চিবিয়ে ৭ দিন খেলে আমাশয় ভাল হয়। অথবা, থানকুনি পাতা বেটে পাতার রসের সাথে চিনি মিশিয়ে দুই চামচ দিনে দুই বার খেলে আমাশয় ভাল হয়।
* থানকুনি পাতা বেটে গরম ভাতের সাথে খেলে পেট ব্যথা ভাল হয়।
* প্রতিদিন সকালে থানকুনির রস ১ চামচ, ৫/৬ ফোঁটা হলুদের রস (বাচ্চাদের লিভারের দোষে) সামান্য চিনি ও মধুসহ ১ মাস খেলে লিভারের সমস্যা ভাল হয়।

আরও পড়ুনঃ   রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণসহ কমলার যত স্বাস্থ্য উপকারিতা

* যদি মুখ মলিন হয়, লাবণ্যতা কমে যায় তবে ৫-৬ চা চামচ থানকুনি পাতার রস দুধ দিয়ে খেতে হবে। নিয়মিত করলে উপকার পাবেন।
* মূলসহ সমগ্র গাছ নিয়ে সিদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে দূষিত ক্ষত ধুতে হবে।
* থানকুনি পাতা সিদ্ধ পানি দিয়ে গারগিল করতে হবে।
* কোথাও থেঁতলে গেলে থানকুনি গাছ বেটে অল্প গরম করে আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে প্রলেপ দিলে উপকার পাবেন।
* থানকুনি পাতা বেটে ঘিয়ের সঙ্গে জ্বাল দিয়ে ঠান্ডা করে তা ক্ষত স্থানে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।
* অপুষ্টির অভাবে, ভিটামিনের অভাবে চুল পড়লে পুষ্টিকর ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবারের পাশাপাশি ৫-৬ চা চামচ থানকুনি পাতার রস দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে।
* মলের সঙ্গে শ্লেষ্মা গেলে, মল পরিষ্কারভাবে না হলে, পেটে গ্যাস হলে, কোনো কোনো সময় মাথা ধরা এসব ক্ষেত্রে ৩-৪ চা চামচ থানকুনি পাতার গরম রস ও সমপরিমাণ গরুর কাঁচা দুধ মিশিয়ে খেতে হবে। নিয়মিত খেলে উপকার পাবেন।

* ঠান্ডায় নাক বন্ধ হলে, সর্দি হলে থানকুনির শিকড় ও ডাঁটার মিহি গুঁড়ার নস্যি নিলে উপকার পাওয়া যায়।
* মনে না থাকলে আধা কাপ দুধ, ২-৩ তোলা থানকুনি পাতার রস ও এক চা চামচ মধু মিশিয়ে খেতে হবে।

 

পেটের সমস্যাসহ নানা রোগের মহৌষধ থানকুনি পাতা

অবিশ্বাস্য মহৌষধ ফেলনা থানকুনি পাতা-যৌবন ধরে রাখতে থানকুনি পাতা ব্যবহার করুন

সূত্রঃ আরটিভি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

3 × 1 =