দেশে রক্তস্বল্পতায় আক্রান্ত ৭০ শতাংশ মানুষ

0
রক্তস্বল্পতা

দেশে জন্মগত হিমোগ্লোবিন ডিজঅর্ডারের বাহক ৮৪ লাখ, ৭০ শতাংশ মানুষ রক্তস্বল্পতায় আক্রান্ত। তৃতীয় আন্তর্জাতিক হেমাটোলজি কনফারেন্স বাংলাদেশ ২০১৭-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিলন হলে হেমাটোলজি সোসাইটি অফ বাংলাদেশের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী তৃতীয় আন্তর্জাতিক হেমাটোলজি কনফারেন্স, বাংলাদেশ ২০১৭-অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে থ্যালাসেমিয়াসহ জন্মগত হিমোগ্লোবিন ডিজঅর্ডারের বাহক প্রায় ৮৪ লাখ, এছাড়াও দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ কোন না কোনভাবে রক্তস্বল্পতায় আক্রান্ত। এছাড়া হিমোফিলিয়া রোগীর সংখ্যাও আনুমানিক প্রায় ২০ হাজার। দিন দিন-এর ভয়াবহতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশে ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসা সেবা নিয়েও কনফারেন্স বক্তারা বিশদভাবে আলোচনা করেন। দেশে বর্তমানে তিনটি প্রতিষ্ঠানে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশনের সুযোগ রয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যান্সার রিসার্চ ইনস্টিটিউটে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টটেশন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যা শীঘ্রই এ সরকারের মেয়াদে কার্যক্রম শুরু করবে। আটটি সরকারি মেডিকেল কলেজে রক্তরোগ চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে।
ব্লাড ক্যানসার ও হিমোফিলিয়া রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল যা অধিকাংশ রোগীর পক্ষে বহন করা সম্ভব হয় না। এসব রোগের ব্যয়ভার সহনীয় করার জন্য কনফারেন্স থেকে সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়।

এছাড়া হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেশে ক্রমবর্ধমান ভাবে বিভিন্ন রক্তরোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ হেমাটোলজি  ইনস্টিটউট ও হেমাটোলজি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানায়।

ওই কনফারেন্সের প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জনাব জাহিদ মালিক এমপি, বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। এতে সভাপতিত্ব করেন হেমাটোলজি সোসাইটি অফ বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মাসুদা বেগম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সোসাইটির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম এ খান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুর রহমান।

আরও পড়ুনঃ   কোরবানির মাংস গ্রহণে সতর্কতা

অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ভারত, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ডের প্রখ্যাত রক্তরোগ বিশেষজ্ঞগণসহ প্রায় ২৫০ জন চিকিৎসক অংশগ্রহণ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

eighteen − two =