ধূমপান ত্যাগের উপায়- ধূমপান ত্যাগের ১০টি বিজ্ঞানসম্মত উপায় জেনে নিন

0
ধূমপান ত্যাগের উপায়

ধূমপান একটি অভ্যাস। ধূমপানের কুফল বলে শেষ করার মতো নয়। এটি একজন ধূমপায়ীর শারীরিক ক্ষতি যেমন করে তেমনি করে আর্থিক ক্ষতি। অন্যান্য নেশা দ্রব্যের মতো না হলেও এটিও এক ধরনের নেশা। এই অভ্যাস যখন আসক্তিতে পরিণত হয় এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে তখন এই অভ্যাস ত্যাগ করাই ভাল। কিন্তু সকল ধূমপায়ীদের যেন একই অভিযোগ- ধূমপান ত্যাগ করা সহজ নয়। এর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে, হঠাৎ করে বা প্রথম প্রথম ধূমপান ছেড়ে দেয়ার সময় ব্যক্তি কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হন। মূলত, এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেই ধূমপান ত্যাগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সিগারেট ত্যাগ করতে চাইলেই সফল হওয়া যায়। আজ আমরা ধূমপান ত্যাগ করার সেই সব কৌশল তুলে ধরবো।

একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, ধূমপান ত্যাগ করতে আগ্রহী এমন ব্যক্তিদের ১০ জনের মধ্যে ৭ জনই সফল হয়েছেন। ধূমপান ত্যাগ করার ক্ষেত্রে ব্যক্তির সদিচ্ছাই যথেষ্ট। এটি একজন ধূমপায়ীকে ধূমপান ত্যাগ করতে অনেকাংশে সাহায্য করে। তবে ধূমপান ছাড়ার ক্ষেত্রে আপনি কিছু কৌশল অবলম্বন করতে পারেন। যা আপনাকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করবে।

১) ধূমপান ত্যাগ করার প্রথম ধাপে আপনি নিজেকে এই বলে প্রস্তুত করুন যে, কেন আপনি ধূমপান ত্যাগ করতে চাচ্ছেন? কিংবা ধূমপান ত্যাগ করা কেন আপনার জন্য জরুরী। তবে এইক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে ধূমপান করলে কি ক্ষতি হয়। এই জানাটুকু ধূমপানের বিরুদ্ধে আপনাকে মানসিক ভীতি তৈরি করবে। আসলে এই প্রশ্নটির মাধ্যমে আপনি নিজেকে নিজেই প্রস্তুত করবেন যে আপনি ধূমপান ছাড়বেন।

২) দ্বিতীয়ত যেভাবে মানসিক প্রস্তুতি নিতে পারেন তা হলো ধূমপানে কী কী স্বাস্থ্য সমস্যা হয়, তার একটি তালিকা তৈরি করুন, লিখে রাখুন এবং এটি আপনার নিয়মিত চোখে পড়ে এমনভাবে রাখুন। এর মধ্যে কোন বিষয়টি আপনি সবচেয়ে বেশি ভয় পান, সেটিতে লাল চিহ্ন দিয়ে রাখুন। এই বিষয়টি আপনার ভেতরে ধূমপানের বিপরীতে একটি ভয় তৈরি করবে।

৩) এরপর নিজের ভেতরে একটি মানসিক তৃপ্তি তৈরি করুন যে, ধূমপান ত্যাগ করলে কী কী লাভ হতে পারে। তারজন্য একটি তালিকা তৈরি করুন। আপনার এই মানসিক তৃপ্তি আপনাকে ধূমপান ত্যাগ করতে অনুপ্রাণিত করবে। আপনি যখনি এই লাভের কথা চিন্তা করবেন তখনি আপনার ভেতরে ধূমপানের বিপরীতে একটি মানসিক অবস্থান দাঁড়িয়ে যাবে।

আরও পড়ুনঃ   আপনার ‘কমন সেন্স’ কতোটুকু? নিজেই পরীক্ষা করুন ছোট্ট একটি কুইজের মাধ্যমে

৪) আপনি ধূমপান ছাড়ছেন কাউকে খুশি করার জন্য নয়, এই বিষয়টি মাথায় রাখুন। মনে করা যাক আপনি আপনার প্রেমিকার কথায় ধূমপান ছাড়লেন কিন্তু কয়েক মাস পর তার সাথে আপনার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেল। এই সকল ক্ষেত্রে মানসিক ধাক্কা সহ্য করতে না পেরে অনেকেই আবার ধূমপান শুরু করে। সবসময় মাথায় রাখুন আপনার সুস্বাস্থ্যের জন্যই আপনি এটা করেছেন। এমন জোরালো অবস্থান নিন।

৫) একটি বিষয় মাথায় রাখুন ধূমপানের ফলে আপনার ভেতরে একটি দেহঘড়ি তৈরি হয়ে যাবে যা সময়ে সময়ে আপনাকে জানান দিবে নিকোটিন প্রয়োজন। এই জন্যই বিশেষজ্ঞরা বলেন এটি একটি নেশার মতো। কোন ধরনের থেরাপি বা মেডিকেশন ছাড়া ধূমপান ছাড়া ঠিক নয়। কারণ সিগারেটের নিকোটিনের ওপর ব্রেইন অনেক ক্ষেত্রে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ফলে হঠাৎ ধূমপান ছেড়ে দিলে শরীর অনেক সময় অস্থির হয়ে পড়ে। তাই সিগারেটের বিকল্প থেরাপির কথা চিন্তা করতে হবে। যেমন ধরা যাক আপনি নিয়মিত রাতের খাবারের পর ধূমপান করেন। এখন হঠাৎ ধূমপান ছেড়ে দিলে আপনি ঐ সময়টায় অস্থির হয়ে পড়বেন। তাই এই সকল ক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে চুইংগাম, লজেন্স ব্যবহার করুন। দেখবেন কিছুদিন পর আপনার আর সমস্যা হচ্ছে না।
৬) একাকীত্ব ও মানসিক চাপ ধূমপানের অন্যতম কারণ। এগুলো দূর করতে চেষ্টা করুন। একাকীত্ব ও মানসিক চাপ দূর করতে বন্ধুদের সাহায্য নিন, বেশিরভাগ সময়টা তাদের সাথে থাকুন। তবে এইক্ষেত্রে যে সকল বন্ধুরা ধূমপান করে তাদের এড়িয়ে চলুন। টেনশন থেকে মুক্তির ভিন্ন উপায় খুঁজে নিন। ব্যায়াম,মেডিটেশন এবং গভীরভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস অনুশীলন এ ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে।

৭) অনেকেই ধূমপান ত্যাগ করার পর কোন ধরনের পার্টি বা অনুষ্ঠানের ভারী খাবারের পর বন্ধুদের সাথে ধূমপান করে থাকেন। আপনার জন্য পরামর্শ থাকবে কখনোই নিজেকে প্রতারিত করবেন না। আপনি হয়তো ভাবতে পারেন, সিগারেট তো ছেড়েই দিয়েছেন কিন্তু আজকের দিনে একটি সিগারেট খেলে এমন কী ক্ষতি হবে। সাবধান এই ধরনের চিন্তা মাথার মধ্যে আনতে যাবেন না। একটা সিগারেট আপনার মধ্যে আরও সিগারেট খাওয়ার প্রলোভন তৈরি করবে। কিংবা আয়োজন অনুষ্ঠানে অন্যদের দেখাদেখি ধূমপান করতে যাবেন না।

৮) ধূমপান ছাড়ার ক্ষেত্রে একটি প্রচলিত বিষয় হলো তিনমাস বন্ধ করে থাকা যায়, তারপর আবার শুরু হয়। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন গবেষণায় দেখা গিয়েছে এই সকল ধূমপায়ীরা পরবর্তী চেষ্টায় সফল হয়েছে। যদি প্রথম চেষ্টায় আপনি সিগারেট ছাড়তে সফল না হন, তাহলে আবার চেষ্টা করুন। বেশিরভাগ লোক, যারা ধূমপান ছেড়েছেন, তারা চূড়ান্তভাবে সফল হওয়ার আগে কয়েকবার ব্যর্থ হয়েছেন। বেশিরভাগ ধূমপায়ী ধূমপান ছাড়ার প্রথম তিন মাসের মধ্যেই আবার ধূমপান শুরু করে, এতে আশাহত হবেন না। আবার ছাড়ার চেষ্টা করুন দেখবেন সফল হবেন।

আরও পড়ুনঃ   শরবতের নামে আসলে কী খাচ্ছেন?

দি ঢাকা টাইমস্‌ কর্তৃক সংকলিত

ধূমপান ত্যাগের ১০টি বিজ্ঞানসম্মত উপায়

স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর একটি অভ্যাস হলো ধূমপান। কিন্তু এই হানিকারক অভ্যাস দূর করাটা বেশিরভাগ মানুষের জন্যেই ভীষণ কষ্টকর। ধূমপান ত্যাগ করতে গেলে সবচাইতে বেশি কষ্টের হলো উইথড্রয়াল সিনড্রোম। এতে অনেকখানি শারীরিক এবং মানসিক কষ্টের মধ্য দিয়ে যান ধূমপানে আসক্ত ব্যক্তিটি। কিন্তু এমন কিছু বৈজ্ঞানিক উপায় আছে যাতে ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগের প্রক্রিয়াটি যেতে পারে নির্বিঘ্নে। দেখে নিন কার্যকর এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে ধূমপান ত্যাগের ১০টি কৌশল।

১) নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট

ধূমপানের কারণে শরীরে তৈরি হয় নিকোটিনের ওপরে নির্ভরশীলতা। আর তাই ধূমপান হঠাৎ করে ছেড়ে দিলে শরীর নিকোটিন থেকে বঞ্চিত হয় এবং দেখা যায় বিভিন্ন লক্ষণ। শরীরে যদি অন্য কোনও উপায়ে নিকোটিনের সরবরাহ দেওয়া যায় তবে ধূমপানের ওপরে নির্ভরশীলতা কমে আসে। এর জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে নিকোটিন প্যাচ বা নিকোটিন চুইং গাম।

২) একটা দিন ঠিক করে ফেলা

ভাবুন আপনার একটা পরীক্ষা আছে, তাহলে আপনি সেই পরীক্ষার জন্য আগে থেকেই পড়াশোনা করবেন অনেক, তাই না? ঠিক সেভাবে একটা দিন ঠিক করুন যার মাঝে ধূমপান ছারতে হবে আপনার। তাহলে আপনার মাঝে একটা তাগিদ থাকবে। তবে দিনটা বেশি প্রলম্বিত করবেন না। ঠিক করে রাখুন আপনি ছয় মাস বা এক বছরে পরের কোনও একটি দিনের মাঝে ধূমপানের অভ্যাস পুরোপুরিভাবে ছেড়ে দেবেন।

৩) কখন কখন ধূমপান করছেন তা লিখে রাখুন

একটা নোটবই নিন। যতবার ধূমপান করছেন ততবার লিখে রাখুন। এরপর সেই লেখাটা দেখলেই নিজের ওপরে রাগ হবে আপনার। মনে হবে, এতবার ধূমপান করলাম? এর থেকে আপনি নিজের অজান্তেই কমিয়ে ফেলবেন ধূমপান। শুধু তাই নয়, কোন কোন কাজের পড়ে আপনি ধূমপান করছেন তার ব্যাপারেও আপনি সতর্ক হবেন।

৪) কাউন্সেলিং

কাউন্সেলিং শুধুমাত্র মানসিক সমস্যার জন্যেই নয় বরং এমন ক্ষতিকর সব অভ্যাস দূর করার ক্ষেত্রেও কাজে আসে।

আরও পড়ুনঃ   পুষ্টিবিদের পরামর্শে জেনে নিন চিনির ৫টি প্রাকৃতিক বিকল্প

৫) প্রিয়জনের সাহায্য নিন

শুধুমাত্র পেশাদার সাহায্য নয়, আপনার কাছের মানুষেরাও কিন্তু আপনার এই অভ্যাস দূর করতে সাহায্য করতে পারে অনেক। তাদের সাহায্য নিন। তারা আপনার অনেক কাছে থেকে আপনার উপকার করতে পারে।

৬) খালি হাতের ব্যায়াম

ধূমপান ছাড়া থাকতে থাকতে যখন খুব ধূমপানের ইচ্ছে করবে এবং শারীরিক কষ্ট হবে, তখন ৫-১০ মিনিট ব্যায়াম করুন। এতে আপনার মনোযোগ অন্যদিকে চলে যাবে এবং এই সময়ের মাঝে ধূমপানের ইচ্ছেটা চলে যাবে।

৭) ওয়েট লিফটিং

শুধু খালি হাতে ব্যায়াম নয়, ছোটখাটো ভারোত্তোলন যে ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে উপকারি হতে পারে তা দেখা গেছে বেশ কিছু গবেষণায়। এর জন্য অফিসের ডেস্কে রাখতে পারেন অজন্দার কিছু এবং ধূমপানের ইচ্ছে হলে তাকে ব্যবহার করতে পারেন।

৮) টেক্সট মেসেজিং

এটা আমাদের দেশের জন্য খুব একটা প্রযোজ্য নয় বটে। পাশ্চাত্যের কিছু দেশে এমন সুবিধে আছে যে যারা ধূমপান ছাড়তে আগ্রহী তাদের ফোনে একটা নির্দিষ্ট সময় পরপর ধূমপান ছাড়ার উপকারিতা এবং ধূমপানের অপকারিতা সম্বলিত টেক্সট মেসেজ আসবে। আপনি যা করতে পারেন তা হলো, পরিচিত মানুষদের বলতে পারেন আপনাকে নিয়মিত আমন মেসেজ পাঠাতে। তবে আপনার মনে সব সময়েই ধূমপান থেকে দূরে থাকার তাগিদ থাকবে।

৯) স্মার্টফোন অ্যাপ

অনেকেই এখন স্মার্টফোন ব্যবহার করে থাকেন এবং এগুলোতে ব্যবহার্য অনেক অ্যাপ আছে যা ধূমপান ছাড়তে আপনার উপকারে আসতে পারে। এমন কোনো একটি অ্যাপ নামিয়ে নিতে পারেন আপনি।

১০) ই-সিগারেট

এত কিছুর পরেও আপনার ঠোঁটের মাঝে যদি একটি ক্যান্সার স্টিকের অভাব অনুভব করেন, তাহলে একটি ই-সিগারেট নিয়ে নিন। অনেকে দাবি করেন যে তাদের ধূমপান ছাড়তে এটা সাহায্য করেছে।

-দেয়া

ধন্যবাদ সবাইকে, ভাল লাগলে শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

মূল প্রতিপাদ্য বিষয়: ধুমপান ত্যাগ করার সহজ উপায়, ধূমপান ছাড়ার সহজ কৌশল, ধূমপান ছাড়ার কৌশল, ধূমপান ছাড়ার উপায়, ধূমপান ছাড়ার সহজ উপায়, ধূমপান ছাড়ার ১০ উপায়, ধূমপান ছাড়ার উপকারিতা, ধূমপান ছাড়ার, ধূমপান ছাড়ার পদ্ধতি, ধূমপান ছাড়ার কার্যকরী পদ্ধতি, ধূমপান ছাড়ার সহজ পদ্ধতি।

ধূমপানের কারণেই পুরুষদের মৃত্যু বেশি হয়!

বিঃ দ্রঃ গুরুত্বপূর্ণ হেলথ নিউজ ,টিপস ,তথ্য এবং মজার মজার রেসিপি নিয়মিত আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ বিডি হেলথ নিউজ এ ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

5 × 2 =