‘নখকুনি’ নিরাময়ের ঘরোয়া উপায়

0
159
নখকুনি

নখ যখন অস্বভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং নখ নিচের মাংসের ভেতর ঢুকে যায় তখন নখের কোণায় প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হয়। এই সমস্যাকে ‘নখের কোনা ওঠা’ বলা হয়। হাতের নখের থেকে পায়ের নখে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। কারণ পায়ের নখে তুলনামূলকভাবে ধুলো, বালি, ময়লা, ঘাম, পানি বেশি লাগে। ফলে নখের কোনে ইনফেকশন দেখা দেয়।

পায়ের নখ ভেতরের দিকে বৃদ্ধি পাওয়াকে ওনাইকোক্রিপ্টোসিস বলে যা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। একে নখকুনিও বলা হয়। যখন পায়ের নখের কোনার অংশ বা প্রান্তের অংশ নরম মাংসের ভেতরের দিকে প্রবেশ করে তখন খুবই অস্বস্তি ও ব্যথার সৃষ্টি করে। সাধারণত নখকুনি পায়ের আঙ্গুলেই হয়ে থাকে কিন্তু হাতের আঙ্গুলেও হতে পারে তবে তা খুবই বিরল।

কখনো কখনো ব্যথার সঙ্গে হলুদ পুঁজও দেখা যায়। নখের কোনা ওঠার প্রথম চিকিৎসা হলো নখের যে বাড়তি অংশের জন্য ব্যথা হচ্ছে সেই অংশটুকু কেটে ফেলতে হবে। তাহলে ব্যথা সঙ্গে সঙ্গে কমে যাবে। যদি নখের কোনায় পুঁজ জমে থাকে তাহলে টপিকাল এন্টিবায়োটিক লাগাতে হবে অথবা ওরাল এন্টিবায়োটিক সেবন করতে হবে। তবে ইনফেকশন হয়ে গেলে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া ভালো।

নখকুনি হওয়ার কারণ খুব বেশি টাইট-ফিটিং জুতা পরলে, নখ সঠিক ভাবে না কাটলে, নখে ব্যথা পেলে এবং অস্বাভাবিক বাঁকানো নখ থাকলে। ডায়াবেটিস ও অন্য স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলে পায়ের রক্ত সংবহন কমে যায় ফলে পায়ের নখের এই সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

নখে খুব বেশি ব্যথা হওয়া, লাল হওয়া এবং ফুলে যাওয়ার মত উপসর্গগুলো দেখা যায় নখকুনি হলে। যদি এর চিকিৎসা করা না হয় তাহলে ইনফেকশন হয়ে যেতে পারে। ইনফেকশন হলে নখের চারপাশ লাল হয়ে ফুলে যায়, পুঁজ ও রক্ত বাহির হয়। যদি শুরুতেই বুঝতে পারা যায় তাহলে ঘরেই এর যত্ন নেয়া যায়। যদি ইনফেকশন হয়ে যায় তাহলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিৎ। নখকুনির ঘরোয়া প্রতিকারগুলো জেনে নেই আসুন।

আরও পড়ুনঃ   হাতের সৌন্দর্য বাড়াতে ও সুন্দর নখ পেতে যা করবেন

১। উষ্ণ জলে ভিজানো

উষ্ণ জলে কিছুক্ষণ পা ডুবিয়ে রাখলে নখকুনির ব্যথা ও ফোলা কমে যায়। এজন্য একটি ছোট বোলে উষ্ণ গরম পানি নিন। এই পানিতে পা ডুবিয়ে বসে থাকুন ১৫-২০ মিনিট। দিনে ৩-৪ বার এটি করতে পারেন।

২। নখের নীচে গজ দিয়ে রাখুন

গরম জলে পা ডুবানোর পরে আক্রান্ত নখের নীচে তুলা বা গজ বা সুতির নরম কাপড় ঢুকিয়ে দিলে নখটি উপরের দিকে উঠে আসবে। উষ্ণ গরম পানিতে কিছুক্ষণ পা ডুবিয়ে রাখার পরে ভালো করে পা মুছে নিন। তারপর ভোঁতা চিমটা দিয়ে আক্রান্ত নখটি সাবধানে উপরে উঠান এবং ত্বক ও নখের মাঝখানে সুতির কাপড়ের টুকরাটি ঢুকিয়ে দিন। ইনফেকশন প্রতিরোধের জন্য প্রতিবার পা ভেজানোর পরে কাপড়টি পরিবর্তন করে নিন।

৩। ইপসম লবণ

ইপসম লবণের বৈজ্ঞানিক নাম ম্যাগনেসিয়াম সালফেট যা নখের অন্তরবৃদ্ধির চিকিৎসায় কার্যকরী। এটি আক্রান্ত নখের ত্বককে নরম হতে সাহায্য করে। যার ফলে মাংসের ভেতরে ঢুকে যাওয়া নখকে বের করা সহজ হয় এবং প্রদাহ ও কমে। এর জন্য উষ্ণ গরম পানিতে পূর্ণ একটি বোলে ১ টেবিলচামচ ইপসম লবণ মিশান। এই মিশ্রণে ২০ মিনিট পা ডুবিয়ে বসে থাকুন। তারপর মিশ্রণটি থেকে পা উঠিয়ে ভালো করে পা মুছে নিন। সপ্তাহে ৩/৪ বার এই প্রক্রিয়াটির পুনরাবৃত্তি করুন।

এছাড়াও হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, এন্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান, জীবাণুনাশক দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। তবে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম উপায়। তাই নখ সব সময় সোজাভাবে কাটতে হবে, পায়ের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে, বাইরে থেকে আসার পর পা ও হাত ভালোভাবে পানি দিয়ে পরিষ্কার করে মুছে ফেলতে হবে, পরিষ্কার জুতা ও মোজা পড়তে হবে, আরামদায়ক ও পায়ের মাপ মতো জুতা পড়তে হবে, প্রতিদিন গোসলের সময় পায়ের নিচের শক্ত চামড়া পরিষ্কার করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ   নখের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে ভয়ংকর রোগের লক্ষণ

এ পর্যায়ে হুসাইন অভি লিখিত ‘নখের কোণা বৃদ্ধি ও সংক্রমণ রোধ করার কিছু পরামর্শ’ নামক লেখাটি এখানে শেয়ার করা উত্তম মনে করছি।

নখের কোণা বিশেষ পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলির নখের কোণা বৃদ্ধি (ingrown toenails) খুবই বিব্রতকর, বেদনাদায়ক এবং বিপজ্জনক একটি সমস্যা। ঠিকভাবে পরিচর্যা না করলে নখের অপারেশন থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ আঙ্গুলটি পর্যন্ত কেটে ফেলতে হতে পারে। তাই উপস্থাপন করছি কিছু পরামর্শ যা নখের কোণা বৃদ্ধি রোধ ও এর সংক্রমণের হাত থেকে আপনাকে রক্ষা পেতে সাহায্য করবে।

নখের কোণা বৃদ্ধি প্রতিরোধে যা করবেন (get rid of ingrown toenails):

  • নখ কাটার সময় গোলাকার ভাবে না কেটে সোজা ভাবে কাটুন। বিশেষ করে গোলাকার ভাবে কাটা নখের কোনা আঙ্গুলের ভেতর ঢুকে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
  • হাত এবং পায়ের নখ কাটার জন্য আলাদা নেইল কাটার ব্যবহার করুন। হাতের নখ কাটার নেইলকাটার সাইজে ছোট হয় যা পায়ের নখ কাটার জন্য ব্যবহার করলে ধারালো কোণা রয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • সঠিক সাইজের জুতা পরুন। টাইট জুতা পরার ফলে পায়ের নখে অনেক বেশি চাপ পড়ে, ফলে নখ আঙ্গুলের ভেতর ঢুকে যায়।
  • নখ কাটার জন্য কখনোই ব্লেড, কাঁচি বা এমন অপ্রচলিত কিছু ব্যবহার করবেন না। এছাড়া নখের ভেতর কাঠি বা কলমের ডগা ইত্যাদি দিয়ে খোঁচাবেন না। যে কোন শপিং মলে বা বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে নেইল কাটারের সেট পাওয়া যায়। তা সংগ্রহ করে নিন। এছাড়া আমাদের দেশের বিভিন্ন অনলাইন শপিং ওয়েবসাইটে সহজেই পেয়ে যাবেন এমন নেইল কাটারের সেট।

সংক্রমণ প্রতিরোধে যা করবেন (prevent infection):

  • নখ আঙ্গুলের ভেতর ঢুকে গেলে (ingrown toenails) পেডিকিউর বা পার্লারে গিয়ে নখের পরিচর্যা থেকে বিরত থাকুন।
  • একটি বড় পাত্রে পানি নিয়ে তাতে কয়েক ফোটা পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট দিন। প্রতিদিন নিয়মিত ১০-১৫ মিনিট এই মিশ্রণে পা ডুবিয়ে রাখুন। আপনার পা এতে সামান্য খয়েরি বর্ণ ধারণ করবে কিন্তু নখের কোণা এবং পা জীবাণু মুক্ত রাখবে।
  • পা খোলামেলা রাখার চেষ্টা করুন। ধুলো বালি থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। সারাদিন জুতা-মোজা পরে থাকবেন না। নিতান্তই বাধ্য হলে কিছুক্ষণ পর পর মোজা খুলে পায়ে বাতাস লাগার সুযোগ করে দিন।
  • আক্রান্ত স্থানে এবং সারা পায়ে প্রতিদিন দুইবার এন্টিবায়োটিক ক্রিম লাগান। সকালে গোসলের পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে এন্টিবায়োটিক ক্রিম লাগাবেন।
  • নখের কোণা আঙ্গুলের ভেতর ঢুকে গেলে (ingrown toenails) আরও বেশি ঢুকার অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন। খুব সহজ একটি অপারেশনের মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। হাসপাতাল ভেদে অপারেশনে ৩-৫ হাজার টাকা খরচ হয়। অপারেশনের পর ৭-১০ দিনের ভেতরেই নখ সুস্থ হয়ে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

4 × 3 =