নিত্যদিনের পিঠে ব্যথা নিরাময়ে করণীয় কী?

0
পিঠে ব্যথা

ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা:

পিঠে ব্যথার সমস্যাটি মূলত বয়স্ক মানুষদের মাঝে বেশী দেখা দেয়। তবে এখনকার সময়ে তরুণদের মাঝেও পিঠে ব্যথাভাব দেখা দেওয়ার প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। পিঠে ব্যথার লক্ষণ কখনো কখনো পিঠের নীচের দিকে পশ্চাৎদেশ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। যার ফলে কাজকর্ম করতে কিংবা নড়াচড়া করতেও অনেক বেশী সমস্যা হয়। এমনকি রাতে ঘুমানোর সময়েও অনেক বেশী সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। পিঠে ব্যথা দেখা দেওয়ার নানান ধরণের কারণ থাকতে পারে। যেমন- কাজের চাপ, মানসিক দুশ্চিন্তা, সঠিক খাদ্যাভাসের অভাব, কায়িক শ্রম না করা, আর্থ্রাইটিস, অতিরিক্ত  শারীরিক কাজের চাপ, অন্তঃসত্ত্বা হওয়া ইত্যাদি।

পিঠে ব্যথা নিয়ে প্রতিদিনের কাজকর্ম স্বাভাবিকভাবে করাটা অনেক বেশী কষ্টকর হয়ে পড়ে। যন্ত্রনাদায়ক এই ব্যথার প্রতিকারে প্রাকৃতিক কিছু উপাদান ঘরোয়া পদ্ধতিতে ব্যবহার করলেই দারুণ কাজে দেয়। জেনে নিন পিঠে ব্যথাভাব উপশমের দারুণ কিছু উপায়।

১/ আদা

বমিভাব দূর করতে এবং পিঠের ব্যথা সারাতে আদা খুব চমৎকার কাজ করে থাকে। আদার প্রদাহ-বিরোধী উপাদান পিঠের ব্যথা দূর করার ক্ষেত্রে কাজ করে থাকে।

আদা ব্যবহার করার উপযুক্ত উপায় হলো- কিছু পরিমাণ আদা কুঁচি পানিতে ফুটিয়ে নিতে হবে ১০-১৫ মিনিট সময়ের জন্য। এরপর ঘরের তাপমাত্রায় ঠাণ্ডা হলে ছেঁকে নিতে হবে। এর সাথে কিছু পরিমাণ মধু মিশিয়ে পানীয়টি পান করুন। প্রতিদিন নিয়ম করে দুই কাপ আদা-মধু পানি খেতে হবে যতদিন পর্যন্ত উন্নতি পরিলক্ষিত হয়।

২/ নিমপাতা

নিম পাতার গুণের যেন শেষ নেই। তার মাঝে অন্যতম গুণ হলো, পিঠে ব্যথার ক্ষেত্রে এর দারুণ কার্যকারিতা।  ৮-১০ টি নিমপাতা নিয়ে পানিতে ফোটাতে হবে যতক্ষণ  পর্যন্ত না অর্ধেক হয়ে যায়। ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ঠাণ্ডা করে এতে এক চিমটি পরিমাণ লবণ মেশাতে হবে। এই মিশ্রণ প্রতিদিন দুইবার করে খেতে হবে।

৩/ রসুন

পিঠে ব্যথার ক্ষেত্রে দারুণ কাজে দেয় যে উপাদানটি সেটা হলো রসুন। প্রতিদিইন সকালে খালি পেটে এক-দুই কোয়া রসুন চিবিয়ে খেলেও উপকার পাওয়া যাবে। অথবা রসুন সরাসরি ব্যথাযুক্ত অংশে লাগাতে হবে। ব্যথা নিরাময়ের জন্য  নারিকেল তেল গরম করে তাতে ৮-১০ কোয়া রসুন দিয়ে ভাজতে হবে। তেল একদম বাদামী বর্ন ধারণ করলে নামিয়ে নিয়ে ঠাণ্ডা করতে হবে। এরপর এই তেল ব্যথাযুক্ত অংশে ব্যবহারের জন্য একদম তৈরি।

আরও পড়ুনঃ   বার বার প্রস্রাব পেলে ৬ খাবার বর্জন করুন !

৪/ বরফ

পিঠে ব্যথাভাব যদি প্রদাহ থেকে তৈরি হয় তবে আইসব্যাগে কিছু পরিমাণ বরফ নিয়ে এরপর ব্যথাযুক্ত স্থানে দিয়ে রাখতে হবে। এটা অন্যতম সহজ প্রাকৃতিক সমাধান পিঠ ব্যথার ক্ষেত্রে। পিঠের ব্যথাযুক্ত স্থানে ১০-১৫ সময় নিয়ে আইসব্যাগ রাখার পরেই পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে।

৫/ দুধ

অনেক সময় শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দেওয়ার কারণে পিঠে ব্যথাভাব তৈরি হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে নিয়মিত দুধ পান করার চেষ্টা করতে হবে।

৬/ অয়েল ম্যাসাজ

সবচাইতে দ্রুত ও কার্যকরী সমাধান হলো পিঠের ব্যথাযুক্ত অংশে অয়েল ম্যাসাজ করা। তবে ম্যাসাজ করতে হবে সাবধানে এবং সতর্কতার সাথে। যেহেতু পিঠে ব্যথা রয়েছে, সেহেতু ব্যথাযুক্ত অংশটি খুব নাজুক অবস্থায় থাকবে। তাই খুব আস্তে এবং যত্নসহকারে ব্যথযুক্ত স্থানে ম্যাসাজ করতে হবে।

৭/ সাঁতার কাটা

অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, নিয়মিত সাঁতার কাটার ফলে পিঠের পেশী টানটান হয়। যার ফলে পিঠে ব্যথা দেখা দেওয়ার সমস্যা কমে যায় অনেকখানি। তবে ব্যথা যদি অনেক বেশী হয়, সেক্ষেত্রে সাঁতার এড়িয়ে যেতে হবে।

সূত্র: Boldsky , Top10HomeRemedies

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

11 + six =