পরিচিত কলার অপরিচিত ১০ গুণ!

0
117
কলার গুণ

ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা:

বাংলাদেশে যে কোন ফলের মাঝে কলা সবচাইতে সহজলভ্য এবং পুষ্টিকর। অন্যান্য ফলের মতো এটি মৌসুমি নয়। বারো মাস ধরেই এই ফল পাওয়া যায় খুব সহজেই। বাজার থেকে শুরু করে বাসার নীচের মুদি দোকানেও এই ফলের আনাগোনা দেখা যায়। এতোটা সহজলভ্য বলেই হয়তো দারুণ এই ফলটাকে আমরা খুব একটা গুরুত্ব দেই না!

কাঁচা কলা এবং পাকা কলা- উভয় ধরণের কলা শরীরের জন্য দারুণ উপকারী। নানান ধরণের স্বাস্থ্যগুণে ভরপুর এই ফলটিকে আমরা যতোটা সাধারণ ভেবে থাকি, ততটাই অসাধারণ এই ফল! আজকের ফিচার থেকে জেনে নিন কলার দারুণ সকল স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং গুণ।

১/ ক্যান্সার জাতীয় রোগ প্রতিহত করে

কলাতে রয়েছে একটি বিশেষ ধরণের প্রোটিন (টিউমার নেক্রোসিস ফ্যাক্টর) যা ক্যান্সার জাতীয় রোগ প্রতিহত করে। পাকা কলাতে এই উপাদানের উপস্থিতি বেশী থাকে। বিশেষ করে যে সকল পাকা কলার খোসার গায়ে কালো দাগ থাকে (বেশী পাকা কলার ক্ষেত্রে এমন হয়) সে সকল কলাতে বেশী উপকারী।  

২/ পেশীর ব্যাথা দূর করে

গোড়ালির পেশীতে আকস্মিকভাবে ব্যাথা শুরু হবার অন্যতম কারণ হলো- মিনারেল ডেফিসিয়েন্সি অথবা মিনারেল এর ঘাটতি। পটাসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম যুক্ত খাবার যেমন: কলা খেলে পেশীর আর আকস্মিক ব্যাথা প্রতিহত করা সম্ভব হয়। যে কারণে অনেক খেলোয়াড়রাই তাদের দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় কলা রাখেন।

৩/ কিডনিজনিত সমস্যা তৈরি হতে বাধা দেয়

পর্যাপ্ত পরিমাণ পটাসিয়াম যুক্ত খাবার কিডনিতে পাথর তৈরি হতে বাধা প্রদান করে থাকে। গবেষণা থেকে দেখা গেছে, প্রতিদিন পাকা কলা খাওয়ার ফলে কিডনির সমস্যা তৈরি হবার সম্ভবনা শতকরা ৪০ ভাগ পর্যন্ত কমে যায়।

৪/ হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করে

যাদের মাঝে উচ্চরক্ত চাপ রয়েছে এবং হৃদরোগ দেখা দেবার প্রবণতা রয়েছে তাদের অতি উচ্চ মাত্রার পটাসিয়াম যুক্ত খাবার খাওয়া উচিৎ। প্রতিদিন অন্তত ১.৩ গ্রাম পরিমাণ পটাসিয়াম গ্রহণের হৃদরোগের সম্ভবনা ২৬% পর্যন্ত কমে যায়! যে কারণে, নিজের ওজন এর উপর নির্ভর করে একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ২-৩ টি কলা খাওয়া উচিৎ।

৫/ ধমনী পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে

ধমনীতে স্বাভাবিকভাবে রক্ত চলাচলা বাধা তৈরি করার জন্য কোলেষ্টেরল হলো অন্যতম প্রধান কারণ। যা থেকে আথেরস্ক্লেরোসিস তৈরি হয়। কলাতে থাকা ফাইটোসটেরলস রক্তের কোলেষ্টেরল এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে থাকে বলে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া ভালো থাকে।

৬/ পাকস্থলী সুস্থ রাখতে সাহায্য করে

যাদের গ্যাস্ট্রিক আলসারের সমস্যা রয়েছে তাদের পাকা কলা খাওয়া উচিৎ। কলাতে থাকা এনজাইম মিউকাস নিঃসরণ করে পেটের সমস্যাকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।

৭/ প্রানশক্তির অন্যতম উৎস হল কলা

কলাতে থাকা প্রচুর পরিমাণ ভিটামিনস এবং মিনারেলস প্রানশক্তির অন্যতম একটা প্রধান কারণ। সহজপাচ্য কার্ব খুব দ্রুত পরিপাক হয়ে যায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে শরীরে শক্তি যোগাতে সাহায্য করে।

৮/ মন ভালো করতে সাহায্য করে

কলাতে থাকা ‘ডোপামিন’-কে বলা হয়ে থাকে ‘সুখে থাকার হরমোন’। এর সাথে থাকা ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স নার্ভ সিস্টেমের উপরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সাহায্য করে। এই সকল ইতিবাচক গুণের জন্য অকারণে মন খারাপ হলে একটি পাকা কলা খেয়ে নিতে পারেন মন ভালো করার জন্য।

৯/ ডায়বেটিস এর প্রকোপ কমাতে সাহায্য করে

কলাতে থাকা বিশেষ ধরণের একটি ‘স্টার্চ’ ডায়বেটিস টাইপ-২ তে ভোগা রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। এক্ষেত্রে কাঁচা কলা সবচেয়ে বেশী উপকারী। কারণ একটি কাঁচা কলাতে স্টার্চ রয়েছে ১২.৫ গ্রাম, যেখানে একটি পাকা কলাতে রয়েছে মাত্র ৫ গ্রাম।

১০/ ওজন কমাতে সাহায্য করে

কাঁচা কলাতে থাকা স্টার্চ শরীরে মেদ জমতে বাধা প্রদান করে এবং প্রাণশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে থাকে। যার ফলে খুব দ্রুত চলাফেরা এবং কাজ করার উদ্দীপনা তৈরি হয়। এতে করে ওজন দ্রুত কমতে সাহায্য করে। তবে অবশ্যই কাঁচা কলা খাবার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার এবং শরীরচর্চা করার অভ্যাস বজায় রাখতে হবে।  

সূত্রBright Side

ওষুধের কাজ করে কলা!

আরও পড়ুনঃ   নানা গুণে কদবেল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

three × 4 =