পর্নগ্রাফি আসক্তির নেতিবাচক প্রভাবগুলোর ব্যাপারে জানেন কি?

0
235
পর্নগ্রাফি আসক্তি

আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল এসোসিয়েশন’ জানাচ্ছে, পর্নগ্রাফি দেখার ক্ষেত্রে নারীদের সংখ্যা ৩০ শতাংশ। পুরুষদের ক্ষেত্রে যেটা ৫০ শতাংশ। যদিও অনেক দেশে পর্ন সিনেমা যৌন শিক্ষার বিষয়বস্তু হিসেবে ধরা হয়, তবে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই পর্ন সিনেমা দেখা হয়ে থাকে চটুল যৌন আকর্ষণের জন্য। আকর্ষণের বিষয়বস্তু যখন একজন মানুষের জীবনে আসক্তিতে পরিণত হয় তখনই ভয়াবহ সমস্যা দেখা দিতে শুরু করবে আর সেটাই স্বাভাবিক।

কীভাবে বুঝবেন  আপনার পর্ন আসক্তি রয়েছে?

একজন ব্যক্তি পর্ন সিনেমার প্রতি আসক্ত কিনা, সেটা জানা ও বোঝা যাবে বেশ কিছু লক্ষণ থেকে।

–      তারা নিজেদের পর্ন সিনেমা দেখার বিষয়টি লুকিয়ে রাখেন।

–      তারা নিজের প্রতিদিনের জীবনযাপন, অভ্যাস ও সময়সূচী পর্ন সিনেমা দেখার জন্য ভিন্নভাবে বদলে নেন।

–      যত জরুরি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কাজই থাকুক না কেন, যেকোন অবস্থাতেই তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে পর্ন সিনেমা অবশ্যই দেখতে হবে।

–      পর্ন সিনেমা দেখার শুরুর সময় অনেক বেশী উত্তেজনা কাজ করলেও, শেষদিকে অনেক বেশী অনুশোচনা বোধ দেখা দেবে।

–      নিজের মাঝে অনেক একাকীত্ব বোধ করবেন তারা।

মূলত এই সকল লক্ষণ দেখা দেওয়া ও চিহ্নিতকরনের মাধ্যমেই একজন মানুষের পর্নগ্রাফি আসক্তি ধরা পড়ে। অতিরিক্ত পর্নগ্রাফি আসক্তি ফলে ব্যক্তি জীবন তো বটেই, শারীরিক ও মানসিকভাবে কতোটা বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হয় একজন সেটা তুলে ধরা হলো।

১/ বিষণ্ণতায় ভোগা

পর্নগ্রাফি আসক্তির ক্ষেত্রে সবচাইতে বড় এবং ঝুঁকিপূর্ণ সমস্যা, যেটার জন্য খুব দ্রুত মেডিক্যাল চিকিৎসার প্রয়োজন যেটা হলো- বিষণ্ণতা। ‘Mental and physical health indicators and sexually explicit media use behavior by adults’ নামক একটি রিসার্চ ম্যাগজিনে প্রকাশিত একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে, যাদের মাঝে পর্ন দেখার প্রতি প্রবল আসক্তি রয়েছে তাদের মানসিক অবস্থা এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের মান যাদের পর্নগ্রাফি আসক্তি নেই তাদের চাইতে অনেক বেশী নিম্নগতির! সঠিক সময়ে কোন ব্যক্তির পর্ন আসক্তি এবং তার ফলে সৃষ্টি হওয়া বিষণ্ণতা সনাক্তকরণ করা প্রয়োজন। যদি সনাক্ত করণ করা সম্ভব না হয়, তবে সেই ব্যক্তির শারীরিক এবং মানসিক অবস্থা ভয়ঙ্কর ঝুঁকির মুখে পড়বে। জনপ্রিয় একটি মেন’স ম্যাগাজিন তাদের ফিচারে জানায়, অনেকেও তাদের পুর্ববর্তী বিষণ্ণতা, একাকীত্ব ও মন খারাপ ভাব দূর করার জন্য পর্ন সিনেমা দেখে থাকেন। যার ফলাফল কখনোই ভালো হয় না।

আরও পড়ুনঃ   ব্রেইন-সংক্রান্ত যে দশ কারণে মানুষ ক্রাইমে জড়ায় !

২/ আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা দেওয়া  

পর্ন সিনেমা দেখার সময়ে প্রচণ্ড উত্তেজনা কাজ করলেও, দেখা শেষ হয়ে যাবার পরে পর্নগ্রাফি আসক্ত ব্যক্তির মনে প্রচণ্ড রকম নেতিবাচক অনুভূতি তৈরি হতে থাকে। যেটাকে বলা যায় অনুশোচনাবোধ। এটা সাধারণত তৈরি হয় অপরাধবোধ ও লজ্জাবোধ থেকে। কখনো কখনো অতিরিক্ত অনুশোচনাবোধ  থেকে তৈরি হয় বিষণ্ণতা। এই সকল নেতিবাচক অনুভূতি মিলিয়ে পর্ন আসক্ত ব্যক্তির মনের উপরে অনেক বেশী মানসিক চাপ তৈরি করে ফেলে। যার ফলে তার মাঝে দেখা যায় আত্মবিশ্বাস এর অভাব।

৩/ সম্পর্কে ও যৌনজীবনে সমস্যা দেখা দেওয়া

অতিরিক্ত পর্নগ্রাফির প্রতি আসক্তি জন্মানোর ফলে বাস্তব জীবনে সঙ্গীর সাথে স্বাভাবিক যৌনজীবনের উপরেও তার মারাত্মক প্রভাব পড়ে থাকে। প্রথমত, পর্ন সিনেমা দেখার সময়ে হস্তমৈথুনে শারীরিক শক্তি অনেক বেশী নষ্ট হয়ে যায়। যার ফলে বাস্তবে সঙ্গীর সাথে যৌনক্রিয়ার প্রতি আগ্রহ নষ্ট হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, পর্ন সিনেমায় দেখানো দৃশ্যের সেটআপের সাথে বাস্তবতার কোন মিল না থাকায় যৌনক্রিয়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয় না।

আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল এসোসিয়েশনের “ইজ পর্নগ্রাফি এডিক্টিভ” নামক একটি গবেষণা থেকে জানা যায়, যে সকল পুরুষেরা পর্ন সিনেমার প্রতি অনেক বেশী আসক্ত হয়ে পড়ে, তাদের যৌনজীবনে অবনতি ঘটে। ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িত পুরুষদের ক্ষেত্রে যা হয়- তারা তাদের সঙ্গীর কাছ থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করেন এবং তাদের আবেগ অনেক কমে যায়। তারা নিজেদের বদ অভ্যাসকে লুকানোর জন্যে নিজেকেও গুটিয়ে ফেলেন।

৪/ ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ প্রকাশ করা

যারা অতিরিক্ত পরিমাণে পর্নগ্রাফির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন, তাদের ব্যাপারটা বাড়াবাড়ি আকার ধারণ করলে খুব ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ শুরু করেন। ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ বলতে তারা অনেক সময় নিজেদের চাকরি জীবন, ছাত্র জীবন থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েন। অথবা অনেকের চাকরী চলে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে থাকে।

৫/ যৌনতার প্রতি আসক্তি

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পর্নগ্রাফি আসক্তি শুধুমাত্র প্রাথমিক একটি ব্যাপার। অতিরিক্ত যৌন চাহিদা যার পেছনের কারণ হিসেবে দেখা দেয় অনেক সময়। তাদের অরক্ষিত ও অতিরিক্ত যৌন চাহিয়া ও যৌনক্রিয়ার ফলে দেখা দিতে শুরু করে বিভিন্ন ধরণের যৌন রোগ। এছাড়াও, অতিরিক্ত যৌনতা বা যৌন চাহিদার জন্য বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়া, চাকরি ক্ষেত্রে কাজের গতি কমে যাওয়া এবং নিজের স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় অনেক বড় নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। যদিও বিতর্ক রয়েছে যে, অতিরিক্ত পর্নগ্রাফি আসক্তি যৌন অত্যাচারে, ধর্ষণের দিকে কারণ কিনা। তবে বেশ কিছু গবেষণা থেকে দেখা গেছে, অনেকেই সঙ্গীর পর্ন আসক্তির ফলে যৌন অত্যাচারের মুখোমুখি হয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ   পোকামাকড় কামড়ালে যা করবেন

সূত্র: Curejoy

ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

four + seven =