পুরুষের শরীরে দেখা দিতে পারে ব্রেস্ট ক্যান্সারের যেসব উপসর্গ

0
ব্রেস্ট ক্যান্সার

কে এন দেয়া:

ব্রেস্ট ক্যান্সার শুনলেই আমরা ভাবি এই রোগটি হয় শুধুমাত্র নারীর। পুরুষেরও যে ব্রেস্ট ক্যান্সার হতে পারে এ ব্যাপারটা আমরা অনেকেই ভুলে যাই। হ্যাঁ, নারীর চাইতে পুরুষের শরীরে ব্রেস্ট ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা কম। কিন্তু পুরুষের যদি ব্রেস্ট ক্যান্সার হয়েই থাকে, তবে তা অনেক মারাত্মক হতে পারে। আদ-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজের লেকচারার ডঃ শাহনাজ সেতু জানান, পুরুষের ব্রেস্ট টিস্যু কম থাকায় এই ক্যান্সার খুব দ্রুত শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। সচেতনতার অভাব থাকায় এই রোগ শনাক্ত হয় অনেক দেরিতে।

শুধুমাত্র নারীর নয়, ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণগুলোর ব্যাপারে জেনে রাখা উচিৎ পুরুষেরও। চলুন, দেখে নিই এমন কিছু শারীরিক লক্ষণ যার পেছনে কারণ হতে পারে ব্রেস্ট ক্যান্সার-

১) লাম্প বা পিন্ড

ব্রেস্ট ক্যান্সারের একটি লক্ষণ হলো স্তনে শক্ত, ব্যথাহীন একটি পিন্ড। নিপলের ঠিক পেছনে বা পাশে এটা দেখা যায়। গাইনেকোম্যাস্টিয়া নামের একটি হরমোনের সমস্যার কারণেও অনেক সময়ে পুরুষের স্তনে পিন্ড দেখা যায় তবে সেসব পিন্ড হয় নরম এবং তাকে চাপ দিলে সরে যায়। ব্রেস্ট ক্যান্সারের ফলে যে লাম্প বা পিন্ড হয় সেটা হয় শক্ত। একে চাপ দিলেও সরবে না। পেকটোরাল অঞ্চলে এই লাম্প আসলে ক্যান্সারাস কিনা, তা জানতে ব্রেস্ট ইমেজিং এবং কখনো কখনো নিডল বায়োপসি পরীক্ষার দরকার হয়।

২) আকার-আকৃতির পরিবর্তন

লাম্পের পাশাপাশি অনেক সময়ে স্তনের আকারে অস্বাভাবিক পরিবর্তন আসতে পারে। পরিবর্তনটি হতে পারে বেশ কিছুদিন ধরে অথবা হুট করেই। এমন লক্ষণের অর্থ হলো, ত্বকের নিচে কোনো একটা পরিবর্তন আসছে। আকার-আকৃতি বদলের এই ঘটনায় সাধারণত কোনো ব্যথা থাকে না, কিন্তু তাই বলে একে এড়িয়ে গেলে চলবে না। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি লক্ষণ।

৩) নিপলের পরিবর্তন

স্তনের পাশাপাশি নিপলের আকার, আকৃতি, রং বা ত্বকে কোনো পরিবর্তন এলে অবশ্যই সেটা আপনার ডাক্তারকে জানান। কারণ পুরুষের ৪০-৫০ শতাংশ ব্রেস্ট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এই লক্ষণটি দেখা যায়। এমনকি, নিপল ভেতরের দিকে ঢুকে যেতেও দেখা যায়। নিপল লাল হয়ে যাওয়া, খসখসে হয়ে যাওয়ার ব্যাপারগুলো দেখা যায়।

আরও পড়ুনঃ   পুরুষের দুর্বলতা

৪) ত্বকে পরিবর্তন

ব্রেস্ট ক্যান্সারের প্রথম লক্ষণটিই হয় বুকের ত্বকে পরিবর্তন। তাদের ত্বকে লালচেভাব, র‍্যাশ এমনকি এডেমা (পানি জমা) হতে দেখা যায়। এসব লক্ষণ দেখে ইনফেকশন মনে হতে পারে। অনেক সময়েই রোগী এসব র‍্যাশ বা লালচেভাব আমলে আনে না, কারণ সে মনে করে কাপড়ে ঘষা লেগে বা বেশী শরীরচর্চার কারণে এমন হচ্ছে। এর পাশাপাশি নিপলের আশেপাশে ছোট ছোট দানা অথবা ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে।

৫) নিপল ডিসচার্জ

গর্ভবতী বা ব্রেস্টফিডিং নারী ছাড়াও সাধারণত নারীদের নিপল ডিসচার্জ বা তরল নিঃসরণ তেমন অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে পুরুষের ক্ষেত্রে নিপল ডিসচার্জ অবশ্যই অস্বাভাবিক। এমনকি এটা ব্রেস্ট ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়ের লক্ষণ হতে পারে। সাধারণত পুরুষরা বুঝতে পারে এ ব্যাপারটি অস্বাভাবিক এবং সমস্যাটি নিয়ে ডাক্তারের কাছে যান। নিপল ডিসচার্জ স্বচ্ছ হতে পারে, আবার এর সাথে রক্তও যেতে পারে। শার্টে বা গেঞ্জিতে দাগ থেকে সাধারণত পুরুষরা এটা বুঝতে পারেন। ডিসচার্জের ধরণ যেমনই হোক না কেন, তা বুঝতে পারার সাথে সাথে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা উচিৎ।

এসব লক্ষণের কোন একটি বা একাধিক যদি আপনি দেখেন, খুব দ্রুতই তা ডাক্তারের গোচরে আনতে হবে। ছবি: রিপন

৬) ব্রেস্ট বা নিপলে ব্যথা

ক্যান্সার ছাড়াও অন্যান্য কারণে এই ব্যথা হতে পারে। কিন্তু ব্রেস্ট ক্যান্সারের একটি বড় লক্ষণ এটা। ব্রেস্ট ক্যান্সারের কারণে ব্রেস্ট বা নিপলে ব্যথা হয় দীর্ঘস্থায়ী এবং একটি জায়গাকে কেন্দ্র করে। কোন কারণ ছাড়াই যদি কয়েকদিন ধরে এই অঞ্চলে ব্যথা অনুভব করতে থাকেন, তবে অবশ্যই তা আপনার ডাক্তারকে জানানো দরকার।

৭) হাড়ের ব্যথা

সাধারণত প্রাথমিক পর্যায়ে পুরুষের ব্রেস্ট ক্যান্সার ধরা পড়ে না। শনাক্ত করতে দেরি হয় এবং শরীরের অন্যান্য অংশে তা ছড়িয়ে পড়ে। ব্রেস্ট ক্যান্সার খুব সহজেই হাড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং এ থেকে হাড়ের ব্যথা হয়।

আরও পড়ুনঃ   কিভাবে অধিক সময় ধরে সহবাস করবেন? (তিনটি কার্যকরী পদ্ধতি)

৮) ফুলে যাওয়া লিম্ফ নোড

হাড়ের পাশাপাশি ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়তে পারে লিম্ফ নোডেও। ক্যান্সার শনাক্ত করতে দেরি হলে এমনটা দেখা যায়। মূলত বগলের আশেপাশে এক বা একাধিক লিম্ফ নোড ফুলে ব্যথা করতে পারে। এর পেছনে অন্যান্য কারণও থাকতে পারে বটে। কিন্তু ডাক্তার দেখিয়ে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া জরুরী।

লক্ষণ দেখা দিলে কী করবেন?

এসব লক্ষণের কোন একটি বা একাধিক যদি আপনি দেখেন, খুব দ্রুতই তা ডাক্তারের গোচরে আনতে হবে এবং পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে এর পেছনে কী কারণ আছে। প্রথমে ম্যামোগ্রাম এবং আলট্রাসাউন্ড করা হতে পারে এবং দরকার হলে বায়োপসিও করা হতে পারে।

পুরুষের মাঝে ব্রেস্ট ক্যান্সার কম দেখা দেয় এই ভেবে নিশ্চিন্ত থাকবেন না এবং এসব লক্ষণ অবহেলা করবেন না। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে এই ক্যান্সার থেকে সেরে ওঠার সম্ভাবনা বেশী থাকে।

ডঃ সেতু জানান, সাধারণত ৩৫ বছর বয়সের কম বয়সী পুরুষদের এটা হতে দেখা যায় না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এর সম্ভাবনা বাড়ে। ৬০-৭০ বছর বয়সের দিকেই এটা হতে দেখা যায়। ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকিতে সাধারণত থাকেন এসব মানুষ-

– যাদের কোনো আত্মীয়ের (পুরুষ বা মহিলা) ব্রেস্ট ক্যান্সার ছিল

– কোনো কারণে রেডিয়েশন এক্সপোজারে থাকেন যারা

– লিভার সিরোসিসের রোগী

– ক্লিনফিল্টার সিনড্রোম আছে এমন মানুষ

– কোনো কারণে ইস্ট্রোজেন নিচ্ছেন এমন মানুষ

– টেস্টিসে আঘাত পেয়েছেন এমন মানুষ

ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে হলে…

বংশগত কারণ, বয়স এসব কারণে ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে এবং এগুলোর ওপরে আপনার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে কিছু কিছু ব্যাপার আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন বটে। জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলে তা আপনারই উপকারে আসবে। স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, প্রচুর টাটকা শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া, ধূমপান এবং মদ্যপান বাদ দেওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা শুধু ব্রেস্ট ক্যান্সার নয়, যে কোনো ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুনঃ   জন্মনিয়ন্ত্রণের প্রাকৃতিক পদ্ধতি — বিনা ঔষধে, বিনা জন্মনিরোধকে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

thirteen + four =