মন ও শরীর সুস্থ ও সুন্দর রাখার ২০টি টিপস জেনে নিন

0
411
মন ও শরীর সুস্থ ও সুন্দর রাখার টিপস

আমরা জানি স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে মনও ভালো থাকে না।কিন্তু কিভাবে মন ও শরীর সুস্থ রাখতে হবে তা আমাদের অনেকেরই জানা নেই। আজ মন ও শরীর সুস্থ রাখার ২০টি টিপস আপনাদের সামনে তুলে ধরা হলো

শরীরের জন্য প্রয়োজন সবকিছুই

প্রতিদিন একই ধরনের খাবার কোনোভাবেই খাওয়া উচিত নয়৷ তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় বিভিন্ন রকমের ভিটামিন, মিনারেল এবং প্রোটিনযুক্ত খাবার রাখুন৷ তাছাড়া খাবারের গুণগত মানটাই বড়, খাবারের পরিমাণ নয়৷ এই যেমন, প্রোটিন শরীরের ওজন না বাড়িয়ে মানসম্পন্নভাবে শক্তি সরবরাহ করে, যা কোষের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়৷

আঁশযুক্ত খাবার

খাবারের তালিকায় যথেষ্ট পরিমাণে আঁশযুক্ত শষ্যদানা রাখুন৷ বিশেষ করে সকালের নাস্তায় সিরিয়ালের সাথে বিভিন্ন শষ্যদানা, গম, ভুট্টা, ফল এবং দই থাকতে পারে৷ এতে ঝটপট পেট ভরে এবং পেট পরিষ্কারও থাকে, অর্থাৎ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে৷ তবে ফল মানেই আপেল, আঙুর নয়৷ বরং যখন যে ফল পাওয়া যায়, মানে মৌসুমি ফল খান৷ এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে৷

তাজা ফল এবং শাক-সবজি

প্রতিদিন খাবারের তালিকায় শিম, মটরশুটি, বরবটির মতো আঁশযুক্ত সবজি ও যথেষ্ট ফল থাকা প্রয়োজন৷ এ সব শরীরে চিনি নিয়ন্ত্রণে যেমন সাহায্য করে, তেমনি হৃদরোগ প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে৷ বাঁধাকপি, ফুলকপি ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক৷ বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার মতে দিনে কয়েকবার শাক-সবজি ও ফলমূল খাওয়া উচিত৷ যাঁরা ফলমূল এবং শাক-সবজি বেশি খান, তাঁদের হাঁপানি বা অ্যালার্জির ঝুঁকিও নাকি কম থাকে৷

ফাস্টফুডকে ‘না’ বলুন

দোকানে তৈরি ‘ফাস্টফুড’ বা ‘রেডিমেড’ খাবার একেবারেই খাওয়া উচিত নয়৷ এগুলোতে লুকিয়ে থাকে প্রচুর পরিমাণে চিনি এবং নানা রকম ক্ষতিকারক জিনিস৷ বিজ্ঞানীরা বলছেন, শিশুদের ক্ষেত্রে ফাস্টফুড হাঁপানি হওয়ার শঙ্কা প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়৷ ৩১টি দেশের শিশুদের ওপর এক গবেষণা করে এ তথ্য জানা গেছে৷ তাই ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে৷

আরও পড়ুনঃ   চোখের সমস্যা দূর করে লাল চা!

ব্রেনের জন্য খাবার

মানুষের মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য প্রয়োজন শর্করা এবং গ্লুকোজ৷ এটা থাকে বিভিন্ন ফল, রুটি, মিষ্টি আলু, নুডলস, মাছ-মাংস, কাঠবাদাম প্রভৃতিতে৷ তাই অল্প পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের বাদাম নিয়মিত খাওয়া জরুরি৷ এতে শরীরের প্রয়োজনীয় মৌলিক উপাদানগুলি রয়েছে৷ দেখা গেছে, সপ্তাহে দুই বা তিনদিন বিভিন্ন রকমের বাদাম খেলে হৃদরোগ থেকে দূরে থাকা সম্ভব৷ ডিমের কুসুমও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী৷

দুধ বা দুধের তৈরি খাবার

প্রতিদিন খাবারের তালিকার দুধ রাখা উচিত৷ তবে আজকাল অ্যালার্জির কারণে অনেকেরই সরাসরি দুধ খেতে পারেন না৷ সেক্ষেত্রে দুধের তৈরি অন্যকিছু খাওয়া যেতে পারে৷ দুধে রয়েছে শরীরের জন্য উপকারী ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ৷ তাই একে সুসম খাদ্যও বলে৷ এছাড়া সপ্তাহে দু’দিন মাছ-মাংস বা ডিম খেলেই যথেষ্ট৷ সামুদ্রিক মাছে রয়েছে ওমেগা থ্রি চর্বি, যা বার্ধক্য রোধে সহায়তা করে৷

আদা, রসুন, পেঁয়াজের জুড়ি নেই

রান্নায় যতটা সম্ভব কম তেল ব্যবহার করুন৷ আর যদি সম্ভব হয় সরাসরি উদ্ভিজ্জ তেল ব্যবহার করাই ভালো৷ উদ্ভিজ্জ খাদ্যে যেমন অল্প পরিমাণে ক্যালোরি থাকে, তেমনি অন্যদিকে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ পদার্থ আর ফাইবার৷ এশীয় রান্নাঘরে আদা, রসুন, পেঁয়াজের ব্যবহার এমনিতেই রয়েছে৷ এই পেঁয়াজ, রসুন, ক্যানসার রোধে সহায়ক৷ আর আদা ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে পেট পরিষ্কার রাখে৷

পানীয় বেশি, লবণ-চিনি কম

প্রতিদিন কমপক্ষে এক থেকে দুই লিটার পানি পান করা উচিত৷ তবে মিষ্টি মিশ্রিত পানীয় নয়, অর্থাৎ কোলা, ফান্টা বা এ জাতীয় কিছু নয়৷ ওহ হ্যাঁ, উচ্চরক্তচাপ বা ডায়বেটিস এড়িয়ে নিজেকে সুস্থ ও সুন্দর রাখতে লবণ ও চিনি খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধ বজায় রাখুন৷ লক্ষ্য রাখবেন, চিনির ক্ষেত্রে তা যেন হয় প্রকৃতিক উপায়ে তৈরি, অর্থাৎ ব্রাউন চিনি আর লবণ যেন হয় আয়োডিন এবং ফ্লোরাইড যুক্ত৷

ধীরে-সুস্থে চিবিয়ে খান

খাবার তাড়াহুড়ো করে খেলে বেশি খাওয়ার ভয় থাকে৷ এতে ওজন বাড়ে এবং তা হজমেও ব্যাঘাত ঘটায়৷ তাই খাবার ধীরে ধীরে চিবিয়ে খান৷ এতে অর্ধেক হজম হয়ে যায়৷ তাছাড়া আপনি কী খাচ্ছেন, কেন খাচ্ছেন – তা বুঝে শুনে খান, অর্থাৎ খাবার উপভোগ করুন৷ আপনি যা খাবেন, ঠিক সেরকমই ‘বোধ’ করবেন, অর্থাৎ আপনার ‘পারফরমেন্স’ নির্ভর করবে আপনার খাওয়ার ওপর৷ আর চেহারাতেও তার প্রমাণ ফুটে উঠবে৷

আরও পড়ুনঃ   বুদ্ধি কমিয়ে দিচ্ছে যে খাবার

হাঁটুন

প্রতিদিন ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা হাঁটুন৷ এতে হাত-পা চলাচলের পাশাপাশি মুক্ত বাতাসও সেবন হবে, যা ‘ফিট’ থাকতে বিশাল ভূমিকা পালন করে৷ হাঁটার সময় কেউ পাশে থাকলে ভালো, না হলে একাই কিছুক্ষণ হেঁটে আসুন৷ ফিরে এসে দেখবেন শরীর এবং মন – দুটোই কেমন ফুরফুরে লাগছে! হাঁটাহাটি বা ব্যায়াম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও বিশেষভাবে সাহায্য করে৷

মন ও শরীর সুস্থ ও সুন্দর রাখারঅবশিষ্ট ১০টি টিপস নিম্নরুপঃ

১. প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠে অন্তত আধা ঘণ্টা হাটুন।

২. বসার সময় অবশ্যই সোজা হয়ে বসুন। চেয়ারে যখনই বসবেন তখনই বাঁকা না হয়ে সোজা হয়ে বসুন।

৩. খাবার খাওয়ার সময় ভালো করে চিবিয়ে খাবার খান। এতে করে পাচন ক্রিয়া ঠিক থাকে- সঠিকভাবে খাদ্য হজম হয়।

৪. মিষ্টি জাতীয় খাবার কম খাওয়ার চেষ্টা করুণ। কারণ মিষ্টি জাতীয় খাদ্য শরীরকে মোটা করে।

৫. বেশি করে সবুজ শাক-সবজি আর ফল-মূল খান।

৬. গরমের দিন রাতে শোয়ার আগে গোসল করুণ। রাতে গোসল করলে ঘুম ভালো হয়।

৭. রাতে শোবার আগে ঢিলেঢালা পোশাক পরা ভালো। তাতে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ রোম ছিদ্রের মধ্য দিয়ে শ্বসন প্রক্রিয়া চালাতে পারে।

৮. চুলের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। কারণ চুল হলো সৌন্দর্যের প্রতীক। সম্ভব হলে সপ্তাহে একদিন হার্বাল শ্যাম্পু ব্যবহার করুণ।

৯. প্রতিদিন অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধ্যান করুন। এতে মানসিক প্রশান্তি আসবে। মনও ভালো হবে।

১০. ক্রোধ থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। এমনভাবে কথা বলুন যাতে কেও দু:খ না পায়।

এ ছাড়াও নিজের ঘরের কাজ নিজে করার চেষ্টা করুণ। কারণ ব্যস্ত থাকাটা শরীর ও মন—দুয়ের জন্যই ভালো। তাই কাজে যতটা সম্ভব ব্যস্ত থাকুন। তাহলে শরীর ও মন দুটোয় ভালো থাকবে। নিয়মগুলো মেনে চলুন এবং সুস্থ সুন্দর জীবন যাপন করুণ।

আরও পড়ুনঃ   এনার্জি বৃদ্ধি-যে ৫টি পানীয় নিমিষে বৃদ্ধি করবে এনার্জি

এসব টিপসগুলো সকলের জন্যই প্রযোজ্য। তবে যাদের বয়স চল্লিশর উপরে তাদের এগুলোর দিকে বেশি নজর দেওয়া দরকার। শরীর ফিট রাখতে গেলে কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। সুস্থ শরীর থাকলে শান্তিময় জীবন লাভ করা যায়।

সুন্দর স্বাস্থ্য পেতে যা করবেন!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

18 + 15 =