মলের সঙ্গে রক্ত?

0
99
মলের সঙ্গে রক্ত

মলের সঙ্গে বা পায়ুপথে তাজা রক্ত যাওয়ার ব্যাপারকে মামুলিভাবে নিলে চলবে না। সাধারণ পাইলস থেকে শুরু করে ক্যানসার পর্যন্ত নানা কারণে পায়ুপথে রক্তপাত হতে পারে।

অনেক সময় মলের সঙ্গে কালো রঙের পিচ্ছিল রক্ত যায়, যা ফ্ল্যাশ করলেও কখনো কখনো রয়ে যায়। এটি কিন্তু তাজা রক্ত নয়। সাধারণত পাকস্থলী বা অন্ত্র থেকে রক্তক্ষরণ হলে তা মলের সঙ্গে কালো আলকাতরার মতো রং ধারণ করে। কিন্তু পায়ুপথে তাজা লাল রক্ত গেলে তা বৃহদন্ত্রের একেবারে নিচের অংশ থেকে আসছে বলে ধরে নিতে হবে। পাইলস, অ্যানাল ফিশার, রেকটাল পলিপ বা রেকটাল ক্যানসার হতে পারে এর অন্তর্নিহিত কারণ।

পাইলস: মধ্যবয়সে পায়ুপথে তাজা রক্তক্ষরণের অন্যতম কারণ পাইলস। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে এবং অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় এ রোগের ঝুঁকি বেশি। এতে প্রথমদিকে মলের সঙ্গে ফোঁটা ফোঁটা বা ফিনকি দিয়ে তাজা রক্ত যায়। পরবর্তী সময়ে একটা মাংসপিণ্ড গোটার মতো পায়ুপথে বের হয়ে আসে। পাইলস হলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে হবে। এর ওষুধও আছে। জটিল আকার ধারণ করলে শল্যচিকিৎসা লাগে।

* রেকটাল পলিপ: এ সমস্যা শিশুদের বেশি হয়। এটাও অনেকটা পাইলসের মতোই। মলের সঙ্গে তাজা লাল রক্তক্ষরণ হয়, আবার গোটার মতো পিণ্ড বেরিয়ে আসে। পলিপ সারাতে সার্জারির প্রয়োজন হয়।

* অ্যানাল ফিশার: মলত্যাগের সময় ভীষণ ব্যথাসহ হয়ে রক্তক্ষরণ হলে তা ফিশারের কারণে হয়েছে বলে ধরা যায়। কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে মলদ্বারের আবরণ ছিঁড়ে গেলে এই সমস্যা হয়। এতে সংক্রমণও হতে পারে। নানা ধরনের ওষুধ ও ক্রিম, গামলায় গরম পানির সেঁক ও ওষুধ এ সমস্যার চিকিৎসা।

* রেকটাল ক্যানসার: ৪০ বছরের পর এ রোগ বেশি হলেও আজকাল অনেক কম বয়সে রেকটামে ক্যানসার হচ্ছে। মলের সঙ্গে রক্তক্ষরণ, কখনো ডায়রিয়া, কখনো কোষ্ঠকাঠিন্য, দুর্বলতা, রক্তশূন্যতা, মলত্যাগ করার পরও আরও খানিকটা ইচ্ছে ইত্যাদি হতে পারে এর উপসর্গ। মলের সঙ্গে রক্ত গেলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো উচিত।

আরও পড়ুনঃ   পায়ু পথে রক্ত পড়ার কারণ ও প্রতিকার

ডা. ফাহমিদুল হক

পায়ু পথে রক্ত পড়ার কারণ ও প্রতিকার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

seven + 19 =